মঙ্গলবার, ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৮ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সকাল ১১:৩৮
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Wednesday, October 26, 2016 11:33 am | আপডেটঃ October 26, 2016 8:10 PM
A- A A+ Print

দুর্নীতি ও কোটার সুযোগে অযোগ্যরা শিক্ষক হচ্ছেন সরকারি প্রাথমিক স্কুলে

253216_1

সরকারি প্রাইমারি স্কুলে মানসম্মত শিক্ষক নিয়োগের জন্য পরীক্ষা ব্যবস্থা থাকলেও দুর্নীতি ও কোটার সুযোগে অনেক অযোগ্য লোক শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে গত কয়েক বছর ধরে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে সরকারি প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকদের মান নিয়ে। অ্যাসেমব্লি শব্দকে এসএমসি এবং আন্তর্জাতিক শব্দকে আন্তজার্তিক উচ্চারণ করেন এ রকম প্রধান শিক্ষকেরও সন্ধান পাওয়া গেছে সরকারি প্রাইমারি স্কুলে। সহকারী শিক্ষক হিসেবে চান্স না পেলেও সরাসরি প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পরীক্ষায় চান্স পেয়েছেন কেউ কেউ। বর্তমানে সবচেয়ে বড় বিড়ম্বনায় চলছে ২০১৩ সালে জাতীয়করণকৃত ২৬ হাজার নিবন্ধিত স্কুলের শিক্ষকদের নিয়ে। নিবন্ধিত স্কুলে বিনা বেতনে, ৫০০ টাকা বেতনে তালিকাভুক্ত এসএসসি পাস অনেক শিক্ষকও সরকারি হয়েছেন। অনেকে শিক্ষক হিসেবে নিবন্ধিত হয়ে ঠিকমতো স্কুলও করত না। তারাও এ সুযোগে শিক্ষক হয়েছেন। তাদের মান নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকসহ বিভিন্ন মহল। অভিযোগ পাওয়া গেছে ইংরেজি তো দূরের কথা সঠিক উচ্চারণে বাংলাও পড়তে পারেন না অনেক শিক্ষক। সাধারণ গুণ ভাগও পারেন না অনেকে। এ দিকে যারা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে শিক্ষক হয়েছেন তাদের সাথে জাতীয়করণের মাধ্যমে হওয়া এসব শিক্ষকের চলছে মানসিক দ্বন্দ্ব। সরকারি প্রাইমারি স্কুলের সাবেক একজন শিক্ষক জানান, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীতে শিক্ষার্থীদের জন্য ভালো শিক্ষক থাকা অবশ্য দরকার। শব্দের সঠিক উচ্চারণ, সুন্দর হাতের লেখা, সুন্দর আচার আচরণসহ অনেক কিছু শিশুদের শুরুতে সঠিকভাবে শেখাতে হয়। শুরুতে একটি শিশু যা শিখবে, যে হাতের লেখায় অভ্যস্ত হবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তা পরে থেকে যায়। শুরুতে যদি তারা মানসম্মত শিক্ষক না পায় তাহলে তা তাদের জন্য বড় ক্ষতি। বর্তমানে এটা ঘটছে ভয়াবহ আকারে। মানসম্মত শিক্ষকের বড় অভাব। বিশেষ করে সরকারীকরণ করা হয়েছে তেমন অনেক স্কুলের অবস্থা একেবারেই শোচনীয়। তাদের কাছে শিশুরা কী যে শিখবে সেটাই ভাবনার বিষয়। অন্য দিকে সরকারি প্রাইমারি স্কুলের অনেক শিক্ষক বলেছেন, বর্তমানে যারা শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাচ্ছেন তাদের বেশির ভাগেরই মান বেশ ভালো। এদের অনেকেই অনার্স মাস্টার্স পাস এবং মেধাবী। তবে এদের অনেকের মনোযোগ কম, কারণ বেতন কম। প্রাইমারি স্কুলের প্রবীণ অনেক শিক্ষক জানিয়েছেন, গণহারে জাতীয়করণের পরিবর্তে গণহারে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া দরকার উপযুক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্ত উপায়ে। আর প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করলেও শিক্ষক জাতীয়করণের ক্ষেত্রে শর্ত আরোপ করা উচিত যোগ্যতার ক্ষেত্রে। তাহলেই মানসম্মত শিক্ষক পাওয়া যেতে পারে। ২০১৩ সালে প্রকাশিত গেজেট অনুযায়ী সরকাক্ষারি প্রাইমারি স্কুলে নিয়োগের ক্ষেত্রে সরাসরি নিয়োগযোগ্য পদে শতকরা ৬০ ভাগ মহিলা, ২০ ভাগ পোষ্য ও ২০ ভাগ পুরুষ নিয়োগের কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির মিডিয়া বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল হক বলেন, সার্বিকভাবে নারী-পুরুষ মিলিয়ে শতকরা ২০ ভাগ পোষ্য, ২০ ভাগ মুক্তিযোদ্ধা, ৫ ভাগ উপজাতি, ১০ ভাগ প্রতিবন্ধীসহ মোট ৬০ ভাগ শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয় কোটার মাধ্যমে। বাকি ৪০ ভাগ পদ সবার জন্য উন্মুক্ত থাকে মেধাভিত্তিক প্রতিযোগিতার জন্য। তবে যাদের কোটায় নিয়োগ দেয়া হয় তাদেরও পরীক্ষার মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট নম্বরের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট মান অর্জন করতে হয়। অন্যথায় কোটার পদ শূন্য থাকে। গত ২৬ মে সরকারি প্রাইমারি স্কুলে প্রাক-প্রাথমিক শাখায় শুধু মুক্তিযোদ্ধা কোটায় তিন হাজার ৪৪০ জন সহকারী শিক্ষক নিয়োগের জন্য আলাদা একটি বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়। চলতি মাসের ২৯ তারিখ এ সংক্রান্ত লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সরকারি প্রাইমারি স্কুলের প্রবীণ অনেক শিক্ষক জানিয়েছেন কোটার সুযোগে অনেক অযোগ্য লোক শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাচ্ছেন। আর সবচেয়ে বড় কথা হলো মুক্তিযোদ্ধা কোটায় অনেকে ভুয়া সনদ নিয়ে নিয়োগ পাচ্ছেন। তবে সবচেয়ে বেশি অযোগ্য লোক নিয়োগ পাচ্ছে দুর্নীতির মাধ্যমে। এ ক্ষেত্রে শুধু টাকা দিলেই হচ্ছে না, দলীয় লোক লোক হতে হয়। গত কয়েক বছর ধরে সরকারি প্রাইমারি স্কুলে প্রায় প্রতিটি নিয়োগ পরীক্ষার পর দুর্নীতির ব্যাপক অভিযোগ ওঠে। সবচেয়ে বড় নৈরাজ্য এবং কেলেঙ্কারি ঘটে ২০১০ সালে ৩২ হাজার শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে। দলীয় লোক নিয়োগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ভাইভা পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন, নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত, ফল প্রকাশ ও নিয়োগে অস্বাভাবিক বিলম্বসহ নানা ঘটনা ঘটতে থাকে। সারা দেশে আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয় ৩২ হাজার শিক্ষক নিয়োগকেন্দ্রিক ঘটনাবলি। দলের বাইরে যাতে কেউ নিয়োগ না পায় সে জন্য নানা পন্থা অবলম্বনের কারণে আট মাস বিলম্ব হয় চূড়ান্ত ফল প্রকাশে। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্য থেকে দলীয় লোকদের তালিকা প্রণয়ন করার পরও তা আবার নানাভাবে যাচাই বাছাই করা হয়। এক দিকে চলে দলীয় লোক বাছাইয়ের কাজ, অপর দিকে লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর টাকা এবং রোল নম্বর নিয়ে শুরু হয় প্রার্থীদের ছোটাছুটি। মন্ত্রী, মন্ত্রীর পিএস, স্থানীয় এমপি, সরকারদলীয় স্থানীয় নেতা, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, ডিসি-যার কাছে পারছেন ছুটতে থাকেন তারা। প্রার্থীদের কাছ থেকে দুই থেকে তিন লাখ করে আদায় করে স্থানীয় প্রভাবশালী লোকজন। এমনকি চাকরি প্রদানের নিশ্চয়তাস্বরূপ অনেক প্রার্থীর অভিভাবকের সাথে স্ট্যাম্পে লিখিত চুক্তি করা হয় টাকা লেনদেনের জন্য। অনেকে ব্যাংকে যৌথ অ্যাকাউন্ট খুলে তাতে টাকা জমা রাখে চাকরি পাওয়ার আশায়। চাকরি না পেলে অভিভাবক পক্ষ টাকা তুলে নেবে এ শর্ত সাপেক্ষে ব্যাংকে টাকা জমা রাখা হয়। সারা দেশ থেকে এ ব্যাপারে ব্যাপক অভিযোগ আসতে থাকায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর থেকে সংবাদপত্রে বিজ্ঞান প্রচার করা হয় চাকরির জন্য কোনো ধরনের টাকা পয়সার লেনদেন না করার জন্য। এক পরিবার থেকে চারজনের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার ঘটনাও ঘটে সেবার।

Comments

Comments!

 দুর্নীতি ও কোটার সুযোগে অযোগ্যরা শিক্ষক হচ্ছেন সরকারি প্রাথমিক স্কুলেAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

দুর্নীতি ও কোটার সুযোগে অযোগ্যরা শিক্ষক হচ্ছেন সরকারি প্রাথমিক স্কুলে

Wednesday, October 26, 2016 11:33 am | আপডেটঃ October 26, 2016 8:10 PM
253216_1

সরকারি প্রাইমারি স্কুলে মানসম্মত শিক্ষক নিয়োগের জন্য পরীক্ষা ব্যবস্থা থাকলেও দুর্নীতি ও কোটার সুযোগে অনেক অযোগ্য লোক শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে গত কয়েক বছর ধরে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে সরকারি প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকদের মান নিয়ে। অ্যাসেমব্লি শব্দকে এসএমসি এবং আন্তর্জাতিক শব্দকে আন্তজার্তিক উচ্চারণ করেন এ রকম প্রধান শিক্ষকেরও সন্ধান পাওয়া গেছে সরকারি প্রাইমারি স্কুলে। সহকারী শিক্ষক হিসেবে চান্স না পেলেও সরাসরি প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পরীক্ষায় চান্স পেয়েছেন কেউ কেউ। বর্তমানে সবচেয়ে বড় বিড়ম্বনায় চলছে ২০১৩ সালে জাতীয়করণকৃত ২৬ হাজার নিবন্ধিত স্কুলের শিক্ষকদের নিয়ে। নিবন্ধিত স্কুলে বিনা বেতনে, ৫০০ টাকা বেতনে তালিকাভুক্ত এসএসসি পাস অনেক শিক্ষকও সরকারি হয়েছেন। অনেকে শিক্ষক হিসেবে নিবন্ধিত হয়ে ঠিকমতো স্কুলও করত না। তারাও এ সুযোগে শিক্ষক হয়েছেন। তাদের মান নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকসহ বিভিন্ন মহল। অভিযোগ পাওয়া গেছে ইংরেজি তো দূরের কথা সঠিক উচ্চারণে বাংলাও পড়তে পারেন না অনেক শিক্ষক। সাধারণ গুণ ভাগও পারেন না অনেকে। এ দিকে যারা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে শিক্ষক হয়েছেন তাদের সাথে জাতীয়করণের মাধ্যমে হওয়া এসব শিক্ষকের চলছে মানসিক দ্বন্দ্ব।

সরকারি প্রাইমারি স্কুলের সাবেক একজন শিক্ষক জানান, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীতে শিক্ষার্থীদের জন্য ভালো শিক্ষক থাকা অবশ্য দরকার। শব্দের সঠিক উচ্চারণ, সুন্দর হাতের লেখা, সুন্দর আচার আচরণসহ অনেক কিছু শিশুদের শুরুতে সঠিকভাবে শেখাতে হয়। শুরুতে একটি শিশু যা শিখবে, যে হাতের লেখায় অভ্যস্ত হবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তা পরে থেকে যায়। শুরুতে যদি তারা মানসম্মত শিক্ষক না পায় তাহলে তা তাদের জন্য বড় ক্ষতি। বর্তমানে এটা ঘটছে ভয়াবহ আকারে। মানসম্মত শিক্ষকের বড় অভাব। বিশেষ করে সরকারীকরণ করা হয়েছে তেমন অনেক স্কুলের অবস্থা একেবারেই শোচনীয়। তাদের কাছে শিশুরা কী যে শিখবে সেটাই ভাবনার বিষয়।

অন্য দিকে সরকারি প্রাইমারি স্কুলের অনেক শিক্ষক বলেছেন, বর্তমানে যারা শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাচ্ছেন তাদের বেশির ভাগেরই মান বেশ ভালো। এদের অনেকেই অনার্স মাস্টার্স পাস এবং মেধাবী। তবে এদের অনেকের মনোযোগ কম, কারণ বেতন কম।

প্রাইমারি স্কুলের প্রবীণ অনেক শিক্ষক জানিয়েছেন, গণহারে জাতীয়করণের পরিবর্তে গণহারে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া দরকার উপযুক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্ত উপায়ে। আর প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করলেও শিক্ষক জাতীয়করণের ক্ষেত্রে শর্ত আরোপ করা উচিত যোগ্যতার ক্ষেত্রে। তাহলেই মানসম্মত শিক্ষক পাওয়া যেতে পারে।

২০১৩ সালে প্রকাশিত গেজেট অনুযায়ী সরকাক্ষারি প্রাইমারি স্কুলে নিয়োগের ক্ষেত্রে সরাসরি নিয়োগযোগ্য পদে শতকরা ৬০ ভাগ মহিলা, ২০ ভাগ পোষ্য ও ২০ ভাগ পুরুষ নিয়োগের কথা বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির মিডিয়া বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল হক বলেন, সার্বিকভাবে নারী-পুরুষ মিলিয়ে শতকরা ২০ ভাগ পোষ্য, ২০ ভাগ মুক্তিযোদ্ধা, ৫ ভাগ উপজাতি, ১০ ভাগ প্রতিবন্ধীসহ মোট ৬০ ভাগ শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয় কোটার মাধ্যমে। বাকি ৪০ ভাগ পদ সবার জন্য উন্মুক্ত থাকে মেধাভিত্তিক প্রতিযোগিতার জন্য। তবে যাদের কোটায় নিয়োগ দেয়া হয় তাদেরও পরীক্ষার মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট নম্বরের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট মান অর্জন করতে হয়। অন্যথায় কোটার পদ শূন্য থাকে।

গত ২৬ মে সরকারি প্রাইমারি স্কুলে প্রাক-প্রাথমিক শাখায় শুধু মুক্তিযোদ্ধা কোটায় তিন হাজার ৪৪০ জন সহকারী শিক্ষক নিয়োগের জন্য আলাদা একটি বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়। চলতি মাসের ২৯ তারিখ এ সংক্রান্ত লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

সরকারি প্রাইমারি স্কুলের প্রবীণ অনেক শিক্ষক জানিয়েছেন কোটার সুযোগে অনেক অযোগ্য লোক শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাচ্ছেন। আর সবচেয়ে বড় কথা হলো মুক্তিযোদ্ধা কোটায় অনেকে ভুয়া সনদ নিয়ে নিয়োগ পাচ্ছেন।

তবে সবচেয়ে বেশি অযোগ্য লোক নিয়োগ পাচ্ছে দুর্নীতির মাধ্যমে। এ ক্ষেত্রে শুধু টাকা দিলেই হচ্ছে না, দলীয় লোক লোক হতে হয়। গত কয়েক বছর ধরে সরকারি প্রাইমারি স্কুলে প্রায় প্রতিটি নিয়োগ পরীক্ষার পর দুর্নীতির ব্যাপক অভিযোগ ওঠে। সবচেয়ে বড় নৈরাজ্য এবং কেলেঙ্কারি ঘটে ২০১০ সালে ৩২ হাজার শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে। দলীয় লোক নিয়োগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ভাইভা পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন, নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত, ফল প্রকাশ ও নিয়োগে অস্বাভাবিক বিলম্বসহ নানা ঘটনা ঘটতে থাকে। সারা দেশে আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয় ৩২ হাজার শিক্ষক নিয়োগকেন্দ্রিক ঘটনাবলি।

দলের বাইরে যাতে কেউ নিয়োগ না পায় সে জন্য নানা পন্থা অবলম্বনের কারণে আট মাস বিলম্ব হয় চূড়ান্ত ফল প্রকাশে। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্য থেকে দলীয় লোকদের তালিকা প্রণয়ন করার পরও তা আবার নানাভাবে যাচাই বাছাই করা হয়। এক দিকে চলে দলীয় লোক বাছাইয়ের কাজ, অপর দিকে লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর টাকা এবং রোল নম্বর নিয়ে শুরু হয় প্রার্থীদের ছোটাছুটি। মন্ত্রী, মন্ত্রীর পিএস, স্থানীয় এমপি, সরকারদলীয় স্থানীয় নেতা, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, ডিসি-যার কাছে পারছেন ছুটতে থাকেন তারা। প্রার্থীদের কাছ থেকে দুই থেকে তিন লাখ করে আদায় করে স্থানীয় প্রভাবশালী লোকজন। এমনকি চাকরি প্রদানের নিশ্চয়তাস্বরূপ অনেক প্রার্থীর অভিভাবকের সাথে স্ট্যাম্পে লিখিত চুক্তি করা হয় টাকা লেনদেনের জন্য। অনেকে ব্যাংকে যৌথ অ্যাকাউন্ট খুলে তাতে টাকা জমা রাখে চাকরি পাওয়ার আশায়। চাকরি না পেলে অভিভাবক পক্ষ টাকা তুলে নেবে এ শর্ত সাপেক্ষে ব্যাংকে টাকা জমা রাখা হয়। সারা দেশ থেকে এ ব্যাপারে ব্যাপক অভিযোগ আসতে থাকায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর থেকে সংবাদপত্রে বিজ্ঞান প্রচার করা হয় চাকরির জন্য কোনো ধরনের টাকা পয়সার লেনদেন না করার জন্য। এক পরিবার থেকে চারজনের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার ঘটনাও ঘটে সেবার।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X