বৃহস্পতিবার, ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১০ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ভোর ৫:০৫
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Friday, January 27, 2017 10:41 pm
A- A A+ Print

‘দ্য প্রফেসর অব ক্রিকেট’

43

নিপাট ভদ্রলোক বলতে যা বোঝায় তিনি তা-ই। চোখে চশমা, আর পড়ুয়াদের শিক্ষার্থীদের মতো চেহারার কারণে অনেকে ডাকেন ‘দ্য প্রফেসর’ বলে। আদতে একজন প্রফেসর বা ডাক্তার হতে পারতেন ড্যানিয়েল ভেট্টরি। কারণ ১৯৯৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দলে যখন ডাক পান, তখন তাঁর বয়স সবে আঠারো। উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছেন। ঝাঁকড়া চুলের লিকলিকে তরুণ ছেলেটিকে ঘিরে তখন অনেকের আগ্রহ। তবে প্রথম টেস্টে কিছুই করতে পারলেন না দলের জন্য। ইনিংস ব্যবধানে হারল তাঁর দল। ১১ নম্বরে নেমে করলেন ৩ রান। বল হাতে নিলেন ২ উইকেট। যার প্রথমটিই নাসের হুসেইনের মতো তারকার। সেখান থেকে শুরু। এরপর দেশের হয়ে খেলেছেন প্রায় ১৮ বছর। ১১৩টি টেস্ট খেলে ৩৬০২টি উইকেট ও ৪৫৩১ রান সংগ্রহ করেছেন এই অলরাউন্ডার। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে ৩০০ উইকেটের পাশাপাশি তিন হাজারের বেশি রান সংগ্রহ করার কৃতিত্ব আছে মাত্র আটজন খেলোয়াড়ের। ভেট্টরি তাঁদেরই একজন। ২৯৫ ওয়ানডেতে ২০৫ উইকেট নিয়েছে। ব্যাটহাতে দুই হাজারেরও বেশি রান করেছেন তিনি। আর সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের ক্রিকেট টি-টোয়েন্টিতে ৩৮টি উইকেট পেয়েছেন ৩৪ ম্যাচে। সর্বকালের সেরা এই কিউই অলরাউন্ডারের আজ জন্মদিন। ১৯৭৯ সালের আজকের দিনেই নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। জাতীয় দলে সুযোগ পেয়ে নিজেই যথেষ্ট বিস্মিত ছিলেন ভেট্টরি। কারণ তখনো ঘরোয়া ক্রিকেটে খুব একটা পরিচিত নন তিনি। নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টের হয়ে প্রস্তুতি ম্যাচে খেলেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। আর আরেকটি মাচ খেলেন সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টের বিপক্ষে। তবে কোচ স্টিভ রিক্সন আর নির্বাচকরা ভরসা রাখলেন তাঁর ওপরই। কারণ নিউজিল্যান্ড দলে তখন ভালো স্পিনার নেই। আর স্পিনে ইংল্যান্ডের চিরায়ত দুর্বলতার কথা ভেবেই তাকে দলে রাখা। এরপর সারজীবন ধরে দেশের আস্থার অপর নাম হয়ে ছিলেন এই বাঁ-হাতি স্পিনার। একই বছরের ২৫ মার্চ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে একদিনের ক্রিকেটে অভিষেক হয় তাঁর। যে কোনো ফরম্যাটে নিউজিল্যান্ডের হয়ে এখনো সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটারের রেকর্ডটি তাঁর দখলে। ২ ওভার বল করে ২১ রান দেওয়ায় পরে আর বলই পাননি। ২০০০ সালের সেপ্টেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ইনিংসে নেন ১২ উইকেট। ম্যাচটিতে নিউজিল্যান্ড হেরে গেলেও সবচেয়ে কম বয়সী স্পিনার হিসেবে টেস্টে শততম উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন ভেট্টরি। বল হাতে যত পরিণত হয়েছেন, ততই চওড়া হয়েছে তাঁর ব্যাট। ২০০৩ সালের ডিসেম্বরে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি করেন। অপরাজিত ইনিংসটি ছিল ১৩৭ রানের। ২০০৭ সালে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের কাছ থেকে নেতৃত্বের বাটনটা নিয়ে টেস্টে নিউজিল্যান্ডকে নেতৃত্ব দিয়েছেন ৩২ ম্যাচে, ওয়ানডেতে ৮২টিতে। ২০১২ সালে ফর্মহীনতার কারণে চলে যান মাঠের বাইরে। অনেকেই ভেবেছিল, নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটে ভেট্টরি অতীত এক নাম। তবে দুই বছর পর নিজেকে প্রমাণ করে আবার মাঠে ফেরেন ভেট্টরি। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডকে ফাইনালে ওঠানোর পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল তাঁর। পেসারদের কন্ডিশনে মাত্র ২০.৪৬ গড়ে ১৫ উইকেট নেন তিনি। প্রতি রান দিয়েছেন মাত্র ৪.০৪!  তবে ফাইনালে আর পারেননি তিনি। অস্ট্রেলিয়ার কাছে বিশ্বকাপের শিরোপাটা হেরে ক্রিকেটকে বিদায় বলেন এই তারকা অলরাউন্ডার।

Comments

Comments!

 ‘দ্য প্রফেসর অব ক্রিকেট’AmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

‘দ্য প্রফেসর অব ক্রিকেট’

Friday, January 27, 2017 10:41 pm
43

নিপাট ভদ্রলোক বলতে যা বোঝায় তিনি তা-ই। চোখে চশমা, আর পড়ুয়াদের শিক্ষার্থীদের মতো চেহারার কারণে অনেকে ডাকেন ‘দ্য প্রফেসর’ বলে। আদতে একজন প্রফেসর বা ডাক্তার হতে পারতেন ড্যানিয়েল ভেট্টরি। কারণ ১৯৯৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দলে যখন ডাক পান, তখন তাঁর বয়স সবে আঠারো। উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছেন। ঝাঁকড়া চুলের লিকলিকে তরুণ ছেলেটিকে ঘিরে তখন অনেকের আগ্রহ। তবে প্রথম টেস্টে কিছুই করতে পারলেন না দলের জন্য। ইনিংস ব্যবধানে হারল তাঁর দল। ১১ নম্বরে নেমে করলেন ৩ রান। বল হাতে নিলেন ২ উইকেট। যার প্রথমটিই নাসের হুসেইনের মতো তারকার। সেখান থেকে শুরু।

এরপর দেশের হয়ে খেলেছেন প্রায় ১৮ বছর। ১১৩টি টেস্ট খেলে ৩৬০২টি উইকেট ও ৪৫৩১ রান সংগ্রহ করেছেন এই অলরাউন্ডার। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে ৩০০ উইকেটের পাশাপাশি তিন হাজারের বেশি রান সংগ্রহ করার কৃতিত্ব আছে মাত্র আটজন খেলোয়াড়ের। ভেট্টরি তাঁদেরই একজন। ২৯৫ ওয়ানডেতে ২০৫ উইকেট নিয়েছে। ব্যাটহাতে দুই হাজারেরও বেশি রান করেছেন তিনি। আর সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের ক্রিকেট টি-টোয়েন্টিতে ৩৮টি উইকেট পেয়েছেন ৩৪ ম্যাচে। সর্বকালের সেরা এই কিউই অলরাউন্ডারের আজ জন্মদিন। ১৯৭৯ সালের আজকের দিনেই নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।

জাতীয় দলে সুযোগ পেয়ে নিজেই যথেষ্ট বিস্মিত ছিলেন ভেট্টরি। কারণ তখনো ঘরোয়া ক্রিকেটে খুব একটা পরিচিত নন তিনি। নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টের হয়ে প্রস্তুতি ম্যাচে খেলেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। আর আরেকটি মাচ খেলেন সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টের বিপক্ষে। তবে কোচ স্টিভ রিক্সন আর নির্বাচকরা ভরসা রাখলেন তাঁর ওপরই। কারণ নিউজিল্যান্ড দলে তখন ভালো স্পিনার নেই। আর স্পিনে ইংল্যান্ডের চিরায়ত দুর্বলতার কথা ভেবেই তাকে দলে রাখা। এরপর সারজীবন ধরে দেশের আস্থার অপর নাম হয়ে ছিলেন এই বাঁ-হাতি স্পিনার।

একই বছরের ২৫ মার্চ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে একদিনের ক্রিকেটে অভিষেক হয় তাঁর। যে কোনো ফরম্যাটে নিউজিল্যান্ডের হয়ে এখনো সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটারের রেকর্ডটি তাঁর দখলে। ২ ওভার বল করে ২১ রান দেওয়ায় পরে আর বলই পাননি। ২০০০ সালের সেপ্টেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ইনিংসে নেন ১২ উইকেট। ম্যাচটিতে নিউজিল্যান্ড হেরে গেলেও সবচেয়ে কম বয়সী স্পিনার হিসেবে টেস্টে শততম উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন ভেট্টরি। বল হাতে যত পরিণত হয়েছেন, ততই চওড়া হয়েছে তাঁর ব্যাট। ২০০৩ সালের ডিসেম্বরে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি করেন। অপরাজিত ইনিংসটি ছিল ১৩৭ রানের।

২০০৭ সালে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের কাছ থেকে নেতৃত্বের বাটনটা নিয়ে টেস্টে নিউজিল্যান্ডকে নেতৃত্ব দিয়েছেন ৩২ ম্যাচে, ওয়ানডেতে ৮২টিতে।

২০১২ সালে ফর্মহীনতার কারণে চলে যান মাঠের বাইরে। অনেকেই ভেবেছিল, নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটে ভেট্টরি অতীত এক নাম। তবে দুই বছর পর নিজেকে প্রমাণ করে আবার মাঠে ফেরেন ভেট্টরি। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডকে ফাইনালে ওঠানোর পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল তাঁর। পেসারদের কন্ডিশনে মাত্র ২০.৪৬ গড়ে ১৫ উইকেট নেন তিনি। প্রতি রান দিয়েছেন মাত্র ৪.০৪!  তবে ফাইনালে আর পারেননি তিনি। অস্ট্রেলিয়ার কাছে বিশ্বকাপের শিরোপাটা হেরে ক্রিকেটকে বিদায় বলেন এই তারকা অলরাউন্ডার।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X