শনিবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ৯:৫৮
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Tuesday, September 27, 2016 8:45 am
A- A A+ Print

ধর্ম চর্চা বাড়লেও ঘুষ চর্চা কমে না কেন?

245999_1

পীর হাবিবুর রহমান তখন ৯২সাল।বাংলাবাজার পএিকা গ্রীনরোডে।পরে বাড়িটি ডেভলাপারদের দিয়ে দেয়া হয়।সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরীর বাসায়ই অফিস করেছিলেন।পুরনো দোতলা বাড়ি।আমরা একদল অভিজ্ঞ ও তরুন সংবাদ কর্মি উন্মাদনা নিয়ে কাজ করেছিলাম।সবাই এখন নানা জায়গায়।প্রতিষ্টিত।কেউবা পেশা ছেড়ে প্রবাসী।ভালোই আছে।সেবার এসএসসি বা এইচ এসসির রেজাল্ট দিয়েছে।তখনো মেধা তালিকায় কুড়িজনে ঠাই পাওয়ারাই শ্রেষ্ট ছাএছাএী। প্রথমদের আমরা ইন্টারভিউ করতাম, আর মা বাবার সঙ্গে হাস্যোজ্জল ছবি ছাপতাম।চীফ ফটো জার্নালিস্ট তখন পাভেল রহমান।মেধা তালিকায় প্রথম হওয়া মেয়েটির ইন্টারভিউ করলাম সিদ্বেশ্বরী থেকে।তখনো হাতে লেখা রিপোর্ট,তখনো প্রযুক্তির এই ছোয়া আসেনি।আমি অফিসে রিপোর্ট জমা দিয়েছি।পাভেল রহমান ছবির ফিল্ম বা নেগেটিভ নিয়ে ডার্করুমে।এমন সময় এক ভদ্রলোক এলেন।গ্রীন রোডেই তার বাসা।মেয়েটি তার ৭ম স্হানে মেধাতালিকায়।ছবি ছাপতে হবে।আমরা যতোই বলি প্রথম ছাড়া হবেনা,তিনি নাছোড়বান্দা। একজন পিতার মেয়ের জন্য কি আকুতি!মুগ্ধ হই।মতি ভাইর কাছে নিয়ে যাই।মতি ভাই প্রতিবেশীর আবদার রাখলেন।আমাকেও পাভেল রহমানকে যেতে বললেন।পাভেল রহমানের হাতে ছবির অনেক চাপ।তখনো আমাদের জীবনে টানাপোড়েন।গায়ে ক্যাম্পাসের ঘ্রান।বন্ধু বান্ধবের কাছে দু/পাঁচশো ধার দেনা হয়।আমার এক বন্ধু এসে বললো দু'শ টাকা দিতে।সময় নেই,আড্ডারও নেশা।বললাম চল।তাকে সহ ভদ্রলোকের গাড়িতে উঠে গেলাম।বিশাল নতুন বাড়ি।মেয়ে বউ খুশি।বাড়িজুড়ে আনন্দ।পাভেল রহমান মেয়ের ছবি তুললেন,আমি দ্রুত নোটবুকে নোট নিলাম।ভদ্রলোক এবার ছোট মেয়েটিকে এনে বললেন, সে বৃত্তি পেয়েছিলো,তারও একটা ছবি ছাপেন।ছবি তুলেন।কন্যার প্রতি বাবার তীব্র স্নেহে আবেগে মুগ্ধই হলাম।বিরক্ত পাভেল রহমান বললেন আমাদের অফিস যেতে হবে,প্লিজ দিয়ে আসেন। এবার ভদ্রলোক তার হাতে থাকা ব্রিফকেস খুললেন,ভিতরে বাংলা সিনেমার মাফিয়ার মতোন পাঁচশো টাকা নোটের সব বান্ডিল দেখিয়ে বললেন আমাদের, যত টাকা লাগে নিন তবু দুই মেয়ের ছবি ছাপেন।রাগে ক্ষোভে বিরক্তি নিয়ে অফিসে এসে ঘটনা বলতেই,সবার সে কি হাসি।ভদ্রলোক টিসিবিতে চাকরি করতেন।চাকরি ছেড়ে টিনের ব্যবসায় সাফল্য কুড়িয়েছিলেন।সরকারি প্রতিষ্টানে এভাবে দূর্নীতি ঘুষ আর লুটের টাকায় কত মানুষ বিত্তশালী হয়েছেন!আর সরকারি প্রতিষ্টান হয়েছে লোকসান গুনতে গুনতে পঙ্গু।মানুষটিকে দেখেছিলাম প্রথম একজন অতি স্নেহময় পিতার চেহারায়!পরেই দেখি আরেক রুপ,একজন লুটেরা ঘুষ দূর্নীতিবাজের চেহারা!যে টাকার জুড়ে সব কিনতে ও ম্যানেজ করতে চায়!সম্মানটাও!এমন কত মানুষ দেশে সমাজপতি বিত্তবান হয়েছে নীতিহীন পথে?বলতে পারবেন সবাই,ডানে বায়ে তাকালেই।একদা যে ঘুষ দূর্নীতিকে সামাজিক ব্যধি বলা হতো এখনো কি তাই বলা হয়? নাকি সামাজিক মর্যাদা বা স্টেটাস দেয়া হলো?দেশে ধর্মের চর্চা বাড়লো,বুঝিনা ধর্মে হারাম ঘুষ দূর্নীতি কেন কমেনা বরং বাড়ে?

Comments

Comments!

 ধর্ম চর্চা বাড়লেও ঘুষ চর্চা কমে না কেন?AmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

ধর্ম চর্চা বাড়লেও ঘুষ চর্চা কমে না কেন?

Tuesday, September 27, 2016 8:45 am
245999_1

পীর হাবিবুর রহমান

তখন ৯২সাল।বাংলাবাজার পএিকা গ্রীনরোডে।পরে বাড়িটি ডেভলাপারদের দিয়ে দেয়া হয়।সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরীর বাসায়ই অফিস করেছিলেন।পুরনো দোতলা বাড়ি।আমরা একদল অভিজ্ঞ ও তরুন সংবাদ কর্মি উন্মাদনা নিয়ে কাজ করেছিলাম।সবাই এখন নানা জায়গায়।প্রতিষ্টিত।কেউবা পেশা ছেড়ে প্রবাসী।ভালোই আছে।সেবার এসএসসি বা এইচ এসসির রেজাল্ট দিয়েছে।তখনো মেধা তালিকায় কুড়িজনে ঠাই পাওয়ারাই শ্রেষ্ট ছাএছাএী।

প্রথমদের আমরা ইন্টারভিউ করতাম, আর মা বাবার সঙ্গে হাস্যোজ্জল ছবি ছাপতাম।চীফ ফটো জার্নালিস্ট তখন পাভেল রহমান।মেধা তালিকায় প্রথম হওয়া মেয়েটির ইন্টারভিউ করলাম সিদ্বেশ্বরী থেকে।তখনো হাতে লেখা রিপোর্ট,তখনো প্রযুক্তির এই ছোয়া আসেনি।আমি অফিসে রিপোর্ট জমা দিয়েছি।পাভেল রহমান ছবির ফিল্ম বা নেগেটিভ নিয়ে ডার্করুমে।এমন সময় এক ভদ্রলোক এলেন।গ্রীন রোডেই তার বাসা।মেয়েটি তার ৭ম স্হানে মেধাতালিকায়।ছবি ছাপতে হবে।আমরা যতোই বলি প্রথম ছাড়া হবেনা,তিনি নাছোড়বান্দা।

একজন পিতার মেয়ের জন্য কি আকুতি!মুগ্ধ হই।মতি ভাইর কাছে নিয়ে যাই।মতি ভাই প্রতিবেশীর আবদার রাখলেন।আমাকেও পাভেল রহমানকে যেতে বললেন।পাভেল রহমানের হাতে ছবির অনেক চাপ।তখনো আমাদের জীবনে টানাপোড়েন।গায়ে ক্যাম্পাসের ঘ্রান।বন্ধু বান্ধবের কাছে দু/পাঁচশো ধার দেনা হয়।আমার এক বন্ধু এসে বললো দু’শ টাকা দিতে।সময় নেই,আড্ডারও নেশা।বললাম চল।তাকে সহ ভদ্রলোকের গাড়িতে উঠে গেলাম।বিশাল নতুন বাড়ি।মেয়ে বউ খুশি।বাড়িজুড়ে আনন্দ।পাভেল রহমান মেয়ের ছবি তুললেন,আমি দ্রুত নোটবুকে নোট নিলাম।ভদ্রলোক এবার ছোট মেয়েটিকে এনে বললেন, সে বৃত্তি পেয়েছিলো,তারও একটা ছবি ছাপেন।ছবি তুলেন।কন্যার প্রতি বাবার তীব্র স্নেহে আবেগে মুগ্ধই হলাম।বিরক্ত পাভেল রহমান বললেন আমাদের অফিস যেতে হবে,প্লিজ দিয়ে আসেন।

এবার ভদ্রলোক তার হাতে থাকা ব্রিফকেস খুললেন,ভিতরে বাংলা সিনেমার মাফিয়ার মতোন পাঁচশো টাকা নোটের সব বান্ডিল দেখিয়ে বললেন আমাদের, যত টাকা লাগে নিন তবু দুই মেয়ের ছবি ছাপেন।রাগে ক্ষোভে বিরক্তি নিয়ে অফিসে এসে ঘটনা বলতেই,সবার সে কি হাসি।ভদ্রলোক টিসিবিতে চাকরি করতেন।চাকরি ছেড়ে টিনের ব্যবসায় সাফল্য কুড়িয়েছিলেন।সরকারি প্রতিষ্টানে এভাবে দূর্নীতি ঘুষ আর লুটের টাকায় কত মানুষ বিত্তশালী হয়েছেন!আর সরকারি প্রতিষ্টান হয়েছে লোকসান গুনতে গুনতে পঙ্গু।মানুষটিকে দেখেছিলাম প্রথম একজন অতি স্নেহময় পিতার চেহারায়!পরেই দেখি আরেক রুপ,একজন লুটেরা ঘুষ দূর্নীতিবাজের চেহারা!যে টাকার জুড়ে সব কিনতে ও ম্যানেজ করতে চায়!সম্মানটাও!এমন কত মানুষ দেশে সমাজপতি বিত্তবান হয়েছে নীতিহীন পথে?বলতে পারবেন সবাই,ডানে বায়ে তাকালেই।একদা যে ঘুষ দূর্নীতিকে সামাজিক ব্যধি বলা হতো এখনো কি তাই বলা হয়?

নাকি সামাজিক মর্যাদা বা স্টেটাস দেয়া হলো?দেশে ধর্মের চর্চা বাড়লো,বুঝিনা ধর্মে হারাম ঘুষ দূর্নীতি কেন কমেনা বরং বাড়ে?

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X