সোমবার, ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৭ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সকাল ৯:৫৮
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Friday, September 2, 2016 10:50 am
A- A A+ Print

নতুন গবেষণা >ব্যানানা ফাইবার বদলে দেবে গার্মেন্ট শিল্পকে

২

কলাগাছের বাকলকে প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে এভাবে তৈরি করা হয় উন্নতমানের সুতা _যাযাদিকলাগাছের বাকল দিয়ে তৈরি হচ্ছে উচ্চ-মানসম্পন্ন অাঁশ। আর এ অাঁশ দিয়ে তৈরি হচ্ছে সুতা বা ব্যানানা ফাইবার। পৃথিবীর অনেক দেশ ব্যানানা ফাইভার ব্যবহারে দক্ষতা অর্জন করলেও বাংলাদেশ এ বিষয়ে একেবারে অনভিজ্ঞ। সাম্প্রতি বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহায়তায় দেশের কিছু যুবক এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছেন। তারা জানিয়েছেন, ব্যানানা ফাইবারের অাঁশ খুবই উন্নত মানের। যা দিয়ে দেশে ব্যাপক চাহিদা থাকা সুতার চাহিদার একটি বিরাট অংশ মেটানো সম্ভব হবে। ফলে সুতার আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশেই উৎপাদন করা যাবে পোশাকশিল্পের প্রধান এ কাঁচামাল। আর যা বদলে দিতে পারে দেশের অর্থনীতির প্রধান বাহন পোশাকশিল্পকে। সৃষ্টি হতে পারে নতুন নতুন কর্মসংস্থানও। কলাগাছের বাকলকে সঠিক প্রক্রিয়ায় প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে এর অাঁশকে আলাদা করে পৃষ্ঠা ২ কলাম ২ পাটের মতোই তা দিয়ে তৈরি হচ্ছে উন্নতমানের সুতা। প্রতিবেশী দেশ ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া ও কানাডাসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এ প্রক্রিয়া আগে থেকেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তারা এরই মধ্যে ব্যানানা ফাইভার দিয়ে উন্নতমানের কাপড় তৈরি করেছে এবং তা রপ্তানিও করছে। আমাদের দেশে এ প্রক্রিয়ায় অাঁশকে আলাদা করে সুতা তৈরির খুব বেশি নজির নেই। বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেব্রিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক ও ব্যানানা ফাইভার গবেষণার প্রধান গবেষক দেওয়ান মোরশেদ আহম্মেদ যায়যায়দিনকে বলেন, 'বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতোই আমাদের দেশেও বাণিজ্যিকভাবে ব্যানানা ফাইবার ব্যবহারের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। ব্যানানা ফাইবার বা কলাগাছের অাঁশ দিয়ে তৈরি সুতা দিয়ে আমাদের নিত্য ব্যবহারযোগ্য কাপড় পর্যন্ত তৈরি করা সম্ভব। এর পাশাপাশি জিন্স, শাল, ভ্যানিটি ব্যাগ, হস্তশিল্প, জামদানি, জুতা, দরজা জানালায় ব্যবহৃত পর্দা, সোফার কাপড়সহ অনেক জিনিসই এ ফাইবার দিয়ে তৈরি করা সম্ভব। তিনি আরো বলেন, ব্যানানা ফাইভার দিয়ে উন্নতমানের সিল্ক ও জামদানিও তৈরি হচ্ছে। যা দেশীয় সিল্ক ও জামদানির চেয়েও উন্নতমানের। তারা কাজের ক্ষেত্রে জাপান, কানাডার পদ্ধতি অনুসরণ করছেন। তারা এখন পর্যন্ত হাত দিয়েই সুতা তৈরি করছেন। শিগগিরই তারা যন্ত্র ব্যবহার করে সুতা উৎপাদন করতে পারবেন। তখন পুরো দেশের চাহিদা মেটাতে সক্ষম হবে এটি। মোরশেদ আহম্মেদ বলেন, পাটের উৎপাদন মূল্য না পাওয়ায় আমাদের দেশের কৃষকরা পাট উৎপাদন থেকে সরে আসছেন। সে ক্ষেত্রে ব্যানানা ফাইভার পেতে খরচ অনেক কম হবে। ফলে ব্যবসায়িরা যেমন অল্প মূল্যে সুতার জোগান পাবেন তেমনি গ্রামের অব্যবহৃত একটি গাছের বিনিময়ে দেশের কৃষকরাও আয় করতে পারবেন ব্যাপক অর্থ। দেশে ৩০ বছর আগেও প্রায় শতাধিক পাটের কল থাকলেও এখন তা ২৩টিতে এসে ঠেকেছে। ব্যানানা ফাইভার দিয়ে এসব পাটকল আবারো সচল করা যাবে বলেও আশাবাদী তিনি। বাংলাদেশ ২০১৫ সালে ৬ দশমিক ১০ মিলিয়ন বেল সুতা আমদানি করে। এর মধ্যে ২ দশমিক ৯৯ মিলিয়ন অর্থাৎ ৪৯ শতাংশই আমদানি করে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে। প্রতি বেল সুতার বাজারমূল্য গরপড়তায় ৫০০ পাউন্ড হয় বলে বাংলাদেশ কটন গোষ্ঠীর অনলাইন থেকে জানা গেছে। এ হিসেবে ২০১৫ সালে ৬ দশমিক ১০ মিলিয়ন বেল কটন আমদানি করতে বাংলাদেশকে বিদেশি দেশগুলোকে দিতে হয়েছে প্রায় ৩ বিলিয়ন কোটি টারও বেশি। যার অর্ধেক অর্থাৎ প্রায় দেড় বিলিয়ন কোটি টাকারও বেশি দিতে হয়েছে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতকে। আমাদের দেশ কাপড় রপ্তানি করে প্রতিবছর যে বিপুল পরিমাণ বিদেশি অর্থ আয় করে তার একটি বিরাট অংশই আবার দেশের বাইরে চলে যায় সুতা আমদানিতে। এখন সে সুতা যদি নিজেদের দেশেই তৈরি করা সম্ভব হয় তবে নিজেদের দেশের বিপুল পরিমাণ সম্পদ দেশেই রাখা সম্ভব হবে। যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক একটি বিষয় হতে পারে। টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইয়ার্ন মেনুফেকসারিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের আরেক সহকারী অধ্যাপক ও ব্যানানা ফাইভার গবেষণার অন্যতম গবেষক রিয়াজুল ইসলাম বলেন, সরকার ব্যানানা ফাইভার গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করলে এটিকে বড় শিল্পে রূপ দেয়া সম্ভব। বিশ্ববিদ্যালয় তাদের যে বরাদ্ধ দেয় তা যথেষ্ঠ নয়। সরকারিভাবে গবেষণার জন্য বড় অঙ্কের বরাদ্ধ পেলে আগামীতে ব্যানানা ফাইবারের মাধ্যমে তুলার মতোই উচ্চ মানসম্মত সুতা তৈরি করা সম্ভব হবে। একটি শিল্প যখন গড়ে ওঠে তখন তার সঙ্গে জড়িত থাকে মানুষের কর্মস্থানের বিষয়টি। ব্যানানা ফাইবারকে বড় ধরনের শিল্পে রূপান্তরের মাধ্যমে তাই দেশে পোশাক, জাহাজ বা ওষুধ শিল্পের মতোই আরেকটি বড় ধরনের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও হতে পারে এ খাতটিতে। পোশাকশিল্প যেমন প্রথমে সরকারি উদ্যোগে গড়ে উঠলেও পরে বেসরকারিভাবে নিজস্ব রূপ লাভ করতে সক্ষম হয়েছে তেমনই ব্যানানা ফাইবার শিল্পকেও শিল্প হিসেবে গড়ে তুলতে ব্যাপক সরকারি সহায়তা পেলে ভবিষ্যতে এটিও হতে পারে দেশের বৃহত্তম শিল্প ও কর্মসংস্থানের অন্যতম ক্ষেত্র। রিয়াজুল ইসলাম আরো বলেন, তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ক্লাস নেয়ার পাশাপাশি একাডেমিক কাজও করতে হয়। এ কারণে গবেষণায় সময় বাড়ানো কষ্টসাধ্য হচ্ছে। পুরো বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হয় মাত্র ৬০ থেকে ৬৫ জন শিক্ষক দিয়ে। যেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে একেকটি বিভাগেই থাকেন ৪০ থেকে ৫০ জন শিক্ষক। শিক্ষকের সংখ্যা বাড়ালে তারা গবেষণায় আরো বেশি মনোযোগী হতে পারবেন। ফলে গবেষণার মাধ্যমে আরো অনেক কিছুই আবিষ্কার করা সম্ভাব হবে, যা দেশ ও জাতীর জন্য উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি বয়ে আনবে। এ কাজের একজন উদ্যোক্তা মেহেদি হাসান সোহাগ বলেন, তারা প্রাথমিক পর্যায়ে আছেন এবং সরকারি সহায়তা পেলে এটির মাধ্যমে দেশের সুতার চাহিদার একটি বিরাট অংশ মেটানো সম্ভব হবে। আর তা সম্ভব হলে প্রতিবছর বিদেশ থেকে যে বিপুল অর্থের সুতা বাংলাদেশকে কিনতে হয় তা হ্রাস করা যাবে। যার ফলে একদিকে যেমন আমদানি নির্ভরতা কমবে তেমনি দেশে গড়ে উঠবে নতুন শিল্প। ইয়ার্ন মেনুফেকসারিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র রাশিদুল ব্যানানা ফাইবারের ওপর কাজ করেছেন। তিনি বলেন, প্রথমে যে কলাগাছ ফল দিয়েছে তেমন গাছ সংগ্রহ করতে হবে। এরপর এর গায়ে থাকা ময়লাযুক্ত বাকল ও পাতা কেটে ফেলতে হবে। বাকলগুলোকে আলাদা করে ফাইবার মেশিনে মাড়াই করে এর অাঁশগুলোকে আলাদা করতে হবে। অাঁশগুলোকে কেমিক্যাল ট্রিটমেন্ট করার দরকার হলে এ পর্যায়ে এসে তা করা যাবে। তবে কেমিক্যাল ট্রিটমেন্ট করা হবে কিনা তা নির্ভর করে কোন কাজে এটি ব্যবহার করা হবে তার ওপর। কেমিক্যাল ট্রিটমেন্টের মাধ্যমে সুতাকে নরম ও রং করা হয়। যে কাপড়ে বেশি নরম সুতা দরকার সে কাপড়ে বেশি কেমিক্যাল ট্রিটমেন্ট দিতে হবে। আর যেটাতে শক্ত সুতা ব্যবহারের সুযোগ আছে যেমন জিন্স, শাল বা পর্দার কাপড় সেটাতে এটি না করলে বা অল্প পরিসরে করলেও চলবে। এ অবস্থায় অাঁশগুলোকে সুতা হিসেবে কাপড়ে ব্যবহার করা যাবে। আরেকজন উদ্যোগতা রনি রায়হান বলেন, এ বিষয়ে ব্যাপকভিত্তিক সরকারি বেসরকারি বিনিয়োগ ও কারিগরি সহায়তা পেলে দেশের সুতার চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও সুতা রপ্তানি সম্ভব হবে। কারণ এদেশে প্রচুর কলাগাছ আছে। এটি সম্ভব হলে দেশের অব্যবহৃত প্রতিটি গাছই হতে পারে মহামূল্যবান সম্পদ।

Comments

Comments!

 নতুন গবেষণা >ব্যানানা ফাইবার বদলে দেবে গার্মেন্ট শিল্পকেAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

নতুন গবেষণা >ব্যানানা ফাইবার বদলে দেবে গার্মেন্ট শিল্পকে

Friday, September 2, 2016 10:50 am
২

কলাগাছের বাকলকে প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে এভাবে তৈরি করা হয় উন্নতমানের সুতা _যাযাদিকলাগাছের বাকল দিয়ে তৈরি হচ্ছে উচ্চ-মানসম্পন্ন অাঁশ। আর এ অাঁশ দিয়ে তৈরি হচ্ছে সুতা বা ব্যানানা ফাইবার। পৃথিবীর অনেক দেশ ব্যানানা ফাইভার ব্যবহারে দক্ষতা অর্জন করলেও বাংলাদেশ এ বিষয়ে একেবারে অনভিজ্ঞ।

সাম্প্রতি বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহায়তায় দেশের কিছু যুবক এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছেন। তারা জানিয়েছেন, ব্যানানা ফাইবারের অাঁশ খুবই উন্নত মানের। যা দিয়ে দেশে ব্যাপক চাহিদা থাকা সুতার চাহিদার একটি বিরাট অংশ মেটানো সম্ভব হবে। ফলে সুতার আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশেই উৎপাদন করা যাবে পোশাকশিল্পের প্রধান এ কাঁচামাল। আর যা বদলে দিতে পারে দেশের অর্থনীতির প্রধান বাহন পোশাকশিল্পকে। সৃষ্টি হতে পারে নতুন

নতুন কর্মসংস্থানও। কলাগাছের বাকলকে সঠিক প্রক্রিয়ায় প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে এর অাঁশকে আলাদা করে পৃষ্ঠা ২ কলাম ২

পাটের মতোই তা দিয়ে তৈরি হচ্ছে উন্নতমানের সুতা। প্রতিবেশী দেশ ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া ও কানাডাসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এ প্রক্রিয়া আগে থেকেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তারা এরই মধ্যে ব্যানানা ফাইভার দিয়ে উন্নতমানের কাপড় তৈরি করেছে এবং তা রপ্তানিও করছে। আমাদের দেশে এ প্রক্রিয়ায় অাঁশকে আলাদা করে সুতা তৈরির খুব বেশি নজির নেই।

বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেব্রিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক ও ব্যানানা ফাইভার গবেষণার প্রধান গবেষক দেওয়ান মোরশেদ আহম্মেদ যায়যায়দিনকে বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতোই আমাদের দেশেও বাণিজ্যিকভাবে ব্যানানা ফাইবার ব্যবহারের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। ব্যানানা ফাইবার বা কলাগাছের অাঁশ দিয়ে তৈরি সুতা দিয়ে আমাদের নিত্য ব্যবহারযোগ্য কাপড় পর্যন্ত তৈরি করা সম্ভব। এর পাশাপাশি জিন্স, শাল, ভ্যানিটি ব্যাগ, হস্তশিল্প, জামদানি, জুতা, দরজা জানালায় ব্যবহৃত পর্দা, সোফার কাপড়সহ অনেক জিনিসই এ ফাইবার দিয়ে তৈরি করা সম্ভব।

তিনি আরো বলেন, ব্যানানা ফাইভার দিয়ে উন্নতমানের সিল্ক ও জামদানিও তৈরি হচ্ছে। যা দেশীয় সিল্ক ও জামদানির চেয়েও উন্নতমানের। তারা কাজের ক্ষেত্রে জাপান, কানাডার পদ্ধতি অনুসরণ করছেন। তারা এখন পর্যন্ত হাত দিয়েই সুতা তৈরি করছেন। শিগগিরই তারা যন্ত্র ব্যবহার করে সুতা উৎপাদন করতে পারবেন। তখন পুরো দেশের চাহিদা মেটাতে সক্ষম হবে এটি।

মোরশেদ আহম্মেদ বলেন, পাটের উৎপাদন মূল্য না পাওয়ায় আমাদের দেশের কৃষকরা পাট উৎপাদন থেকে সরে আসছেন। সে ক্ষেত্রে ব্যানানা ফাইভার পেতে খরচ অনেক কম হবে। ফলে ব্যবসায়িরা যেমন অল্প মূল্যে সুতার জোগান পাবেন তেমনি গ্রামের অব্যবহৃত একটি গাছের বিনিময়ে দেশের কৃষকরাও আয় করতে পারবেন ব্যাপক অর্থ। দেশে ৩০ বছর আগেও প্রায় শতাধিক পাটের কল থাকলেও এখন তা ২৩টিতে এসে ঠেকেছে। ব্যানানা ফাইভার দিয়ে এসব পাটকল আবারো সচল করা যাবে বলেও আশাবাদী তিনি।

বাংলাদেশ ২০১৫ সালে ৬ দশমিক ১০ মিলিয়ন বেল সুতা আমদানি করে। এর মধ্যে ২ দশমিক ৯৯ মিলিয়ন অর্থাৎ ৪৯ শতাংশই আমদানি করে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে। প্রতি বেল সুতার বাজারমূল্য গরপড়তায় ৫০০ পাউন্ড হয় বলে বাংলাদেশ কটন গোষ্ঠীর অনলাইন থেকে জানা গেছে। এ হিসেবে ২০১৫ সালে ৬ দশমিক ১০ মিলিয়ন বেল কটন আমদানি করতে বাংলাদেশকে বিদেশি দেশগুলোকে দিতে হয়েছে প্রায় ৩ বিলিয়ন কোটি টারও বেশি। যার অর্ধেক অর্থাৎ প্রায় দেড় বিলিয়ন কোটি টাকারও বেশি দিতে হয়েছে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতকে। আমাদের দেশ কাপড় রপ্তানি করে প্রতিবছর যে বিপুল পরিমাণ বিদেশি অর্থ আয় করে তার একটি বিরাট অংশই আবার দেশের বাইরে চলে যায় সুতা আমদানিতে। এখন সে সুতা যদি নিজেদের দেশেই তৈরি করা সম্ভব হয় তবে নিজেদের দেশের বিপুল পরিমাণ সম্পদ দেশেই রাখা সম্ভব হবে। যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক একটি বিষয় হতে পারে।

টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইয়ার্ন মেনুফেকসারিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের আরেক সহকারী অধ্যাপক ও ব্যানানা ফাইভার গবেষণার অন্যতম গবেষক রিয়াজুল ইসলাম বলেন, সরকার ব্যানানা ফাইভার গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করলে এটিকে বড় শিল্পে রূপ দেয়া সম্ভব। বিশ্ববিদ্যালয় তাদের যে বরাদ্ধ দেয় তা যথেষ্ঠ নয়। সরকারিভাবে গবেষণার জন্য বড় অঙ্কের বরাদ্ধ পেলে আগামীতে ব্যানানা ফাইবারের মাধ্যমে তুলার মতোই উচ্চ মানসম্মত সুতা তৈরি করা সম্ভব হবে। একটি শিল্প যখন গড়ে ওঠে তখন তার সঙ্গে জড়িত থাকে মানুষের কর্মস্থানের বিষয়টি। ব্যানানা ফাইবারকে বড় ধরনের শিল্পে রূপান্তরের মাধ্যমে তাই দেশে পোশাক, জাহাজ বা ওষুধ শিল্পের মতোই আরেকটি বড় ধরনের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও হতে পারে এ খাতটিতে। পোশাকশিল্প যেমন প্রথমে সরকারি উদ্যোগে গড়ে উঠলেও পরে বেসরকারিভাবে নিজস্ব রূপ লাভ করতে সক্ষম হয়েছে তেমনই ব্যানানা ফাইবার শিল্পকেও শিল্প হিসেবে গড়ে তুলতে ব্যাপক সরকারি সহায়তা পেলে ভবিষ্যতে এটিও হতে পারে দেশের বৃহত্তম শিল্প ও কর্মসংস্থানের অন্যতম ক্ষেত্র।

রিয়াজুল ইসলাম আরো বলেন, তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ক্লাস নেয়ার পাশাপাশি একাডেমিক কাজও করতে হয়। এ কারণে গবেষণায় সময় বাড়ানো কষ্টসাধ্য হচ্ছে। পুরো বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হয় মাত্র ৬০ থেকে ৬৫ জন শিক্ষক দিয়ে। যেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে একেকটি বিভাগেই থাকেন ৪০ থেকে ৫০ জন শিক্ষক। শিক্ষকের সংখ্যা বাড়ালে তারা গবেষণায় আরো বেশি মনোযোগী হতে পারবেন। ফলে গবেষণার মাধ্যমে আরো অনেক কিছুই আবিষ্কার করা সম্ভাব হবে, যা দেশ ও জাতীর জন্য উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি বয়ে আনবে।

এ কাজের একজন উদ্যোক্তা মেহেদি হাসান সোহাগ বলেন, তারা প্রাথমিক পর্যায়ে আছেন এবং সরকারি সহায়তা পেলে এটির মাধ্যমে দেশের সুতার চাহিদার একটি বিরাট অংশ মেটানো সম্ভব হবে। আর তা সম্ভব হলে প্রতিবছর বিদেশ থেকে যে বিপুল অর্থের সুতা বাংলাদেশকে কিনতে হয় তা হ্রাস করা যাবে। যার ফলে একদিকে যেমন আমদানি নির্ভরতা কমবে তেমনি দেশে গড়ে উঠবে নতুন শিল্প।

ইয়ার্ন মেনুফেকসারিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র রাশিদুল ব্যানানা ফাইবারের ওপর কাজ করেছেন। তিনি বলেন, প্রথমে যে কলাগাছ ফল দিয়েছে তেমন গাছ সংগ্রহ করতে হবে। এরপর এর গায়ে থাকা ময়লাযুক্ত বাকল ও পাতা কেটে ফেলতে হবে। বাকলগুলোকে আলাদা করে ফাইবার মেশিনে মাড়াই করে এর অাঁশগুলোকে আলাদা করতে হবে। অাঁশগুলোকে কেমিক্যাল ট্রিটমেন্ট করার দরকার হলে এ পর্যায়ে এসে তা করা যাবে। তবে কেমিক্যাল ট্রিটমেন্ট করা হবে কিনা তা নির্ভর করে কোন কাজে এটি ব্যবহার করা হবে তার ওপর। কেমিক্যাল ট্রিটমেন্টের মাধ্যমে সুতাকে নরম ও রং করা হয়। যে কাপড়ে বেশি নরম সুতা দরকার সে কাপড়ে বেশি কেমিক্যাল ট্রিটমেন্ট দিতে হবে। আর যেটাতে শক্ত সুতা ব্যবহারের সুযোগ আছে যেমন জিন্স, শাল বা পর্দার কাপড় সেটাতে এটি না করলে বা অল্প পরিসরে করলেও চলবে। এ অবস্থায় অাঁশগুলোকে সুতা হিসেবে কাপড়ে ব্যবহার করা যাবে।

আরেকজন উদ্যোগতা রনি রায়হান বলেন, এ বিষয়ে ব্যাপকভিত্তিক সরকারি বেসরকারি বিনিয়োগ ও কারিগরি সহায়তা পেলে দেশের সুতার চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও সুতা রপ্তানি সম্ভব হবে। কারণ এদেশে প্রচুর কলাগাছ আছে। এটি সম্ভব হলে দেশের অব্যবহৃত প্রতিটি গাছই হতে পারে মহামূল্যবান সম্পদ।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X