রবিবার, ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১৩ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সকাল ১১:৪৮
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Saturday, December 17, 2016 12:36 pm
A- A A+ Print

নব্য জেএমবির প্রধান আবু ইব্রাহিম আসলে কে

download-1

‘নব্য জেএমবি’র কথিত প্রধান শায়খ আবু ইব্রাহিম আল হানিফ আসলে কে; তিনি জীবিত, নাকি মারা গেছেন, সেই সংশয়ের সুরাহা এখনো হয়নি।র‍্যাব বলছে, সাভারে তাদের অভিযানে নিহত সারোয়ার জাহানের সাংগঠনিক নাম আবু ইব্রাহিম আল হানিফ। তিনিই নব্য জেএমবির প্রধান। আর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট বলছে, তদন্তে তারা জেনেছে, নিহত সারোয়ার জাহানের সাংগঠনিক নাম শায়খ অসিম আজওয়াদ বিন আব্দুল্লাহ। তাঁর আরেক ছদ্মনাম মানিক। কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের কর্মকর্তাদের ধারণা, আবু ইব্রাহিম আল হানিফ নামধারী ব্যক্তি এখনো বেঁচে আছেন।

আবার র‍্যাব যে জঙ্গি দলকে বলছে ‘জেএমবির সারোয়ার-তামিম গ্রুপ’, সেই একই দলকে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট বলছে ‘নব্য জেএমবি’। অন্যদিকে এই দলটি নিজেদের আইএস দাবি করে গুলশানে হলি আর্টিজানসহ বিভিন্ন হামলার ঘটনার দায় স্বীকার করেছে। শায়খ আবু ইব্রাহিম আল হানিফ নামটিও এসেছে আইএসের অনলাইন ম্যাগাজিন দাবিক-এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে। যাতে বলা হয়েছে, আবু ইব্রাহিম আল হানিফ আইএসের বাংলার খিলাফতের সৈনিকদের প্রধান।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই আবু ইব্রাহিম আল হানিফ নামধারী ব্যক্তি যে সংগঠনেরই প্রধান, ধরে নিতে হবে সেই সংগঠনের সঙ্গে ইরাক-সিরিয়াভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের (ইসলামিক স্টেট) সম্পৃক্ততা রয়েছে।

‘নব্য জেএমবি’ বা ‘সারোয়ার-তামিম’ গ্রুপ—যা-ই বলা হোক না কেন, এ জঙ্গি সংগঠনের নেতৃত্ব এখন কার হাতে, সে বিষয়ে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট ও র‍্যাবের কর্মকর্তাদের কেউই নিশ্চিত নন।

র‍্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ গত ২১ অক্টোবর এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ৮ অক্টোবর সাভারের আশুলিয়ায় র‍্যাবের অভিযানের সময় নিহত সারোয়ার জাহানই নব্য জেএমবিকে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। তাঁর সাংগঠনিক নাম আবু ইব্রাহিম আল হানিফ। তিনি জানান, সারোয়ারের বাসা থেকে জঙ্গিদের বেশ কিছু সাংগঠনিক চিঠি ও কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়। এগুলোর মধ্যে ছিল নব্য জেএমবি গঠনের একটি ঘোষণাপত্র, যাতে আবু ইব্রাহিম আল হানিফ ও আবু দোজানা নামের দুজনের সই রয়েছে।

আবু দোজানা যে নারায়ণগঞ্জ অভিযানে নিহত তামিম চৌধুরী, তা নিয়ে র‍্যাব ও পুলিশের কারও সন্দেহ নেই। আইএসের আরেক অনলাইন ম্যাগাজিন রুমাইয়ার এক নিবন্ধেও এর সত্যতা মিলেছে। সারোয়ার জাহান আর আবু ইব্রাহিম আল হানিফ একই ব্যক্তি কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

র‍্যাবের মহাপরিচালকের ওই সংবাদ সম্মেলনের চার দিন পর ২৬ অক্টোবর আরেক সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেছেন, সারোয়ার জাহান নব্য জেএমবির তৃতীয় সারির নেতা। এ বিষয়ে তাঁদের কাছে তথ্য-প্রমাণ আছে।

এরপরে র‍্যাবের কর্মকর্তারা বলেছেন, পর্যাপ্ত তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতেই তাঁরা সারোয়ার জাহানকে নব্য জেএমবির আমির বলেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে র‍্যাবের একজন কর্মকর্তা বলেন, সারোয়ার জাহানের বাসায় পাওয়া ঘোষণাপত্রটি মূলত গত বছরের ২১ জুলাই পাঠানো একটি চিঠির অংশ। আইএসের একজন মুখপাত্রের কাছে চিঠিটি পাঠিয়েছিল এ দেশের জঙ্গিরা। সেই চিঠির প্রথম অংশটিকেই ঘোষণাপত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তাতে বলা হয়, ‘শেখ অসিম আজওয়াদ এবং শেখ আবু দুজানার পক্ষ থেকে...। গত ৮ রমজান আপনার ইমেইলের পরিপ্রেক্ষিতে নিচের ব্যবস্থাগুলো নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি জামায়াতুল মুজাহেদিন বাংলাদেশ (জেএমবি) ও জুনুদ আত তাওহীদ ওয়াল খালিফার নেতা ও গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের সমন্বয়ে একটি সভা হয়েছে। ওই সভায় ওপরে উল্লেখিত সংগঠনগুলো (জেএমবি ও জুনুদ আত তাওহীদ) তাদের নেতৃত্বের উপস্থিতিতে বাতিল বলে ঘোষিত হয়েছে। ওই সভায় এই অঞ্চলের আমিরকে (প্রধান) সাহায্য করার জন্য একটি মজলিস শূরা গঠন করা হয়েছে। শূরা সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে আবু ইব্রাহিম আল হানিফকে এই অঞ্চলের আঞ্চলিক আমির নির্বাচন করা হয়েছে।’

র‍্যাব কর্মকর্তারা বলছেন, গত বছরের ২১ জুলাই এই ঘোষণাপত্র স্বাক্ষরের পর থেকে চলতি বছরের ৬ অক্টোবর পর্যন্ত আবু ইব্রাহিম আল হানিফের নামে ৯টি চিঠি সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ে পাঠানো এবং ১০টি চিঠি গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও কিছু কাগজপত্র পাওয়া গেছে। যার ভিত্তিতে র‍্যাব নিশ্চিত হয়েছে যে সারোয়ারই নব্য জেএমবির প্রধান।

এদিকে কাউন্টার টেররিজমের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, হলি আর্টিজানে হামলা ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে ওই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত হিসেবে অসিম আজওয়াদ বিন আব্দুল্লাহ ওরফে মানিক নামে একজনের কথা জানতে পারেন তাঁরা। পরে তাঁরা নিশ্চিত হয়েছেন, নিহত সারোয়ার জাহানই অসিম আজওয়াদ।

কাউন্টার টেররিজমের একজন কর্মকর্তা র‍্যাবের দেখানো ঘোষণাপত্রটির কথা উল্লেখ করে বলেন, সেই ঘোষণাপত্রে স্পষ্টভাবে বোঝা যায়, জেএমবি ও জুনুদ আত তাওহীদের নেতারা সিদ্ধান্ত নিয়ে দুটি সংগঠন একত্র হয়ে নতুন একটি সংগঠন তৈরি করেছেন। চিঠিতে স্পষ্ট যে অসিম আজওয়াদ ও আবু দুজানা নামের দুই ব্যক্তি মিলে তাঁদের সিদ্ধান্তের কথা চিঠিতে তৃতীয় আরেকজনকে জানাচ্ছেন। তাতে আবু ইব্রাহিম আল হানিফকে আমির করার সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। আবু দুজানা যে তামিম চৌধুরী, এটা নিশ্চিত হওয়া গেছে। অসিম আজওয়াদের পরিচয়ও নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে এখন পর্যন্ত আবু ইব্রাহিম আল হানিফের আসল পরিচয় জানা যায়নি। চিঠির ভাষায় এটা স্পষ্ট যে অসিম আজওয়াদ ও আবু ইব্রাহিম আল হানিফ এক ব্যক্তি নন।

এদিকে হলি আর্টিজান হামলার তদন্তের সঙ্গে যুক্ত একজন কর্মকর্তা বলেন, ওই হামলার বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমন্বয় করেছিলেন এই অসিম আজওয়াদ নামধারী ব্যক্তি। তাঁর আরেকটি নাম মানিক বলেও বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে তথ্য পাওয়া যায়। গত অক্টোবরে নিশ্চিত হওয়া যায় যে সারোয়ার জাহানের সাংগঠনিক নাম অসিম আজওয়াদ।

গত ২৭ আগস্ট নারায়ণগঞ্জে পুলিশের অভিযানে তামিম চৌধুরী নিহত হওয়ার পরে সেপ্টেম্বরে আইএসের অনলাইন সাময়িকী রুমাইয়াহর দ্বিতীয় সংস্করণে তামিম চৌধুরীর লেখা ছাপা হয়। সেখানে তাঁর সাংগঠনিক নাম লেখা রয়েছে আবু দুজানা আল বেঙ্গলি, পদবি লেখা রয়েছে সামরিক ও গুপ্ত অপারেশন শাখার সাবেক প্রধান। ওই লেখায় উল্লেখ করে দেওয়া হয় যে তামিম চৌধুরী নারায়ণগঞ্জে নিহত হন এবং এই লেখা তিনি মৃত্যুর আগে লিখে গিয়েছিলেন। তবে এখন পর্যন্ত আবু ইব্রাহিম আল হানিফ নিহত হওয়ার বিষয়ে আইএসের তরফ থেকে কোনো দাবি করা হয়নি।

পুরোনো জেএমবির নেতা সারোয়ার জাহান ২০০৩ সালে জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনা মামলার আসামি ছিলেন। ওই ঘটনার পরে সিরাজগঞ্জে গ্রেপ্তার হয়ে ৯ মাস ৪ দিন কারাভোগের পর জামিনে বেরিয়ে যান তিনি। এরপর তিনি আর গ্রেপ্তার হননি। তাঁর মতো মাদ্রাসা শিক্ষায় শিক্ষিত একজন ব্যক্তি ইংরেজিতে পত্রালাপ করতে পারেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের কর্মকর্তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম গত বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে বলেন, আবু ইব্রাহিম আল হানিফ কে, সে বিষয়ে তাঁরা এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি।

জানতে চাইলে নিরাপত্তা বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, নব্য জেএমবির কথিত প্রধান আবু ইব্রাহিম আল হানিফের নাম প্রথম শোনা যায় গত এপ্রিলে। আইএসের অনলাইন সাময়িকী দাবিক-এ তাঁর সাক্ষাৎকার ছাপা হয়েছিল। তবে সেখানে তাঁর আসল পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। এখন র‍্যাব বলছে, এই সারোয়ার জাহানই হলেন আবু ইব্রাহিম। তবে আবু ইব্রাহিম যে-ই হোক, তাঁর সঙ্গে আইএসের একটা যোগাযোগ ছিল। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এ দেশে আইএসের অস্তিত্ব নেই।

আপনার পছন্দের এলাকার সংবাদ

পাঠকের মন্তব্য ( ১ )

  • বাংলাদেশে আইএস আছে বা নাই বর কথা না কিন্তু ভঙ্কর জন্গীবাদ আছে বা জন্গীবাদ বারছে সেটা সত্য কথা।

Comments

Comments!

 নব্য জেএমবির প্রধান আবু ইব্রাহিম আসলে কেAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

নব্য জেএমবির প্রধান আবু ইব্রাহিম আসলে কে

Saturday, December 17, 2016 12:36 pm
download-1

‘নব্য জেএমবি’র কথিত প্রধান শায়খ আবু ইব্রাহিম আল হানিফ আসলে কে; তিনি জীবিত, নাকি মারা গেছেন, সেই সংশয়ের সুরাহা এখনো হয়নি।র‍্যাব বলছে, সাভারে তাদের অভিযানে নিহত সারোয়ার জাহানের সাংগঠনিক নাম আবু ইব্রাহিম আল হানিফ। তিনিই নব্য জেএমবির প্রধান। আর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট বলছে, তদন্তে তারা জেনেছে, নিহত সারোয়ার জাহানের সাংগঠনিক নাম শায়খ অসিম আজওয়াদ বিন আব্দুল্লাহ। তাঁর আরেক ছদ্মনাম মানিক। কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের কর্মকর্তাদের ধারণা, আবু ইব্রাহিম আল হানিফ নামধারী ব্যক্তি এখনো বেঁচে আছেন।

আবার র‍্যাব যে জঙ্গি দলকে বলছে ‘জেএমবির সারোয়ার-তামিম গ্রুপ’, সেই একই দলকে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট বলছে ‘নব্য জেএমবি’। অন্যদিকে এই দলটি নিজেদের আইএস দাবি করে গুলশানে হলি আর্টিজানসহ বিভিন্ন হামলার ঘটনার দায় স্বীকার করেছে। শায়খ আবু ইব্রাহিম আল হানিফ নামটিও এসেছে আইএসের অনলাইন ম্যাগাজিন দাবিক-এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে। যাতে বলা হয়েছে, আবু ইব্রাহিম আল হানিফ আইএসের বাংলার খিলাফতের সৈনিকদের প্রধান।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই আবু ইব্রাহিম আল হানিফ নামধারী ব্যক্তি যে সংগঠনেরই প্রধান, ধরে নিতে হবে সেই সংগঠনের সঙ্গে ইরাক-সিরিয়াভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের (ইসলামিক স্টেট) সম্পৃক্ততা রয়েছে।

‘নব্য জেএমবি’ বা ‘সারোয়ার-তামিম’ গ্রুপ—যা-ই বলা হোক না কেন, এ জঙ্গি সংগঠনের নেতৃত্ব এখন কার হাতে, সে বিষয়ে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট ও র‍্যাবের কর্মকর্তাদের কেউই নিশ্চিত নন।

র‍্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ গত ২১ অক্টোবর এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ৮ অক্টোবর সাভারের আশুলিয়ায় র‍্যাবের অভিযানের সময় নিহত সারোয়ার জাহানই নব্য জেএমবিকে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। তাঁর সাংগঠনিক নাম আবু ইব্রাহিম আল হানিফ। তিনি জানান, সারোয়ারের বাসা থেকে জঙ্গিদের বেশ কিছু সাংগঠনিক চিঠি ও কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়। এগুলোর মধ্যে ছিল নব্য জেএমবি গঠনের একটি ঘোষণাপত্র, যাতে আবু ইব্রাহিম আল হানিফ ও আবু দোজানা নামের দুজনের সই রয়েছে।

আবু দোজানা যে নারায়ণগঞ্জ অভিযানে নিহত তামিম চৌধুরী, তা নিয়ে র‍্যাব ও পুলিশের কারও সন্দেহ নেই। আইএসের আরেক অনলাইন ম্যাগাজিন রুমাইয়ার এক নিবন্ধেও এর সত্যতা মিলেছে। সারোয়ার জাহান আর আবু ইব্রাহিম আল হানিফ একই ব্যক্তি কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

র‍্যাবের মহাপরিচালকের ওই সংবাদ সম্মেলনের চার দিন পর ২৬ অক্টোবর আরেক সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেছেন, সারোয়ার জাহান নব্য জেএমবির তৃতীয় সারির নেতা। এ বিষয়ে তাঁদের কাছে তথ্য-প্রমাণ আছে।

এরপরে র‍্যাবের কর্মকর্তারা বলেছেন, পর্যাপ্ত তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতেই তাঁরা সারোয়ার জাহানকে নব্য জেএমবির আমির বলেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে র‍্যাবের একজন কর্মকর্তা বলেন, সারোয়ার জাহানের বাসায় পাওয়া ঘোষণাপত্রটি মূলত গত বছরের ২১ জুলাই পাঠানো একটি চিঠির অংশ। আইএসের একজন মুখপাত্রের কাছে চিঠিটি পাঠিয়েছিল এ দেশের জঙ্গিরা। সেই চিঠির প্রথম অংশটিকেই ঘোষণাপত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তাতে বলা হয়, ‘শেখ অসিম আজওয়াদ এবং শেখ আবু দুজানার পক্ষ থেকে…। গত ৮ রমজান আপনার ইমেইলের পরিপ্রেক্ষিতে নিচের ব্যবস্থাগুলো নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি জামায়াতুল মুজাহেদিন বাংলাদেশ (জেএমবি) ও জুনুদ আত তাওহীদ ওয়াল খালিফার নেতা ও গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের সমন্বয়ে একটি সভা হয়েছে। ওই সভায় ওপরে উল্লেখিত সংগঠনগুলো (জেএমবি ও জুনুদ আত তাওহীদ) তাদের নেতৃত্বের উপস্থিতিতে বাতিল বলে ঘোষিত হয়েছে। ওই সভায় এই অঞ্চলের আমিরকে (প্রধান) সাহায্য করার জন্য একটি মজলিস শূরা গঠন করা হয়েছে। শূরা সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে আবু ইব্রাহিম আল হানিফকে এই অঞ্চলের আঞ্চলিক আমির নির্বাচন করা হয়েছে।’

র‍্যাব কর্মকর্তারা বলছেন, গত বছরের ২১ জুলাই এই ঘোষণাপত্র স্বাক্ষরের পর থেকে চলতি বছরের ৬ অক্টোবর পর্যন্ত আবু ইব্রাহিম আল হানিফের নামে ৯টি চিঠি সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ে পাঠানো এবং ১০টি চিঠি গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও কিছু কাগজপত্র পাওয়া গেছে। যার ভিত্তিতে র‍্যাব নিশ্চিত হয়েছে যে সারোয়ারই নব্য জেএমবির প্রধান।

এদিকে কাউন্টার টেররিজমের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, হলি আর্টিজানে হামলা ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে ওই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত হিসেবে অসিম আজওয়াদ বিন আব্দুল্লাহ ওরফে মানিক নামে একজনের কথা জানতে পারেন তাঁরা। পরে তাঁরা নিশ্চিত হয়েছেন, নিহত সারোয়ার জাহানই অসিম আজওয়াদ।

কাউন্টার টেররিজমের একজন কর্মকর্তা র‍্যাবের দেখানো ঘোষণাপত্রটির কথা উল্লেখ করে বলেন, সেই ঘোষণাপত্রে স্পষ্টভাবে বোঝা যায়, জেএমবি ও জুনুদ আত তাওহীদের নেতারা সিদ্ধান্ত নিয়ে দুটি সংগঠন একত্র হয়ে নতুন একটি সংগঠন তৈরি করেছেন। চিঠিতে স্পষ্ট যে অসিম আজওয়াদ ও আবু দুজানা নামের দুই ব্যক্তি মিলে তাঁদের সিদ্ধান্তের কথা চিঠিতে তৃতীয় আরেকজনকে জানাচ্ছেন। তাতে আবু ইব্রাহিম আল হানিফকে আমির করার সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। আবু দুজানা যে তামিম চৌধুরী, এটা নিশ্চিত হওয়া গেছে। অসিম আজওয়াদের পরিচয়ও নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে এখন পর্যন্ত আবু ইব্রাহিম আল হানিফের আসল পরিচয় জানা যায়নি। চিঠির ভাষায় এটা স্পষ্ট যে অসিম আজওয়াদ ও আবু ইব্রাহিম আল হানিফ এক ব্যক্তি নন।

এদিকে হলি আর্টিজান হামলার তদন্তের সঙ্গে যুক্ত একজন কর্মকর্তা বলেন, ওই হামলার বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমন্বয় করেছিলেন এই অসিম আজওয়াদ নামধারী ব্যক্তি। তাঁর আরেকটি নাম মানিক বলেও বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে তথ্য পাওয়া যায়। গত অক্টোবরে নিশ্চিত হওয়া যায় যে সারোয়ার জাহানের সাংগঠনিক নাম অসিম আজওয়াদ।

গত ২৭ আগস্ট নারায়ণগঞ্জে পুলিশের অভিযানে তামিম চৌধুরী নিহত হওয়ার পরে সেপ্টেম্বরে আইএসের অনলাইন সাময়িকী রুমাইয়াহর দ্বিতীয় সংস্করণে তামিম চৌধুরীর লেখা ছাপা হয়। সেখানে তাঁর সাংগঠনিক নাম লেখা রয়েছে আবু দুজানা আল বেঙ্গলি, পদবি লেখা রয়েছে সামরিক ও গুপ্ত অপারেশন শাখার সাবেক প্রধান। ওই লেখায় উল্লেখ করে দেওয়া হয় যে তামিম চৌধুরী নারায়ণগঞ্জে নিহত হন এবং এই লেখা তিনি মৃত্যুর আগে লিখে গিয়েছিলেন। তবে এখন পর্যন্ত আবু ইব্রাহিম আল হানিফ নিহত হওয়ার বিষয়ে আইএসের তরফ থেকে কোনো দাবি করা হয়নি।

পুরোনো জেএমবির নেতা সারোয়ার জাহান ২০০৩ সালে জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনা মামলার আসামি ছিলেন। ওই ঘটনার পরে সিরাজগঞ্জে গ্রেপ্তার হয়ে ৯ মাস ৪ দিন কারাভোগের পর জামিনে বেরিয়ে যান তিনি। এরপর তিনি আর গ্রেপ্তার হননি। তাঁর মতো মাদ্রাসা শিক্ষায় শিক্ষিত একজন ব্যক্তি ইংরেজিতে পত্রালাপ করতে পারেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের কর্মকর্তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম গত বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে বলেন, আবু ইব্রাহিম আল হানিফ কে, সে বিষয়ে তাঁরা এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি।

জানতে চাইলে নিরাপত্তা বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, নব্য জেএমবির কথিত প্রধান আবু ইব্রাহিম আল হানিফের নাম প্রথম শোনা যায় গত এপ্রিলে। আইএসের অনলাইন সাময়িকী দাবিক-এ তাঁর সাক্ষাৎকার ছাপা হয়েছিল। তবে সেখানে তাঁর আসল পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। এখন র‍্যাব বলছে, এই সারোয়ার জাহানই হলেন আবু ইব্রাহিম। তবে আবু ইব্রাহিম যে-ই হোক, তাঁর সঙ্গে আইএসের একটা যোগাযোগ ছিল। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এ দেশে আইএসের অস্তিত্ব নেই।

আপনার পছন্দের এলাকার সংবাদ

পাঠকের মন্তব্য ( ১ )

  • বাংলাদেশে আইএস আছে বা নাই বর কথা না কিন্তু ভঙ্কর জন্গীবাদ আছে বা জন্গীবাদ বারছে সেটা সত্য কথা।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X