শুক্রবার, ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১১ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সকাল ৬:২১
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Saturday, December 10, 2016 11:51 pm
A- A A+ Print

নাফ নদী দিয়ে যেভাবে রোহিঙ্গাদের পাচার করা হয়

163766_1

মায়ানমারের উত্তরাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের কয়েকজন বলেছেন, দালালদের টাকা দিয়ে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন। তারা বলছেন, জীবন বাঁচানোর জন্যে তারা মায়ানমার ও বাংলাদেশ দু’খানেই দালালদের অর্থ দিচ্ছেন। আর সীমান্তবর্তী নাফ নদী পার হচ্ছেন স্থানীয় জেলে/মাঝিদের সহায়তায়। অর্থের বিনিময়ে কিভাবে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আনার কাজ করছে এসব দালালরা- টেকনাফে এমন দুজনের সাথে কথা বলে কিছু ধারণা পাওয়া গেছে। এই প্রতিবেদনে এই পাচারকারীদের ছদ্মনাম ব্যবহার করা হয়েছে। সন্ধ্যার পর অন্ধকার নেমে এলে কাজ শুরু হয় নৌকার মাঝি সবুরের। আপাতদৃষ্টিতে তাকে দেখলে মনে হবে তিনি নদীতে মাছ ধরতে যাচ্ছেন। কিন্তু উদ্দেশ্য তার অন্য। মোবাইল ফোনে আগেই কথা বলে নেন সবুর। মায়ানমার থেকে যারা বাংলাদেশে আসবে তারা মায়ানমার সীমান্তে নদীর ওপারে বনের ভেতরে অপেক্ষা করতে থাকে। রাত আরো গভীর হলে সবুর নির্দিষ্ট স্থানে যেয়ে তাদেরকে নৌকায় তুলে নেয়। তিনি বলেছেন, নৌকায় যারা উঠেন তাদের মধ্যে অনেক মেয়েকে তিনি দেখেছেন মুখে ও শরীরে কালি এবং কাদা মেখে আছেন। তাদের চেহারা যাতে না বোঝা যায় সে কারণেই এই চেষ্টা। তিনি বলেন, ‘জনপ্রতি তাকে কেউ তিন হাজার, কেউ দুই হাজার আবার কেউ পাঁচ হাজার টাকা দেয়। প্রতিটা নৌকায় ৫ থেকে ১০ জন করে উঠানো হয়। গত প্রায় দেড় মাসে সবুর এমন ৫০ জনকে মায়ানমার থেকে বাংলাদেশে নিয়ে এসেছেন বলে তিনি জানান। শুধু নদী পার করে দেয়াটাই তার কাজ। তবে তার উপরেও লোকজন রয়েছেন যারা মোবাইলে মায়ানমারের দালালদের সাথে মূল যোগাযোগটা করে থাকেন।   বাংলাদেশে এরকম একজন দালাল আব্দুল। মায়ানমারের দালালদের সাথে তিনিই যোগাযোগ রাখেন। আব্দুল জানান, একদল রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে নিয়ে আসার জন্যে মায়ানমারের দালালদের সাথে আড়াই লাখ থেকে পাঁচ লাখ কিয়েটের চুক্তি করেন তিনি।   তিনি বলেন, ‘প্রথমে টেকনাফ থেকে একজন জেলেকে ঠিক করা হয় যিনি রাতের অন্ধকারে নদীর ওপাশে যাবেন রোহিঙ্গাদের আনার জন্যে। পরে রাতের বেলা, কাঁটাতারের বেড়ার পাশে যেসব রোহিঙ্গা লুকিয়ে থাকেন, তাদেরকে নিয়ে আসে। দালাল আব্দুল জানান, এজন্যে তিনি জনপ্রতি ২৫ থেকে ২৬ হাজার টাকা নিয়ে থাকেন। তবে সীমান্তে বিজিবির কঠোর সর্তক অবস্থান আর তাদের চোখকে ফাঁকি দিয়ে নিয়ে আসাটাই তাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ। মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার জেরে এ পর্যন্ত ২১ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে বলে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা বলছে। আর এসব রোহিঙ্গার অনেকেই বলেছেন, জীবন বাঁচাতে দালালদের টাকা দিয়ে তারা বাংলাদেশের সীমান্তে এসেছেন। টেকনাফের একটি অস্থায়ী ক্যাম্পে পরিবার নিয়ে উঠেছেন এমন একজন ব্যক্তি রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার বর্ণনা দিয়ে বলেন, পরিবারের নারী সদস্যদের সম্মান বাঁচাতে তিনি তাদের নিয়ে পালিয়ে এসেছেন। আর তার ভাষায় দালালদের দিয়েছেন জন প্রতি ২৬ হাজার মায়ানমার কিয়েট। আর এভাবেই প্রায় প্রতি রাতে নাফ নদী পাড়ি দিয়ে টেকনাফে প্রবেশ করছে রোহিঙ্গারা যাদের কেউ কেউ দালালদের অর্থ দিয়ে নদী পার হচ্ছেন। সূত্র: বিবিসি

Comments

Comments!

 নাফ নদী দিয়ে যেভাবে রোহিঙ্গাদের পাচার করা হয়AmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

নাফ নদী দিয়ে যেভাবে রোহিঙ্গাদের পাচার করা হয়

Saturday, December 10, 2016 11:51 pm
163766_1

মায়ানমারের উত্তরাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের কয়েকজন বলেছেন, দালালদের টাকা দিয়ে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন।

তারা বলছেন, জীবন বাঁচানোর জন্যে তারা মায়ানমার ও বাংলাদেশ দু’খানেই দালালদের অর্থ দিচ্ছেন।

আর সীমান্তবর্তী নাফ নদী পার হচ্ছেন স্থানীয় জেলে/মাঝিদের সহায়তায়। অর্থের বিনিময়ে কিভাবে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আনার কাজ করছে এসব দালালরা- টেকনাফে এমন দুজনের সাথে কথা বলে কিছু ধারণা পাওয়া গেছে।

এই প্রতিবেদনে এই পাচারকারীদের ছদ্মনাম ব্যবহার করা হয়েছে। সন্ধ্যার পর অন্ধকার নেমে এলে কাজ শুরু হয় নৌকার মাঝি সবুরের। আপাতদৃষ্টিতে তাকে দেখলে মনে হবে তিনি নদীতে মাছ ধরতে যাচ্ছেন। কিন্তু উদ্দেশ্য তার অন্য।

মোবাইল ফোনে আগেই কথা বলে নেন সবুর। মায়ানমার থেকে যারা বাংলাদেশে আসবে তারা মায়ানমার সীমান্তে নদীর ওপারে বনের ভেতরে অপেক্ষা করতে থাকে।

রাত আরো গভীর হলে সবুর নির্দিষ্ট স্থানে যেয়ে তাদেরকে নৌকায় তুলে নেয়।

তিনি বলেছেন, নৌকায় যারা উঠেন তাদের মধ্যে অনেক মেয়েকে তিনি দেখেছেন মুখে ও শরীরে কালি এবং কাদা মেখে আছেন। তাদের চেহারা যাতে না বোঝা যায় সে কারণেই এই চেষ্টা।

তিনি বলেন, ‘জনপ্রতি তাকে কেউ তিন হাজার, কেউ দুই হাজার আবার কেউ পাঁচ হাজার টাকা দেয়।

প্রতিটা নৌকায় ৫ থেকে ১০ জন করে উঠানো হয়। গত প্রায় দেড় মাসে সবুর এমন ৫০ জনকে মায়ানমার থেকে বাংলাদেশে নিয়ে এসেছেন বলে তিনি জানান।

শুধু নদী পার করে দেয়াটাই তার কাজ। তবে তার উপরেও লোকজন রয়েছেন যারা মোবাইলে মায়ানমারের দালালদের সাথে মূল যোগাযোগটা করে থাকেন।

 

বাংলাদেশে এরকম একজন দালাল আব্দুল। মায়ানমারের দালালদের সাথে তিনিই যোগাযোগ রাখেন।

আব্দুল জানান, একদল রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে নিয়ে আসার জন্যে মায়ানমারের দালালদের সাথে আড়াই লাখ থেকে পাঁচ লাখ কিয়েটের চুক্তি করেন তিনি।

 

তিনি বলেন, ‘প্রথমে টেকনাফ থেকে একজন জেলেকে ঠিক করা হয় যিনি রাতের অন্ধকারে নদীর ওপাশে যাবেন রোহিঙ্গাদের আনার জন্যে। পরে রাতের বেলা, কাঁটাতারের বেড়ার পাশে যেসব রোহিঙ্গা লুকিয়ে থাকেন, তাদেরকে নিয়ে আসে।

দালাল আব্দুল জানান, এজন্যে তিনি জনপ্রতি ২৫ থেকে ২৬ হাজার টাকা নিয়ে থাকেন। তবে সীমান্তে বিজিবির কঠোর সর্তক অবস্থান আর তাদের চোখকে ফাঁকি দিয়ে নিয়ে আসাটাই তাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ।

মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার জেরে এ পর্যন্ত ২১ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে বলে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা বলছে।

আর এসব রোহিঙ্গার অনেকেই বলেছেন, জীবন বাঁচাতে দালালদের টাকা দিয়ে তারা বাংলাদেশের সীমান্তে এসেছেন।

টেকনাফের একটি অস্থায়ী ক্যাম্পে পরিবার নিয়ে উঠেছেন এমন একজন ব্যক্তি রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার বর্ণনা দিয়ে বলেন, পরিবারের নারী সদস্যদের সম্মান বাঁচাতে তিনি তাদের নিয়ে পালিয়ে এসেছেন।

আর তার ভাষায় দালালদের দিয়েছেন জন প্রতি ২৬ হাজার মায়ানমার কিয়েট। আর এভাবেই প্রায় প্রতি রাতে নাফ নদী পাড়ি দিয়ে টেকনাফে প্রবেশ করছে রোহিঙ্গারা যাদের কেউ কেউ দালালদের অর্থ দিয়ে নদী পার হচ্ছেন।

সূত্র: বিবিসি

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X