শুক্রবার, ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১১ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ৮:৫২
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Sunday, September 17, 2017 8:31 pm
A- A A+ Print

নারায়ণগঞ্জের রোহিঙ্গা গেল কক্সবাজারে, জানিয়ে গেল মা-বাবা-বোনকে হত্যার নির্মম কাহিনী

252529_130

নারায়ণগঞ্জ শহরে আটক হওয়া মিয়ানমারের রোহিঙ্গা আবদুল্লাহকে (২৫) কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাঠানো হয়েছে। চোখের সামনে বাবা, মা ও বোনকে হত্যার পাশাপাশি অমানবিক নির্যাতনের শিকার আবদুল্লাহ মিয়ানমারের আরাকান রাজ্য থেকে পালিয়ে এসে চলে এসেছিলেন নারায়ণগঞ্জ। শনিবার রাতে তাকে শহরের খানপুরে আটক করা হয়। তাকে রাতেই ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সারারাত তাকে চিকিৎসা শেষে রোববার ১৭ সেপ্টেম্বর সকারে পুলিশ প্রহরায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাঠানো হয়। হাসপাতালে থাকা সময়ে আবদুল্লাহকে বেশ বিমর্ষ ও ভীত দেখা গেছে। মিয়ানমারে সম্প্রতি মুসলমানদের উপর গণহত্যার সময়ে তিনজনকেই নির্মামভাবে খুন করা হয় আবদুল্লাহর চোখের সামনে। সে দৃশ্য এখনো ভুলতে পারেনি। চোখের সামনে ভেসে উঠে বিভৎস নৃশংস ভয়াবহ চিত্র যা এখনো আতংকিত করে রেখেছে তাকে। সে কারণেই এখন পুলিশের পোশাক পরিহিত মানুষ দেখলেই আঁতকে ওঠেন তিনি। নারায়ণগঞ্জে এসে আটকের পর আবদুল্লাহর ভয় যেন আরো বেড়ে যায়। মানুষ দেখে ভয়ে বার বার চিৎকার করে ওঠেন তিনি। সাংবাদিক পরিচয়ে দিয়ে কাছে যেতেই একই ভাবে চিৎকার করতে থাকেন আব্দুল্লাহ। বলতে থাকেন, আমাকে মারবেন না, আমাকে মারবেন না। ১৬ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১১টায় শহরের খানপুর এলাকায় ঘোরাফেরা করার সময় গতিবিধি সন্দেহজনক হওয়ায় পুলিশ তাকে আটক করে। পরে তিনি মিয়ানমারের রোহিঙ্গা থেকে এসেছেন বলে পুলিশকে জানান। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম ও ভীত থাকায় রাতেই তাকে শহরের খানপুরের ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আব্দুল্লাহ বলেন, ‘মা, বাবা ও বোনসহ আমরা ৪জন ছিলাম। কিছুদিন আগে বৌদ্ধ ও সেনাবাহিনীর লোকজন মা ও বাবাকে কুপিয়ে ও গুলি করে মেরে ফেলেছে। ১২ বছরের ছোট বোনকেও ছাড়েনি। ওকে প্রথম হাত পা কেটে ফেলে। পরে গুলি করে মেরে ফেলে। আমাকে গলায় চাকু দিয়ে আঘাত করে। শরীরে আঘাত করে।’ কথাগুলো বলতে বলতে তিনি শরীর বিভিন্ন অংশ দেখান। তার মধ্যে গলায়, বুকে, পিঠে ও পায়ে বিভিন্ন ছুরির আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আবদুল্লাহ জানান, বাবা সোলেমান মিয়া, মা হাজু ও বোন লতিমুনিয়াকে নিয়ে তাদের চারজনের পরিবার ছিল। কিন্তু মিয়ানমারে বৌদ্ধরা তাদের হত্যা করেছে। কিন্তু যখন তাকে মারতে আসে তিনিও একজনকে গুলিকে হত্যা করে পালিয়ে চলে আসেন। প্রথমে মিয়ানমার থেকে টেকনাফ পরে সেখান থেকে ট্রেনে চড়ে নারায়ণগঞ্জে চলে আসেন। তবে ট্রেনের টিকেটের টাকা পরিশোধ ও নারায়ণগঞ্জে আসার রাস্তার বর্ণনা দিতে পারেনি।’ আবদুল্লাহ আরো বলেন, ‘আমার একজন বন্ধু ছিল মিয়নামারে। তাকেও মেরে ফেলে হয়েছে। বাড়ি ঘর মসজিদ কিছুই বাকি রাখেনি। সব পুড়িয়ে দিয়েছে বৌদ্ধরা। এখনে আমার আর কেউ নেই। আমি এখানে একই এসেছি। এখানে আমার কোন আত্মীয় স্বজন কেউ নেই।’ নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ডাক্তার তাহমিনা নাজনীন বলেন, ‘ওই যুবকের শরীরে ও গলায় আঘাতের চিহ্ন আছে। শরীরে যেসব আঘাতের চিহ্ন আছে সেগুলোও অনেক দিন আগের।’ নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল রাজ্জাক বলেন, ‘রোহিঙ্গা যুবকে সকালে এসআই সোহাগের অধীনে দুইজন কনস্টেবলসহ কক্সবাজারের ক্যাম্পে পাঠানো হয়েছে।’ রোহিঙ্গাদের জন্য তৈরি হচ্ছে ১৪ হাজার তাঁবু বাসস কক্সবাজারের বালুখালী ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের জন্য ১৪ হাজার তাঁবু তৈরি করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) আজ রোববার থেকে তাঁবু তৈরির কাজ শুরু করেছে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে তাঁবু নির্মাণ কাজ শেষ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।বাংলাদেশ সেনা বাহিনীও এই কাজের সঙ্গে যুক্ত হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার দেয়া ত্রাণ সামগ্রী ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে পরিবহন করে কক্সবাজারে জেলা প্রশাসকের দফতরে পৌঁছে দেয়ার দায়িত্বও পালন করবে সেনাবাহিনী। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে এক সমন্বয় সভা রোববার সকালে অনুষ্ঠিত হয়। এ সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে রোহিঙ্গাদের একটিমাত্র ক্যাম্প বালুখালীতে স্থানান্তর, প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ, স্বাস্থ্য, স্যানিটেশনসহ বিভিন্ন বিষয় নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারের সাথে যৌথভাবে কাজ করবে জাতিসংঘের দুই সংস্থা ইউএসএইচসিআর ও আইওএম। এই দু’টি সংস্থা রোহিঙ্গাদের আশ্রয়ের জন্য প্রয়োজনীয় সব তাঁবু সরবরাহ করতে সম্মত হয়েছে। সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, বালুখালীতে স্থাপিত নতুন ক্যাম্পকে ২০ ব্লকে ভাগ করা হবে। আপাতত বরাদ্দ ২ হাজার একর ভূমিতে তাঁবু তৈরি করে সেখানে রোহিঙ্গাদের থাকার জায়গা করে দেয়া হবে। প্রতিটি তাঁবুতে ৬টি রোহিঙ্গা পরিবারকে থাকার ব্যবস্থা করা হবে। সেখানে সব রোহিঙ্গাদের স্থান সংকুলান না হলে আরো জমি বরাদ্দ করা হবে। বালুখালীতে ৫ হাজার ২০০ একর জমি রয়েছে। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন জানিয়েছেন, রোহিঙ্গাদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ সুষ্ঠু ও গতিশীল করতে ইতিমধ্যে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি’র মাধ্যমে প্রতিদিন ১ লাখ ৪০ হাজার রোহিঙ্গার জন্য খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। অন্যান্য ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ কাজ জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে। তিনি জানান, রোহিঙ্গাদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ কাজ সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার জন্য রোববার থেকে ১২টি কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। সেখান থেকে ১২ জন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ হচ্ছে। ১৪ হাজার তাঁবু তৈরির কাজও রোববার থেকে শুরু হয়েছে। তিনি জানান, আগামী ১০ দিনের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রোহিঙ্গাদের বালুখালীতে নিয়ে আসা হবে। জেলা প্রশাসক জানান, রোহিঙ্গাদের মধ্যে জরুরিভিত্তিতে ত্রাণ বিতরণ কাজ চালিয়ে যাবে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন। কোন ব্যক্তি, সংগঠন এবং সরকারি বেসরকারি কোন সংস্থা ত্রাণ বিতরণ করতে চাইলে তা জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে করতে হবে। তিনি জানান, রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তার জন্য ইতিমধ্যে ৪ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া ৭০ জন অতিরিক্ত পুলিশ নিয়োগ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক জানান, আগামী ৩ মাসের মধ্যে রোহিঙ্গাদের নিবন্ধন কাজ সম্পন্ন করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় পাসপোর্ট অধিদফতর এই কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। তিনি জানান, বালুখালী ক্যাম্পে খোলা হবে রোহিঙ্গা ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের একটি শাখা অফিস। এখানে জেলা প্রশাসনের একটি অফিস এবং পুলিশ ক্যাম্প থাকবে। কক্সবাজারে ইউএনএইচসিআর মুখপাত্র ভিভিয়ান তান জানিয়েছেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে বিতরণের জন্য তাঁবু, সোলার লাইট, কম্বল, রান্নাঘরের সরঞ্জাম, প্লাষ্টিক সীটসহ বেশ কিছু ত্রাণ সামগ্রী শুক্রবার ইউএনএইচসিআর কক্সবাজার কার্যালয়ে এসে পৌঁছেছে। স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে তা বিতরণ কাজ আজ রোববার থেকে শুরু করা হয়েছে। উখিয়া ও টেকনাফে ৬টি কেন্দ্রে রোহিঙ্গা নিবন্ধন অব্যাহত রয়েছে। হাজার হাজার রোহিঙ্গা নারী পুরুষ সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে নিবন্ধন করছেন। বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রোহিঙ্গারাও সেখানে নিবন্ধনের জন্য আসছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

Comments

Comments!

 নারায়ণগঞ্জের রোহিঙ্গা গেল কক্সবাজারে, জানিয়ে গেল মা-বাবা-বোনকে হত্যার নির্মম কাহিনীAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

নারায়ণগঞ্জের রোহিঙ্গা গেল কক্সবাজারে, জানিয়ে গেল মা-বাবা-বোনকে হত্যার নির্মম কাহিনী

Sunday, September 17, 2017 8:31 pm
252529_130

নারায়ণগঞ্জ শহরে আটক হওয়া মিয়ানমারের রোহিঙ্গা আবদুল্লাহকে (২৫) কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাঠানো হয়েছে। চোখের সামনে বাবা, মা ও বোনকে হত্যার পাশাপাশি অমানবিক নির্যাতনের শিকার আবদুল্লাহ মিয়ানমারের আরাকান রাজ্য থেকে পালিয়ে এসে চলে এসেছিলেন নারায়ণগঞ্জ। শনিবার রাতে তাকে শহরের খানপুরে আটক করা হয়। তাকে রাতেই ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সারারাত তাকে চিকিৎসা শেষে রোববার ১৭ সেপ্টেম্বর সকারে পুলিশ প্রহরায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাঠানো হয়।

হাসপাতালে থাকা সময়ে আবদুল্লাহকে বেশ বিমর্ষ ও ভীত দেখা গেছে। মিয়ানমারে সম্প্রতি মুসলমানদের উপর গণহত্যার সময়ে তিনজনকেই নির্মামভাবে খুন করা হয় আবদুল্লাহর চোখের সামনে। সে দৃশ্য এখনো ভুলতে পারেনি। চোখের সামনে ভেসে উঠে বিভৎস নৃশংস ভয়াবহ চিত্র যা এখনো আতংকিত করে রেখেছে তাকে। সে কারণেই এখন পুলিশের পোশাক পরিহিত মানুষ দেখলেই আঁতকে ওঠেন তিনি। নারায়ণগঞ্জে এসে আটকের পর আবদুল্লাহর ভয় যেন আরো বেড়ে যায়। মানুষ দেখে ভয়ে বার বার চিৎকার করে ওঠেন তিনি। সাংবাদিক পরিচয়ে দিয়ে কাছে যেতেই একই ভাবে চিৎকার করতে থাকেন আব্দুল্লাহ। বলতে থাকেন, আমাকে মারবেন না, আমাকে মারবেন না।

১৬ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১১টায় শহরের খানপুর এলাকায় ঘোরাফেরা করার সময় গতিবিধি সন্দেহজনক হওয়ায় পুলিশ তাকে আটক করে। পরে তিনি মিয়ানমারের রোহিঙ্গা থেকে এসেছেন বলে পুলিশকে জানান। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম ও ভীত থাকায় রাতেই তাকে শহরের খানপুরের ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আব্দুল্লাহ বলেন, ‘মা, বাবা ও বোনসহ আমরা ৪জন ছিলাম। কিছুদিন আগে বৌদ্ধ ও সেনাবাহিনীর লোকজন মা ও বাবাকে কুপিয়ে ও গুলি করে মেরে ফেলেছে। ১২ বছরের ছোট বোনকেও ছাড়েনি। ওকে প্রথম হাত পা কেটে ফেলে। পরে গুলি করে মেরে ফেলে। আমাকে গলায় চাকু দিয়ে আঘাত করে। শরীরে আঘাত করে।’

কথাগুলো বলতে বলতে তিনি শরীর বিভিন্ন অংশ দেখান। তার মধ্যে গলায়, বুকে, পিঠে ও পায়ে বিভিন্ন ছুরির আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

আবদুল্লাহ জানান, বাবা সোলেমান মিয়া, মা হাজু ও বোন লতিমুনিয়াকে নিয়ে তাদের চারজনের পরিবার ছিল। কিন্তু মিয়ানমারে বৌদ্ধরা তাদের হত্যা করেছে। কিন্তু যখন তাকে মারতে আসে তিনিও একজনকে গুলিকে হত্যা করে পালিয়ে চলে আসেন। প্রথমে মিয়ানমার থেকে টেকনাফ পরে সেখান থেকে ট্রেনে চড়ে নারায়ণগঞ্জে চলে আসেন। তবে ট্রেনের টিকেটের টাকা পরিশোধ ও নারায়ণগঞ্জে আসার রাস্তার বর্ণনা দিতে পারেনি।’

আবদুল্লাহ আরো বলেন, ‘আমার একজন বন্ধু ছিল মিয়নামারে। তাকেও মেরে ফেলে হয়েছে। বাড়ি ঘর মসজিদ কিছুই বাকি রাখেনি। সব পুড়িয়ে দিয়েছে বৌদ্ধরা। এখনে আমার আর কেউ নেই। আমি এখানে একই এসেছি। এখানে আমার কোন আত্মীয় স্বজন কেউ নেই।’

নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ডাক্তার তাহমিনা নাজনীন বলেন, ‘ওই যুবকের শরীরে ও গলায় আঘাতের চিহ্ন আছে। শরীরে যেসব আঘাতের চিহ্ন আছে সেগুলোও অনেক দিন আগের।’
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল রাজ্জাক বলেন, ‘রোহিঙ্গা যুবকে সকালে এসআই সোহাগের অধীনে দুইজন কনস্টেবলসহ কক্সবাজারের ক্যাম্পে পাঠানো হয়েছে।’

রোহিঙ্গাদের জন্য তৈরি হচ্ছে ১৪ হাজার তাঁবু
বাসস
কক্সবাজারের বালুখালী ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের জন্য ১৪ হাজার তাঁবু তৈরি করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) আজ রোববার থেকে তাঁবু তৈরির কাজ শুরু করেছে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে তাঁবু নির্মাণ কাজ শেষ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।বাংলাদেশ সেনা বাহিনীও এই কাজের সঙ্গে যুক্ত হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার দেয়া ত্রাণ সামগ্রী ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে পরিবহন করে কক্সবাজারে জেলা প্রশাসকের দফতরে পৌঁছে দেয়ার দায়িত্বও পালন করবে সেনাবাহিনী।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে এক সমন্বয় সভা রোববার সকালে অনুষ্ঠিত হয়। এ সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে রোহিঙ্গাদের একটিমাত্র ক্যাম্প বালুখালীতে স্থানান্তর, প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ, স্বাস্থ্য, স্যানিটেশনসহ বিভিন্ন বিষয় নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারের সাথে যৌথভাবে কাজ করবে জাতিসংঘের দুই সংস্থা ইউএসএইচসিআর ও আইওএম। এই দু’টি সংস্থা রোহিঙ্গাদের আশ্রয়ের জন্য প্রয়োজনীয় সব তাঁবু সরবরাহ করতে সম্মত হয়েছে।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, বালুখালীতে স্থাপিত নতুন ক্যাম্পকে ২০ ব্লকে ভাগ করা হবে। আপাতত বরাদ্দ ২ হাজার একর ভূমিতে তাঁবু তৈরি করে সেখানে রোহিঙ্গাদের থাকার জায়গা করে দেয়া হবে। প্রতিটি তাঁবুতে ৬টি রোহিঙ্গা পরিবারকে থাকার ব্যবস্থা করা হবে। সেখানে সব রোহিঙ্গাদের স্থান সংকুলান না হলে আরো জমি বরাদ্দ করা হবে। বালুখালীতে ৫ হাজার ২০০ একর জমি রয়েছে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন জানিয়েছেন, রোহিঙ্গাদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ সুষ্ঠু ও গতিশীল করতে ইতিমধ্যে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি’র মাধ্যমে প্রতিদিন ১ লাখ ৪০ হাজার রোহিঙ্গার জন্য খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। অন্যান্য ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ কাজ জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে।
তিনি জানান, রোহিঙ্গাদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ কাজ সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার জন্য রোববার থেকে ১২টি কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। সেখান থেকে ১২ জন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ হচ্ছে। ১৪ হাজার তাঁবু তৈরির কাজও রোববার থেকে শুরু হয়েছে। তিনি জানান, আগামী ১০ দিনের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রোহিঙ্গাদের বালুখালীতে নিয়ে আসা হবে।

জেলা প্রশাসক জানান, রোহিঙ্গাদের মধ্যে জরুরিভিত্তিতে ত্রাণ বিতরণ কাজ চালিয়ে যাবে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন। কোন ব্যক্তি, সংগঠন এবং সরকারি বেসরকারি কোন সংস্থা ত্রাণ বিতরণ করতে চাইলে তা জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে করতে হবে।

তিনি জানান, রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তার জন্য ইতিমধ্যে ৪ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া ৭০ জন অতিরিক্ত পুলিশ নিয়োগ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক জানান, আগামী ৩ মাসের মধ্যে রোহিঙ্গাদের নিবন্ধন কাজ সম্পন্ন করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় পাসপোর্ট অধিদফতর এই কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।

তিনি জানান, বালুখালী ক্যাম্পে খোলা হবে রোহিঙ্গা ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের একটি শাখা অফিস। এখানে জেলা প্রশাসনের একটি অফিস এবং পুলিশ ক্যাম্প থাকবে।
কক্সবাজারে ইউএনএইচসিআর মুখপাত্র ভিভিয়ান তান জানিয়েছেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে বিতরণের জন্য তাঁবু, সোলার লাইট, কম্বল, রান্নাঘরের সরঞ্জাম, প্লাষ্টিক সীটসহ বেশ কিছু ত্রাণ সামগ্রী শুক্রবার ইউএনএইচসিআর কক্সবাজার কার্যালয়ে এসে পৌঁছেছে। স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে তা বিতরণ কাজ আজ রোববার থেকে শুরু করা হয়েছে।

উখিয়া ও টেকনাফে ৬টি কেন্দ্রে রোহিঙ্গা নিবন্ধন অব্যাহত রয়েছে। হাজার হাজার রোহিঙ্গা নারী পুরুষ সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে নিবন্ধন করছেন। বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রোহিঙ্গারাও সেখানে নিবন্ধনের জন্য আসছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X