শনিবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ৪:১৬
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Sunday, September 25, 2016 7:29 am
A- A A+ Print

নারায়ণগঞ্জে সাত খুন এজলাসে খাবার নিয়ে সাবেক র‌্যাব সদস্যকে আসামি নূর হোসেনের বেদম মারপিট

download-1

নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনায় চাকরিচ্যুত র‍্যাবের এক হাবিলদারের সঙ্গে এ মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনের হাতাহাতি হয়েছে। গতকাল শনিবার আদালতের নামাজ ও মধ্যাহ্নভোজের বিরতির সময় খাবার নিয়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ এসে তাঁদের নিবৃত্ত করে।

এর আগে আদালতে দিনের কার্যক্রম শুরু হওয়ার সময় নূর হোসেনের আইনজীবী অসুস্থতার যুক্তি দেখিয়ে তাঁকে কাঠগড়ার বাইরে বসতে দেওয়ার অনুমতি চাইলে বিচারক তা নাকচ করে দেন। অন্যান্য আসামির সঙ্গে নূর হোসেনকেও কাঠগড়ায় লোহার গরাদ দেওয়া বাক্সে ঢোকানো হয়।

গতকাল ছিল সাত খুনের দুটি মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ মণ্ডলকে আসামিপক্ষের জেরার দ্বিতীয় দিন। আসামি মেজর (চাকরিচ্যুত) আরিফ হোসেনের আইনজীবী আব্দুর রশীদ ভূঁইয়া তদন্তকারী কর্মকর্তাকে জেরা শেষ করেন। এরপর আরেক আসামি লে. কর্নেল (চাকরিচ্যুত) তারেক সাঈদ মোহাম্মদের আইনজীবী সুলতানুজ্জামান ও মো. শাহাবুদ্দিন তাঁকে জেরা শুরু করেন। আদালত আগামী বৃহস্পতিবার এ দুই আইনজীবীর অসমাপ্ত জেরার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

সকাল ৯টা ৩২ মিনিটে জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেন আদালতের কার্যক্রম শুরু করেন। এর আগে সকাল ৯টায় কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেন ও র‍্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তা বরখাস্ত লে. কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, লে. কমান্ডার এম এম রানা, মেজর আরিফ হোসেনসহ ২৩ আসামিকে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর একটানা তদন্তকারী কর্মকর্তার জেরা চলতে থাকে। বেলা ১টা ৪০ মিনিটে আদালত নামাজ ও মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে যান। আসামিরা গরাদ দেওয়া বাক্সের মধ্যেই অবস্থান করতে থাকেন।

বেলা ২টা ৪০ মিনিটের দিকে নূর হোসেনের পক্ষের লোকজন ২৩ আসামির সবার জন্য দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করেন। নূর হোসেনের ভাতিজা নারায়ণগঞ্জের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক শাহজালাল বাদলের ব্যবহৃত গাড়িতে (ঢাকা মেট্রো গ ২২-৬১৯২) করে এ খাবার ২টা ১০ মিনিটে আনা হয়।

মুরগির বিরিয়ানির প্যাকেট ২৩ আসামির মধ্যে বিতরণ করার পর একজনের খাবারের সংকট দেখা দেয়। র‍্যাবের হাবিলদার (চাকরিচ্যুত) এমদাদুল হকের হাতে খাবারের দুটি প্যাকেট দেখতে পেয়ে নূর হোসেন তাঁকে এর কারণ জিজ্ঞেস করেন। নূর হোসেন বলেন, ‘খাবার আনিয়েছি, প্রয়োজনে আরও আনাব। এ রকম ছোটলোকি কেন?’ এর প্রতি উত্তরে এমদাদুল হকও কিছু একটা বলেন। নূর হোসেন তখন এমদাদকে চপেটাঘাত করেন। এমদাদও নূর হোসেনের মুখে ঘুষি মারেন। এর পরপরই নূর হোসেনের দেহরক্ষী হিসেবে পরিচিত দুই আসামি মোর্তুজা জামান ওরফে চার্চিল ও আলী আহম্মদ কিল-ঘুষি মারতে থাকেন এমদাদকে। দুই পক্ষ অকথ্য ভাষায় পরস্পরকে গালিগালাজ করতে থাকে। এ সময় দুই সহযোগীকে নিবৃত্ত করতে নূর হোসেনকে অনুরোধ জানান ওই গরাদ দেওয়া বাক্সে অবস্থানকারী আসামি র‍্যাবের সাবেক কর্মকর্তা লে. কর্নেল (চাকরিচ্যুত) তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, মেজর (চাকরিচ্যুত) আরিফ হোসেন ও লে. কমান্ডার (চাকরিচ্যুত) এম এম রানা।

হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তির কারণে কয়েক প্যাকেট বিরিয়ানি কাঠগড়ার মেঝে ও আসামিদের গায়ে পড়ে যায়। আদালতে মামলার তথ্য সংগ্রহে ব্যস্ত সাংবাদিকদের সামনেই এ ঘটনা ঘটে।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘নূর হোসেন যে কত বড় ভয়ংকর সন্ত্রাসী, তার প্রমাণ আজকে তিনি দিলেন নামাজের বিরতির সময় আদালতের কাঠগড়ায়।’

নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক মো. সোহেল আলম বলেন, এক প্যাকেট খাবার কম হওয়ার কারণে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল। যা কিছু হয়েছে তা কাঠগড়ার ভেতরেই। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

তিন মাস ধরে অসুস্থতার অজুহাতে নূর হোসেন আদালতের অনুমতি নিয়ে কাঠগড়ায় লোহার গরাদ দেওয়া বাক্সের বাইরে বসছিলেন। বিষয়টি প্রথম আলো গত ১৯ ও ২০ তারিখের দুটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করে। গতকাল সকালে আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে নূর হোসেনের আইনজীবী, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা একই অজুহাতে তাঁকে গরাদের বাইরে বসানোর জন্য আদালতের কাছে মৌখিক আবেদন জানান। আদালত তা নাকচ করে দেন।

তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে দ্বিতীয় দিনের মতো জেরা করেন আসামি মেজর (চাকরিচ্যুত) আরিফ হোসেনের আইনজীবী আব্দুর রশিদ। আইনজীবী তাঁকে জিজ্ঞেস করেন, ‘আরিফের অ্যাকাউন্টে কেউ টাকা দিয়েছে, এমন কোনো দালিলিক প্রমাণ তদন্ত চলাকালীন তিনি পেয়েছেন কিনা।’ জবাবে তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, ‘সাক্ষীই এখানে আমার প্রমাণ।’ আইনজীবী তখন আবারও জিজ্ঞেস করেন, সুনির্দিষ্ট করে বলেন পেয়েছেন কি না। জবাবে তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, ‘না, পাই নাই।’ এরপর আইনজীবী জিজ্ঞেস করেন, ‘কেউ কোনো ফ্ল্যাট কিনে দিয়েছে এমন দালিলিক প্রমাণ পেয়েছেন কি না।’ এ ক্ষেত্রেও তদন্তকারী কর্মকর্তার জবাব ছিল—না।

তারেক সাঈদের আইনজীবী সুলতানুজ্জামান তদন্ত কর্মকর্তাকে জিজ্ঞেস করেন, তারেক সাঈদ এ ঘটনার বিষয়ে র‍্যাবের এডিজি (অপস) জিয়াউল আহসানকে অবহিত করেছিলেন কি না। জবাবে তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, ‘অবহিত করে নাই। ২৪ ঘণ্টার রিপোর্ট দিয়েছে।’ আইনজীবী জিজ্ঞেস করেন, ‘জিয়াউল আহসানকে কোনো জিজ্ঞাসাবাদ বা তাঁর জবানবন্দি নেন নাই।’ তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, ‘না, প্রয়োজন মনে করি নাই।’

Comments

Comments!

 নারায়ণগঞ্জে সাত খুন এজলাসে খাবার নিয়ে সাবেক র‌্যাব সদস্যকে আসামি নূর হোসেনের বেদম মারপিটAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

নারায়ণগঞ্জে সাত খুন এজলাসে খাবার নিয়ে সাবেক র‌্যাব সদস্যকে আসামি নূর হোসেনের বেদম মারপিট

Sunday, September 25, 2016 7:29 am
download-1

নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনায় চাকরিচ্যুত র‍্যাবের এক হাবিলদারের সঙ্গে এ মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনের হাতাহাতি হয়েছে। গতকাল শনিবার আদালতের নামাজ ও মধ্যাহ্নভোজের বিরতির সময় খাবার নিয়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ এসে তাঁদের নিবৃত্ত করে।

এর আগে আদালতে দিনের কার্যক্রম শুরু হওয়ার সময় নূর হোসেনের আইনজীবী অসুস্থতার যুক্তি দেখিয়ে তাঁকে কাঠগড়ার বাইরে বসতে দেওয়ার অনুমতি চাইলে বিচারক তা নাকচ করে দেন। অন্যান্য আসামির সঙ্গে নূর হোসেনকেও কাঠগড়ায় লোহার গরাদ দেওয়া বাক্সে ঢোকানো হয়।

গতকাল ছিল সাত খুনের দুটি মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ মণ্ডলকে আসামিপক্ষের জেরার দ্বিতীয় দিন। আসামি মেজর (চাকরিচ্যুত) আরিফ হোসেনের আইনজীবী আব্দুর রশীদ ভূঁইয়া তদন্তকারী কর্মকর্তাকে জেরা শেষ করেন। এরপর আরেক আসামি লে. কর্নেল (চাকরিচ্যুত) তারেক সাঈদ মোহাম্মদের আইনজীবী সুলতানুজ্জামান ও মো. শাহাবুদ্দিন তাঁকে জেরা শুরু করেন। আদালত আগামী বৃহস্পতিবার এ দুই আইনজীবীর অসমাপ্ত জেরার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

সকাল ৯টা ৩২ মিনিটে জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেন আদালতের কার্যক্রম শুরু করেন। এর আগে সকাল ৯টায় কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেন ও র‍্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তা বরখাস্ত লে. কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, লে. কমান্ডার এম এম রানা, মেজর আরিফ হোসেনসহ ২৩ আসামিকে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর একটানা তদন্তকারী কর্মকর্তার জেরা চলতে থাকে। বেলা ১টা ৪০ মিনিটে আদালত নামাজ ও মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে যান। আসামিরা গরাদ দেওয়া বাক্সের মধ্যেই অবস্থান করতে থাকেন।

বেলা ২টা ৪০ মিনিটের দিকে নূর হোসেনের পক্ষের লোকজন ২৩ আসামির সবার জন্য দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করেন। নূর হোসেনের ভাতিজা নারায়ণগঞ্জের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক শাহজালাল বাদলের ব্যবহৃত গাড়িতে (ঢাকা মেট্রো গ ২২-৬১৯২) করে এ খাবার ২টা ১০ মিনিটে আনা হয়।

মুরগির বিরিয়ানির প্যাকেট ২৩ আসামির মধ্যে বিতরণ করার পর একজনের খাবারের সংকট দেখা দেয়। র‍্যাবের হাবিলদার (চাকরিচ্যুত) এমদাদুল হকের হাতে খাবারের দুটি প্যাকেট দেখতে পেয়ে নূর হোসেন তাঁকে এর কারণ জিজ্ঞেস করেন। নূর হোসেন বলেন, ‘খাবার আনিয়েছি, প্রয়োজনে আরও আনাব। এ রকম ছোটলোকি কেন?’ এর প্রতি উত্তরে এমদাদুল হকও কিছু একটা বলেন। নূর হোসেন তখন এমদাদকে চপেটাঘাত করেন। এমদাদও নূর হোসেনের মুখে ঘুষি মারেন। এর পরপরই নূর হোসেনের দেহরক্ষী হিসেবে পরিচিত দুই আসামি মোর্তুজা জামান ওরফে চার্চিল ও আলী আহম্মদ কিল-ঘুষি মারতে থাকেন এমদাদকে। দুই পক্ষ অকথ্য ভাষায় পরস্পরকে গালিগালাজ করতে থাকে। এ সময় দুই সহযোগীকে নিবৃত্ত করতে নূর হোসেনকে অনুরোধ জানান ওই গরাদ দেওয়া বাক্সে অবস্থানকারী আসামি র‍্যাবের সাবেক কর্মকর্তা লে. কর্নেল (চাকরিচ্যুত) তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, মেজর (চাকরিচ্যুত) আরিফ হোসেন ও লে. কমান্ডার (চাকরিচ্যুত) এম এম রানা।

হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তির কারণে কয়েক প্যাকেট বিরিয়ানি কাঠগড়ার মেঝে ও আসামিদের গায়ে পড়ে যায়। আদালতে মামলার তথ্য সংগ্রহে ব্যস্ত সাংবাদিকদের সামনেই এ ঘটনা ঘটে।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘নূর হোসেন যে কত বড় ভয়ংকর সন্ত্রাসী, তার প্রমাণ আজকে তিনি দিলেন নামাজের বিরতির সময় আদালতের কাঠগড়ায়।’

নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক মো. সোহেল আলম বলেন, এক প্যাকেট খাবার কম হওয়ার কারণে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল। যা কিছু হয়েছে তা কাঠগড়ার ভেতরেই। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

তিন মাস ধরে অসুস্থতার অজুহাতে নূর হোসেন আদালতের অনুমতি নিয়ে কাঠগড়ায় লোহার গরাদ দেওয়া বাক্সের বাইরে বসছিলেন। বিষয়টি প্রথম আলো গত ১৯ ও ২০ তারিখের দুটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করে। গতকাল সকালে আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে নূর হোসেনের আইনজীবী, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা একই অজুহাতে তাঁকে গরাদের বাইরে বসানোর জন্য আদালতের কাছে মৌখিক আবেদন জানান। আদালত তা নাকচ করে দেন।

তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে দ্বিতীয় দিনের মতো জেরা করেন আসামি মেজর (চাকরিচ্যুত) আরিফ হোসেনের আইনজীবী আব্দুর রশিদ। আইনজীবী তাঁকে জিজ্ঞেস করেন, ‘আরিফের অ্যাকাউন্টে কেউ টাকা দিয়েছে, এমন কোনো দালিলিক প্রমাণ তদন্ত চলাকালীন তিনি পেয়েছেন কিনা।’ জবাবে তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, ‘সাক্ষীই এখানে আমার প্রমাণ।’ আইনজীবী তখন আবারও জিজ্ঞেস করেন, সুনির্দিষ্ট করে বলেন পেয়েছেন কি না। জবাবে তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, ‘না, পাই নাই।’ এরপর আইনজীবী জিজ্ঞেস করেন, ‘কেউ কোনো ফ্ল্যাট কিনে দিয়েছে এমন দালিলিক প্রমাণ পেয়েছেন কি না।’ এ ক্ষেত্রেও তদন্তকারী কর্মকর্তার জবাব ছিল—না।

তারেক সাঈদের আইনজীবী সুলতানুজ্জামান তদন্ত কর্মকর্তাকে জিজ্ঞেস করেন, তারেক সাঈদ এ ঘটনার বিষয়ে র‍্যাবের এডিজি (অপস) জিয়াউল আহসানকে অবহিত করেছিলেন কি না। জবাবে তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, ‘অবহিত করে নাই। ২৪ ঘণ্টার রিপোর্ট দিয়েছে।’ আইনজীবী জিজ্ঞেস করেন, ‘জিয়াউল আহসানকে কোনো জিজ্ঞাসাবাদ বা তাঁর জবানবন্দি নেন নাই।’ তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, ‘না, প্রয়োজন মনে করি নাই।’

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X