শনিবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ২:০৩
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Thursday, October 27, 2016 10:53 am
A- A A+ Print

নারী-পুরুষ সমতায় দক্ষিণ এশিয়ায় আবারো শীর্ষে বাংলাদেশ

157749_1

   
ঢাকা: গত বছরের ধারাবাহিকতায় নারী-পুরুষ ব্যবধান কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ায় নিজেদের শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। তবে পিছিয়েছে তাদের বৈশ্বিক অবস্থান। মঙ্গলবার ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে এসব কথা জানা গেছে। তারা জানিয়েছে, রাজনৈতিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে নারীদের অগ্রগতি হলেও মজুরি বৈষম্যকে যথাযথভাবে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ।
নারী-পুরুষ ব্যবধান কমিয়ে সমতা নিশ্চিতের উদ্দেশ্যে প্রতি বছর বৈশ্বিক লিঙ্গ বৈষম্য বিষয়ক সূচক (গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ ইনডেক্স-২০১৬) প্রকাশ করে থাকে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম। তাদের ২০১৬ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী গত বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও তারা দক্ষিণ এশিয়ায় অন্য সব দেশের থেকে বৈষম্য দূরীকরণের ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে। তবে গতবছরের সাপেক্ষে তাদের এ সংক্রান্ত বৈশ্বিক অবস্থান পিছিয়ে গেছে। গত বছরে বাংলাদেশ তালিকার ৬৪ তম অবস্থানে থাকলেও এবার সেখান থেকে ৭ ধাপ পিছিয়ে বাংলাদেশের বৈশ্বিক অবস্থান দাঁড়িয়েছে ৭২ এ। নারী-পুরুষ সমতা সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। বৈশ্বিকভাবে নারী-পুরুষ সমতা সূচকে সবার শীর্ষে রয়েছে আইসল্যান্ড আর সূচকে সবার শেষে রয়েছে ইয়েমেন। মঙ্গলবার ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম প্রকাশিত গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ ইনডেক্স-২০১৬ এর প্রতিবেদনে বিশ্বে নারী-পুরুষ সমতার এমন চিত্র উঠে এসেছে। বিশ্বের ১৪৪টি দেশের শিক্ষাগত সাফল্য, স্বাস্থ্য, অর্থনেতিক সুযোগ এবং রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন এ চারটি মূল ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমতায় কেমন অগ্রগতি হয়েছে তার ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয় রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে লৈঙ্গিক ব্যবধান কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে চলতি বছর বাংলাদেশের ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে। তবে শ্রমশক্তিতে অংশগ্রণের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের মধ্যে এখনও বড় ব্যবধান রয়েছে। সমতা সূচকে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের পর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারত। তবে বৈশ্বিকভাবে ভারতের অবস্থান ৮৭। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সূচকে সবচেয়ে নিচের অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তান। আর তার আগে আগে রয়েছে ভুটানের নাম। বৈশ্বিকভাবে সমতা সূচকে পাকিস্তানের অবস্থান ১৪৩ আর ভুটানের অবস্থান ১২১ তম। শিক্ষাগত সাফল্যের দিক দিয়ে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের কোনও দেশই নারী-পুরুষের ব্যবধান পুরোপুরি ঘুচাতে পারেনি। তবে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে কেবল শ্রীলঙ্কা এ ব্যবধান পুরোপুরি ঘুচাতে সক্ষম হয়েছে। বৈশ্বিক সূচকে আইসল্যান্ডের পর রয়েছে ফিনল্যান্ড, নরওয়ে, সুইডেন, রুয়ান্ডা, আয়ারল্যান্ড, ফিলিপাইন, স্লোভেনিয়া ও নিউজিল্যান্ড। অর্থনীতিবিদেরা মনে করছেন, বাংলাদেশে তৈরি পোশাক শিল্পে বিপুলসংখ্যক নারীর অংশগ্রহণ রয়েছে, অন্যান্য ক্ষেত্রেও নারীরা এগিয়েছেন। তবু সমতার জায়গা থেকে অনেক পিছিয়ে আছেন। এর পেছনে মূল কারণ পরিবার ও সমাজ; সন্তান লালন-পালন ও সংসার সামলানোর মতো বিনা পয়সার কাজে নারীদের আটকে রাখার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে পারছে না। শ্রমবাজারেও নারীর অন্তর্ভুক্তিকে অনেক চাকরিদাতাই সহজভাবে নেন না। ‘মাতৃত্ব’, ‘সন্তান লালন-পালন’ ইত্যাদি দায়িত্ব নারীদের বহন করতে হয় বলেই চাকরিদাতাদের অনেকেই নারীদের চাকরি দিতে চান না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান নিয়াজ আহমেদ খান বলেন, গত দুই দশকে নারীদের অনেকটা সমীহ করে চলার দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয়েছে। চাকরিদাতারা দেখছেন নারীরা যোগ্যতা দক্ষতায় পুরুষদের চেয়ে পিছিয়ে নেই। তিনি বলেন, মাথাব্যথা’, ‘উটকো ঝামেলা নেওয়া’। সমাজ ও রাষ্ট্র যদি নারীদের অংশগ্রহণের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ না নেয় তাহলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে না। অর্থনৈতিক দিক থেকে নারীরা পিছিয়ে থাকলেও রাজনীতিতে নারী-পুরুষের বৈষম্য কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৭ বলে উল্লেখ করেছে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রতিবেদনটি। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ফজিলাতুন্নেসা ইন্দিরা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রীয়ভাবে শুধু নারীদের ক্ষমতায়িত করেছেন, তা-ই নয়। তিনি রাজনীতিতেও নারীদের এগিয়ে দিতে চাইছেন। প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেত্রী, স্পীকার, সংসদ উপনেতা, আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী কমিটি সভাপতিমণ্ডলীতে নারীরা জায়গা পাচ্ছেন। তিনি বলেন, নারীরা দেখছেন তাঁদের কাজের মূল্যায়ন হচ্ছে, সে কারণে তাঁরা রাজনীতিতে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। অপুষ্টির ক্ষেত্রে বাংলাদেশে ছেলে ও মেয়ে শিশুর মধ্যে একটা সময় মারাত্মক বৈষম্য ছিল। নতুন এই প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, অপুষ্টিতে ভোগা মেয়ে ও ছেলে শিশুর সংখ্যা সমান। মাতৃমৃত্যুর হারও বাংলাদেশে কমে এসেছে। দেশে পারিবারিক সহিংসতা রোধে আইন হওয়ার বিষযটি ইতিবাচক হিসেবে দেখা হয়েছে প্রতিবেদনে। তবে শিক্ষা খাতে প্রাথমিক স্তরে মেয়ে শিশু ও ছেলে শিশুর মধ্যে বৈষম্য না থাকলেও মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে নারীদের ঝরে পড়া সামগ্রিকভাবে বৈষম্যকে বাড়িয়ে দিয়েছে। যদিও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য হচ্ছে, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে লিঙ্গ সমতা ফিরে এসেছে। এ বিষয়ে গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী জানান, শিক্ষা এখন সামাজিক ও পারিবারিক আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। এর সঙ্গে সরকার, বেসরকারি ও দাতা সংস্থার নানা অবদান যুক্ত হয়েছে। এর ফলে শিক্ষায় লিঙ্গ বৈষম্য নিরসনের পাশাপাশি আর্থ–সামাজিক অগ্রগতি ঘটছে।

Comments

Comments!

 নারী-পুরুষ সমতায় দক্ষিণ এশিয়ায় আবারো শীর্ষে বাংলাদেশAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

নারী-পুরুষ সমতায় দক্ষিণ এশিয়ায় আবারো শীর্ষে বাংলাদেশ

Thursday, October 27, 2016 10:53 am
157749_1

 

 

ঢাকা: গত বছরের ধারাবাহিকতায় নারী-পুরুষ ব্যবধান কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ায় নিজেদের শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। তবে পিছিয়েছে তাদের বৈশ্বিক অবস্থান। মঙ্গলবার ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে এসব কথা জানা গেছে।

তারা জানিয়েছে, রাজনৈতিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে নারীদের অগ্রগতি হলেও মজুরি বৈষম্যকে যথাযথভাবে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ।

নারী-পুরুষ ব্যবধান কমিয়ে সমতা নিশ্চিতের উদ্দেশ্যে প্রতি বছর বৈশ্বিক লিঙ্গ বৈষম্য বিষয়ক সূচক (গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ ইনডেক্স-২০১৬) প্রকাশ করে থাকে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম। তাদের ২০১৬ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী গত বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও তারা দক্ষিণ এশিয়ায় অন্য সব দেশের থেকে বৈষম্য দূরীকরণের ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে।

তবে গতবছরের সাপেক্ষে তাদের এ সংক্রান্ত বৈশ্বিক অবস্থান পিছিয়ে গেছে। গত বছরে বাংলাদেশ তালিকার ৬৪ তম অবস্থানে থাকলেও এবার সেখান থেকে ৭ ধাপ পিছিয়ে বাংলাদেশের বৈশ্বিক অবস্থান দাঁড়িয়েছে ৭২ এ।

নারী-পুরুষ সমতা সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। বৈশ্বিকভাবে নারী-পুরুষ সমতা সূচকে সবার শীর্ষে রয়েছে আইসল্যান্ড আর সূচকে সবার শেষে রয়েছে ইয়েমেন। মঙ্গলবার ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম প্রকাশিত গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ ইনডেক্স-২০১৬ এর প্রতিবেদনে বিশ্বে নারী-পুরুষ সমতার এমন চিত্র উঠে এসেছে।

বিশ্বের ১৪৪টি দেশের শিক্ষাগত সাফল্য, স্বাস্থ্য, অর্থনেতিক সুযোগ এবং রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন এ চারটি মূল ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমতায় কেমন অগ্রগতি হয়েছে তার ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয় রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে লৈঙ্গিক ব্যবধান কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে চলতি বছর বাংলাদেশের ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে। তবে শ্রমশক্তিতে অংশগ্রণের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের মধ্যে এখনও বড় ব্যবধান রয়েছে।

সমতা সূচকে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের পর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারত। তবে বৈশ্বিকভাবে ভারতের অবস্থান ৮৭। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সূচকে সবচেয়ে নিচের অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তান। আর তার আগে আগে রয়েছে ভুটানের নাম।

বৈশ্বিকভাবে সমতা সূচকে পাকিস্তানের অবস্থান ১৪৩ আর ভুটানের অবস্থান ১২১ তম। শিক্ষাগত সাফল্যের দিক দিয়ে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের কোনও দেশই নারী-পুরুষের ব্যবধান পুরোপুরি ঘুচাতে পারেনি। তবে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে কেবল শ্রীলঙ্কা এ ব্যবধান পুরোপুরি ঘুচাতে সক্ষম হয়েছে।

বৈশ্বিক সূচকে আইসল্যান্ডের পর রয়েছে ফিনল্যান্ড, নরওয়ে, সুইডেন, রুয়ান্ডা, আয়ারল্যান্ড, ফিলিপাইন, স্লোভেনিয়া ও নিউজিল্যান্ড।

অর্থনীতিবিদেরা মনে করছেন, বাংলাদেশে তৈরি পোশাক শিল্পে বিপুলসংখ্যক নারীর অংশগ্রহণ রয়েছে, অন্যান্য ক্ষেত্রেও নারীরা এগিয়েছেন। তবু সমতার জায়গা থেকে অনেক পিছিয়ে আছেন।

এর পেছনে মূল কারণ পরিবার ও সমাজ; সন্তান লালন-পালন ও সংসার সামলানোর মতো বিনা পয়সার কাজে নারীদের আটকে রাখার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে পারছে না।

শ্রমবাজারেও নারীর অন্তর্ভুক্তিকে অনেক চাকরিদাতাই সহজভাবে নেন না। ‘মাতৃত্ব’, ‘সন্তান লালন-পালন’ ইত্যাদি দায়িত্ব নারীদের বহন করতে হয় বলেই চাকরিদাতাদের অনেকেই নারীদের চাকরি দিতে চান না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান নিয়াজ আহমেদ খান বলেন, গত দুই দশকে নারীদের অনেকটা সমীহ করে চলার দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয়েছে। চাকরিদাতারা দেখছেন নারীরা যোগ্যতা দক্ষতায় পুরুষদের চেয়ে পিছিয়ে নেই।

তিনি বলেন, মাথাব্যথা’, ‘উটকো ঝামেলা নেওয়া’। সমাজ ও রাষ্ট্র যদি নারীদের অংশগ্রহণের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ না নেয় তাহলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে না।

অর্থনৈতিক দিক থেকে নারীরা পিছিয়ে থাকলেও রাজনীতিতে নারী-পুরুষের বৈষম্য কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৭ বলে উল্লেখ করেছে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রতিবেদনটি।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ফজিলাতুন্নেসা ইন্দিরা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রীয়ভাবে শুধু নারীদের ক্ষমতায়িত করেছেন, তা-ই নয়। তিনি রাজনীতিতেও নারীদের এগিয়ে দিতে চাইছেন। প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেত্রী, স্পীকার, সংসদ উপনেতা, আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী কমিটি সভাপতিমণ্ডলীতে নারীরা জায়গা পাচ্ছেন।

তিনি বলেন, নারীরা দেখছেন তাঁদের কাজের মূল্যায়ন হচ্ছে, সে কারণে তাঁরা রাজনীতিতে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

অপুষ্টির ক্ষেত্রে বাংলাদেশে ছেলে ও মেয়ে শিশুর মধ্যে একটা সময় মারাত্মক বৈষম্য ছিল। নতুন এই প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, অপুষ্টিতে ভোগা মেয়ে ও ছেলে শিশুর সংখ্যা সমান।

মাতৃমৃত্যুর হারও বাংলাদেশে কমে এসেছে। দেশে পারিবারিক সহিংসতা রোধে আইন হওয়ার বিষযটি ইতিবাচক হিসেবে দেখা হয়েছে প্রতিবেদনে।

তবে শিক্ষা খাতে প্রাথমিক স্তরে মেয়ে শিশু ও ছেলে শিশুর মধ্যে বৈষম্য না থাকলেও মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে নারীদের ঝরে পড়া সামগ্রিকভাবে বৈষম্যকে বাড়িয়ে দিয়েছে।

যদিও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য হচ্ছে, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে লিঙ্গ সমতা ফিরে এসেছে।

এ বিষয়ে গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী জানান, শিক্ষা এখন সামাজিক ও পারিবারিক আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। এর সঙ্গে সরকার, বেসরকারি ও দাতা সংস্থার নানা অবদান যুক্ত হয়েছে। এর ফলে শিক্ষায় লিঙ্গ বৈষম্য নিরসনের পাশাপাশি আর্থ–সামাজিক অগ্রগতি ঘটছে।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X