সোমবার, ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১৪ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সকাল ৯:১৯
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Thursday, December 15, 2016 10:17 am
A- A A+ Print

‘নিখোঁজ’ নিয়ে নতুন শঙ্কা

16

পুরোনোদের বড় অংশের খোঁজ নেই। নতুনেরা জঙ্গিবাদে নাকি কারও হেফাজতে, স্পষ্ট নয়।

গুলশানের হলি আর্টিজানে হামলার আগে নিখোঁজ হওয়া তরুণদের বড় অংশের খোঁজ পাওয়া যায়নি। এর মধ্যেই গত দুই সপ্তাহে নতুন করে আরও আটজন নিখোঁজ হওয়ার খবর বড় ধরনের অস্বস্তি ও শঙ্কা তৈরি করেছে।

তবে সদ্য ‘নিখোঁজ’ তরুণেরা জঙ্গিবাদে জড়িয়ে ঘর ছেড়েছেন, নাকি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে আছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সর্বশেষ পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিখোঁজ দুই ছাত্রের একজনের হঠাৎ আবির্ভাব এবং সবশেষ ৮ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে জঙ্গি সন্দেহে গ্রেপ্তার পাঁচজনের আদালতে দেওয়া বক্তব্য এই সন্দেহ বাড়িয়েছে।

পাবনা মেডিকেল কলেজের ছাত্র তানভীর আহম্মেদ (তনয়) ২৯ নভেম্বর পাবনা থেকে ও জাকির হোসেন (বিপ্লব) ১ ডিসেম্বর রংপুর থেকে পাবনায় আসার পথে নিখোঁজ হন। ১০ দিন পর জাকিরকে ঢাকার শাহবাগ থেকে উদ্ধার করা হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, জাকিরকে যে সময় উদ্ধার করা হয়, সে সময় তিনি শাহবাগের একটি দোকান থেকে জামাকাপড় কিনছিলেন। জাকির গত রোববার তাঁর রংপুরের বাসায় প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘মা-বাবার সঙ্গে রাগারাগি করে পাবনায় না গিয়ে ট্রেন থেকে বগুড়ায় নামি। এরপর বাসে করে ঢাকায় মোহাম্মদপুরে এক আত্মীয়ের বাড়িতে যাই।’ তিনি দাবি করেন, তাঁর নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে সংবাদপত্র, টেলিভিশন ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে এত খবরাখবর যে প্রকাশিত হয়েছে, তা তিনি জানতেন না। কথা বলার সময় জাকিরকে খুব বিমর্ষ দেখাচ্ছিল বলে জানান আমাদের প্রতিনিধি।

জাকিরকে পাওয়া গেলেও তানভীর আহম্মেদের এখনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। তানভীরের একাধিক সহপাঠী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, জাকির ও তানভীরের বাড়ি একই এলাকায়, তাঁরা ঘনিষ্ঠ বন্ধু। জাকির বাড়ি যাওয়ার সময় তাঁর ল্যাপটপ তানভীরের কাছে রেখে যান। তানভীর নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়েই জাকির বাড়ি থেকে পাবনার উদ্দেশে রওনা দেন এবং পথে নিখোঁজ হন। সহপাঠীদের ধারণা, কোনো সংস্থা এই দুজনকে তুলে নিয়েছিল। পরে জাকিরকে ঢাকায় ছেড়ে দেওয়া হয়। জাকির ছাত্রলীগের পাবনা মেডিকেল কলেজ শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক।

এর বাইরে ৮ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের কর্নেলহাটে র‍্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার পাঁচজন গত সোমবার আদালতে বলেছেন, তাঁদের কাউকে এক বছর আগে, কাউকে আট মাস, কাউকে ছয় মাস আগে বিভিন্ন এলাকা থেকে তুলে আনা হয়েছিল। এরপর চট্টগ্রামে এনে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। অবশ্য র‍্যাব বলেছে, তাঁরা সবাই হরকাতুল জিহাদের জঙ্গি। অবশ্য এর আগেই তাঁদের মধ্যে তিনজন—রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র শেখ ইফতিশাম আহমেদ, যশোরের মনিরামপুরের নাজিমউদ্দিন ও নূরে আলমের পরিবার অভিযোগ করেছে, তাঁদের সন্তানদের সাত-আট মাস আগে তুলে নেওয়া হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে শেখ ইফতিশামের নাম গুলশান হামলার পর র‍্যাবের করা নিখোঁজ তরুণদের তালিকায়ও ছিল।

পুলিশের গাড়ির সামনে থেকে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক মো. ইকবাল মাহমুদকে অপহরণ এবং এ নিয়ে পুলিশের নীরবতা এবং বনানী ডিওএইচএস থেকে ইয়াসীন তালুকদারকে তুলে নিয়ে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ নিখোঁজ ইস্যু নিয়ে প্রশ্ন-সন্দেহ-সংশয় তৈরি হয়েছে। জঙ্গি তৎপরতার বিষয়ে পর্যবেক্ষণ করেন, এমন কেউ কেউ বলছেন, ১ ডিসেম্বর ঢাকার বনানী থেকে একসঙ্গে চার তরুণের নিখোঁজ হওয়ার ধরন কিছুটা আলাদা। সন্দেহবশত তাঁদের কোনো সংস্থা তুলে নিয়েছে কি না, এমন সন্দেহও প্রকাশ করেছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা।

৫ ডিসেম্বর কলাবাগান থেকে নিখোঁজ হওয়া এ লেভেলের ছাত্র সাঈদ আহমেদ খানের এক স্বজন প্রথম আলোকে বলেন, কেউ নিখোঁজ হলেই তাঁর গায়ে যেন ‘জঙ্গি’ তকমা না লাগানো হয়। তিনি বলেন, জুডো, কারাতে শিখলেও সাঈদ বাবা-মায়ের ওপর খুব নির্ভরশীল ছিলেন। হলি আর্টিজানে হামলার সময় সাঈদের মা যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন। তখন সাঈদ মাকে ফোন করে ভয় পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। এরপর সাঈদ বেশ কিছুদিন বাসা থেকেও বের হননি।

নিখোঁজ তরুণদের নিয়ে অব্যাহত সংশয়, সন্দেহের মধ্যে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম বিভাগ থানাকে নিখোঁজদের সম্পর্কে নতুন করে খোঁজখবর নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এই বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, নিহত মেজর (অব.) জাহিদুল ইসলামের স্ত্রী জেবুন্নাহার শিলা ও তানভীর কাদেরীর এক ছেলে এবং নব্য জেএমবির দুই গুরুত্বপূর্ণ নেতা মারজান ও বাশারুজ্জামান ওরফে চকলেট এখনো নিখোঁজ। মিরপুর থেকে ও লেভেল পাস করা দুই ভাই আহমেদ রাফিদ আল হাসান ও আয়াদ হাসানও নিখোঁজ আছেন। তাঁরা যাওয়ার আগে চিরকুটও লিখে গেছেন। তাঁরা সবাই কোথাও না কোথাও আছেন। নিজে নিজে দীক্ষিত হয়েছেন—এমন কিছু তরুণও নিখোঁজ থাকতে পারেন।

কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের প্রধান মনিরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, নতুন করে তরুণদের ঘর ছাড়ার খবর আসতে থাকায় দেশের সব কটি থানাকে নিখোঁজ তরুণদের সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, জঙ্গিবিরোধী অভিযানে গুরুত্বের দিক থেকে এক নম্বরে আছে নতুন করে কোনো হামলা যেন না হয়, তা নিশ্চিত করা। তারপর অগ্রাধিকারে আছে নিখোঁজ তরুণদের খুঁজে বের করা।

গুলশানের হলি আর্টিজানে হামলার পর র‍্যাবও নিখোঁজ তরুণদের ব্যাপারে তথ্য নিতে শুরু করে। র‍্যাব প্রথমে ২৬২ জনের একটি তালিকা প্রকাশ করলেও পরে ৬৮ জনের একটি সংশোধিত তালিকা দেয়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই তালিকার ১৯ জন জঙ্গিবাদে জড়িয়ে দেশের বাইরে আছেন বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে তথ্য আছে। এর বাইরে ওই তালিকার তিনজন মারা গেছেন। ১০ জন জীবিকার সন্ধানে অবৈধভাবে সাগরপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে নিখোঁজ হন। তাঁদের কেউ কেউ দীর্ঘদিন থাইল্যান্ডের কারাগারে ছিলেন, পরে দেশে ফিরেছেন।

ঢাকার বিভিন্ন থানায় নিখোঁজ জিডি আছে, এমন ১২ জনের সাতজন সম্পর্কে প্রথম আলো খোঁজ নিয়েছে। তাঁদের পাঁচজন এখনো নিখোঁজ। প্রায় সাত মাস ধরে নিখোঁজ রয়েছেন লালবাগের সাদমান হোসেন পাপন (২৩)। গতকাল রোববার সাদমানের লালবাগের বাসায় গেলে তাঁর মা দরজা খুলে বেরিয়ে আসেন। তিনি বলেন, তিনি পুলিশ, র‍্যাব, ডিবি—সবার কাছে গেছেন। কেউ তাঁর ছেলের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখেনি।

এ বিষয়ে লালবাগ থানার উপপরিদর্শক জহিরুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাঁরা সাদমানের খোঁজ পাননি। বিষয়টি এখন কাউন্টার টেররিজম ইউনিট দেখছে।

এ বছরের ১৮ জুন মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা মডেল টাউন থেকে নিখোঁজ হন রাহাত বিন আবদুল্লাহ। চন্দ্রিমা মডেল টাউনে নির্মাণাধীন ভবনের সামনে থেকে দুই সঙ্গীসহ হঠাৎ তিনি হারিয়ে যান। ওই ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় জিডি করেন রাহাতের বাবা শেখ আবদুল্লাহ বিন আকবর। মোহাম্মদপুর থানার জিডির তদন্তকারী কর্মকর্তা বুলবুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, নিখোঁজ হওয়ার মাস দুয়েক পর রাহাত ফিরে আসেন। পরে তাঁকে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট জিজ্ঞাসাবাদ করে।

রূপনগরের এ এস এম ফারহান হোসেন এখনো নিখোঁজ। রোববার তাঁদের রূপনগরের বাসায় গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। যে ভবনে তাঁরা থাকেন, সেই ভবনের তত্ত্বাবধায়ক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ভাইয়া শুধু অফিসে যাইত আর বাসায় থাকত। কারও সঙ্গে কখনো গ্যাঞ্জাম করে নাই। বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল। বউ উঠিয়ে নেওয়ার কথা। এর মধ্যেই হারিয়ে গেল। খালাম্মা শুধু কাঁদে।’

ঢাকা কলেজের পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আকরাম হোসেন (২৫) নিখোঁজ আছেন। পরিবারের ভাষ্য, দেড় থেকে দুই বছর আগে একদিন পুলিশ তার খোঁজে এসেছিল জানতে পেরে তিনি বেরিয়ে যান। আর ফেরেননি।

যাত্রাবাড়ীর ধলপুরের আকরাম এখনো নিখোঁজ। তাঁর বাবা আবুল কালাম বিশ্বাস প্রথম আলোকে বলেন, একদিন যাত্রাবাড়ী থানা থেকে পুলিশ এসে তাঁদের বাসায় আবদুল্লাহ নামে এক ছেলেকে খোঁজে। ব্লগার হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া এক ব্যক্তি এই নাম বলেছে বলে পুলিশ জানায়। নাম না মিললেও পুলিশ আকরামের বিস্তারিত তথ্য নিয়ে যায়। এরপর আকরাম বাসায় এসে তা জানতে পারেন। এরপর আকরাম বাসা থেকে বেরিয়ে যান। আর কোনো যোগাযোগ করেননি।

কাজে যাচ্ছি বলে এ বছরের ১৮ জানুয়ারি বাসা থেকে বেরিয়েছিলেন মো. জাকির হোসেন। একটি কারখানায় বিদ্যুতের সকেট বানানোর কাজ করতেন তিনি। তখন থেকেই নিখোঁজ। এ বিষয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় জিডি করে তার পরিবার। জিডির তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক কামালউদ্দিন মুন্সি প্রথম আলোকে বলেন, নিখোঁজের পর থেকেই তাঁর মুঠোফোন বন্ধ। পুলিশ ছাড়াও ডিবি, সিআইডি, র‍্যাবও খোঁজ করেছে, কিন্তু জাকিরের সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরিবারও তার নিখোঁজের বিষয়ে কোনো কারণ বলতে পারেনি।

এক বছরের বেশি সময় ধরে শাহরিয়ার খান নামের আরেক যুবক নিখোঁজ রয়েছেন। চকবাজার থানায় তাঁর পরিবারের করা সাধারণ ডায়েরির সূত্র ধরে রোববার চকবাজার এলাকায় তাঁর বাড়িতে গেলে দারোয়ান নাসিরউদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, শাহরিয়ারের পরিবার নভেম্বরের শেষ দিকে বাসাটি ছেড়ে চলে গেছে। তখন পর্যন্ত শাহরিয়ারের খোঁজ মেলেনি বলে জানান তিনি।

ঢাকার বাইরে কুষ্টিয়ায় নিখোঁজ তিন তরুণ, সুনামগঞ্জ ও কুমিল্লার দুজন, নেত্রকোনার একজন, ময়মনসিংহের দুজন নিখোঁজ আছেন। তবে পুলিশ ও পারিবারিক সূত্র বলছে, তাঁরা জানতে পেরেছেন, ময়মনসিংহের ফুলবাড়ী থেকে নিখোঁজ মো. সাফায়াত হোসেন চট্টগ্রামে মসজিদে বোমা হামলার ঘটনায় কোনো বাহিনীর কাছে আছেন।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক নূর খান প্রথম আলোকে বলেন, যাঁরা নিখোঁজ হয়েছেন তাঁরা জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে জড়িত কি না, সে সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার সময় এখনো আসেনি। কোনো কোনো পরিবার বলছে, তাদের ছেলেকে সাদাপোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তুলে নিয়ে গেছে, এরপর থেকে নিখোঁজ। তিনি বলেন, কাউকে সন্দেহ হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে। এখনো আইনে ৫৪ ধারা ও ১৬৭ ধারা আছে। এ দুটি ধারার প্রয়োগের ক্ষেত্রে বিচার বিভাগের নির্দেশনা মেনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সে ক্ষেত্রে আইন মেনে চলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

Comments

Comments!

 ‘নিখোঁজ’ নিয়ে নতুন শঙ্কাAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

‘নিখোঁজ’ নিয়ে নতুন শঙ্কা

Thursday, December 15, 2016 10:17 am
16

পুরোনোদের বড় অংশের খোঁজ নেই। নতুনেরা জঙ্গিবাদে নাকি কারও হেফাজতে, স্পষ্ট নয়।

গুলশানের হলি আর্টিজানে হামলার আগে নিখোঁজ হওয়া তরুণদের বড় অংশের খোঁজ পাওয়া যায়নি। এর মধ্যেই গত দুই সপ্তাহে নতুন করে আরও আটজন নিখোঁজ হওয়ার খবর বড় ধরনের অস্বস্তি ও শঙ্কা তৈরি করেছে।

তবে সদ্য ‘নিখোঁজ’ তরুণেরা জঙ্গিবাদে জড়িয়ে ঘর ছেড়েছেন, নাকি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে আছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সর্বশেষ পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিখোঁজ দুই ছাত্রের একজনের হঠাৎ আবির্ভাব এবং সবশেষ ৮ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে জঙ্গি সন্দেহে গ্রেপ্তার পাঁচজনের আদালতে দেওয়া বক্তব্য এই সন্দেহ বাড়িয়েছে।

পাবনা মেডিকেল কলেজের ছাত্র তানভীর আহম্মেদ (তনয়) ২৯ নভেম্বর পাবনা থেকে ও জাকির হোসেন (বিপ্লব) ১ ডিসেম্বর রংপুর থেকে পাবনায় আসার পথে নিখোঁজ হন। ১০ দিন পর জাকিরকে ঢাকার শাহবাগ থেকে উদ্ধার করা হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, জাকিরকে যে সময় উদ্ধার করা হয়, সে সময় তিনি শাহবাগের একটি দোকান থেকে জামাকাপড় কিনছিলেন। জাকির গত রোববার তাঁর রংপুরের বাসায় প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘মা-বাবার সঙ্গে রাগারাগি করে পাবনায় না গিয়ে ট্রেন থেকে বগুড়ায় নামি। এরপর বাসে করে ঢাকায় মোহাম্মদপুরে এক আত্মীয়ের বাড়িতে যাই।’ তিনি দাবি করেন, তাঁর নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে সংবাদপত্র, টেলিভিশন ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে এত খবরাখবর যে প্রকাশিত হয়েছে, তা তিনি জানতেন না। কথা বলার সময় জাকিরকে খুব বিমর্ষ দেখাচ্ছিল বলে জানান আমাদের প্রতিনিধি।

জাকিরকে পাওয়া গেলেও তানভীর আহম্মেদের এখনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। তানভীরের একাধিক সহপাঠী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, জাকির ও তানভীরের বাড়ি একই এলাকায়, তাঁরা ঘনিষ্ঠ বন্ধু। জাকির বাড়ি যাওয়ার সময় তাঁর ল্যাপটপ তানভীরের কাছে রেখে যান। তানভীর নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়েই জাকির বাড়ি থেকে পাবনার উদ্দেশে রওনা দেন এবং পথে নিখোঁজ হন। সহপাঠীদের ধারণা, কোনো সংস্থা এই দুজনকে তুলে নিয়েছিল। পরে জাকিরকে ঢাকায় ছেড়ে দেওয়া হয়। জাকির ছাত্রলীগের পাবনা মেডিকেল কলেজ শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক।

এর বাইরে ৮ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের কর্নেলহাটে র‍্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার পাঁচজন গত সোমবার আদালতে বলেছেন, তাঁদের কাউকে এক বছর আগে, কাউকে আট মাস, কাউকে ছয় মাস আগে বিভিন্ন এলাকা থেকে তুলে আনা হয়েছিল। এরপর চট্টগ্রামে এনে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। অবশ্য র‍্যাব বলেছে, তাঁরা সবাই হরকাতুল জিহাদের জঙ্গি। অবশ্য এর আগেই তাঁদের মধ্যে তিনজন—রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র শেখ ইফতিশাম আহমেদ, যশোরের মনিরামপুরের নাজিমউদ্দিন ও নূরে আলমের পরিবার অভিযোগ করেছে, তাঁদের সন্তানদের সাত-আট মাস আগে তুলে নেওয়া হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে শেখ ইফতিশামের নাম গুলশান হামলার পর র‍্যাবের করা নিখোঁজ তরুণদের তালিকায়ও ছিল।

পুলিশের গাড়ির সামনে থেকে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক মো. ইকবাল মাহমুদকে অপহরণ এবং এ নিয়ে পুলিশের নীরবতা এবং বনানী ডিওএইচএস থেকে ইয়াসীন তালুকদারকে তুলে নিয়ে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ নিখোঁজ ইস্যু নিয়ে প্রশ্ন-সন্দেহ-সংশয় তৈরি হয়েছে। জঙ্গি তৎপরতার বিষয়ে পর্যবেক্ষণ করেন, এমন কেউ কেউ বলছেন, ১ ডিসেম্বর ঢাকার বনানী থেকে একসঙ্গে চার তরুণের নিখোঁজ হওয়ার ধরন কিছুটা আলাদা। সন্দেহবশত তাঁদের কোনো সংস্থা তুলে নিয়েছে কি না, এমন সন্দেহও প্রকাশ করেছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা।

৫ ডিসেম্বর কলাবাগান থেকে নিখোঁজ হওয়া এ লেভেলের ছাত্র সাঈদ আহমেদ খানের এক স্বজন প্রথম আলোকে বলেন, কেউ নিখোঁজ হলেই তাঁর গায়ে যেন ‘জঙ্গি’ তকমা না লাগানো হয়। তিনি বলেন, জুডো, কারাতে শিখলেও সাঈদ বাবা-মায়ের ওপর খুব নির্ভরশীল ছিলেন। হলি আর্টিজানে হামলার সময় সাঈদের মা যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন। তখন সাঈদ মাকে ফোন করে ভয় পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। এরপর সাঈদ বেশ কিছুদিন বাসা থেকেও বের হননি।

নিখোঁজ তরুণদের নিয়ে অব্যাহত সংশয়, সন্দেহের মধ্যে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম বিভাগ থানাকে নিখোঁজদের সম্পর্কে নতুন করে খোঁজখবর নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এই বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, নিহত মেজর (অব.) জাহিদুল ইসলামের স্ত্রী জেবুন্নাহার শিলা ও তানভীর কাদেরীর এক ছেলে এবং নব্য জেএমবির দুই গুরুত্বপূর্ণ নেতা মারজান ও বাশারুজ্জামান ওরফে চকলেট এখনো নিখোঁজ। মিরপুর থেকে ও লেভেল পাস করা দুই ভাই আহমেদ রাফিদ আল হাসান ও আয়াদ হাসানও নিখোঁজ আছেন। তাঁরা যাওয়ার আগে চিরকুটও লিখে গেছেন। তাঁরা সবাই কোথাও না কোথাও আছেন। নিজে নিজে দীক্ষিত হয়েছেন—এমন কিছু তরুণও নিখোঁজ থাকতে পারেন।

কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের প্রধান মনিরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, নতুন করে তরুণদের ঘর ছাড়ার খবর আসতে থাকায় দেশের সব কটি থানাকে নিখোঁজ তরুণদের সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, জঙ্গিবিরোধী অভিযানে গুরুত্বের দিক থেকে এক নম্বরে আছে নতুন করে কোনো হামলা যেন না হয়, তা নিশ্চিত করা। তারপর অগ্রাধিকারে আছে নিখোঁজ তরুণদের খুঁজে বের করা।

গুলশানের হলি আর্টিজানে হামলার পর র‍্যাবও নিখোঁজ তরুণদের ব্যাপারে তথ্য নিতে শুরু করে। র‍্যাব প্রথমে ২৬২ জনের একটি তালিকা প্রকাশ করলেও পরে ৬৮ জনের একটি সংশোধিত তালিকা দেয়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই তালিকার ১৯ জন জঙ্গিবাদে জড়িয়ে দেশের বাইরে আছেন বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে তথ্য আছে। এর বাইরে ওই তালিকার তিনজন মারা গেছেন। ১০ জন জীবিকার সন্ধানে অবৈধভাবে সাগরপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে নিখোঁজ হন। তাঁদের কেউ কেউ দীর্ঘদিন থাইল্যান্ডের কারাগারে ছিলেন, পরে দেশে ফিরেছেন।

ঢাকার বিভিন্ন থানায় নিখোঁজ জিডি আছে, এমন ১২ জনের সাতজন সম্পর্কে প্রথম আলো খোঁজ নিয়েছে। তাঁদের পাঁচজন এখনো নিখোঁজ। প্রায় সাত মাস ধরে নিখোঁজ রয়েছেন লালবাগের সাদমান হোসেন পাপন (২৩)। গতকাল রোববার সাদমানের লালবাগের বাসায় গেলে তাঁর মা দরজা খুলে বেরিয়ে আসেন। তিনি বলেন, তিনি পুলিশ, র‍্যাব, ডিবি—সবার কাছে গেছেন। কেউ তাঁর ছেলের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখেনি।

এ বিষয়ে লালবাগ থানার উপপরিদর্শক জহিরুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাঁরা সাদমানের খোঁজ পাননি। বিষয়টি এখন কাউন্টার টেররিজম ইউনিট দেখছে।

এ বছরের ১৮ জুন মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা মডেল টাউন থেকে নিখোঁজ হন রাহাত বিন আবদুল্লাহ। চন্দ্রিমা মডেল টাউনে নির্মাণাধীন ভবনের সামনে থেকে দুই সঙ্গীসহ হঠাৎ তিনি হারিয়ে যান। ওই ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় জিডি করেন রাহাতের বাবা শেখ আবদুল্লাহ বিন আকবর। মোহাম্মদপুর থানার জিডির তদন্তকারী কর্মকর্তা বুলবুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, নিখোঁজ হওয়ার মাস দুয়েক পর রাহাত ফিরে আসেন। পরে তাঁকে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট জিজ্ঞাসাবাদ করে।

রূপনগরের এ এস এম ফারহান হোসেন এখনো নিখোঁজ। রোববার তাঁদের রূপনগরের বাসায় গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। যে ভবনে তাঁরা থাকেন, সেই ভবনের তত্ত্বাবধায়ক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ভাইয়া শুধু অফিসে যাইত আর বাসায় থাকত। কারও সঙ্গে কখনো গ্যাঞ্জাম করে নাই। বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল। বউ উঠিয়ে নেওয়ার কথা। এর মধ্যেই হারিয়ে গেল। খালাম্মা শুধু কাঁদে।’

ঢাকা কলেজের পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আকরাম হোসেন (২৫) নিখোঁজ আছেন। পরিবারের ভাষ্য, দেড় থেকে দুই বছর আগে একদিন পুলিশ তার খোঁজে এসেছিল জানতে পেরে তিনি বেরিয়ে যান। আর ফেরেননি।

যাত্রাবাড়ীর ধলপুরের আকরাম এখনো নিখোঁজ। তাঁর বাবা আবুল কালাম বিশ্বাস প্রথম আলোকে বলেন, একদিন যাত্রাবাড়ী থানা থেকে পুলিশ এসে তাঁদের বাসায় আবদুল্লাহ নামে এক ছেলেকে খোঁজে। ব্লগার হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া এক ব্যক্তি এই নাম বলেছে বলে পুলিশ জানায়। নাম না মিললেও পুলিশ আকরামের বিস্তারিত তথ্য নিয়ে যায়। এরপর আকরাম বাসায় এসে তা জানতে পারেন। এরপর আকরাম বাসা থেকে বেরিয়ে যান। আর কোনো যোগাযোগ করেননি।

কাজে যাচ্ছি বলে এ বছরের ১৮ জানুয়ারি বাসা থেকে বেরিয়েছিলেন মো. জাকির হোসেন। একটি কারখানায় বিদ্যুতের সকেট বানানোর কাজ করতেন তিনি। তখন থেকেই নিখোঁজ। এ বিষয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় জিডি করে তার পরিবার। জিডির তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক কামালউদ্দিন মুন্সি প্রথম আলোকে বলেন, নিখোঁজের পর থেকেই তাঁর মুঠোফোন বন্ধ। পুলিশ ছাড়াও ডিবি, সিআইডি, র‍্যাবও খোঁজ করেছে, কিন্তু জাকিরের সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরিবারও তার নিখোঁজের বিষয়ে কোনো কারণ বলতে পারেনি।

এক বছরের বেশি সময় ধরে শাহরিয়ার খান নামের আরেক যুবক নিখোঁজ রয়েছেন। চকবাজার থানায় তাঁর পরিবারের করা সাধারণ ডায়েরির সূত্র ধরে রোববার চকবাজার এলাকায় তাঁর বাড়িতে গেলে দারোয়ান নাসিরউদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, শাহরিয়ারের পরিবার নভেম্বরের শেষ দিকে বাসাটি ছেড়ে চলে গেছে। তখন পর্যন্ত শাহরিয়ারের খোঁজ মেলেনি বলে জানান তিনি।

ঢাকার বাইরে কুষ্টিয়ায় নিখোঁজ তিন তরুণ, সুনামগঞ্জ ও কুমিল্লার দুজন, নেত্রকোনার একজন, ময়মনসিংহের দুজন নিখোঁজ আছেন। তবে পুলিশ ও পারিবারিক সূত্র বলছে, তাঁরা জানতে পেরেছেন, ময়মনসিংহের ফুলবাড়ী থেকে নিখোঁজ মো. সাফায়াত হোসেন চট্টগ্রামে মসজিদে বোমা হামলার ঘটনায় কোনো বাহিনীর কাছে আছেন।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক নূর খান প্রথম আলোকে বলেন, যাঁরা নিখোঁজ হয়েছেন তাঁরা জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে জড়িত কি না, সে সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার সময় এখনো আসেনি। কোনো কোনো পরিবার বলছে, তাদের ছেলেকে সাদাপোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তুলে নিয়ে গেছে, এরপর থেকে নিখোঁজ। তিনি বলেন, কাউকে সন্দেহ হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে। এখনো আইনে ৫৪ ধারা ও ১৬৭ ধারা আছে। এ দুটি ধারার প্রয়োগের ক্ষেত্রে বিচার বিভাগের নির্দেশনা মেনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সে ক্ষেত্রে আইন মেনে চলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X