শনিবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সকাল ১১:৩৮
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Wednesday, January 18, 2017 8:33 am
A- A A+ Print

নিখোঁজ ৪ নেতার সন্ধান দাবিতে বিক্ষোভে উত্তাল গাইবান্ধা

12

গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও যুবদলের চার নেতা নিখোঁজ ৯ দিন ধরে। তাদের সন্ধান দাবিতে একসঙ্গে আন্দোলনে নেমেছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতারা। গতকাল সাদুল্যাপুরে হরতাল ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন তারা। দুপুরে সাদুল্যাপুর উপজেলা শহরের পাবলিক লাইব্রেরি অ্যান্ড ক্লাব চত্বরে সর্বদলীয় ব্যানারে সাদুল্যাপুর-গাইবান্ধা সড়কের দু’ধারে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। মানববন্ধনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী, ব্যবসায়ী, নিখোঁজদের স্বজনসহ সর্বস্তরের হাজার হাজার নারী-পুরুষ অংশ নেয়। বক্তারা বলেন, গত ৯ দিন ধরে চার নেতা নিখোঁজ হলেও তাদের সন্ধান ও উদ্ধারে কোনো তৎপরতা নেই পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের। অবিলম্বে তাদের সন্ধান দেয়ার জন্য পুলিশসহ প্রশাসনের কাছে দাবি জানানো হয়। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ প্রশাসন তাদের সন্ধান দিতে ব্যর্থ হলে রাজপথ অবরোধসহ বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষণা দেয়া হয়। মানববন্ধন শেষে বিক্ষুব্ধ জনতা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে থানার সামনের পাকা সড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ করে রাখে। এসময় সড়কের দু’ধারে সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। পরে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) মো. বোরহান উদ্দিনের আশ্বাসে থানা ঘেরাও কর্মসূচি তুলে নেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। এদিকে, চার নেতার সন্ধান ও তাদের অবিলম্বে মুক্তির দাবিতে প্রিন্স মুক্তি পরিষদের ডাকে সাদুল্যাপুরের নলডাঙ্গায় সকাল থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত হরতাল পালিত হয়েছে। হরতাল চলাকালে বিক্ষুব্ধ জনতা ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা লালমনিরহাটগামী লালমনি এক্সপ্রেস ট্রেনটি নলডাঙ্গা রেলস্টেশনে ৩০ মিনিট আটকে রাখে। এছাড়া হরতাল চলাকালে সকল প্রকার দোকানপাট ও সড়কে যানচলাচল বন্ধ থাকে। গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও যুবদলের চার নেতাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে সাদা পোশাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালিয়েও তাদের খোঁজ না পাওয়ায় চরম উৎকণ্ঠা ও আতঙ্কের মধ্যে পড়েছেন পরিবারের লোকজন। ৯ই জানুয়ারি যারা নিখোঁজ হয়েছেন তারা হলেন- সাদুল্যাপুর উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও দামোদরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. মনোয়ারুল হাসান জীম মণ্ডল, নলডাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মাইদুল ইসলাম প্রিন্স, দামোদরপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাদেকুল ইসলাম সাদেক (৩৫) ও নলডাঙ্গা ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক শফিউল ইসলাম শাপলা (৩২)। আনোয়ারুল হাসান জীম মণ্ডলের বাবা গোলাম মোস্তফা ডিপটি মণ্ডল বলেন, ‘সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে জিম সাদুল্যাপুর উপজেলা শহরের কৃষি ব্যাংক মোড় থেকে তার (টিভিএস এপাচি) মোটরসাইকেলে করে নলডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান তরিকুল ইসলাম নয়নের কাছে যাওয়ার জন্য রওনা দেন। পথিমধ্যে লালবাজার নামক এলাকা থেকে তিনি সাদেকুল ইসলাম সাদেককে মোটরসাইকেলে তুলে নেন। এরপর বিভিন্নস্থানে খোঁজখবর নিয়েও তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না’। জীম মণ্ডলের পরিবারের ধারণা- সাদা পোশাকধারী কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন অথবা বিশেষ মহলের ইন্থনে জামায়াত-শিবিরের সক্রিয় ক্যাডাররা তাদের পথরোধ করে মোটরসাইকেলসহ দুজনকে তুলে নিয়ে গেছে। এ ঘটনার পর থেকে তাদের দুজনের মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া, তার মোটরসাইকেলেরও কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।  মাইদুল ইসলাম প্রিন্সের ভাই নলডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম নয়ন বলেন, ‘মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে কয়েকজন লোক নলডাঙ্গা রেলগেট এলাকা থেকে প্রিন্সকে মোটরসাইকেলসহ তুলে নিয়ে যায়। বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। এরমধ্যে প্রিন্সের খোঁজে র‌্যাব, পুলিশ, ডিবি পুলিশের সঙ্গে কথা হয়েছে। কিন্তু তারাও এ সম্পর্কে কোনো তথ্য জানে না বলে জানিয়েছেন’। এছাড়া শফিউল ইসলাম শাপলার বাবা আমিনুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার ১১টার দিকে নলডাঙ্গার কাচারি বাজার এলাকায় শাপলা অবস্থান করছিলো। এসময় হঠাৎ করে কয়েকজন লোক তাকে কার্ড দেখিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের পরিচয় দেয়। পরে তারা তাকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর থেকে চার পরিবারে কান্না। বাড়ি না ফেরায় এবং দীর্ঘদিনেও তাদের কোনো খোঁজ না পাওয়ায় নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে দিয়েছে স্ত্রী-সন্তান সহ স্বজনরা। তারা চান নিখোঁজদের খুঁজে বের করা হোক। এ ব্যাপারে সাদুল্যাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহারিয়ার খান বিপ্লব জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে তাদের তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি বেশ উদ্বেগের বিষয়। তবে তাদের তুলে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে জেলা পুলিশ সুপারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তারা সব জায়গায় খোঁজ অব্যাহত রেখেছেন। আশা করা হচ্ছে বুধবার দুপুরের মধ্যে তাদের সম্পর্কে ভালো তথ্য পাওয়া যাবে। সাদুল্যাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরহাদ ইমরুল কায়েস বলেন, ‘তাদের তুলে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি তিনি জেনেছেন। বিষয়টি ইতিমধ্যে জেলা পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের অবগত করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কারও পরিবার কোনো লিখিত অভিযোগ করেনি। এসব পরিবারকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে’। গাইবান্ধা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) মো. রবিউল ইসলাম বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে তাদের তুলে নেয়ার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। বিষয়টি তিনি খোঁজখবর নিয়ে দেখেছেন, পুলিশের কেউ তাদের আটক কিংবা তুলে নিয়ে যায়নি। তবে আমরা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে দেখছি’।

Comments

Comments!

 নিখোঁজ ৪ নেতার সন্ধান দাবিতে বিক্ষোভে উত্তাল গাইবান্ধাAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

নিখোঁজ ৪ নেতার সন্ধান দাবিতে বিক্ষোভে উত্তাল গাইবান্ধা

Wednesday, January 18, 2017 8:33 am
12

গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও যুবদলের চার নেতা নিখোঁজ ৯ দিন ধরে। তাদের সন্ধান দাবিতে একসঙ্গে আন্দোলনে নেমেছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতারা। গতকাল সাদুল্যাপুরে হরতাল ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন তারা। দুপুরে সাদুল্যাপুর উপজেলা শহরের পাবলিক লাইব্রেরি অ্যান্ড ক্লাব চত্বরে সর্বদলীয় ব্যানারে সাদুল্যাপুর-গাইবান্ধা সড়কের দু’ধারে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। মানববন্ধনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী, ব্যবসায়ী, নিখোঁজদের স্বজনসহ সর্বস্তরের হাজার হাজার নারী-পুরুষ অংশ নেয়। বক্তারা বলেন, গত ৯ দিন ধরে চার নেতা নিখোঁজ হলেও তাদের সন্ধান ও উদ্ধারে কোনো তৎপরতা নেই পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের। অবিলম্বে তাদের সন্ধান দেয়ার জন্য পুলিশসহ প্রশাসনের কাছে দাবি জানানো হয়। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ প্রশাসন তাদের সন্ধান দিতে ব্যর্থ হলে রাজপথ অবরোধসহ বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষণা দেয়া হয়।
মানববন্ধন শেষে বিক্ষুব্ধ জনতা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে থানার সামনের পাকা সড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ করে রাখে। এসময় সড়কের দু’ধারে সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। পরে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) মো. বোরহান উদ্দিনের আশ্বাসে থানা ঘেরাও কর্মসূচি তুলে নেয় বিক্ষুব্ধ জনতা।
এদিকে, চার নেতার সন্ধান ও তাদের অবিলম্বে মুক্তির দাবিতে প্রিন্স মুক্তি পরিষদের ডাকে সাদুল্যাপুরের নলডাঙ্গায় সকাল থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত হরতাল পালিত হয়েছে। হরতাল চলাকালে বিক্ষুব্ধ জনতা ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা লালমনিরহাটগামী লালমনি এক্সপ্রেস ট্রেনটি নলডাঙ্গা রেলস্টেশনে ৩০ মিনিট আটকে রাখে। এছাড়া হরতাল চলাকালে সকল প্রকার দোকানপাট ও সড়কে যানচলাচল বন্ধ থাকে। গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও যুবদলের চার নেতাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে সাদা পোশাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালিয়েও তাদের খোঁজ না পাওয়ায় চরম উৎকণ্ঠা ও আতঙ্কের মধ্যে পড়েছেন পরিবারের লোকজন।
৯ই জানুয়ারি যারা নিখোঁজ হয়েছেন তারা হলেন- সাদুল্যাপুর উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও দামোদরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. মনোয়ারুল হাসান জীম মণ্ডল, নলডাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মাইদুল ইসলাম প্রিন্স, দামোদরপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাদেকুল ইসলাম সাদেক (৩৫) ও নলডাঙ্গা ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক শফিউল ইসলাম শাপলা (৩২)।
আনোয়ারুল হাসান জীম মণ্ডলের বাবা গোলাম মোস্তফা ডিপটি মণ্ডল বলেন, ‘সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে জিম সাদুল্যাপুর উপজেলা শহরের কৃষি ব্যাংক মোড় থেকে তার (টিভিএস এপাচি) মোটরসাইকেলে করে নলডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান তরিকুল ইসলাম নয়নের কাছে যাওয়ার জন্য রওনা দেন। পথিমধ্যে লালবাজার নামক এলাকা থেকে তিনি সাদেকুল ইসলাম সাদেককে মোটরসাইকেলে তুলে নেন। এরপর বিভিন্নস্থানে খোঁজখবর নিয়েও তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না’।
জীম মণ্ডলের পরিবারের ধারণা- সাদা পোশাকধারী কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন অথবা বিশেষ মহলের ইন্থনে জামায়াত-শিবিরের সক্রিয় ক্যাডাররা তাদের পথরোধ করে মোটরসাইকেলসহ দুজনকে তুলে নিয়ে গেছে। এ ঘটনার পর থেকে তাদের দুজনের মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া, তার মোটরসাইকেলেরও কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।  মাইদুল ইসলাম প্রিন্সের ভাই নলডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম নয়ন বলেন, ‘মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে কয়েকজন লোক নলডাঙ্গা রেলগেট এলাকা থেকে প্রিন্সকে মোটরসাইকেলসহ তুলে নিয়ে যায়। বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। এরমধ্যে প্রিন্সের খোঁজে র‌্যাব, পুলিশ, ডিবি পুলিশের সঙ্গে কথা হয়েছে। কিন্তু তারাও এ সম্পর্কে কোনো তথ্য জানে না বলে জানিয়েছেন’।
এছাড়া শফিউল ইসলাম শাপলার বাবা আমিনুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার ১১টার দিকে নলডাঙ্গার কাচারি বাজার এলাকায় শাপলা অবস্থান করছিলো। এসময় হঠাৎ করে কয়েকজন লোক তাকে কার্ড দেখিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের পরিচয় দেয়। পরে তারা তাকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর থেকে চার পরিবারে কান্না। বাড়ি না ফেরায় এবং দীর্ঘদিনেও তাদের কোনো খোঁজ না পাওয়ায় নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে দিয়েছে স্ত্রী-সন্তান সহ স্বজনরা। তারা চান নিখোঁজদের খুঁজে বের করা হোক।
এ ব্যাপারে সাদুল্যাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহারিয়ার খান বিপ্লব জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে তাদের তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি বেশ উদ্বেগের বিষয়। তবে তাদের তুলে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে জেলা পুলিশ সুপারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তারা সব জায়গায় খোঁজ অব্যাহত রেখেছেন। আশা করা হচ্ছে বুধবার দুপুরের মধ্যে তাদের সম্পর্কে ভালো তথ্য পাওয়া যাবে।
সাদুল্যাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরহাদ ইমরুল কায়েস বলেন, ‘তাদের তুলে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি তিনি জেনেছেন। বিষয়টি ইতিমধ্যে জেলা পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের অবগত করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কারও পরিবার কোনো লিখিত অভিযোগ করেনি। এসব পরিবারকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে’।
গাইবান্ধা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) মো. রবিউল ইসলাম বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে তাদের তুলে নেয়ার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। বিষয়টি তিনি খোঁজখবর নিয়ে দেখেছেন, পুলিশের কেউ তাদের আটক কিংবা তুলে নিয়ে যায়নি। তবে আমরা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে দেখছি’।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X