বৃহস্পতিবার, ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১০ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ভোর ৫:১৪
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Thursday, November 3, 2016 11:05 am
A- A A+ Print

নিজ দেশেই পরবাসী কিশোরী-তরুণী

b63715e781933f132c8aee3ccc8dc7bd-iraqi

হ্যাজেল নাটের মতো গাঢ় বাদামি চোখ তার। সেই চোখভরা দুঃখের ছায়া। চওড়া স্কার্ফ দিয়ে মুখটা আঁটো করে বেঁধেছে সে। এরই ফাঁক দিয়ে বের হয়ে আছে একটুখানি ফরসা ত্বক। নখে লাল রঙের পলিশ। পায়ে চিতাবাঘের গায়ের ছোপের মতো চিত্রল চপ্পল। এই হচ্ছে ইরাকের হাওজা এলাকার জয়নব। আইএস জঙ্গিরা হানা দেওয়ার পর মসুল থেকে আরও অনেকের সঙ্গে সেও পালিয়েছে। এখন তার ঠিকানা কুর্দিস্তানের ইরবিল শহরের দেবাগা এলাকার একটি আশ্রয়শিবির। ১৫ হাজার শিশু ও আট হাজার নারী সেখানে গাদাগাদি করে থাকছে। এক সপ্তাহ আগে জয়নব ওই আশ্রয়শিবিরে এসেছে। আইএসের দখলের আগে জয়নবের জীবন কাটত হেসেখেলেই। বন্ধুদের সঙ্গে বাজারে যেত। ছেলেমেয়ে একসঙ্গে পড়ত একটি স্কুলে। আরবি ভাষা নিয়ে বড় কিছু করবে বলে ভাবত জয়নব। হঠাৎ করেই সব স্বপ্ন তছনছ হয়ে যায়। আইএস একের পর এক এলাকায় হানা দিতে শুরু করে। নারী ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের ঘটনা বাড়তে থাকে। পড়াশোনা দূরের কথা, জীবন বাঁচানোই তখন প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়। উদ্বিগ্ন মা-বাবা ১৬ বছর বয়সেই জয়নবের বিয়ে দেন। একপর্যায়ে জয়নব অন্তঃসত্ত্বা হয়। সে সময়ে আইএসের ভয়ে সবাই পালাচ্ছিল এলাকা ছেড়ে। পালাতে গিয়ে জয়নবের অনাগত সন্তান মারা যায়। আশ্রয়শিবিরের আরেক নারী ইমান। নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা তিনি। আইএস জঙ্গিরা মসুলে হানা দেওয়ার পর ইমান তাঁর স্বামী ও দুই সন্তানের সঙ্গে ঘর ছাড়তে বাধ্য হন। ইরাকি বাহিনী তাঁদের দেবাগার আশ্রয়শিবিরে নিয়ে যায়। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় ১০ ঘণ্টা ধরে হাঁটতে হয় ইমানকে। আশ্রয়শিবিরের চিকিৎসকেরা বলছেন, ইমানের অস্ত্রোপচার করতে হবে। মসুল ছাড়ার কারণ সম্পর্কে ইমান বলেন, তিনি তাঁর মেয়েকে নিয়ে ভয় পাচ্ছিলেন। আইএস জঙ্গিরা যদি তার ওপর যৌন নির্যাতন চালায়! ছেলেকে নিয়েও ভয় ছিল। যদি আইএস জঙ্গিরা তাকে পটিয়ে বিপথে নিয়ে যায়। আশ্রয়শিবিরের আরেকজন ১৯ বছরের লায়লা। বললেন, আইএস জঙ্গিরা তাঁর বোনের স্বামীকে গুলি করে হত্যা করেছে। তিনি কাবরুকের পুলিশ ছিলেন। আইএসের কথামতো দাঁড়ি রাখায় প্রাণে রক্ষা পান লায়লার স্বামী। তবে আইএসের চাপ, ভয় ও আতঙ্কে লায়লার স্বামী মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। স্বামী এখন প্রায়ই লায়লা ও তাঁর সন্তানদের মারধর করেন। আগে তা করতেন না। লায়লাও এখন পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। ইরাকে নিযুক্ত জাতিসংঘের পপুলেশন ফান্ডের প্রতিনিধি রামা বালাকৃষ্ণান বলেন, জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থার শরণার্থীশিবিরের অনেক নারীর ওপর ধর্ষণ চলেছে। একপর্যায়ে তাঁরা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছেন। আশ্রয়শিবিরের চিকিৎসক নিয়েরান মুন্থার বলেন, অন্তঃসত্ত্বা এসব নারীকে নানা রকম ঝুটঝামেলা পোহাতে হচ্ছে। মসুলে আইএস এখন অনেকটাই কোণঠাসা। মসুল আবার ইরাকি বাহিনীর করতলে আসবে, এমন সম্ভাবনা উজ্জ্বল। কিন্তু নিজভূমে পরবাসী এসব নারী জানে না—কবে তারা বাড়ি ফিরবে। ফেরা আদৌ হবে কি না, তা-ই বা কে বলবে?

Comments

Comments!

 নিজ দেশেই পরবাসী কিশোরী-তরুণীAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

নিজ দেশেই পরবাসী কিশোরী-তরুণী

Thursday, November 3, 2016 11:05 am
b63715e781933f132c8aee3ccc8dc7bd-iraqi

হ্যাজেল নাটের মতো গাঢ় বাদামি চোখ তার। সেই চোখভরা দুঃখের ছায়া। চওড়া স্কার্ফ দিয়ে মুখটা আঁটো করে বেঁধেছে সে। এরই ফাঁক দিয়ে বের হয়ে আছে একটুখানি ফরসা ত্বক। নখে লাল রঙের পলিশ। পায়ে চিতাবাঘের গায়ের ছোপের মতো চিত্রল চপ্পল।

এই হচ্ছে ইরাকের হাওজা এলাকার জয়নব। আইএস জঙ্গিরা হানা দেওয়ার পর মসুল থেকে আরও অনেকের সঙ্গে সেও পালিয়েছে। এখন তার ঠিকানা কুর্দিস্তানের ইরবিল শহরের দেবাগা এলাকার একটি আশ্রয়শিবির। ১৫ হাজার শিশু ও আট হাজার নারী সেখানে গাদাগাদি করে থাকছে।

এক সপ্তাহ আগে জয়নব ওই আশ্রয়শিবিরে এসেছে। আইএসের দখলের আগে জয়নবের জীবন কাটত হেসেখেলেই। বন্ধুদের সঙ্গে বাজারে যেত। ছেলেমেয়ে একসঙ্গে পড়ত একটি স্কুলে। আরবি ভাষা নিয়ে বড় কিছু করবে বলে ভাবত জয়নব।

হঠাৎ করেই সব স্বপ্ন তছনছ হয়ে যায়। আইএস একের পর এক এলাকায় হানা দিতে শুরু করে। নারী ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের ঘটনা বাড়তে থাকে। পড়াশোনা দূরের কথা, জীবন বাঁচানোই তখন প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়। উদ্বিগ্ন মা-বাবা ১৬ বছর বয়সেই জয়নবের বিয়ে দেন। একপর্যায়ে জয়নব অন্তঃসত্ত্বা হয়। সে সময়ে আইএসের ভয়ে সবাই পালাচ্ছিল এলাকা ছেড়ে। পালাতে গিয়ে জয়নবের অনাগত সন্তান মারা যায়।

আশ্রয়শিবিরের আরেক নারী ইমান। নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা তিনি। আইএস জঙ্গিরা মসুলে হানা দেওয়ার পর ইমান তাঁর স্বামী ও দুই সন্তানের সঙ্গে ঘর ছাড়তে বাধ্য হন। ইরাকি বাহিনী তাঁদের দেবাগার আশ্রয়শিবিরে নিয়ে যায়। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় ১০ ঘণ্টা ধরে হাঁটতে হয় ইমানকে। আশ্রয়শিবিরের চিকিৎসকেরা বলছেন, ইমানের অস্ত্রোপচার করতে হবে। মসুল ছাড়ার কারণ সম্পর্কে ইমান বলেন, তিনি তাঁর মেয়েকে নিয়ে ভয় পাচ্ছিলেন। আইএস জঙ্গিরা যদি তার ওপর যৌন নির্যাতন চালায়! ছেলেকে নিয়েও ভয় ছিল। যদি আইএস জঙ্গিরা তাকে পটিয়ে বিপথে নিয়ে যায়।

আশ্রয়শিবিরের আরেকজন ১৯ বছরের লায়লা। বললেন, আইএস জঙ্গিরা তাঁর বোনের স্বামীকে গুলি করে হত্যা করেছে। তিনি কাবরুকের পুলিশ ছিলেন। আইএসের কথামতো দাঁড়ি রাখায় প্রাণে রক্ষা পান লায়লার স্বামী। তবে আইএসের চাপ, ভয় ও আতঙ্কে লায়লার স্বামী মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। স্বামী এখন প্রায়ই লায়লা ও তাঁর সন্তানদের মারধর করেন। আগে তা করতেন না। লায়লাও এখন পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

ইরাকে নিযুক্ত জাতিসংঘের পপুলেশন ফান্ডের প্রতিনিধি রামা বালাকৃষ্ণান বলেন, জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থার শরণার্থীশিবিরের অনেক নারীর ওপর ধর্ষণ চলেছে। একপর্যায়ে তাঁরা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছেন।

আশ্রয়শিবিরের চিকিৎসক নিয়েরান মুন্থার বলেন, অন্তঃসত্ত্বা এসব নারীকে নানা রকম ঝুটঝামেলা পোহাতে হচ্ছে।

মসুলে আইএস এখন অনেকটাই কোণঠাসা। মসুল আবার ইরাকি বাহিনীর করতলে আসবে, এমন সম্ভাবনা উজ্জ্বল। কিন্তু নিজভূমে পরবাসী এসব নারী জানে না—কবে তারা বাড়ি ফিরবে। ফেরা আদৌ হবে কি না, তা-ই বা কে বলবে?

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X