বৃহস্পতিবার, ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১০ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সকাল ১০:২৮
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Sunday, December 4, 2016 4:08 pm
A- A A+ Print

নিরাপত্তারক্ষী থেকে প্রেসিডেন্ট

22

একসময়ে লন্ডনের এক দোকানের নিরাপত্তারক্ষী এখন গাম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট। আদামা ব্যারো। বয়স ৫১ বছর। গাম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ২২ বছরের শাসক ইয়াহিয়া জামেহকে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছেন ব্যারো। ঐতিহাসিক বিজয়ের পর একটি ‘নতুন গাম্বিয়া’ উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ব্যারো। প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার শাসনামলে নির্যাতন, খুন-গুমের ভয়ে যারা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন, তাদের প্রতি দেশে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বলেছেন, দেশে ফিরে আসুন এবং নতুন গাম্বিয়া গড়ে তুলতে সাহায্য করুন। গাম্বিয়ার সব রাজনৈতিক কারাবন্দিকে মুক্ত করে দেবেন বলে জানিয়েছেন ব্যারো। গাম্বিয়ার অচলায়তনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে একটি অগ্রগামী দেশ গড়ার আহ্বানে সাড়া দিয়ে জনগণের মন জয় করেছেন তিনি। লন্ডনের খুচরা বিক্রয় নেটওয়ার্ক আরগোস-এর প্রাক্তন নিরাপত্তারক্ষী ব্যারো পরে রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় সফল হন। পরে গাম্বিয়ার বিরোধী জোটের রাজনীতিতে যোগ দিয়ে জোটের নেতৃত্ব দেন এবং এ বছরের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হন। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে ব্যারো বলেন, কমনওয়েথ ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত থেকে সদস্যপদ প্রত্যাহারের ইয়াহিয়ার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে আবার এসব আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্য হবে গাম্বিয়া। এক সাক্ষাৎকারে ব্যারো বলেন, ‘এক নতুন গাম্বিয়ার জন্ম হলো। আমরা এখন সবাইকে নিয়ে এগোতে চাই। এটিই গাম্বিয়া, এখানে রাজনীতির খেলা শেষ।’ ব্রিটেনে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে জীবনের সাফল্য পেয়েছেন ব্যারো। ১৯৯৮-২০০২ সাল পর্যন্ত ব্রিটেনে থাকার সময়ে তিনি সম্পত্তি ব্যবস্থাপনায় জ্ঞান অর্জন করেন। জীবনের ব্যয় নির্বাহের জন্য দোকানে, অফিসে, সংগীত উৎসবে হাই স্ট্রিট স্টোরে নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করেছেন তিনি। দক্ষিণ-পূর্ব লন্ডনের অপরাধপ্রবণ আবাসন কিডব্রুকেও থেকেছেন। গাম্বিয়াকে হাজার বছর শাসন করতে চেয়েছিলেন ইয়াহিয়া জামেহ! কিন্তু বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে ব্যারোর কাছে হেরে যান এবং পরাজয় স্বীকার করেন। গাম্বিয়ার রাজপথে ব্যারোর সমর্থকরা বিজয় উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন। ইয়াহিয়ার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন লিবিয়ার প্রয়াত স্বৈরশাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফি। যাচ্ছেতাই অবস্থায় গাম্বিয়া চালিয়েছেন ইয়াহিয়া। তার দরবারে ডাকিনি বিদ্যা ও নির্মম ব্যবহারের চর্চা ছিল। নাগরিকদের ওপর নির্যাতন ও বিরোধীদের ওপর দমন-পীড়ন চালানোর অভিযোগ রয়েছে ইয়াহিয়ার বিরুদ্ধে। খুব কম মানুষই মনে করেছিলেন, নির্বাচনে তিনি পরাজয় মেনে নেবেন। শুক্রবার জাতীয় রেডিওতে এক ভাষণে নির্বাচনে পরাজয় স্বীকার করে নেন ইয়াহিয়া। তার এ ঘোষণা পুরো আফ্রিকাকে অবাক করে দেয় এবং রাজধানী বানজুলের রাস্তায় বিজয় মিছিল বের হয়। ইয়াহিয়ার সমর্থকরা শক্তির অপব্যবহারের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তারা আফ্রিকার বিষয়ে পশ্চিমাদের অযাচিত হস্তক্ষেপের নিন্দা করেছেন। ১৯৬৫ সালে গাম্বিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় ব্যাসে শহরে জন্মগ্রহণ করেন ব্যারো। ১৯৯৮ সালে লন্ডনে চলে যান। সেখানে কাজের পাশাপাশি রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় জ্ঞান অর্জন করেন। ২০০৬ সালে দেশে ফিরে নিজে একটি ডেভেলপার কোম্পানি খোলেন। এখনো তিনি এটি পরিচালনার দায়িত্বে আছেন। ব্যবসায়ী ও রাজনীতিক হিসেবে সাধারণ মানুষের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া ১৯৬৫ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীন হয় কিন্তু কখনো এ দেশে শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর হয়নি। ১৯৯৪ সালে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেন ইয়াহিয়া। সেই থেকে ২২ বছর একহাতে গাম্বিয়া শাসন করছেন তিনি। এবারই প্রথম গাম্বিয়ায় শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর হতে যাচ্ছে। টেলিফোনে অভিনন্দন জানিয়ে ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে ব্যারোকে বৈঠকে বসার আহ্বান জানিয়েছেন ইয়াহিয়া। তবে শেষ পর্যন্ত কী হয়, তা দেখার বিষয়। তথ্যসূত্র : ডেইলি মেইল, বিবিসি ও উইকিপিডিয়া।    

Comments

Comments!

 নিরাপত্তারক্ষী থেকে প্রেসিডেন্টAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

নিরাপত্তারক্ষী থেকে প্রেসিডেন্ট

Sunday, December 4, 2016 4:08 pm
22

একসময়ে লন্ডনের এক দোকানের নিরাপত্তারক্ষী এখন গাম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট।

আদামা ব্যারো। বয়স ৫১ বছর। গাম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ২২ বছরের শাসক ইয়াহিয়া জামেহকে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছেন ব্যারো।

ঐতিহাসিক বিজয়ের পর একটি ‘নতুন গাম্বিয়া’ উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ব্যারো। প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার শাসনামলে নির্যাতন, খুন-গুমের ভয়ে যারা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন, তাদের প্রতি দেশে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বলেছেন, দেশে ফিরে আসুন এবং নতুন গাম্বিয়া গড়ে তুলতে সাহায্য করুন।

গাম্বিয়ার সব রাজনৈতিক কারাবন্দিকে মুক্ত করে দেবেন বলে জানিয়েছেন ব্যারো। গাম্বিয়ার অচলায়তনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে একটি অগ্রগামী দেশ গড়ার আহ্বানে সাড়া দিয়ে জনগণের মন জয় করেছেন তিনি।

লন্ডনের খুচরা বিক্রয় নেটওয়ার্ক আরগোস-এর প্রাক্তন নিরাপত্তারক্ষী ব্যারো পরে রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় সফল হন। পরে গাম্বিয়ার বিরোধী জোটের রাজনীতিতে যোগ দিয়ে জোটের নেতৃত্ব দেন এবং এ বছরের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হন।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে ব্যারো বলেন, কমনওয়েথ ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত থেকে সদস্যপদ প্রত্যাহারের ইয়াহিয়ার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে আবার এসব আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্য হবে গাম্বিয়া।

এক সাক্ষাৎকারে ব্যারো বলেন, ‘এক নতুন গাম্বিয়ার জন্ম হলো। আমরা এখন সবাইকে নিয়ে এগোতে চাই। এটিই গাম্বিয়া, এখানে রাজনীতির খেলা শেষ।’

ব্রিটেনে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে জীবনের সাফল্য পেয়েছেন ব্যারো। ১৯৯৮-২০০২ সাল পর্যন্ত ব্রিটেনে থাকার সময়ে তিনি সম্পত্তি ব্যবস্থাপনায় জ্ঞান অর্জন করেন। জীবনের ব্যয় নির্বাহের জন্য দোকানে, অফিসে, সংগীত উৎসবে হাই স্ট্রিট স্টোরে নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করেছেন তিনি। দক্ষিণ-পূর্ব লন্ডনের অপরাধপ্রবণ আবাসন কিডব্রুকেও থেকেছেন।

গাম্বিয়াকে হাজার বছর শাসন করতে চেয়েছিলেন ইয়াহিয়া জামেহ! কিন্তু বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে ব্যারোর কাছে হেরে যান এবং পরাজয় স্বীকার করেন। গাম্বিয়ার রাজপথে ব্যারোর সমর্থকরা বিজয় উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন।

ইয়াহিয়ার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন লিবিয়ার প্রয়াত স্বৈরশাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফি। যাচ্ছেতাই অবস্থায় গাম্বিয়া চালিয়েছেন ইয়াহিয়া। তার দরবারে ডাকিনি বিদ্যা ও নির্মম ব্যবহারের চর্চা ছিল।

নাগরিকদের ওপর নির্যাতন ও বিরোধীদের ওপর দমন-পীড়ন চালানোর অভিযোগ রয়েছে ইয়াহিয়ার বিরুদ্ধে। খুব কম মানুষই মনে করেছিলেন, নির্বাচনে তিনি পরাজয় মেনে নেবেন।

শুক্রবার জাতীয় রেডিওতে এক ভাষণে নির্বাচনে পরাজয় স্বীকার করে নেন ইয়াহিয়া। তার এ ঘোষণা পুরো আফ্রিকাকে অবাক করে দেয় এবং রাজধানী বানজুলের রাস্তায় বিজয় মিছিল বের হয়।

ইয়াহিয়ার সমর্থকরা শক্তির অপব্যবহারের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তারা আফ্রিকার বিষয়ে পশ্চিমাদের অযাচিত হস্তক্ষেপের নিন্দা করেছেন।

১৯৬৫ সালে গাম্বিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় ব্যাসে শহরে জন্মগ্রহণ করেন ব্যারো। ১৯৯৮ সালে লন্ডনে চলে যান। সেখানে কাজের পাশাপাশি রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় জ্ঞান অর্জন করেন।

২০০৬ সালে দেশে ফিরে নিজে একটি ডেভেলপার কোম্পানি খোলেন। এখনো তিনি এটি পরিচালনার দায়িত্বে আছেন। ব্যবসায়ী ও রাজনীতিক হিসেবে সাধারণ মানুষের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি।

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া ১৯৬৫ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীন হয় কিন্তু কখনো এ দেশে শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর হয়নি। ১৯৯৪ সালে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেন ইয়াহিয়া। সেই থেকে ২২ বছর একহাতে গাম্বিয়া শাসন করছেন তিনি। এবারই প্রথম গাম্বিয়ায় শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর হতে যাচ্ছে।

টেলিফোনে অভিনন্দন জানিয়ে ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে ব্যারোকে বৈঠকে বসার আহ্বান জানিয়েছেন ইয়াহিয়া। তবে শেষ পর্যন্ত কী হয়, তা দেখার বিষয়।

তথ্যসূত্র : ডেইলি মেইল, বিবিসি ও উইকিপিডিয়া।

 

 

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X