বুধবার, ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৯ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ৩:০৭
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Friday, July 29, 2016 9:07 am
A- A A+ Print

নিহত আরও একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে

২

ঢাকার কল্যাণপুরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে নিহত ৯ জঙ্গির একজন রায়হান কবির (২০) জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি হত্যা মামলার প্রধান আসামি জেএমবির আঞ্চলিক কমান্ডার মাসুদ রানার সহযোগী ছিলেন। এ ছাড়া নিহত জঙ্গিদের আরেকজন আবু হাকিম নাইমের বাড়ি পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় বলা হলেও প্রকৃতপক্ষে তাঁর বাড়ি টাঙ্গাইলের মধুপুর গ্রামে। এ নিয়ে কল্যাণপুরে পুলিশের অভিযানে নিহত নয় জঙ্গির আটজনের পরিচয় পাওয়া গেল। একজনের পরিচয় জানা যায়নি। নিহতদের তিনজন ঢাকার বাসিন্দা, পাঁচজনের বাড়ি নোয়াখালী, সাতক্ষীরা, দিনাজপুর, টাঙ্গাইল ও রংপুর। গতকাল বৃহস্পতিবার রংপুরের পীরগাছা উপজেলার পশুয়া টাঙ্গাইলপাড়া গ্রামে রায়হানের বাড়িতে গিয়ে তাঁর বাবাকে পাওয়া যায়নি। পুলিশের ভয়ে তিনি পালিয়ে আছেন বলে গ্রামবাসী জানান। তবে দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকা মা রাহেলা বেগম জানান, গত ঈদের আগের ঈদটি বাড়িতে করেছেন রায়হান। ওই ঈদের এক বছর আগে রাগারাগি করে বাড়ি থেকে চলে যান। মা জানতে পারেন, ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরি করছেন ছেলে। এরপর যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। রায়হানের চাচা সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত করপোরাল আবদুর রউফ বললেন, রায়হান ভালো ছেলে ছিলেন। গ্রামবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রংপুরে জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি হত্যা মামলার প্রধান আসামি মাসুদ রানার সঙ্গে রায়হানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। মাসুদ রানা বর্তমানে কারাগারে। এলাকাবাসী আরও জানান, রায়হানের গ্রামের বাড়ি পশুয়া টাঙ্গাইলপাড়ায় ২০০০ সালে জামে মসজিদ উদ্বোধন করেছিলেন ফাঁসি কার্যকর হওয়া জঙ্গি নেতা সিদ্দিকুর রহমান ওরফে বাংলা ভাই। ২০১২-১৩ সালে মসজিদের মুয়াজ্জিন ছিলেন রায়হান। তিনি ২০১৩ সালে দাখিল পাস করেন। রায়হানের বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার বিষয়টি পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশকে জানানো হয়নি। নাইমের বাড়ি কুয়াকাটায় নয়: কল্যাণপুরে নিহত আবু হাকিম নাইমের বাড়ি কুয়াকাটায় নয়, টাঙ্গাইলের মধুপুর গ্রামে। পটুয়াখালী র্যা ব-৮ ও মহিপুর থানার পুলিশ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) গত বুধবার রাতে সাত জঙ্গির পরিচয় জানিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের ছবি ও তথ্য প্রকাশ করে। এতে নাইমের বাড়ি কলাপাড়ায় বলে উল্লেখ করা হয়। মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মাসুদুর রহমান জানান, জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় গোটা এলাকায় সন্ধান করে নাইম বা তাঁর পরিবার সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে আবু হাকিম নাইম নামে এক শ্রমিক ২০০২ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত কুয়াকাটায় একটি হাউজিং কোম্পানির প্রকল্পে কাজ করেছেন। একই কথা সাংবাদিকদের জানান পটুয়াখালী র্যা ব-৮-এর কমান্ডার মো. রোকনুজ্জামান। সাগরনীড় নামের ওই প্রকল্পের তৎকালীন সহকারী ব্যবস্থাপক মো. আলতাফ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, কুয়াকাটায় নবোদয় হাউজিং কোম্পানির সাগর নীড় প্রকল্পে শ্রমিক হিসেবে নাইম পাঁচ-ছয় বছর চাকরি করেছেন। কিছুটা নরম প্রকৃতির এবং ধার্মিক দেখে চাকরিতে নেওয়া হয়েছিল। তাঁর বাড়ি টাঙ্গাইলের মধুপুরে। কুয়াকাটা পৌরসভার প্যানেল মেয়র মো. পান্না মিয়া বলেন, পরিচয় গোপন রেখে নাইম দীর্ঘদিন কুয়াকাটায় অবস্থান করেছেন এবং ওই হাউজিং প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুবাদে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন। কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোতালেব শরীফ বলেন, নাইমের বাড়ি কুয়াকাটায় শোনার পর এলাকায় অস্বস্তি ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে যখন জানা গেল তিনি কুয়াকাটার নন, তখন থেকে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এদিকে সাতক্ষীরার দিনমজুর বাবার সংসারে থেকে প্রাথমিকের গণ্ডি পেরোতে পারেননি ৯ জঙ্গির একজন মতিয়ার সরদার ওরফে গাজী (২৩)। এক বছর আগে চাকরি করবেন বলে তিনি ঢাকায় চলে যান। তারপর আর বাড়ি যাননি। গতকাল সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ধান্দিয়া ইউনিয়নের ওমরপুর গ্রামে মতিয়ারের বাড়িতে গেলে এমন তথ্য মেলে। মতিয়ারের বাবার নাম নাসিরউদ্দিন গাজী। মা খায়েরুন্নেচ্ছা। মতিয়ার তিন ভাই-বোনের মধ্যে বড়। অভাবের তাড়নায় পাঁচ-ছয় বছর আগে বাড়ি থেকে চলে যান। দেড় বছর আগে বাড়ি ফিরলেও পাঁচ মাস থাকার পর আবার চলে যান। মতিয়ারদের একটি মাত্র জরাজীর্ণ ঘর। সেখানে বাবা থাকেন। তিনি অন্যের পুকুর ও বিলে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। বাবা নাসিরউদ্দিন জানান, মতিয়ার ১২-১৩ বছর বয়সে মায়ের সঙ্গে ঢাকায় চলে যান। তাঁর মা গার্মেন্টসে চাকরি করেন। মাঝেমধ্যে বাড়িতে এসেছেন। বছর দেড়েক আগে মতিয়ার বাড়ি ফিরে মাটিশ্রমিকের কাজের পাশাপাশি তরকারির ব্যবসা করেন। ২০১৫ সালের ৩০ জুন ঢাকায় চাকরি করবেন বলে বাড়ি থেকে চলে গিয়ে আর ফেরেননি। থমথমে বল্লভপুর গ্রাম, খোঁজ নেই আরও দুজনের: দিনাজপুরের নিহত জঙ্গি আবদুল্লাহর গ্রামের বাড়ি নবাবগঞ্জ উপজেলার বল্লভপুর এখন থমথমে। এ গ্রামের আরও দুজনের খোঁজ মিলছে না। ঢাকার কল্যাণপুরে জঙ্গিবিরোধী অভিযানে আবদুল্লাহ নিহত হওয়া এবং দুজনের খোঁজ না পাওয়ার বিষয়টি সামনে আসায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এই গ্রামের নিখোঁজ আরও দুজন হলেন আব্দুত তোয়াবের ছেলে আবদুস সামাদ (২৩) ও আব্দুল লতিফের ছেলে আবদুল বারিক (২৪)। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, নিখোঁজ দুজন কল্যাণপুরে নিহত আবদুল্লাহর ঘনিষ্ঠ সহযোগী। এঁরা তিনজনসহ গ্রামের কয়েক যুবক বছর দুই আগে গ্রামের মসজিদে নামাজের পর মোনাজাত না করা এবং সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদের নামাজ পড়ার বিষয়ে বক্তব্য দিতেন। এ নিয়ে গ্রামবাসীর সঙ্গে তাঁদের দ্বন্দ্ব হয়। ৯ মাস ধরে আবদুস সামাদের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের কোনো যোগযোগ নেই বলে স্বজনেরা জানান। নিখোঁজ বারিকের মা ফুলারা বেগম বলেন, সে আবদুস সামাদের সমবয়সী। বারিক বল্লভপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করে বাদ দেন। এরপর রাজমিস্ত্রির কাজ শুরু করেন। প্রায় ৯ মাস আগে বারিক কাজের জন্য ফেনী যান। চার মাস আগে জানতে পারেন, বারিক একটি ডাকাতি চেষ্টার ঘটনায় গণপিটুনিতে মারা গেছেন। পরে ফেনীতে গিয়ে বারিকের লাশ খুঁজে পাননি। নিহতদের মধ্যে চট্টগ্রামের সাব্বিরুল নেই: নিহত নয় জঙ্গির মধ্যে চট্টগ্রামের আনোয়ারার বাসিন্দা সাব্বিরুল হক চৌধুরী ওরফে কণিক নেই বলে জানিয়েছে তার পরিবার। গতকাল বৃহস্পতিবার সাব্বিরুলের চাচাতো ভাই ওয়াহিদুল হক চৌধুরী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে লাশ দেখে সেখানে সাব্বিরের লাশ নেই বলে জানিয়েছেন। সাব্বিরের বাবা আজিজুল হক চৌধুরীর চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের রাজস্ব বিভাগের কর্মী। তিনি বরুমচড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি। বুধবার ছবি দেখে তিনি একটি লাশ তাঁর ছেলের বলে ধারণা করেছিলেন। ওয়াহিদুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার আবদুল মান্নানের তত্ত্বাবধানে ঢাকা মেডিকেলে তাঁরা সাব্বিরুলের লাশ শনাক্ত করতে যান। কিন্তু সেখানে সাব্বিরুলের লাশ নেই।

Comments

Comments!

 নিহত আরও একজনের পরিচয় পাওয়া গেছেAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

নিহত আরও একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে

Friday, July 29, 2016 9:07 am
২

ঢাকার কল্যাণপুরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে নিহত ৯ জঙ্গির একজন রায়হান কবির (২০) জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি হত্যা মামলার প্রধান আসামি জেএমবির আঞ্চলিক কমান্ডার মাসুদ রানার সহযোগী ছিলেন।
এ ছাড়া নিহত জঙ্গিদের আরেকজন আবু হাকিম নাইমের বাড়ি পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় বলা হলেও প্রকৃতপক্ষে তাঁর বাড়ি টাঙ্গাইলের মধুপুর গ্রামে।
এ নিয়ে কল্যাণপুরে পুলিশের অভিযানে নিহত নয় জঙ্গির আটজনের পরিচয় পাওয়া গেল। একজনের পরিচয় জানা যায়নি। নিহতদের তিনজন ঢাকার বাসিন্দা, পাঁচজনের বাড়ি নোয়াখালী, সাতক্ষীরা, দিনাজপুর, টাঙ্গাইল ও রংপুর।
গতকাল বৃহস্পতিবার রংপুরের পীরগাছা উপজেলার পশুয়া টাঙ্গাইলপাড়া গ্রামে রায়হানের বাড়িতে গিয়ে তাঁর বাবাকে পাওয়া যায়নি। পুলিশের ভয়ে তিনি পালিয়ে আছেন বলে গ্রামবাসী জানান। তবে দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকা মা রাহেলা বেগম জানান, গত ঈদের আগের ঈদটি বাড়িতে করেছেন রায়হান। ওই ঈদের এক বছর আগে রাগারাগি করে বাড়ি থেকে চলে যান। মা জানতে পারেন, ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরি করছেন ছেলে। এরপর যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। রায়হানের চাচা সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত করপোরাল আবদুর রউফ বললেন, রায়হান ভালো ছেলে ছিলেন।
গ্রামবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রংপুরে জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি হত্যা মামলার প্রধান আসামি মাসুদ রানার সঙ্গে রায়হানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। মাসুদ রানা বর্তমানে কারাগারে।
এলাকাবাসী আরও জানান, রায়হানের গ্রামের বাড়ি পশুয়া টাঙ্গাইলপাড়ায় ২০০০ সালে জামে মসজিদ উদ্বোধন করেছিলেন ফাঁসি কার্যকর হওয়া জঙ্গি নেতা সিদ্দিকুর রহমান ওরফে বাংলা ভাই। ২০১২-১৩ সালে মসজিদের মুয়াজ্জিন ছিলেন রায়হান। তিনি ২০১৩ সালে দাখিল পাস করেন। রায়হানের বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার বিষয়টি পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশকে জানানো হয়নি।
নাইমের বাড়ি কুয়াকাটায় নয়: কল্যাণপুরে নিহত আবু হাকিম নাইমের বাড়ি কুয়াকাটায় নয়, টাঙ্গাইলের মধুপুর গ্রামে। পটুয়াখালী র্যা ব-৮ ও মহিপুর থানার পুলিশ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) গত বুধবার রাতে সাত জঙ্গির পরিচয় জানিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের ছবি ও তথ্য প্রকাশ করে। এতে নাইমের বাড়ি কলাপাড়ায় বলে উল্লেখ করা হয়।
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মাসুদুর রহমান জানান, জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় গোটা এলাকায় সন্ধান করে নাইম বা তাঁর পরিবার সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে আবু হাকিম নাইম নামে এক শ্রমিক ২০০২ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত কুয়াকাটায় একটি হাউজিং কোম্পানির প্রকল্পে কাজ করেছেন। একই কথা সাংবাদিকদের জানান পটুয়াখালী র্যা ব-৮-এর কমান্ডার মো. রোকনুজ্জামান।
সাগরনীড় নামের ওই প্রকল্পের তৎকালীন সহকারী ব্যবস্থাপক মো. আলতাফ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, কুয়াকাটায় নবোদয় হাউজিং কোম্পানির সাগর নীড় প্রকল্পে শ্রমিক হিসেবে নাইম পাঁচ-ছয় বছর চাকরি করেছেন। কিছুটা নরম প্রকৃতির এবং ধার্মিক দেখে চাকরিতে নেওয়া হয়েছিল। তাঁর বাড়ি টাঙ্গাইলের মধুপুরে।
কুয়াকাটা পৌরসভার প্যানেল মেয়র মো. পান্না মিয়া বলেন, পরিচয় গোপন রেখে নাইম দীর্ঘদিন কুয়াকাটায় অবস্থান করেছেন এবং ওই হাউজিং প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুবাদে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোতালেব শরীফ বলেন, নাইমের বাড়ি কুয়াকাটায় শোনার পর এলাকায় অস্বস্তি ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে যখন জানা গেল তিনি কুয়াকাটার নন, তখন থেকে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
এদিকে সাতক্ষীরার দিনমজুর বাবার সংসারে থেকে প্রাথমিকের গণ্ডি পেরোতে পারেননি ৯ জঙ্গির একজন মতিয়ার সরদার ওরফে গাজী (২৩)। এক বছর আগে চাকরি করবেন বলে তিনি ঢাকায় চলে যান। তারপর আর বাড়ি যাননি।
গতকাল সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ধান্দিয়া ইউনিয়নের ওমরপুর গ্রামে মতিয়ারের বাড়িতে গেলে এমন তথ্য মেলে। মতিয়ারের বাবার নাম নাসিরউদ্দিন গাজী। মা খায়েরুন্নেচ্ছা। মতিয়ার তিন ভাই-বোনের মধ্যে বড়। অভাবের তাড়নায় পাঁচ-ছয় বছর আগে বাড়ি থেকে চলে যান। দেড় বছর আগে বাড়ি ফিরলেও পাঁচ মাস থাকার পর আবার চলে যান। মতিয়ারদের একটি মাত্র জরাজীর্ণ ঘর। সেখানে বাবা থাকেন। তিনি অন্যের পুকুর ও বিলে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন।
বাবা নাসিরউদ্দিন জানান, মতিয়ার ১২-১৩ বছর বয়সে মায়ের সঙ্গে ঢাকায় চলে যান। তাঁর মা গার্মেন্টসে চাকরি করেন। মাঝেমধ্যে বাড়িতে এসেছেন। বছর দেড়েক আগে মতিয়ার বাড়ি ফিরে মাটিশ্রমিকের কাজের পাশাপাশি তরকারির ব্যবসা করেন। ২০১৫ সালের ৩০ জুন ঢাকায় চাকরি করবেন বলে বাড়ি থেকে চলে গিয়ে আর ফেরেননি।
থমথমে বল্লভপুর গ্রাম, খোঁজ নেই আরও দুজনের: দিনাজপুরের নিহত জঙ্গি আবদুল্লাহর গ্রামের বাড়ি নবাবগঞ্জ উপজেলার বল্লভপুর এখন থমথমে। এ গ্রামের আরও দুজনের খোঁজ মিলছে না। ঢাকার কল্যাণপুরে জঙ্গিবিরোধী অভিযানে আবদুল্লাহ নিহত হওয়া এবং দুজনের খোঁজ না পাওয়ার বিষয়টি সামনে আসায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
এই গ্রামের নিখোঁজ আরও দুজন হলেন আব্দুত তোয়াবের ছেলে আবদুস সামাদ (২৩) ও আব্দুল লতিফের ছেলে আবদুল বারিক (২৪)।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, নিখোঁজ দুজন কল্যাণপুরে নিহত আবদুল্লাহর ঘনিষ্ঠ সহযোগী। এঁরা তিনজনসহ গ্রামের কয়েক যুবক বছর দুই আগে গ্রামের মসজিদে নামাজের পর মোনাজাত না করা এবং সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদের নামাজ পড়ার বিষয়ে বক্তব্য দিতেন। এ নিয়ে গ্রামবাসীর সঙ্গে তাঁদের দ্বন্দ্ব হয়।
৯ মাস ধরে আবদুস সামাদের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের কোনো যোগযোগ নেই বলে স্বজনেরা জানান। নিখোঁজ বারিকের মা ফুলারা বেগম বলেন, সে আবদুস সামাদের সমবয়সী। বারিক বল্লভপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করে বাদ দেন। এরপর রাজমিস্ত্রির কাজ শুরু করেন। প্রায় ৯ মাস আগে বারিক কাজের জন্য ফেনী যান। চার মাস আগে জানতে পারেন, বারিক একটি ডাকাতি চেষ্টার ঘটনায় গণপিটুনিতে মারা গেছেন। পরে ফেনীতে গিয়ে বারিকের লাশ খুঁজে পাননি।
নিহতদের মধ্যে চট্টগ্রামের সাব্বিরুল নেই: নিহত নয় জঙ্গির মধ্যে চট্টগ্রামের আনোয়ারার বাসিন্দা সাব্বিরুল হক চৌধুরী ওরফে কণিক নেই বলে জানিয়েছে তার পরিবার। গতকাল বৃহস্পতিবার সাব্বিরুলের চাচাতো ভাই ওয়াহিদুল হক চৌধুরী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে লাশ দেখে সেখানে সাব্বিরের লাশ নেই বলে জানিয়েছেন। সাব্বিরের বাবা আজিজুল হক চৌধুরীর চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের রাজস্ব বিভাগের কর্মী। তিনি বরুমচড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি। বুধবার ছবি দেখে তিনি একটি লাশ তাঁর ছেলের বলে ধারণা করেছিলেন।
ওয়াহিদুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার আবদুল মান্নানের তত্ত্বাবধানে ঢাকা মেডিকেলে তাঁরা সাব্বিরুলের লাশ শনাক্ত করতে যান। কিন্তু সেখানে সাব্বিরুলের লাশ নেই।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X