মঙ্গলবার, ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৮ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, বিকাল ৫:১২
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Sunday, September 11, 2016 7:55 pm
A- A A+ Print

নিহত ‘জঙ্গি’ আসলে কে? করিম, শমসেদ, শমসের, জুলহাস, তেহজিব না মারজান?

242653_1

রাজধানীর আজিমপুরে পুলিশের অভিযানে নিহত ‘জঙ্গির’ পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির পর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ তার পরিচয় নিশ্চিত করে। কিন্তু এরপরেও পুলিশ তার পরিচয় নিয়ে সন্দেহে রয়েছে। অভিযানের পর নিহত জঙ্গির পরিচয় নিয়ে সন্দেহ থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে তার নাম জানানো হয়নি। পরে জানানো হয়, তার নাম জঙ্গি করিম। শনিবার রাতে অভিযানের পর থেকে নিহত ‘জঙ্গির’ পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। সংবাদ মাধ্যমগুলো কেউ ‘যুবক’, কেউ ‘জঙ্গি’ আবার কেউ ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে উল্লেখ করে। তার পরিচয় হিসেবে কেউ নব্য জেএমবির শীর্ষ নেতা তেহজীব করিম, কেউ আব্দুল করিম কেউ জুলহাস করিম কেউ আবার কেউ শমসেদ হিসেবে উল্লেখ করে। কেউ বলেছেন তার নাম বর্তমান সময়ে সমালেচিত জঙ্গি’র মাস্টারমাইন্ড মারজান। আমাদের সময় ডটকম ও আমাদের অর্থনীতি প্রথমে সন্দেহভাজন ‘জঙ্গির’ নাম জুলহাস করিম হিসেবে উল্লেখ করেছিল। অভিযানে নেতৃত্বে থাকা কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ইউনিটের সূত্র থেকে নিশ্চিত হয়ে এ খবর প্রকাশ করা হয়েছিল। প্রথম আলো নিহত ‘জঙ্গির’ নাম আব্দুল করিম হিসেবে প্রকাশ করেছিল। ইত্তেফাক তেহজিব করিম, যুগান্তর আব্দুল করিম লিখেছে। এদের মতো প্রায় সব সংবাদ মাধ্যম এ নামগুলো উল্লেখ করেছে। এরপর রোববার সকালে নিহত ‘জঙ্গির’ নাম নিয়ে বিভ্রান্তির সাময়িক অবসান করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি)। কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) বরাত দিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারের উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান জানান, জঙ্গি করিমের আসল নাম মো. শমসের উদ্দিন। তার বাবার নাম মোসলেহ উদ্দিন। বাড়ি রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানা এলাকার মেহেরচ-ী গ্রামে। তার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর- ৮১৯২২২৬৩৩৯১৫৩। তিনি (করিম) গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলাকারীদের সহযোগী। রোববার বিকাল ৩টার দিকে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মোহাম্মদ ইউসুফ আলী জানান, ‘সকালে তার পরিচয় মো. শমসের উদ্দিন বলেই নিশ্চিত ছিলাম। পরে অধিকতর খোঁজ-খবর নেয়ার পর তার পরিচয় নিয়ে সন্দেহ দেখা দেয়।’ তিনি জানান, এখন তার পরিচয় নিশ্চিত হতে নির্বাচন কমিশনের দিকে তাকিয়ে আছে পুলিশ। তার ফিঙ্গারপ্রিন্টের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফিঙ্গারপ্রিন্ট মিলিয়ে দেখেই পরিচয় নিশ্চিত করা হবে। এডিসি আরও জানান, ঈদের ছুটির কারণে নির্বাচন কমিশন এখন বন্ধ। ঈদের পর অফিস খুললে এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে বলেও তিনি জানান। রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ইফতেখায়ের আলম জানান, ঢাকা থেকে ওই জঙ্গির যে ঠিকানার কথা বলা হয়েছে সে ঠিকানায় খোঁজ-খবর নেয়া হয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত ওই ঠিকানায় শমসের নামে কাউকে পাওয়া যায়নি। তিনি আরও জানান, এর আগেও নিহত এক জঙ্গি তার ঠিকানা হিসেবে রাজশাহীর নাম ব্যবহার করেছিল। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তার ঠিকানা ঢাকায়। এবারও হয়তো এই জঙ্গিও ফেক আইডি ব্যবহার করছে। উল্লেখ্য, শনিবার সন্ধ্যায় আজিমপুর বিজিবি সদর দপ্তরের ২ নাম্বার গেইটে পাশে এক বাসায় পুলিশের অভিযানের সময় সন্দেহভাজন জঙ্গির লাশ পাওয়া যায়। অভিযানে আহত হন সন্দেহভাজন তিন নারী জঙ্গি ও পাঁচ পুলিশ সদস্য। রাতে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, নিহত সন্দেহভাজন জঙ্গির গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সে আত্মহত্যা করেছে। ওই বাসা থেকে তিন শিশুকে উদ্ধার করা হয়। তাদের মধ্যে এক ছেলে ও দুই মেয়ে। বড় ছেলেটির বয়স ১২ থেকে ১৩ বছর। এক মেয়ের বয়স বয়স ৯-১০ বছর। অন্যটির প্রায় এক বছর। তাদেরকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের রাখা হয়েছে।

Comments

Comments!

 নিহত ‘জঙ্গি’ আসলে কে? করিম, শমসেদ, শমসের, জুলহাস, তেহজিব না মারজান?AmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

নিহত ‘জঙ্গি’ আসলে কে? করিম, শমসেদ, শমসের, জুলহাস, তেহজিব না মারজান?

Sunday, September 11, 2016 7:55 pm
242653_1

রাজধানীর আজিমপুরে পুলিশের অভিযানে নিহত ‘জঙ্গির’ পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির পর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ তার পরিচয় নিশ্চিত করে। কিন্তু এরপরেও পুলিশ তার পরিচয় নিয়ে সন্দেহে রয়েছে। অভিযানের পর নিহত জঙ্গির পরিচয় নিয়ে সন্দেহ থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে তার নাম জানানো হয়নি। পরে জানানো হয়, তার নাম জঙ্গি করিম।

শনিবার রাতে অভিযানের পর থেকে নিহত ‘জঙ্গির’ পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। সংবাদ মাধ্যমগুলো কেউ ‘যুবক’, কেউ ‘জঙ্গি’ আবার কেউ ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে উল্লেখ করে। তার পরিচয় হিসেবে কেউ নব্য জেএমবির শীর্ষ নেতা তেহজীব করিম, কেউ আব্দুল করিম কেউ জুলহাস করিম কেউ আবার কেউ শমসেদ হিসেবে উল্লেখ করে। কেউ বলেছেন তার নাম বর্তমান সময়ে সমালেচিত জঙ্গি’র মাস্টারমাইন্ড মারজান।

আমাদের সময় ডটকম ও আমাদের অর্থনীতি প্রথমে সন্দেহভাজন ‘জঙ্গির’ নাম জুলহাস করিম হিসেবে উল্লেখ করেছিল। অভিযানে নেতৃত্বে থাকা কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ইউনিটের সূত্র থেকে নিশ্চিত হয়ে এ খবর প্রকাশ করা হয়েছিল। প্রথম আলো নিহত ‘জঙ্গির’ নাম আব্দুল করিম হিসেবে প্রকাশ করেছিল। ইত্তেফাক তেহজিব করিম, যুগান্তর আব্দুল করিম লিখেছে। এদের মতো প্রায় সব সংবাদ মাধ্যম এ নামগুলো উল্লেখ করেছে।

এরপর রোববার সকালে নিহত ‘জঙ্গির’ নাম নিয়ে বিভ্রান্তির সাময়িক অবসান করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি)। কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) বরাত দিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারের উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান জানান, জঙ্গি করিমের আসল নাম মো. শমসের উদ্দিন। তার বাবার নাম মোসলেহ উদ্দিন। বাড়ি রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানা এলাকার মেহেরচ-ী গ্রামে। তার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর- ৮১৯২২২৬৩৩৯১৫৩। তিনি (করিম) গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলাকারীদের সহযোগী।

রোববার বিকাল ৩টার দিকে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মোহাম্মদ ইউসুফ আলী জানান, ‘সকালে তার পরিচয় মো. শমসের উদ্দিন বলেই নিশ্চিত ছিলাম। পরে অধিকতর খোঁজ-খবর নেয়ার পর তার পরিচয় নিয়ে সন্দেহ দেখা দেয়।’

তিনি জানান, এখন তার পরিচয় নিশ্চিত হতে নির্বাচন কমিশনের দিকে তাকিয়ে আছে পুলিশ। তার ফিঙ্গারপ্রিন্টের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফিঙ্গারপ্রিন্ট মিলিয়ে দেখেই পরিচয় নিশ্চিত করা হবে।

এডিসি আরও জানান, ঈদের ছুটির কারণে নির্বাচন কমিশন এখন বন্ধ। ঈদের পর অফিস খুললে এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে বলেও তিনি জানান।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ইফতেখায়ের আলম জানান, ঢাকা থেকে ওই জঙ্গির যে ঠিকানার কথা বলা হয়েছে সে ঠিকানায় খোঁজ-খবর নেয়া হয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত ওই ঠিকানায় শমসের নামে কাউকে পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও জানান, এর আগেও নিহত এক জঙ্গি তার ঠিকানা হিসেবে রাজশাহীর নাম ব্যবহার করেছিল। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তার ঠিকানা ঢাকায়। এবারও হয়তো এই জঙ্গিও ফেক আইডি ব্যবহার করছে।

উল্লেখ্য, শনিবার সন্ধ্যায় আজিমপুর বিজিবি সদর দপ্তরের ২ নাম্বার গেইটে পাশে এক বাসায় পুলিশের অভিযানের সময় সন্দেহভাজন জঙ্গির লাশ পাওয়া যায়। অভিযানে আহত হন সন্দেহভাজন তিন নারী জঙ্গি ও পাঁচ পুলিশ সদস্য।

রাতে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, নিহত সন্দেহভাজন জঙ্গির গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সে আত্মহত্যা করেছে। ওই বাসা থেকে তিন শিশুকে উদ্ধার করা হয়। তাদের মধ্যে এক ছেলে ও দুই মেয়ে। বড় ছেলেটির বয়স ১২ থেকে ১৩ বছর। এক মেয়ের বয়স বয়স ৯-১০ বছর। অন্যটির প্রায় এক বছর। তাদেরকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের রাখা হয়েছে।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X