রবিবার, ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১৩ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সকাল ১১:৫৭
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Wednesday, October 26, 2016 12:30 pm
A- A A+ Print

পতিতাবৃত্তির পর নতুন জীবনে ফেরার গল্প আমেরিকান কিশোরীর

157683_1

   
নিউইয়র্ক: আনিয়া ১৩ বছর বয়সে প্রথম অর্থের বিনিময়ে তার দেহ বিক্রি করেছিল। সেসময় তিনি তার আমেরিকার ব্রঙ্কসের বাড়ি থেকে পালিয়ে যান এবং তার বন্ধুদের মাধ্যমে যেসব মানুষের সঙ্গে তার পরিচয় হয়েছিল তাদের সঙ্গেই থাকেন। তার নিজেকে ভরনপোষনের জন্য তারা তাকে সাহায্য করতে পারবে-এমন আশ্বাস দিয়েছিল তারা।
তিনি জানান,  প্রথম দিকে তারা তাকে বন্দুক বিক্রি করতে রাস্তায় পাঠাত। তারপর তারা তার নগ্ন ছবি তুলে সেগুলো অনলাইনে পোস্ট করে এবং পরবর্তী ধাপে তাকে চাপ দেয়া হয় নিজেকে বিক্রি করার জন্য। দেহ বিক্রি না করলে তাকে মেরে ফেলার হুমকিও দেয়া হতো বলে আনিয়া জানান। সেখানে প্রায় দুই মাস আনিয়া একজন পতিতা হিসেবে কাজ করেন। ২০১১ সালে এক রাতে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। একের পর এক আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে কিশোরী আটক কেন্দ্রে নেয়া হয়। তখন তার বয়স মাত্র ১৪। বর্তমানে আনিয়া ১৮ বছরের যুবতী এবং ওয়েস্টচেস্টার কাউন্টির একটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বাস করছেন; যেখানে তিনি গত দুই বছরের অধিকাংশ সময় চিকিৎসার জন্য ব্যয় করছেন। ক্রমাগত যৌন হয়রানির শিকার অসংখ্য মেয়েদের একজন আনিয়া এবং কিশোরী পতিতাবৃত্তি আইন পরিবর্তনের কারণে তাকে কারাগারে বন্দী রাখার পরিবর্তে পুনর্বাসন কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। ওয়েস্টচেস্টার কাউন্টির পুনর্বাসন কেন্দ্র   দুই বছর আগে ব্রঙ্কসের হরাইজন জুভেনাইল কেন্দ্র থেকে মুক্তি লাভের পর আনিয়া একজন সমাজকর্মীর কাছে বলেন যে, তিনি উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করতে চান। একটি অলাভজনক সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের অধীনে তিনি ‘গেটওয়ে প্রোগ্রাম’ শেষ করেন। আনিয়া তার পুরো নাম প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি চিকিৎসার জন্য ব্যক্তিগতভাবে ও গ্রুপে অংশগ্রহণ করেন। তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার অংশ হিসেবে তিনি একটি সুসজ্জিত রুমে ঘুমাতে দেয়া হয়। গেটওয়ে প্রোগ্রামে ২০০৯ সাল থেকে এপর্যন্ত ১০০ জনেরও বেশি নারী ও তরুণী পরামর্শ নিয়েছেন। সেখানকার অধিবাসীরা সাধারণত ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সের মধ্যে। প্রোগ্রামের পরিচালক জেরেমি ব্রাউন জানান, তাদের মধ্যে একজনের বয়স ছিল মাত্র ১০ বছর। আলাদা আলাদা ও দলগতভাবে অধিবাসীরা ৬ থেকে ১২ মাসের নিবিড় থেরাপি গ্রহণ করেন। পাশাপাশি অন্যান্য প্রোগ্রামেও অংশগ্রহণের জন্য তাদের উৎসাহিত করা হয়। এরমধ্যে রয়েছে অশ্বারোহণ এবং নাচ, গান ইত্যাদি। আনিয়া গান ও অভিনয়ের  ক্লাস করেন। চিকিৎসার পর এ প্রোগ্রামের মাধ্যমে বাসিন্দাদের সমাজে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে কাজ করে।  ব্রাউন জানান, তাদের অধিকাংশই স্কুলে ফিরে যায়, কেউ চাকরি করছে কিংবা তাদের পরিবারের সঙ্গে বসবাস করছেন। আনিয়া বলেন, ‘এখান থেকে বের হয়ে আমি নিজেকে একটু বেশি মর্যাদার সঙ্গে বাস করতে সক্ষম হব।’ দেশটির ‘সেফ হারবার অ্যাক্ট-২০০৮’ অনুযায়ী, ১৪ থেকে ১৫ বছর বয়সীদের বিচারের মুখোমুখি করার ক্ষেত্রে আইন-প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের আরো বিচক্ষণ হতে বলা হয়েছে এবং তাদেরকে অপরাধী হিসেবে বিচেনা না করে ভুক্তভোগী হিসেবে বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। তিন বছর আগে, আইনটি সংশোধন করে ১৬ ও ১৭ বছর বয়সীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। দু’মাস আগে আনিয়া তার হাই স্কুল ডিপ্লোমা অর্জন করেছেন এবং একজন স্বাস্থ্যকর্মী হওয়ার জন্য প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামে অংশ নিচ্ছেন। সে একজন নার্স হতে চায়। গত মাসে আনিয়া তার ম্যানহাটানের নার্সিং ক্লাস শেষে ফিরতে দেরী হলে গেটওয়ে পরিচালক ব্রাউন উদ্বিগ্ন হয়ে পরেন। ব্রাউনের উদ্বেগ দূর করতে আনিয়া বলেন, ‘আমি বিক্রয়ের জন্য নই। এখন কেউ আমাকে অর্থ দিয়ে কিনতে সক্ষম হবে না।’

Comments

Comments!

 পতিতাবৃত্তির পর নতুন জীবনে ফেরার গল্প আমেরিকান কিশোরীরAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

পতিতাবৃত্তির পর নতুন জীবনে ফেরার গল্প আমেরিকান কিশোরীর

Wednesday, October 26, 2016 12:30 pm
157683_1

 

 

নিউইয়র্ক: আনিয়া ১৩ বছর বয়সে প্রথম অর্থের বিনিময়ে তার দেহ বিক্রি করেছিল।

সেসময় তিনি তার আমেরিকার ব্রঙ্কসের বাড়ি থেকে পালিয়ে যান এবং তার বন্ধুদের মাধ্যমে যেসব মানুষের সঙ্গে তার পরিচয় হয়েছিল তাদের সঙ্গেই থাকেন। তার নিজেকে ভরনপোষনের জন্য তারা তাকে সাহায্য করতে পারবে-এমন আশ্বাস দিয়েছিল তারা।

তিনি জানান,  প্রথম দিকে তারা তাকে বন্দুক বিক্রি করতে রাস্তায় পাঠাত। তারপর তারা তার নগ্ন ছবি তুলে সেগুলো অনলাইনে পোস্ট করে এবং পরবর্তী ধাপে তাকে চাপ দেয়া হয় নিজেকে বিক্রি করার জন্য।

দেহ বিক্রি না করলে তাকে মেরে ফেলার হুমকিও দেয়া হতো বলে আনিয়া জানান। সেখানে প্রায় দুই মাস আনিয়া একজন পতিতা হিসেবে কাজ করেন।

২০১১ সালে এক রাতে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। একের পর এক আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে কিশোরী আটক কেন্দ্রে নেয়া হয়। তখন তার বয়স মাত্র ১৪।

বর্তমানে আনিয়া ১৮ বছরের যুবতী এবং ওয়েস্টচেস্টার কাউন্টির একটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বাস করছেন; যেখানে তিনি গত দুই বছরের অধিকাংশ সময় চিকিৎসার জন্য ব্যয় করছেন।

ক্রমাগত যৌন হয়রানির শিকার অসংখ্য মেয়েদের একজন আনিয়া এবং কিশোরী পতিতাবৃত্তি আইন পরিবর্তনের কারণে তাকে কারাগারে বন্দী রাখার পরিবর্তে পুনর্বাসন কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।

ওয়েস্টচেস্টার কাউন্টির পুনর্বাসন কেন্দ্র

 

দুই বছর আগে ব্রঙ্কসের হরাইজন জুভেনাইল কেন্দ্র থেকে মুক্তি লাভের পর আনিয়া একজন সমাজকর্মীর কাছে বলেন যে, তিনি উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করতে চান। একটি অলাভজনক সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের অধীনে তিনি ‘গেটওয়ে প্রোগ্রাম’ শেষ করেন।

আনিয়া তার পুরো নাম প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি চিকিৎসার জন্য ব্যক্তিগতভাবে ও গ্রুপে অংশগ্রহণ করেন। তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার অংশ হিসেবে তিনি একটি সুসজ্জিত রুমে ঘুমাতে দেয়া হয়।

গেটওয়ে প্রোগ্রামে ২০০৯ সাল থেকে এপর্যন্ত ১০০ জনেরও বেশি নারী ও তরুণী পরামর্শ নিয়েছেন। সেখানকার অধিবাসীরা সাধারণত ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সের মধ্যে। প্রোগ্রামের পরিচালক জেরেমি ব্রাউন জানান, তাদের মধ্যে একজনের বয়স ছিল মাত্র ১০ বছর।

আলাদা আলাদা ও দলগতভাবে অধিবাসীরা ৬ থেকে ১২ মাসের নিবিড় থেরাপি গ্রহণ করেন। পাশাপাশি অন্যান্য প্রোগ্রামেও অংশগ্রহণের জন্য তাদের উৎসাহিত করা হয়। এরমধ্যে রয়েছে অশ্বারোহণ এবং নাচ, গান ইত্যাদি। আনিয়া গান ও অভিনয়ের  ক্লাস করেন।

চিকিৎসার পর এ প্রোগ্রামের মাধ্যমে বাসিন্দাদের সমাজে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে কাজ করে।  ব্রাউন জানান, তাদের অধিকাংশই স্কুলে ফিরে যায়, কেউ চাকরি করছে কিংবা তাদের পরিবারের সঙ্গে বসবাস করছেন।

আনিয়া বলেন, ‘এখান থেকে বের হয়ে আমি নিজেকে একটু বেশি মর্যাদার সঙ্গে বাস করতে সক্ষম হব।’

দেশটির ‘সেফ হারবার অ্যাক্ট-২০০৮’ অনুযায়ী, ১৪ থেকে ১৫ বছর বয়সীদের বিচারের মুখোমুখি করার ক্ষেত্রে আইন-প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের আরো বিচক্ষণ হতে বলা হয়েছে এবং তাদেরকে অপরাধী হিসেবে বিচেনা না করে ভুক্তভোগী হিসেবে বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। তিন বছর আগে, আইনটি সংশোধন করে ১৬ ও ১৭ বছর বয়সীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

দু’মাস আগে আনিয়া তার হাই স্কুল ডিপ্লোমা অর্জন করেছেন এবং একজন স্বাস্থ্যকর্মী হওয়ার জন্য প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামে অংশ নিচ্ছেন। সে একজন নার্স হতে চায়।

গত মাসে আনিয়া তার ম্যানহাটানের নার্সিং ক্লাস শেষে ফিরতে দেরী হলে গেটওয়ে পরিচালক ব্রাউন উদ্বিগ্ন হয়ে পরেন।

ব্রাউনের উদ্বেগ দূর করতে আনিয়া বলেন, ‘আমি বিক্রয়ের জন্য নই। এখন কেউ আমাকে অর্থ দিয়ে কিনতে সক্ষম হবে না।’

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X