মঙ্গলবার, ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৮ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, বিকাল ৩:২২
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Tuesday, January 17, 2017 8:24 am
A- A A+ Print

পরিপাটি ও নির্বিকার ছিলেন আসামিরা

5

প্রত্যেকেই ছিলেন পরিপাটি। প্রিজন ভ্যান থেকে আদালতকক্ষে নেওয়ার সময় তাঁদের অনেকের মুখে ছিল হাসির অভিব্যক্তি। এজলাসে লোহার খাঁচায় রাখা ১৯ জন এবং খাঁচার বাইরে রাখা চারজন ছিলেন নির্বিকার। রায় ঘোষণার পর নূর হোসেনসহ ২১ জনই ছিলেন স্বাভাবিক। কেবল দুজন কেঁদে ফেলেন। নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলার রায় ঘোষণার আগে-পরে গতকাল সোমবার এমনই দেখা গেছে আসামিদের। আদালত ২৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও ৯ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম কারাদণ্ডাদেশের রায় ঘোষণার পরও অনেক আসামির স্বাভাবিক অঙ্গভঙ্গি ছিল উপস্থিতদের কাছে বিস্ময়। রাষ্ট্রপক্ষে এ মামলা পরিচালনাকারী সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) ওয়াজেদ আলী প্রথম আলোকে বলেন, রায় ঘোষণার পর অভিযুক্ত নূর হোসেন ও তারেক সাঈদের ভাবলেশহীন আচরণ প্রমাণ করে তাঁরাই খুনি। কেবল পেশাদার খুনিরাই এমন আচরণ করতে পারে। রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত এলাকায় খুব সকাল থেকেই ছিল কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা। আদালত প্রাঙ্গণসহ আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। আদালত প্রাঙ্গণে প্রস্তুত রাখা হয় জলকামান, পুলিশ ভ্যান ও প্রিজন ভ্যান। আদালত প্রাঙ্গণে প্রবেশের দুটি ফটকে বসানো হয় আর্চওয়ে। বিচারক, আইনজীবী, আদালতের কর্মী ও গণমাধ্যমকর্মী ছাড়া আর কাউকে ঢুকতে দেয়নি পুলিশ। সকাল ৮টা ৫৮ মিনিটে নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে একটি প্রিজন ভ্যানে করে ১৮ জন আসামিকে আদালতে আনা হয়। তাঁদের প্রত্যেকের পায়ে ছিল ডান্ডাবেড়ি। প্রতি দুজনের হাতে ছিল একটি করে হাতকড়া। তাঁদের নিয়ে রাখা হয় কাঠগড়ার স্থলে তৈরি করা লোহার খাঁচায়। সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে আরও তিনটি প্রিজন ভ্যান আসে। গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে আসা এই তিনটি ভ্যানের একটিতে ছিলেন আসামি নূর হোসেন ও ল্যান্স নায়েক বেলাল হোসেন। আরেকটিতে আনা হয় র্যা ব-১১-এর সাবেক অধিনায়ক তারেক মোহাম্মদ সাঈদকে। মেজর (চাকরিচ্যুত) আরিফ হোসেন ও লেফটেন্যান্ট কমান্ডার (চাকরিচ্যুত) এম এম রানাকে আনা হয় অন্য একটি প্রিজন ভ্যানে। তাঁদের আনার সময় ছিল পুলিশের বাড়তি নিরাপত্তা ও সতর্কতা। নূর হোসেনের মাথায় হেলমেট, পায়ে ডান্ডাবেড়ি ও হাতে হাতকড়া পরানো থাকলেও তারেক সাঈদ, আরিফ হোসেন ও এম এম রানার পায়ে ডান্ডাবেড়ি ছিল না। আরিফ ও রানার হাত ছিল একটি হাতকড়ায় বাঁধা। আরিফের চুল ছিল মেহেদি দিয়ে রাঙানো। নয়টা ৪৪ মিনিটে একে একে তারেক সাঈদ, বেলাল হোসেন, রানা, আরিফ ও নূর হোসেনকে আদালতকক্ষে নেওয়া হয়। নূর হোসেনকে ১৮ আসামির সঙ্গে খাঁচায় ঢোকানো হলেও তারেক সাঈদ, আরিফ, রানা ও বাশারকে খাঁচার পাশে এক কোনায় রাখা হয়। তাঁদের পাহারায় ছিলেন পুলিশের তিন সদস্য। এই চারজনকে লোহার খাঁচার বাইরে রাখার বিষয়ে পরে জানতে চাইলে পিপি ওয়াজেদ আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘তাদের কারণে অন্য আসামিরা অপরাধে জড়ায় এবং দোষী সাব্যস্ত হয়েছে। এসব নৃশংস মামলার ক্ষেত্রে দেখা যায়, অন্যান্য যারা দণ্ডপ্রাপ্ত হয়, তারা হিংস্র হয়ে কাউকে আক্রমণ করে, গলা টিপে ধরে। এসব বিষয় এড়ানোর জন্য চারজনকে হাতকড়া পরিয়ে বাইরে রাখা হয়েছিল। গোয়েন্দা প্রতিবেদন ছিল যে তারা যেকোনো মুহূর্তে এই তিন-চারজনকে আক্রমণ করবে।’ ৯টা ৩০ মিনিটে পিপি ওয়াজেদ আলী ও প্রসিকিউশন টিমের সদস্যরা এবং এম এম রানার শাশুড়ি সুলতানা রহমান ও তারেক সাঈদের বাবা মুজিবুর রহমান পৃথকভাবে তাঁদের আইনজীবীদের নিয়ে আদালতে যান। সুলতানা রহমানকে খাঁচায় থাকা আসামি পূর্ণেন্দু বালাসহ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। তিনি খুলনা আদালতের সরকারি কৌঁসুলি এবং খুলনার সরকারদলীয় সাংসদ মিজানুর রহমানের বোন। আদালতের ঘড়ির কাঁটায় যখন সকাল ১০টা, তখন জ্যেষ্ঠ জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেন এজলাসে এসে নিজ আসনে বসেন। এরপর সেরেস্তাদার মো. শাহাবুদ্দিন একে একে সব আসামির নাম ধরে ডাকেন। আসামিরা জবাবে ‘আছি’ বলেন। এ সময় বাদীপক্ষের আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ‘একটু পরীক্ষা করে দেখেন, আছে কি না।’ তখন পিপি বলেন, ‘আমি দেখছি।’ হাজিরা ডাকার পরপরই বিচারক সৈয়দ এনায়েত হোসেন সংক্ষিপ্ত রায় ঘোষণা করেন। এর পরপরই তিনি আদালতকক্ষ ছেড়ে যান। মোট ছয় মিনিট আদালতে অবস্থান করেন তিনি। রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত আইনজীবীরা একযোগে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলে ওঠেন। আসামিরা মনোযোগ দিয়ে রায় শোনেন। লোহার খাঁচার ভেতর থেকে নূর হোসেন বিচারকের দিকে উঁকি দিচ্ছিলেন বারবার। রায় ঘোষণার পর এম এম রানাকে কিছুক্ষণের জন্য হতবিহ্বল দেখা যায়। বাকিটা সময় তিনি, তারেক ও আরিফ ছিলেন নির্বিকার। তবে খাঁচার ভেতরে থাকা একজন আসামি খাঁচা ধরে কাঁদছিলেন, আরেকজন কাঁদছিলেন নূর হোসেনের দেহরক্ষী মর্তূজা জামান চার্চিলকে জড়িয়ে ধরে। চুল ব্যাকব্রাশ করা দীর্ঘদেহি চার্চিল ওই আসামির মাথায় হাত বুলিয়ে সান্ত্বনা দেন। খাঁচায় থাকা আসামিদের সান্ত্বনা দিতে দেখা যায় নূর হোসেনকেও। তাঁর আচরণ ছিল স্বাভাবিক। একপর্যায়ে ১০টা ১০ মিনিটের দিকে খাঁচার বাইরে থাকা তারেক সাঈদের সঙ্গে নূর হোসেনকে স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে দেখা যায়। সকাল সোয়া ১০টায় সাংবাদিকসহ আদালতে উপস্থিত সবাইকে আদালতকক্ষ থেকে বের করে দেয় পুলিশ। এরপর আসামিদের বের করে নিয়ে যায়। তখন দোতলার সিঁড়ির কাছে ছবি তোলার সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামি মিজানুর রহমান দীপু (নূর হোসেনের সাবেক গাড়িচালক) বলেন, ‘তোদের জন্য আজ আমাদের এ অবস্থা।’ তিনি এ সময় জুতা ছুড়ে মারার চেষ্টা করেন, তবে পুলিশ ধরে ফেলে।

Comments

Comments!

 পরিপাটি ও নির্বিকার ছিলেন আসামিরাAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

পরিপাটি ও নির্বিকার ছিলেন আসামিরা

Tuesday, January 17, 2017 8:24 am
5

প্রত্যেকেই ছিলেন পরিপাটি। প্রিজন ভ্যান থেকে আদালতকক্ষে নেওয়ার সময় তাঁদের অনেকের মুখে ছিল হাসির অভিব্যক্তি। এজলাসে লোহার খাঁচায় রাখা ১৯ জন এবং খাঁচার বাইরে রাখা চারজন ছিলেন নির্বিকার। রায় ঘোষণার পর নূর হোসেনসহ ২১ জনই ছিলেন স্বাভাবিক। কেবল দুজন কেঁদে ফেলেন।
নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলার রায় ঘোষণার আগে-পরে গতকাল সোমবার এমনই দেখা গেছে আসামিদের। আদালত ২৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও ৯ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম কারাদণ্ডাদেশের রায় ঘোষণার পরও অনেক আসামির স্বাভাবিক অঙ্গভঙ্গি ছিল উপস্থিতদের কাছে বিস্ময়। রাষ্ট্রপক্ষে এ মামলা পরিচালনাকারী সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) ওয়াজেদ আলী প্রথম আলোকে বলেন, রায় ঘোষণার পর অভিযুক্ত নূর হোসেন ও তারেক সাঈদের ভাবলেশহীন আচরণ প্রমাণ করে তাঁরাই খুনি। কেবল পেশাদার খুনিরাই এমন আচরণ করতে পারে।
রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত এলাকায় খুব সকাল থেকেই ছিল কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা। আদালত প্রাঙ্গণসহ আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। আদালত প্রাঙ্গণে প্রস্তুত রাখা হয় জলকামান, পুলিশ ভ্যান ও প্রিজন ভ্যান। আদালত প্রাঙ্গণে প্রবেশের দুটি ফটকে বসানো হয় আর্চওয়ে। বিচারক, আইনজীবী, আদালতের কর্মী ও গণমাধ্যমকর্মী ছাড়া আর কাউকে ঢুকতে দেয়নি পুলিশ।
সকাল ৮টা ৫৮ মিনিটে নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে একটি প্রিজন ভ্যানে করে ১৮ জন আসামিকে আদালতে আনা হয়। তাঁদের প্রত্যেকের পায়ে ছিল ডান্ডাবেড়ি। প্রতি দুজনের হাতে ছিল একটি করে হাতকড়া। তাঁদের নিয়ে রাখা হয় কাঠগড়ার স্থলে তৈরি করা লোহার খাঁচায়।
সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে আরও তিনটি প্রিজন ভ্যান আসে। গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে আসা এই তিনটি ভ্যানের একটিতে ছিলেন আসামি নূর হোসেন ও ল্যান্স নায়েক বেলাল হোসেন। আরেকটিতে আনা হয় র্যা ব-১১-এর সাবেক অধিনায়ক তারেক মোহাম্মদ সাঈদকে। মেজর (চাকরিচ্যুত) আরিফ হোসেন ও লেফটেন্যান্ট কমান্ডার (চাকরিচ্যুত) এম এম রানাকে আনা হয় অন্য একটি প্রিজন ভ্যানে। তাঁদের আনার সময় ছিল পুলিশের বাড়তি নিরাপত্তা ও সতর্কতা।
নূর হোসেনের মাথায় হেলমেট, পায়ে ডান্ডাবেড়ি ও হাতে হাতকড়া পরানো থাকলেও তারেক সাঈদ, আরিফ হোসেন ও এম এম রানার পায়ে ডান্ডাবেড়ি ছিল না। আরিফ ও রানার হাত ছিল একটি হাতকড়ায় বাঁধা। আরিফের চুল ছিল মেহেদি দিয়ে রাঙানো। নয়টা ৪৪ মিনিটে একে একে তারেক সাঈদ, বেলাল হোসেন, রানা, আরিফ ও নূর হোসেনকে আদালতকক্ষে নেওয়া হয়।
নূর হোসেনকে ১৮ আসামির সঙ্গে খাঁচায় ঢোকানো হলেও তারেক সাঈদ, আরিফ, রানা ও বাশারকে খাঁচার পাশে এক কোনায় রাখা হয়। তাঁদের পাহারায় ছিলেন পুলিশের তিন সদস্য।
এই চারজনকে লোহার খাঁচার বাইরে রাখার বিষয়ে পরে জানতে চাইলে পিপি ওয়াজেদ আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘তাদের কারণে অন্য আসামিরা অপরাধে জড়ায় এবং দোষী সাব্যস্ত হয়েছে। এসব নৃশংস মামলার ক্ষেত্রে দেখা যায়, অন্যান্য যারা দণ্ডপ্রাপ্ত হয়, তারা হিংস্র হয়ে কাউকে আক্রমণ করে, গলা টিপে ধরে। এসব বিষয় এড়ানোর জন্য চারজনকে হাতকড়া পরিয়ে বাইরে রাখা হয়েছিল। গোয়েন্দা প্রতিবেদন ছিল যে তারা যেকোনো মুহূর্তে এই তিন-চারজনকে আক্রমণ করবে।’
৯টা ৩০ মিনিটে পিপি ওয়াজেদ আলী ও প্রসিকিউশন টিমের সদস্যরা এবং এম এম রানার শাশুড়ি সুলতানা রহমান ও তারেক সাঈদের বাবা মুজিবুর রহমান পৃথকভাবে তাঁদের আইনজীবীদের নিয়ে আদালতে যান। সুলতানা রহমানকে খাঁচায় থাকা আসামি পূর্ণেন্দু বালাসহ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। তিনি খুলনা আদালতের সরকারি কৌঁসুলি এবং খুলনার সরকারদলীয় সাংসদ মিজানুর রহমানের বোন।
আদালতের ঘড়ির কাঁটায় যখন সকাল ১০টা, তখন জ্যেষ্ঠ জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেন এজলাসে এসে নিজ আসনে বসেন।
এরপর সেরেস্তাদার মো. শাহাবুদ্দিন একে একে সব আসামির নাম ধরে ডাকেন। আসামিরা জবাবে ‘আছি’ বলেন। এ সময় বাদীপক্ষের আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ‘একটু পরীক্ষা করে দেখেন, আছে কি না।’ তখন পিপি বলেন, ‘আমি দেখছি।’
হাজিরা ডাকার পরপরই বিচারক সৈয়দ এনায়েত হোসেন সংক্ষিপ্ত রায় ঘোষণা করেন। এর পরপরই তিনি আদালতকক্ষ ছেড়ে যান। মোট ছয় মিনিট আদালতে অবস্থান করেন তিনি।
রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত আইনজীবীরা একযোগে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলে ওঠেন।
আসামিরা মনোযোগ দিয়ে রায় শোনেন। লোহার খাঁচার ভেতর থেকে নূর হোসেন বিচারকের দিকে উঁকি দিচ্ছিলেন বারবার। রায় ঘোষণার পর এম এম রানাকে কিছুক্ষণের জন্য হতবিহ্বল দেখা যায়। বাকিটা সময় তিনি, তারেক ও আরিফ ছিলেন নির্বিকার।
তবে খাঁচার ভেতরে থাকা একজন আসামি খাঁচা ধরে কাঁদছিলেন, আরেকজন কাঁদছিলেন নূর হোসেনের দেহরক্ষী মর্তূজা জামান চার্চিলকে জড়িয়ে ধরে। চুল ব্যাকব্রাশ করা দীর্ঘদেহি চার্চিল ওই আসামির মাথায় হাত বুলিয়ে সান্ত্বনা দেন। খাঁচায় থাকা আসামিদের সান্ত্বনা দিতে দেখা যায় নূর হোসেনকেও। তাঁর আচরণ ছিল স্বাভাবিক। একপর্যায়ে ১০টা ১০ মিনিটের দিকে খাঁচার বাইরে থাকা তারেক সাঈদের সঙ্গে নূর হোসেনকে স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে দেখা যায়।
সকাল সোয়া ১০টায় সাংবাদিকসহ আদালতে উপস্থিত সবাইকে আদালতকক্ষ থেকে বের করে দেয় পুলিশ। এরপর আসামিদের বের করে নিয়ে যায়। তখন দোতলার সিঁড়ির কাছে ছবি তোলার সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামি মিজানুর রহমান দীপু (নূর হোসেনের সাবেক গাড়িচালক) বলেন, ‘তোদের জন্য আজ আমাদের এ অবস্থা।’ তিনি এ সময় জুতা ছুড়ে মারার চেষ্টা করেন, তবে পুলিশ ধরে ফেলে।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X