শনিবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সকাল ৮:১৯
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Saturday, July 1, 2017 9:06 am
A- A A+ Print

পাঁচ জঙ্গি এখনো বাইরে

2

গুলশানে হোলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার মূল পরিকল্পনাকারীসহ বিভিন্ন পর্যায়ে নব্য জেএমবির ২১ জন জড়িত থাকার তথ্য-উপাত্ত পেয়েছেন তদন্তকারীরা। তাদের মধ্যে ১৩ জন গত এক বছরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন অভিযানে নিহত হয়। তিনজন কারাগারে। বাকি পাঁচজনকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় করা মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে। হোলি আর্টিজানে হামলার ঘটনায় কার কী ভূমিকা ছিল, তা উদ্ঘাটন এবং তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। যে পাঁচজন পলাতক তাঁরা হলো সোহেল মাহফুজ ওরফে হাতকাটা মাহফুজ ওরফে নসরুল্লাহ, হাদিসুর রহমান ওরফে সাগর, বাশারুজ্জামান ওরফে চকলেট, মিজানুর রহমান ওরফে ছোট মিজান ও রাশেদ ওরফে র্যাশ। তারা সবাই নব্য জেএমবির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। সিটিটিসির প্রধান মো. মনিরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, পালাতক পাঁচ জঙ্গির মধ্যে দু-একজনকে গ্রেপ্তার করা গেলে তদন্তের খুঁটিনাটি ঘাটতি পূরণ হয়ে যাবে। চলতি বছরই আলোচিত এই মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া যাবে বলে তিনি আশাবাদী। মনিরুল বলেন, ‘পলাতক আসামিদের মধ্যে আমরা অন্তত তিনজনকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছি। এদের একজন সোহেল মাহফুজ। আরও দুজনের কথা বিভিন্ন জবানবন্দিতে এসেছে। তারা হলেন রাশেদ ওরফে র্যাশ ও বাশারুজ্জামান ওরফে চকলেট। এদের পেলে মামলার তদন্তকাজ শেষ করা যাবে। এদের খুব বড় ধরনের ভূমিকা ছিল এ হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে।’ এই মামলায় গ্রেপ্তার থাকা তিন জঙ্গি জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী, রাকিবুল হাসান ওরফে রিগ্যান ও মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান ইতিমধ্যে দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার সাক্ষী হিসেবে ১২ জন আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। যারা ওই হামলার ঘটনায় জঙ্গিদের হাতে জিম্মি ছিলেন, পরে সেনা অভিযানে মুক্ত হন। এ ছাড়া প্রকৌশলী হাসনাত রেজা করিমও এই মামলায় গ্রেপ্তার আছেন। জঙ্গি হামলার সময় হাসনাত করিম সপরিবার হোলি আর্টিজানে জিম্মি হয়েছিলেন। পরে মুক্তি পান। হাসনাত করিমের সঙ্গে উদ্ধার হওয়া কানাডার টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তাহমিদ হাসিব খানকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। পরে তাঁকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়ে পুলিশ প্রতিবেদন দেয়। এরপর আদালত গত বছরের ৫ অক্টোবর তাঁকে অব্যাহতি দেন। হাসনাত করিম সম্পর্কে সিটিটিসির প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, হাসনাত করিম এখনো এ মামলার সন্দেহভাজন আসামি। সে কারণে তিনি জেলে আছেন। তদন্ত শেষে জানা যাবে তাঁর কী হবে। গত বছরের ১ জুলাই রাতে গুলশান-২-এর ৭৯ নম্বর সড়কের পাশে অবস্থিত হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গিরা হামলা চালায়। তারা অস্ত্রের মুখে দেশি-বিদেশি অতিথিদের জিম্মি করে। ওই রাতে অভিযান চালাতে গিয়ে নিহত হন গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার রবিউল করিম ও বনানী থানার ওসি সালাউদ্দিন খান। এ ছাড়া র্যাব-১-এর তৎকালীন পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তুহিন মোহাম্মদ মাসুদসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৩২ সদস্য ও ৯ জন পথচারী আহত হন। পরদিন সকালে সেনা কমান্ডোদের অভিযানে পাঁচ জঙ্গির সঙ্গে ওই রেস্তোরাঁর পাচক সাইফুল ইসলাম চৌকিদার নিহত হন। পরে পুলিশ ১৭ বিদেশিসহ ২০ জনের লাশ উদ্ধার করে। এ ছাড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রেস্তোরাঁকর্মী জাকির হোসেন। অভিযানের আগে ও পরে ৩২ জনকে উদ্ধার করা হয়। জড়িতদের ১৩ জন নিহত গুলশান হামলায় সরাসরি অংশ নেওয়া পাঁচ জঙ্গি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, স্কলাস্টিকার ছাত্র মীর সামেহ মোবাশ্বের, মোনাশ ইউনিভার্সিটির মালয়েশিয়া ক্যাম্পাসের ছাত্র নিবরাস ইসলাম এবং বগুড়ার শফিকুল ইসলাম ওরফে উজ্জ্বল ও খায়রুল ইসলাম ওরফে পায়েল ২ জুলাই সকালে সেনা কমান্ডোদের অভিযানে নিহত হন। এরপর গত বছরের ২৭ আগস্ট থেকে চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত রাজধানী, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও সাভারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন অভিযানে মূল সমন্বয়ক ও পরিকল্পনাকারী তামিম আহমেদ চৌধুরীসহ পরিকল্পনা থেকে প্রস্তুতিসহ বিভিন্ন পর্যায়ে জড়িত নুরুল ইসলাম ওরফে মারজান, মেজর (অব.) জাহিদুল ইসলাম, তানভীর কাদেরী, সারোয়ার জাহান, আবু রায়হান তারেক, আবদুল্লাহ ওরফে রনি ও ফরিদুল ইসলাম ওরফে আকাশ নিহত হন। এ ছাড়া গুলশান হামলা পরিকল্পনায় ও প্রস্তুতির শুরুতে নব্য জেএমবির নেতা শরিফুল ইসলাম খালেদ ও মামুনুর রশীদ ওরফে রিপন জড়িত থাকলেও তাঁরা হামলার আগে দেশ ছাড়েন বলে তদন্ত-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়। জঙ্গিরা হত্যাযজ্ঞ চালায় ঠান্ডা মাথায় সেই রাতে বীভৎসতার মাত্রা দেখে অনেকের সন্দেহ হয়েছিল হামলাকারী জঙ্গিরা ক্যাপটাগনের মতো কোনো উত্তেজক মাদক সেবন করেছিল কি না। এরপর নিহত জঙ্গিদের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। সিটিটিসির মনিরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, এফবিআইয়ের পরীক্ষাগার থেকে রাসায়নিক পরীক্ষার ফলাফল ঢাকায় সিটিটিসিকে জানানো হয়েছে। হামলায় জড়িত জঙ্গিরা ক্যাপটাগন বা এ-জাতীয় অন্য কোনো উত্তেজক মাদক সেবন করেনি। তারা ঠান্ডা মাথায় হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল। মুঠোফোনের পরীক্ষায় জঙ্গি হামলার ছবি হামলায় অংশ নেওয়া জঙ্গিরা কোনো মুঠোফোন নিয়ে যায়নি। তারা গুলশানে হোলি আর্টিজান বেকারিতে জিম্মি করা লোকজনের মুঠোফোন নিয়ে হত্যাযজ্ঞের ছবি তোলে এবং অ্যাপসে ছবি ও হত্যার তথ্য বাইরের জঙ্গিদের কাছে পাঠায়। সিআইডির ফরেনসিক পরীক্ষায় ওই সব মুঠোফোন থেকে ছবি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে জানান সিটিটিসির প্রধান মনিরুল ইসলাম। বিদেশি যোগাযোগ আছে কি না হোলি আর্টিজানে হামলাকারীদের সঙ্গে বিদেশি কোনো জঙ্গিগোষ্ঠীর যোগাযোগ আছে কি না, এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মামলা তত্ত্বাবধানকারী সিটিটিসির প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, এই মামলার যারা মূল আসামি যেমন তামিম চৌধুরী, প্রশিক্ষক জাহিদ, তানভীর কাদরী, নুরুল ইসলাম ওরফে মারজান এদের জীবিত ধরা যায়নি। ধরা গেলে জানা যেত জাতীয় বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের বাইরে বা ভেতরে বা অন্য কারও সঙ্গে তাদের যোগাযোগ ছিল কি না। তাই সেই লিঙ্কটা সুনির্দিষ্টভাবে বলা যাবে না। পলাতক বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পারলে হয়তো আরও কিছু জানা যেত।

Comments

Comments!

 পাঁচ জঙ্গি এখনো বাইরেAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

পাঁচ জঙ্গি এখনো বাইরে

Saturday, July 1, 2017 9:06 am
2

গুলশানে হোলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার মূল পরিকল্পনাকারীসহ বিভিন্ন পর্যায়ে নব্য জেএমবির ২১ জন জড়িত থাকার তথ্য-উপাত্ত পেয়েছেন তদন্তকারীরা। তাদের মধ্যে ১৩ জন গত এক বছরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন অভিযানে নিহত হয়। তিনজন কারাগারে। বাকি পাঁচজনকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
এ ঘটনায় করা মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে। হোলি আর্টিজানে হামলার ঘটনায় কার কী ভূমিকা ছিল, তা উদ্ঘাটন এবং তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। যে পাঁচজন পলাতক তাঁরা হলো সোহেল মাহফুজ ওরফে হাতকাটা মাহফুজ ওরফে নসরুল্লাহ, হাদিসুর রহমান ওরফে সাগর, বাশারুজ্জামান ওরফে চকলেট, মিজানুর রহমান ওরফে ছোট মিজান ও রাশেদ ওরফে র্যাশ। তারা সবাই নব্য জেএমবির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।
সিটিটিসির প্রধান মো. মনিরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, পালাতক পাঁচ জঙ্গির মধ্যে দু-একজনকে গ্রেপ্তার করা গেলে তদন্তের খুঁটিনাটি ঘাটতি পূরণ হয়ে যাবে। চলতি বছরই আলোচিত এই মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া যাবে বলে তিনি আশাবাদী।
মনিরুল বলেন, ‘পলাতক আসামিদের মধ্যে আমরা অন্তত তিনজনকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছি। এদের একজন সোহেল মাহফুজ। আরও দুজনের কথা বিভিন্ন জবানবন্দিতে এসেছে। তারা হলেন রাশেদ ওরফে র্যাশ ও বাশারুজ্জামান ওরফে চকলেট। এদের পেলে মামলার তদন্তকাজ শেষ করা যাবে। এদের খুব বড় ধরনের ভূমিকা ছিল এ হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে।’
এই মামলায় গ্রেপ্তার থাকা তিন জঙ্গি জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী, রাকিবুল হাসান ওরফে রিগ্যান ও মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান ইতিমধ্যে দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার সাক্ষী হিসেবে ১২ জন আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। যারা ওই হামলার ঘটনায় জঙ্গিদের হাতে জিম্মি ছিলেন, পরে সেনা অভিযানে মুক্ত হন।
এ ছাড়া প্রকৌশলী হাসনাত রেজা করিমও এই মামলায় গ্রেপ্তার আছেন। জঙ্গি হামলার সময় হাসনাত করিম সপরিবার হোলি আর্টিজানে জিম্মি হয়েছিলেন। পরে মুক্তি পান। হাসনাত করিমের সঙ্গে উদ্ধার হওয়া কানাডার টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তাহমিদ হাসিব খানকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। পরে তাঁকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়ে পুলিশ প্রতিবেদন দেয়। এরপর আদালত গত বছরের ৫ অক্টোবর তাঁকে অব্যাহতি দেন।
হাসনাত করিম সম্পর্কে সিটিটিসির প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, হাসনাত করিম এখনো এ মামলার সন্দেহভাজন আসামি। সে কারণে তিনি জেলে আছেন। তদন্ত শেষে জানা যাবে তাঁর কী হবে।
গত বছরের ১ জুলাই রাতে গুলশান-২-এর ৭৯ নম্বর সড়কের পাশে অবস্থিত হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গিরা হামলা চালায়। তারা অস্ত্রের মুখে দেশি-বিদেশি অতিথিদের জিম্মি করে। ওই রাতে অভিযান চালাতে গিয়ে নিহত হন গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার রবিউল করিম ও বনানী থানার ওসি সালাউদ্দিন খান। এ ছাড়া র্যাব-১-এর তৎকালীন পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তুহিন মোহাম্মদ মাসুদসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৩২ সদস্য ও ৯ জন পথচারী আহত হন।
পরদিন সকালে সেনা কমান্ডোদের অভিযানে পাঁচ জঙ্গির সঙ্গে ওই রেস্তোরাঁর পাচক সাইফুল ইসলাম চৌকিদার নিহত হন। পরে পুলিশ ১৭ বিদেশিসহ ২০ জনের লাশ উদ্ধার করে। এ ছাড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রেস্তোরাঁকর্মী জাকির হোসেন। অভিযানের আগে ও পরে ৩২ জনকে উদ্ধার করা হয়।
জড়িতদের ১৩ জন নিহত
গুলশান হামলায় সরাসরি অংশ নেওয়া পাঁচ জঙ্গি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, স্কলাস্টিকার ছাত্র মীর সামেহ মোবাশ্বের, মোনাশ ইউনিভার্সিটির মালয়েশিয়া ক্যাম্পাসের ছাত্র নিবরাস ইসলাম এবং বগুড়ার শফিকুল ইসলাম ওরফে উজ্জ্বল ও খায়রুল ইসলাম ওরফে পায়েল ২ জুলাই সকালে সেনা কমান্ডোদের অভিযানে নিহত হন।
এরপর গত বছরের ২৭ আগস্ট থেকে চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত রাজধানী, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও সাভারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন অভিযানে মূল সমন্বয়ক ও পরিকল্পনাকারী তামিম আহমেদ চৌধুরীসহ পরিকল্পনা থেকে প্রস্তুতিসহ বিভিন্ন পর্যায়ে জড়িত নুরুল ইসলাম ওরফে মারজান, মেজর (অব.) জাহিদুল ইসলাম, তানভীর কাদেরী, সারোয়ার জাহান, আবু রায়হান তারেক, আবদুল্লাহ ওরফে রনি ও ফরিদুল ইসলাম ওরফে আকাশ নিহত হন।
এ ছাড়া গুলশান হামলা পরিকল্পনায় ও প্রস্তুতির শুরুতে নব্য জেএমবির নেতা শরিফুল ইসলাম খালেদ ও মামুনুর রশীদ ওরফে রিপন জড়িত থাকলেও তাঁরা হামলার আগে দেশ ছাড়েন বলে তদন্ত-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়।
জঙ্গিরা হত্যাযজ্ঞ চালায় ঠান্ডা মাথায়
সেই রাতে বীভৎসতার মাত্রা দেখে অনেকের সন্দেহ হয়েছিল হামলাকারী জঙ্গিরা ক্যাপটাগনের মতো কোনো উত্তেজক মাদক সেবন করেছিল কি না। এরপর নিহত জঙ্গিদের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। সিটিটিসির মনিরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, এফবিআইয়ের পরীক্ষাগার থেকে রাসায়নিক পরীক্ষার ফলাফল ঢাকায় সিটিটিসিকে জানানো হয়েছে। হামলায় জড়িত জঙ্গিরা ক্যাপটাগন বা এ-জাতীয় অন্য কোনো উত্তেজক মাদক সেবন করেনি। তারা ঠান্ডা মাথায় হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল।
মুঠোফোনের পরীক্ষায় জঙ্গি হামলার ছবি
হামলায় অংশ নেওয়া জঙ্গিরা কোনো মুঠোফোন নিয়ে যায়নি। তারা গুলশানে হোলি আর্টিজান বেকারিতে জিম্মি করা লোকজনের মুঠোফোন নিয়ে হত্যাযজ্ঞের ছবি তোলে এবং অ্যাপসে ছবি ও হত্যার তথ্য বাইরের জঙ্গিদের কাছে পাঠায়। সিআইডির ফরেনসিক পরীক্ষায় ওই সব মুঠোফোন থেকে ছবি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে জানান সিটিটিসির প্রধান মনিরুল ইসলাম।
বিদেশি যোগাযোগ আছে কি না
হোলি আর্টিজানে হামলাকারীদের সঙ্গে বিদেশি কোনো জঙ্গিগোষ্ঠীর যোগাযোগ আছে কি না, এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মামলা তত্ত্বাবধানকারী সিটিটিসির প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, এই মামলার যারা মূল আসামি যেমন তামিম চৌধুরী, প্রশিক্ষক জাহিদ, তানভীর কাদরী, নুরুল ইসলাম ওরফে মারজান এদের জীবিত ধরা যায়নি। ধরা গেলে জানা যেত জাতীয় বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের বাইরে বা ভেতরে বা অন্য কারও সঙ্গে তাদের যোগাযোগ ছিল কি না। তাই সেই লিঙ্কটা সুনির্দিষ্টভাবে বলা যাবে না। পলাতক বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পারলে হয়তো আরও কিছু জানা যেত।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X