মঙ্গলবার, ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৮ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ৯:৫৩
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Monday, January 30, 2017 6:56 pm
A- A A+ Print

পাওয়া গেছে নির্বাচন কমিশন!

20

আসিফ নজরুল: নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করার কথা সার্চ কমিটির। সার্চ কমিটি নাম দেবে, সেখান থেকে কমিশন গঠন করা হবে, এটাই ঠিক ছিল। কিন্তু সার্চ কমিটি নাম না দিয়ে পরামর্শ করার জন্য ডেকেছে সমাজের ১২ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে। এই ১২ জনের মধ্যে কেউই সমাজে বিতর্কিত মানুষ নন। অনেকে আবার খুবই গ্রহণযোগ্য। এটিই সার্চ কমিটি সম্পর্কে মানুষকে আশাবাদী করে তুলতে পারে। সার্চ কমিটিকে ধন্যবাদ জানাই এই ১২ জনকে বাছাই করার জন্য। এর মধ্যে আছেন হাইকোর্টের সাবেক বিচারক বিচারপতি আবদুর রশিদ। তিনি অত্যন্ত উঁচু মানের বিচারক ছিলেন, বিচারকের চেয়ারের সম্মান রেখেই তিনি কাজ করেছেন। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা সাধারণত দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ পেয়ে থাকেন। সার্চ কমিটি তারপরও এমন দুজন উপাচার্যকে পরামর্শের জন্য ডেকেছেন, যাঁরা তুলনামূলকভাবে অন্য বহু উপাচার্যের চেয়ে যোগ্য, প্রাজ্ঞ ও গ্রহণযোগ্য। সার্চ কমিটি ২০০৮ সালের নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনকারী তিনজন নির্বাচন কমিশনারকে ডেকেছেন পরামর্শের জন্য, এটিও একটি ভালো উদ্যোগ। আমার আরও ভালো লেগেছে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, আবুল কাশেম ফজলুল হক, তোফায়েল আহমেদ ও বদিউল আলম মজুমদারের মতো নিরপেক্ষ ইমেজের মানুষকেও পরামর্শের জন্য ডাকার কারণে। সার্চ কমিটির আন্তরিকতা তাই প্রশংসনীয়। আন্তরিকতা আছে বলেই তারা এমন ১২ জনকে বাছাই করতে পেরেছে, যাঁদের প্রত্যেকেই অত্যন্ত যোগ্য। তাঁদের কারও কারও আওয়ামী লীগ বা বিএনপির প্রতি কিছুটা দুর্বলতা থাকতে পারে। তবে তাঁদের দায়িত্ববোধ এই দুর্বলতাকে ছাপিয়ে যাওয়ার মতো। আমি মনে করি, পরামর্শের জন্য ডাকা এই ১২ জনের মধ্য থেকেই নির্বাচন কমিশন গঠন করা যেতে পারে। তাঁদের মধ্যে ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত হোসেনের মতো একজন সাবেক নির্বাচন কমিশনার রয়েছেন, যিনি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তাঁর দায়িত্ব আগে পালন করেছেন, এই বয়েসেও তিনি সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে তাঁর পিএইচডি গবেষণার কাজ করে চলেছেন। রয়েছেন বিচারপতি আবদুর রশিদ ও পুলিশের সাবেক আইজি নুরুল হুদা, যাঁদের পেশাগত সুনামের পাশাপাশি রয়েছে প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা। এ ছাড়া নির্বাচন কমিশনে সদস্য হিসেবে নাগরিক সমাজের একজন হিসেবে নির্বাচনী পর্যবেক্ষণে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার অধিকারী বদিউল আলম মজুমদার অথবা স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদও থাকতে পারেন। আমার কথা হচ্ছে, যাঁদের পরামর্শ গ্রহণযোগ্য বলে সার্চ কমিটি মনে করছে, তাঁরা নিজেরাই নিশ্চয়ই গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি। তাঁদের মধ্যে তরুণতর অথচ অভিজ্ঞদের নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হলে তা যৌক্তিক হবে বলে আমার বিশ্বাস। সার্চ কমিটির উচিত হবে নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য পাঁচ-ছয়টির বেশি নাম না পাঠানো। কারণ, বেশি নাম পাঠালে সরকারের পক্ষে তার নিজস্ব পছন্দ বাস্তবায়নের সুযোগ বেশি থাকে। বেশি নাম পাঠালে অহেতুকভাবে বেশি সদস্যের একটি কমিশন গঠন করার অবকাশও থাকে। এ দুটোর কোনটিই কাম্য নয়। সার্চ কমিটি গ্রহণযোগ্য কিছু ব্যক্তির নাম পাঠালে এবং সরকার সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিলেই কি সুষ্ঠু নির্বাচন হয়ে যাবে? না, হবে না। কারণ, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন ও কার্যকরভাবে কাজ করতে দেওয়া। নির্বাচনের সময় যদি সরকারপ্রধানের অফিস নির্বাচন কমিশনের অফিস হয়ে যায়, তাহলে কমিশনের আসলে বেশি কিছু করার থাকে না। আমরা অতীতে তা দেখেছি। আমি তবু মনে করি, নির্বাচন কমিশনে যোগ্য, ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ও দায়িত্বশীল ব্যক্তি থাকা ভালো। এমন ব্যক্তিরা কমিশনে থাকলে যা ইচ্ছে তা চাপিয়ে দেওয়া সহজ হয় না। চাপিয়ে দিলেও তাঁরা প্রতিবাদ করেন। মানুষ তখন অন্তত বুঝতে পারে কোন কাজটা কমিশনের ইচ্ছেয়, কোনটা সরকারের ইচ্ছেয় হচ্ছে। সার্চ কমিটি পরামর্শের জন্য যে ১২ জনকে বেছে নিয়েছে, তাঁদের মধ্যে যোগ্য, ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা রয়েছেন। রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে নাম চেয়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি না করে এই ১২ জনের মধ্য থেকেই নির্বাচন কমিশন গঠনের উদ্যোগটি শুরু করতে পারে সার্চ কমিটি। এই উদ্যোগ অধিকাংশ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে বলে আমার বিশ্বাস। আসিফ নজরুল: অধ্যাপক, আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

Comments

Comments!

 পাওয়া গেছে নির্বাচন কমিশন!AmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

পাওয়া গেছে নির্বাচন কমিশন!

Monday, January 30, 2017 6:56 pm
20

আসিফ নজরুল: নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করার কথা সার্চ কমিটির। সার্চ কমিটি নাম দেবে, সেখান থেকে কমিশন গঠন করা হবে, এটাই ঠিক ছিল। কিন্তু সার্চ কমিটি নাম না দিয়ে পরামর্শ করার জন্য ডেকেছে সমাজের ১২ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে। এই ১২ জনের মধ্যে কেউই সমাজে বিতর্কিত মানুষ নন। অনেকে আবার খুবই গ্রহণযোগ্য। এটিই সার্চ কমিটি সম্পর্কে মানুষকে আশাবাদী করে তুলতে পারে।

সার্চ কমিটিকে ধন্যবাদ জানাই এই ১২ জনকে বাছাই করার জন্য। এর মধ্যে আছেন হাইকোর্টের সাবেক বিচারক বিচারপতি আবদুর রশিদ। তিনি অত্যন্ত উঁচু মানের বিচারক ছিলেন, বিচারকের চেয়ারের সম্মান রেখেই তিনি কাজ করেছেন। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা সাধারণত দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ পেয়ে থাকেন। সার্চ কমিটি তারপরও এমন দুজন উপাচার্যকে পরামর্শের জন্য ডেকেছেন, যাঁরা তুলনামূলকভাবে অন্য বহু উপাচার্যের চেয়ে যোগ্য, প্রাজ্ঞ ও গ্রহণযোগ্য।

সার্চ কমিটি ২০০৮ সালের নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনকারী তিনজন নির্বাচন কমিশনারকে ডেকেছেন পরামর্শের জন্য, এটিও একটি ভালো উদ্যোগ। আমার আরও ভালো লেগেছে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, আবুল কাশেম ফজলুল হক, তোফায়েল আহমেদ ও বদিউল আলম মজুমদারের মতো নিরপেক্ষ ইমেজের মানুষকেও পরামর্শের জন্য ডাকার কারণে।

সার্চ কমিটির আন্তরিকতা তাই প্রশংসনীয়। আন্তরিকতা আছে বলেই তারা এমন ১২ জনকে বাছাই করতে পেরেছে, যাঁদের প্রত্যেকেই অত্যন্ত যোগ্য। তাঁদের কারও কারও আওয়ামী লীগ বা বিএনপির প্রতি কিছুটা দুর্বলতা থাকতে পারে। তবে তাঁদের দায়িত্ববোধ এই দুর্বলতাকে ছাপিয়ে যাওয়ার মতো।

আমি মনে করি, পরামর্শের জন্য ডাকা এই ১২ জনের মধ্য থেকেই নির্বাচন কমিশন গঠন করা যেতে পারে। তাঁদের মধ্যে ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত হোসেনের মতো একজন সাবেক নির্বাচন কমিশনার রয়েছেন, যিনি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তাঁর দায়িত্ব আগে পালন করেছেন, এই বয়েসেও তিনি সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে তাঁর পিএইচডি গবেষণার কাজ করে চলেছেন। রয়েছেন বিচারপতি আবদুর রশিদ ও পুলিশের সাবেক আইজি নুরুল হুদা, যাঁদের পেশাগত সুনামের পাশাপাশি রয়েছে প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা। এ ছাড়া নির্বাচন কমিশনে সদস্য হিসেবে নাগরিক সমাজের একজন হিসেবে নির্বাচনী পর্যবেক্ষণে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার অধিকারী বদিউল আলম মজুমদার অথবা স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদও থাকতে পারেন।

আমার কথা হচ্ছে, যাঁদের পরামর্শ গ্রহণযোগ্য বলে সার্চ কমিটি মনে করছে, তাঁরা নিজেরাই নিশ্চয়ই গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি। তাঁদের মধ্যে তরুণতর অথচ অভিজ্ঞদের নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হলে তা যৌক্তিক হবে বলে আমার বিশ্বাস।

সার্চ কমিটির উচিত হবে নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য পাঁচ-ছয়টির বেশি নাম না পাঠানো। কারণ, বেশি নাম পাঠালে সরকারের পক্ষে তার নিজস্ব পছন্দ বাস্তবায়নের সুযোগ বেশি থাকে। বেশি নাম পাঠালে অহেতুকভাবে বেশি সদস্যের একটি কমিশন গঠন করার অবকাশও থাকে। এ দুটোর কোনটিই কাম্য নয়।

সার্চ কমিটি গ্রহণযোগ্য কিছু ব্যক্তির নাম পাঠালে এবং সরকার সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিলেই কি সুষ্ঠু নির্বাচন হয়ে যাবে? না, হবে না। কারণ, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন ও কার্যকরভাবে কাজ করতে দেওয়া। নির্বাচনের সময় যদি সরকারপ্রধানের অফিস নির্বাচন কমিশনের অফিস হয়ে যায়, তাহলে কমিশনের আসলে বেশি কিছু করার থাকে না। আমরা অতীতে তা দেখেছি।

আমি তবু মনে করি, নির্বাচন কমিশনে যোগ্য, ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ও দায়িত্বশীল ব্যক্তি থাকা ভালো। এমন ব্যক্তিরা কমিশনে থাকলে যা ইচ্ছে তা চাপিয়ে দেওয়া সহজ হয় না। চাপিয়ে দিলেও তাঁরা প্রতিবাদ করেন। মানুষ তখন অন্তত বুঝতে পারে কোন কাজটা কমিশনের ইচ্ছেয়, কোনটা সরকারের ইচ্ছেয় হচ্ছে।

সার্চ কমিটি পরামর্শের জন্য যে ১২ জনকে বেছে নিয়েছে, তাঁদের মধ্যে যোগ্য, ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা রয়েছেন। রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে নাম চেয়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি না করে এই ১২ জনের মধ্য থেকেই নির্বাচন কমিশন গঠনের উদ্যোগটি শুরু করতে পারে সার্চ কমিটি। এই উদ্যোগ অধিকাংশ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে বলে আমার বিশ্বাস।
আসিফ নজরুল: অধ্যাপক, আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X