শুক্রবার, ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১১ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ২:২৪
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Saturday, July 30, 2016 12:13 am
A- A A+ Print

পাকিস্তানের আদামখেলে অস্ত্রের চেয়ে স্মার্টফোন দামি!

৬৬

্এএফপি: নানা কারণে পাকিস্তান এখন বিশ্ব গণমাধ্যমে আলোচিত একটি দেশ। এই দেশটির একটি ছোট শহরের নাম দারা আদামখেল। এটি বিশ্বের অন্যতম সর্ববৃহৎ অস্ত্র কালোবাজারের আখড়া। অস্ত্রের দোকানগুলোতে দেখা মেলে শত শত কালাশনিকভ এবং এমপি ফাইভ সাব-মেশিনগানের। সবচেয়ে অবাক করার ব্যাপার হলো, সেখানে আগ্নেয়াস্ত্রের চেয়ে স্মার্টফোনের দাম বেশি। পেশোয়ার থেকে ৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত এই শহরের অস্ত্রের ব্যবসা নিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি একটি প্রতিবেদন করেছে। সেটি পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো। পাহাড়বেষ্টিত এই শহরটি দীর্ঘদিন ধরেই সব ধরনের অপরাধী ও সন্ত্রাসীদের মিলনস্থল। সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে আফগানদের যুদ্ধের সময় থেকে মুজাহিদরা এখান থেকেই অস্ত্র কিনত। যেখানে মার্কিন সাব-মেশিনগান এমপি ৫-এর মূল্য কয়েক হাজার ডলার, সেখানে এই শহরে এর দাম মাত্র সাত হাজার পাকিস্তানি রুপি। একইভাবে কালাশনিকভের যে দাম, তার চেয়ে বেশি দাম একটি ভালো মানের স্মার্টফোনের। তবে এ অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। সেনাবাহিনীর আক্রমণে কালোবাজারে অস্ত্রের ব্যবসা এখন হারিয়ে যেতে বসেছে। শহরটির নাম দারা আদামখেল। পাকিস্তানের পেশোয়ার থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরে শহরটির অবস্থান। পাহাড়ঘেরা এই শহরটি কয়েক দশক ধরে অপরাধমূলক কার্যকলাপের জন্য বেশ পরিচিত। চোরাকারবারি, মাদক এখানে অতিসাধারণ বিষয়। এখানে ভুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি থেকে শুরু করে চুরি করা গাড়িও পাওয়া যায়। সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে আফগানিস্তানের যুদ্ধের সময় মুজাহিদরা অস্ত্র কেনার জন্য সীমান্ত পাড়ি দিয়ে এখানে আসত। পরে এ এলাকাটিতে পাকিস্তান তালেবানদের শক্ত অবস্থান তৈরি হয়। এখানে আলাদা বিচারব্যবস্থাও তৈরি হয়। এখানে ২০০৯ সালে পোল্যান্ডের প্রকৌশলী পিওতর স্ট্যানজ্যাকের শিরশ্ছেদ করা হয়। সে সময় থেকেই দারা আদামখেলে সমান্তরাল প্রশাসন চালাতে থাকে তালেবানরা। বন্ধ আগ্নেয়াস্ত্রের দোকানের সামনে খেলছে শিশু। ছবি: এএফপিদারা আদামখেলের অস্ত্র ব্যবসায়ী খতিব গুল (৪৫) বলেন, নওয়াজ শরিফ ক্ষমতা নেওয়ার পরই এই শহরের চারপাশে তল্লাশিচৌকি বসিয়েছে। অস্ত্রের ওই ব্যবসা এখন বন্ধ। খতিব গুল তুর্কি ও বুলগেরিয়ার তৈরি বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় এমপি-ফাইভ (MP5) সাব-মেশিন বন্দুকের হুবহু নকল বন্দুক তৈরির জন্য দারা আদামখেল এলাকায় বিখ্যাত। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার (এফবিআই) সোয়াত দলের সদস্যরা এ অস্ত্র ব্যবহার করেন। এমপি-ফাইভ সাবমেশিন বন্দুকের আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য হাজার ডলার। কিন্তু খতিব গুলের তৈরি এই অস্ত্র পাওয়া যায় মাত্র ৬৭ ডলারে, যা পাকিস্তানি রুপিতে এর দাম পড়ে মাত্র সাত হাজার। এক বছরের গ্যারান্টিও দেওয়া। এই অস্ত্র পুরোপুরি কাজ করে বলেও খতিব গুল দাবি করেন। খতিব গুল এই অস্ত্রের ব্যবহারও দেখান এএফপির প্রতিবেদককে। তিনি বলেন, দারা আদামখেল তাঁর তৈরি কালাশনিকভের মূল্য একটি স্মার্টফোনের চেয়েও কম। খতিব গুল বলেন, ‘এখানকার শ্রমিকেরা এত দক্ষ, যেকোনো অস্ত্র দেখালে তারা সেটির হুবহু একটি তৈরি করে ফেলবে।’ তার দাবি, ‘গত ১০ বছরে আমি ১০ হাজার বন্দুক বিক্রি করেছি—এর একটির ব্যাপারেও কোনো অভিযোগ আসেনি।’ গুলের ওই কারখানাটি আরব সাগরের ঠিক দক্ষিণে অবস্থিত। সেখানে করাচি শিপইয়ার্ড থেকে আনা লোহা ও ধাতু নিয়ে বৈদ্যুতিক জেনারেটরের শব্দের মধ্যেই কাজ করছেন কর্মচারীরা।৮৮ অস্ত্রের এই ব্যবসা অবৈধ, লাইসেন্সবিহীন ও অনিয়ন্ত্রিত। এখান অধিবাসীদের মধ্যে অধিকাংশই পশতুন। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উপজাতীয় এলাকায় চরমপন্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ায় আদামখেল এলাকায়ও অস্ত্রের ব্যবসা লাটে ওঠার পথে। এখানে অনেক দোকানে অস্ত্রের পরিবর্তে মুদির দ্রব্য এবং ইলেকট্রনিক পণ্য বিক্রি হয়। বন্দুকের বিক্রি এখানে কমতে শুরু করেছে। ক্রেতার অপেক্ষায় নিজ দোকানে বসে আছেন এই ব্যবসায়ী। ছবি: এএফপিসেনাবাহিনী ও সরকারি বাহিনীর আক্রমণের আগে গুলের কারখানায় দিনে ১০টির বেশি অস্ত্র তৈরি হতো। এখন তারা চারটি অস্ত্র তৈরি করে। কারণ, অস্ত্রের চাহিদা কমে গেছে। গুলের মতো যাঁরা নকল অস্ত্র তৈরি করেন, তাঁরা পাকিস্তানের সরকার ও সেনাদের ওপর নাখোশ। কারণ, দারা এলাকায় নাগরিকদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি এবং তল্লাশিচৌকি বসানো হয়েছে। বিদেশিদেরও এ এলাকায় আসা নিষেধ। মোজাম্মেল খান নামের এক শ্রমিক তাঁর কারখানার বাইরে অলস বসে আছেন। তিনি বলছিলেন, ‘আমি এখানে গত ৩০ বছর ধরে কাজ করছি। কিন্তু এখন আমার কোনো কাজ নেই। আমি আমার লেদমেশিন বিক্রি করার জন্য প্রস্তুত।’ মো. কায়সার, যিনি নিজ দোকানে কার্তুজ তৈরি করছেন। তিনি বলছিলেন, ‘এখানে আগে সাত হাজার দোকান ছিল। কিন্তু এখন প্রায় অর্ধেক প্রায় বন্ধ হয়েছে। সরকার যদি তার নীতি পরিবর্তন না করে, তাহলে তাঁর ভয়...দারায় নকল অস্ত্র তৈরি বন্ধ হয়ে যাবে।’ আদামখেল এলাকার ট্রেড ইউনিয়ন নেতা বাদাম আকবর তিন হাজার দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা নিশ্চিত করে বলেন, এখানকার দক্ষ শ্রমিকেরা নতুন নতুন ব্যবসা শিখতে চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, এই বাজারে এখন আর কিছুই নেই। এএফপির এই প্রতিবেদক যদিও ওই এলাকায় কয়েক শ বন্দুকের দোকান দেখেছেন। সংকীর্ণ রাস্তায় গুলির শব্দও শুনেছেন। এরপরও এখন অস্ত্র ব্যবসায়ীরা বলছেন এটা যথেষ্ট নয়। সেখানকার এক ব্যবসায়ী আকবর বলছিলেন, ‘এখানে কোনো বিদ্যুৎ, পানি নেই এবং কোনো ব্যবসাও নেই। জীবন এখানে খুব কঠিন হয়ে উঠেছে।

Comments

Comments!

 পাকিস্তানের আদামখেলে অস্ত্রের চেয়ে স্মার্টফোন দামি!AmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

পাকিস্তানের আদামখেলে অস্ত্রের চেয়ে স্মার্টফোন দামি!

Saturday, July 30, 2016 12:13 am
৬৬

্এএফপি: নানা কারণে পাকিস্তান এখন বিশ্ব গণমাধ্যমে আলোচিত একটি দেশ। এই দেশটির একটি ছোট শহরের নাম দারা আদামখেল। এটি বিশ্বের অন্যতম সর্ববৃহৎ অস্ত্র কালোবাজারের আখড়া। অস্ত্রের দোকানগুলোতে দেখা মেলে শত শত কালাশনিকভ এবং এমপি ফাইভ সাব-মেশিনগানের। সবচেয়ে অবাক করার ব্যাপার হলো, সেখানে আগ্নেয়াস্ত্রের চেয়ে স্মার্টফোনের দাম বেশি। পেশোয়ার থেকে ৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত এই শহরের অস্ত্রের ব্যবসা নিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি একটি প্রতিবেদন করেছে। সেটি পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

পাহাড়বেষ্টিত এই শহরটি দীর্ঘদিন ধরেই সব ধরনের অপরাধী ও সন্ত্রাসীদের মিলনস্থল। সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে আফগানদের যুদ্ধের সময় থেকে মুজাহিদরা এখান থেকেই অস্ত্র কিনত। যেখানে মার্কিন সাব-মেশিনগান এমপি ৫-এর মূল্য কয়েক হাজার ডলার, সেখানে এই শহরে এর দাম মাত্র সাত হাজার পাকিস্তানি রুপি। একইভাবে কালাশনিকভের যে দাম, তার চেয়ে বেশি দাম একটি ভালো মানের স্মার্টফোনের। তবে এ অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। সেনাবাহিনীর আক্রমণে কালোবাজারে অস্ত্রের ব্যবসা এখন হারিয়ে যেতে বসেছে।

শহরটির নাম দারা আদামখেল। পাকিস্তানের পেশোয়ার থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরে শহরটির অবস্থান। পাহাড়ঘেরা এই শহরটি কয়েক দশক ধরে অপরাধমূলক কার্যকলাপের জন্য বেশ পরিচিত। চোরাকারবারি, মাদক এখানে অতিসাধারণ বিষয়। এখানে ভুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি থেকে শুরু করে চুরি করা গাড়িও পাওয়া যায়। সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে আফগানিস্তানের যুদ্ধের সময় মুজাহিদরা অস্ত্র কেনার জন্য সীমান্ত পাড়ি দিয়ে এখানে আসত।
পরে এ এলাকাটিতে পাকিস্তান তালেবানদের শক্ত অবস্থান তৈরি হয়। এখানে আলাদা বিচারব্যবস্থাও তৈরি হয়। এখানে ২০০৯ সালে পোল্যান্ডের প্রকৌশলী পিওতর স্ট্যানজ্যাকের শিরশ্ছেদ করা হয়। সে সময় থেকেই দারা আদামখেলে সমান্তরাল প্রশাসন চালাতে থাকে তালেবানরা।

বন্ধ আগ্নেয়াস্ত্রের দোকানের সামনে খেলছে শিশু। ছবি: এএফপিদারা আদামখেলের অস্ত্র ব্যবসায়ী খতিব গুল (৪৫) বলেন, নওয়াজ শরিফ ক্ষমতা নেওয়ার পরই এই শহরের চারপাশে তল্লাশিচৌকি বসিয়েছে। অস্ত্রের ওই ব্যবসা এখন বন্ধ।

খতিব গুল তুর্কি ও বুলগেরিয়ার তৈরি বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় এমপি-ফাইভ (MP5) সাব-মেশিন বন্দুকের হুবহু নকল বন্দুক তৈরির জন্য দারা আদামখেল এলাকায় বিখ্যাত। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার (এফবিআই) সোয়াত দলের সদস্যরা এ অস্ত্র ব্যবহার করেন।

এমপি-ফাইভ সাবমেশিন বন্দুকের আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য হাজার ডলার। কিন্তু খতিব গুলের তৈরি এই অস্ত্র পাওয়া যায় মাত্র ৬৭ ডলারে, যা পাকিস্তানি রুপিতে এর দাম পড়ে মাত্র সাত হাজার। এক বছরের গ্যারান্টিও দেওয়া। এই অস্ত্র পুরোপুরি কাজ করে বলেও খতিব গুল দাবি করেন।

খতিব গুল এই অস্ত্রের ব্যবহারও দেখান এএফপির প্রতিবেদককে। তিনি বলেন, দারা আদামখেল তাঁর তৈরি কালাশনিকভের মূল্য একটি স্মার্টফোনের চেয়েও কম। খতিব গুল বলেন, ‘এখানকার শ্রমিকেরা এত দক্ষ, যেকোনো অস্ত্র দেখালে তারা সেটির হুবহু একটি তৈরি করে ফেলবে।’ তার দাবি, ‘গত ১০ বছরে আমি ১০ হাজার বন্দুক বিক্রি করেছি—এর একটির ব্যাপারেও কোনো অভিযোগ আসেনি।’

গুলের ওই কারখানাটি আরব সাগরের ঠিক দক্ষিণে অবস্থিত। সেখানে করাচি শিপইয়ার্ড থেকে আনা লোহা ও ধাতু নিয়ে বৈদ্যুতিক জেনারেটরের শব্দের মধ্যেই কাজ করছেন কর্মচারীরা।৮৮

অস্ত্রের এই ব্যবসা অবৈধ, লাইসেন্সবিহীন ও অনিয়ন্ত্রিত। এখান অধিবাসীদের মধ্যে অধিকাংশই পশতুন। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উপজাতীয় এলাকায় চরমপন্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ায় আদামখেল এলাকায়ও অস্ত্রের ব্যবসা লাটে ওঠার পথে। এখানে অনেক দোকানে অস্ত্রের পরিবর্তে মুদির দ্রব্য এবং ইলেকট্রনিক পণ্য বিক্রি হয়। বন্দুকের বিক্রি এখানে কমতে শুরু করেছে।

ক্রেতার অপেক্ষায় নিজ দোকানে বসে আছেন এই ব্যবসায়ী। ছবি: এএফপিসেনাবাহিনী ও সরকারি বাহিনীর আক্রমণের আগে গুলের কারখানায় দিনে ১০টির বেশি অস্ত্র তৈরি হতো। এখন তারা চারটি অস্ত্র তৈরি করে। কারণ, অস্ত্রের চাহিদা কমে গেছে। গুলের মতো যাঁরা নকল অস্ত্র তৈরি করেন, তাঁরা পাকিস্তানের সরকার ও সেনাদের ওপর নাখোশ। কারণ, দারা এলাকায় নাগরিকদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি এবং তল্লাশিচৌকি বসানো হয়েছে। বিদেশিদেরও এ এলাকায় আসা নিষেধ।

মোজাম্মেল খান নামের এক শ্রমিক তাঁর কারখানার বাইরে অলস বসে আছেন। তিনি বলছিলেন, ‘আমি এখানে গত ৩০ বছর ধরে কাজ করছি। কিন্তু এখন আমার কোনো কাজ নেই। আমি আমার লেদমেশিন বিক্রি করার জন্য প্রস্তুত।’

মো. কায়সার, যিনি নিজ দোকানে কার্তুজ তৈরি করছেন। তিনি বলছিলেন, ‘এখানে আগে সাত হাজার দোকান ছিল। কিন্তু এখন প্রায় অর্ধেক প্রায় বন্ধ হয়েছে। সরকার যদি তার নীতি পরিবর্তন না করে, তাহলে তাঁর ভয়…দারায় নকল অস্ত্র তৈরি বন্ধ হয়ে যাবে।’

আদামখেল এলাকার ট্রেড ইউনিয়ন নেতা বাদাম আকবর তিন হাজার দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা নিশ্চিত করে বলেন, এখানকার দক্ষ শ্রমিকেরা নতুন নতুন ব্যবসা শিখতে চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, এই বাজারে এখন আর কিছুই নেই।

এএফপির এই প্রতিবেদক যদিও ওই এলাকায় কয়েক শ বন্দুকের দোকান দেখেছেন। সংকীর্ণ রাস্তায় গুলির শব্দও শুনেছেন। এরপরও এখন অস্ত্র ব্যবসায়ীরা বলছেন এটা যথেষ্ট নয়। সেখানকার এক ব্যবসায়ী আকবর বলছিলেন, ‘এখানে কোনো বিদ্যুৎ, পানি নেই এবং কোনো ব্যবসাও নেই। জীবন এখানে খুব কঠিন হয়ে উঠেছে।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X