বুধবার, ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৯ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সন্ধ্যা ৬:৪২
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Wednesday, September 21, 2016 10:05 pm
A- A A+ Print

পাকিস্তানের ওপর ভারতের হামলা না করার ৬ কারণ

244970_1

ভারত অধিকৃত কাশ্মিরের সেনাঘাঁটিতে ভয়াবহ হামলার পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের দাবি উঠলেও সে পথে হাঁটছে না ভারত সরকার। এ নির্মম সত্যটি তারা উপলব্ধি করতে পেরেছে যে, পাকিস্তান নীতিতে সামরিক পদক্ষেপ নেয়ার মতো অবস্থান তাদের নেই। গত শতাব্দীর নব্বইয়ের দশক থেকেই সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে। চলতি বছরের শুরুতে পাঠানকোট বিমানঘাঁটি ও গত বছরের গুরুদাসপুর হামলা ছিল এর সর্বশেষ নজির। বেশ কয়েকটি কারণে এ মুহূর্তে পাকিস্তানের বিপক্ষে সামরিক অ্যাকশনে যাচ্ছে না ভারত। এ ধরনের অভিযানে ভবিষ্যতে হামলা বন্ধ নিশ্চিত হবে না; বরং এর ফলাফল হিতে বিপরীতও হতে পারে। সামরিক হামলা না করার পেছনে যেসব কারণ রয়েছে তা হলো : ১. যুদ্ধের ঝুঁকি : পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের সামরিক অভিযান যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ভারত ছোট কোনো অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নিলেও পাকিস্তান যে তার পাল্টা ব্যবস্থা নেবে না সেটি বলা যায় না। ভারত ও পাকিস্তান পরমাণু শক্তিধর দুইটি প্রতিবেশী দেশ, যাদের কেউ প্রথম হামলা করতে চায় না। কিন্তু প্রতিপক্ষের হামলার জবাব দিতে মুখিয়ে আছে উভয় দেশ। ২. সন্ত্রাসবাদ বৃদ্ধির ঝুঁকি : সফল সামরিক অভিযান প্রকৃতপক্ষে আরো সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারত সহায়তা করেছে অন্য দিকে পাকিস্তান পাঞ্জাব ও কাশ্মিরের স্বাধীনতাকামীদের সহায়তা করছে। পাকিস্তানের ভূখণ্ড দখল, হতাহত কিংবা এ ধরনের অন্য কোনো কারণে পাকিস্তান ভারতের স্বাধীনতাকামী সংগঠনগুলোকে মদদ বৃদ্ধি করতে পারে। এ ছাড়া জঙ্গি সংগঠনগুলোও ভারতের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে মরিয়া হয়ে উঠতে পারে। ৪. ব্যর্থতার ঝুঁকি : কোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপের সফলতার নিশ্চয়তা আগে থেকেই দেয়া যায় না, বিশেষ করে যেখানে প্রতিপক্ষও সমান শক্তিধর। আর একটি সামরিক পদক্ষেপ ব্যর্থ হলে তা ভবিষ্যতে ভারতকে আরো দুর্বল ও অরক্ষিত করতে পারে। ২০০৮ সালের নভেম্বরে মুম্বাই হামলার পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং পাকিস্তানে বিমান হামলা অনুমোদন করেছিলেন। কিন্তু বিমান বাহিনীর প্রধান তাকে জানান, পাকিস্তানের সন্ত্রাসী ঘাঁটির বিষয়ে তাদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই এবং তাদের বাহিনীও এ ধরনের হামলার জন্য প্রস্তুত নয়। সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সীমান্তের বাইরের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর কৌশলগত সক্ষমতা অর্জনে ভারতীয় বাহিনীর আরো অনেক বছর লাগবে। আর রাজনৈতিকভাবেও সামরিক পদক্ষেপকে দেখা হচ্ছে সর্বশেষ অস্ত্র হিসেবে, সেটি গ্রহণ করা হলে মোদি সরকারকে ব্যর্থ বলেই ধরে নেবে জনগণ। ৪. পাকিস্তান এটাই চায়!: পাকিস্তান মনে করে কারগিল যুদ্ধ ব্যর্থ হয়নি, তাদের মতে এই যুদ্ধই কাশ্মির ইস্যুকে আন্তর্জাতিকীকরণ করেছে। উরির হামলাকারী ও পরিকল্পনাকারীরা জানে, এ ধরনের একটি হামলা ভারতকে সামরিক প্রতিশোধ নিতে উদ্বুদ্ধ করতে পারে। এমনটা হলে তারা হয়তো খুশি হবে, কারণ তাতে কাশ্মির ইস্যু আবারো বিশ্ব সম্প্রদায়ের নজরে আসবে। গত ২৩ আগস্ট লস্কর-ই তাইয়্যেবার একটি টুইটার অ্যাকাউন্টে বলা হয়েছে, আগামী দিনগুলোতে মোদি শুধু কাশ্মিরের বিষয়টিকেই গুরুত্ব দেবেন। ৫. আন্তর্জাতিক চাপ : উরি হামলার বিষয়ে পাকিস্তান ও ভারতকে সংলাপে বসার আহ্বান জানানো ছাড়া অন্য কোনো মন্তব্য করেনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন। কিন্তু ভারত যদি সামরিক পদক্ষেপ নিতে চায়, সেটি হবে বিশ্বের জন্য পারমাণবিক যুদ্ধের অশনি সঙ্কেত। সে ক্ষেত্রে বিশ্বের সব পর্যায় থেকে ভারতের ওপর চাপ আসবে। সীমান্তের ওপারে যেকোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেয়ার জন্য বিশ্বব্যাপী কূটনৈতিক সমর্থন দরকার। এ সমর্থন না পাওয়া গেলে ভারত বড় ধরনের আন্তর্জাতিক সঙ্কটে পরবে। পাকিস্তান এর সুবিধা নিয়ে ভারতকে আগ্রাসী প্রমাণ করতে চাইবে। ৬. অর্থনৈতিক সঙ্কটের ঝুঁকি : যুদ্ধ উভয়পক্ষের জন্যই অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ। এই ইস্যুতে ভারতের মারাত্মক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে ভারতের অর্থনীতি পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে আছে। তাই বড় ক্ষতিটা তাদেরই হবে। যুদ্ধের অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের নিরাশ করে, সৃষ্টি হয় মুদ্রাস্ফীতি ও তারল্য সঙ্কট। ভারতের অর্থনীতি ক্রমেই পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাচ্ছে। তাই এই দিক থেকে কোনো ধরনের অর্থনৈতিক ঝুঁকি নেবে না ভারত সরকার।

Comments

Comments!

 পাকিস্তানের ওপর ভারতের হামলা না করার ৬ কারণAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

পাকিস্তানের ওপর ভারতের হামলা না করার ৬ কারণ

Wednesday, September 21, 2016 10:05 pm
244970_1

ভারত অধিকৃত কাশ্মিরের সেনাঘাঁটিতে ভয়াবহ হামলার পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের দাবি উঠলেও সে পথে হাঁটছে না ভারত সরকার। এ নির্মম সত্যটি তারা উপলব্ধি করতে পেরেছে যে, পাকিস্তান নীতিতে সামরিক পদক্ষেপ নেয়ার মতো অবস্থান তাদের নেই।

গত শতাব্দীর নব্বইয়ের দশক থেকেই সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে। চলতি বছরের শুরুতে পাঠানকোট বিমানঘাঁটি ও গত বছরের গুরুদাসপুর হামলা ছিল এর সর্বশেষ নজির। বেশ কয়েকটি কারণে এ মুহূর্তে পাকিস্তানের বিপক্ষে সামরিক অ্যাকশনে যাচ্ছে না ভারত। এ ধরনের অভিযানে ভবিষ্যতে হামলা বন্ধ নিশ্চিত হবে না; বরং এর ফলাফল হিতে বিপরীতও হতে পারে। সামরিক হামলা না করার পেছনে যেসব কারণ রয়েছে তা হলো :

১. যুদ্ধের ঝুঁকি : পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের সামরিক অভিযান যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ভারত ছোট কোনো অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নিলেও পাকিস্তান যে তার পাল্টা ব্যবস্থা নেবে না সেটি বলা যায় না। ভারত ও পাকিস্তান পরমাণু শক্তিধর দুইটি প্রতিবেশী দেশ, যাদের কেউ প্রথম হামলা করতে চায় না। কিন্তু প্রতিপক্ষের হামলার জবাব দিতে মুখিয়ে আছে উভয় দেশ।

২. সন্ত্রাসবাদ বৃদ্ধির ঝুঁকি : সফল সামরিক অভিযান প্রকৃতপক্ষে আরো সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারত সহায়তা করেছে অন্য দিকে পাকিস্তান পাঞ্জাব ও কাশ্মিরের স্বাধীনতাকামীদের সহায়তা করছে। পাকিস্তানের ভূখণ্ড দখল, হতাহত কিংবা এ ধরনের অন্য কোনো কারণে পাকিস্তান ভারতের স্বাধীনতাকামী সংগঠনগুলোকে মদদ বৃদ্ধি করতে পারে। এ ছাড়া জঙ্গি সংগঠনগুলোও ভারতের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে মরিয়া হয়ে উঠতে পারে।

৪. ব্যর্থতার ঝুঁকি : কোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপের সফলতার নিশ্চয়তা আগে থেকেই দেয়া যায় না, বিশেষ করে যেখানে প্রতিপক্ষও সমান শক্তিধর। আর একটি সামরিক পদক্ষেপ ব্যর্থ হলে তা ভবিষ্যতে ভারতকে আরো দুর্বল ও অরক্ষিত করতে পারে। ২০০৮ সালের নভেম্বরে মুম্বাই হামলার পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং পাকিস্তানে বিমান হামলা অনুমোদন করেছিলেন। কিন্তু বিমান বাহিনীর প্রধান তাকে জানান, পাকিস্তানের সন্ত্রাসী ঘাঁটির বিষয়ে তাদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই এবং তাদের বাহিনীও এ ধরনের হামলার জন্য প্রস্তুত নয়।

সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সীমান্তের বাইরের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর কৌশলগত সক্ষমতা অর্জনে ভারতীয় বাহিনীর আরো অনেক বছর লাগবে। আর রাজনৈতিকভাবেও সামরিক পদক্ষেপকে দেখা হচ্ছে সর্বশেষ অস্ত্র হিসেবে, সেটি গ্রহণ করা হলে মোদি সরকারকে ব্যর্থ বলেই ধরে নেবে জনগণ।

৪. পাকিস্তান এটাই চায়!: পাকিস্তান মনে করে কারগিল যুদ্ধ ব্যর্থ হয়নি, তাদের মতে এই যুদ্ধই কাশ্মির ইস্যুকে আন্তর্জাতিকীকরণ করেছে। উরির হামলাকারী ও পরিকল্পনাকারীরা জানে, এ ধরনের একটি হামলা ভারতকে সামরিক প্রতিশোধ নিতে উদ্বুদ্ধ করতে পারে। এমনটা হলে তারা হয়তো খুশি হবে, কারণ তাতে কাশ্মির ইস্যু আবারো বিশ্ব সম্প্রদায়ের নজরে আসবে। গত ২৩ আগস্ট লস্কর-ই তাইয়্যেবার একটি টুইটার অ্যাকাউন্টে বলা হয়েছে, আগামী দিনগুলোতে মোদি শুধু কাশ্মিরের বিষয়টিকেই গুরুত্ব দেবেন।

৫. আন্তর্জাতিক চাপ : উরি হামলার বিষয়ে পাকিস্তান ও ভারতকে সংলাপে বসার আহ্বান জানানো ছাড়া অন্য কোনো মন্তব্য করেনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন। কিন্তু ভারত যদি সামরিক পদক্ষেপ নিতে চায়, সেটি হবে বিশ্বের জন্য পারমাণবিক যুদ্ধের অশনি সঙ্কেত। সে ক্ষেত্রে বিশ্বের সব পর্যায় থেকে ভারতের ওপর চাপ আসবে। সীমান্তের ওপারে যেকোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেয়ার জন্য বিশ্বব্যাপী কূটনৈতিক সমর্থন দরকার। এ সমর্থন না পাওয়া গেলে ভারত বড় ধরনের আন্তর্জাতিক সঙ্কটে পরবে। পাকিস্তান এর সুবিধা নিয়ে ভারতকে আগ্রাসী প্রমাণ করতে চাইবে।

৬. অর্থনৈতিক সঙ্কটের ঝুঁকি : যুদ্ধ উভয়পক্ষের জন্যই অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ। এই ইস্যুতে ভারতের মারাত্মক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে ভারতের অর্থনীতি পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে আছে। তাই বড় ক্ষতিটা তাদেরই হবে। যুদ্ধের অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের নিরাশ করে, সৃষ্টি হয় মুদ্রাস্ফীতি ও তারল্য সঙ্কট। ভারতের অর্থনীতি ক্রমেই পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাচ্ছে। তাই এই দিক থেকে কোনো ধরনের অর্থনৈতিক ঝুঁকি নেবে না ভারত সরকার।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X