রবিবার, ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৬ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ভোর ৫:১২
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Thursday, November 17, 2016 12:41 am
A- A A+ Print

পাকিস্তানের পাওনার বিষয়টি হাস্যকর

bangladesh1479305807

বাংলাদেশের কাছে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা পাওনা আছে দাবি করে পাকিস্তান সে টাকা চাইতে পারে বলে দেশটির একটি সংবাদমাধ্যম খবর প্রকাশ করেছে। কিন্তু অ্যাসেট ভ্যালুয়েশন সম্পর্কিত পাকিস্তানের এই পাওনার বিষয়টি হাস্যকর বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের ইতিহাসবিদ এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।   তারা বলছেন, পাকিস্তানের অর্থনৈতিক কাঠামো তৈরি হয়েছে বাংলাদেশ তথা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের পণ্য থেকে। অথচ এই অঞ্চল ছিল অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং রাজনৈতিক ক্ষেত্রে পুরোপুরি অবহেলিত। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ পাকিস্তানের কাছে পাওনা দাবি করতে পারে। পাকিস্তানের পাওনার বিষয়টি পুরোপুরি হাস্যকর একটি বিষয়।   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘পাকিস্তানের সঙ্গে যে কোনো ধরনের আলোচনায় যাওয়ার আগে ৩০ লাখ মানুষকে হত্যার এবং অসংখ্য মা-বোনের সম্ভ্রমহানির জন্য তাদের ক্ষমা চাইতে হবে। যে অপরিমেয় ক্ষতি তারা করেছে তার মূল্য তারা কিভাবে দেবে, আগে তা জানাতে হবে, ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। তারপর পাকিস্তানের সঙ্গে অন্য আলোচনা হতে পারে।’   প্রসঙ্গত, এরই মধ্যে পাকিস্তানের সঙ্গে সকল সর্ম্পক ছিন্ন করেছে ঢাবি প্রশাসন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে পাকিস্তানের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক এক্সচেঞ্জ বা সমঝোতা স্মারক নতুন করে সই হবে না। যেগুলো আছে, সেগুলোও স্থগিত থাকবে। পাকিস্তান যদি তাদের কৃতকর্মের জন্য নিঃশর্তভাবে ক্ষমা প্রার্থণা করে, তবে সিন্ডিকেট বসে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।   ইতিহাসবিদ অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এটি পাগলের প্রলাপ।  বাংলাদেশের সোনালী আঁশ হিসেবে বিখ্যাত পাট বিক্রির আয় থেকেই পাকিস্তানের ইসলামাবাদ গড়ে উঠেছে। এবং বাংলাদেশের পাটই ছিল তৎকালীন পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সবচেয়ে বড় খাত। সে হিসেবে আমাদের কাছে তারা পাওনাদার কীভাবে হয়? পূর্ব পাকিস্তান ওই সময় ছিল সবদিক থেকেই অবহেলিত এবং বঞ্চিত। বরং তাদের কাছে আমাদের প্রচুর পাওনা রয়েছে। সে পাওনা তো তারা শোধ করছে না। আমাদের পাওনাকে পাল্লা দিয়ে একটি যুক্তি দাঁড় করাচ্ছে তারা। অবশ্য পাকিস্তান এমন একটি রাষ্ট্র, যারা সত্যের ধার ধারে না। এটি ব্যর্থ রাষ্ট্রের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে। এদের পক্ষে যা খুশি তাই করা সম্ভব।’   রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মিজানুর রহমান শেলী বলেন, ‘প্রথমত এই পাওনার বিষয়টিই হাস্যকর। কারণ, পাকিস্তানের কাছ থেকে আমাদের স্বাধীন হওয়ার প্রথম কারণই ছিল অর্থনৈতিক অবিচার। অর্থনৈতিক বৈষম্য এতো বেশি প্রকট ছিল যে, মানুষ স্বতঃস্ফুর্ত হয়েই আন্দোলন করেছে। নিয়ম মোতাবেক কোনো দুটি দেশের মধ্যে যখন রপ্তানি সংক্রান্ত বা বাণিজ্য বিষয়ক দ্বিপাক্ষিক চুক্তি হয়, তখন তা ওসব দেশের প্রতিটি অঞ্চলের জন্যই প্রযোজ্য হয়। অবিভক্ত পাকিস্তান ১৯৭১ সালের আগে যেসব দ্বিপাক্ষিক চুক্তি করেছিল, তার প্রতিটি চুক্তিতেই আমরা পূর্ব পাকিস্তান হিসেবে বৈষম্যের শিকার হয়েছি। এখন যদি অ্যাসেট ভ্যালুয়েশনের প্রসঙ্গ আসে, তাহলে ওসব বিষয়ও আমলে নিতে হবে। সেক্ষেত্রে আমরা তাদের কাছে কি পরিমাণ পাওনা থাকবো, সেটা আগে পরিস্কার করতে হবে।   তাদের সঙ্গে আমাদের অসংখ্য ফেন্ডিং ইস্যু রয়েছে। সেসব বিষয় সমাধান না করে অ্যাসেট ভ্যালুয়েশনের প্রসঙ্গ তারা তুলতে পারে না। আমার তো মনে হয়, পেন্ডিং ইস্যু নিয়ে এখন আলোচনা করার মোক্ষম সময়।’   প্রসঙ্গত, ফেন্ডিং ইস্যু বলতে দুটো দেশের মধ্যে অমীমাংসিত বিষয়কে বুঝায়। যেগুলো দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হয়।   রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী বলেন, ‘অ্যাসেট এবং লায়াবিলিটি কখনো ভাগ হয় না। তারপরও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অনেকবার পাকিস্তানের সঙ্গে অমীমাংসিত ইস্যু নিয়ে আলোচনার জন্য আহ্বান করা হয়েছিল। কিন্তু তারা কখনোই সাড়া দেয়নি। এখন তারা একটি হাস্যকর বিষয় উপস্থাপন করছে। বাংলাদেশের উচিত তাদের কাছে প্রকৃত ক্ষতিপূরণ দাবি করা। এক্ষেত্রে কত হতে পারে টাকার পরিমাণ, তা সরকার ঠিক করবে। আমার মনে হয়, এ সংক্রান্ত দাবি সরকার পাকিস্তানের কাছে করলে জনগণও আগ্রহী হয়ে অংশ নেবে এতে।’   এদিকে বুধবার সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, বাংলাদেশের কাছে পাকিস্তান পাওনা হিসেবে যে ৭০০ কোটি রুপি দাবি করেছে, তা ভিত্তিহীন।   তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার আগের আমাদের পাওনা পাকিস্তানের কাছে দাবি করায় তারা বিষয়টি ধামাচাপা দিতে উল্টো মিথ্যা দাবির আশ্রয় নিয়েছে। ওরা আমাদের কাছে কী টাকা পাবে, আমরাই তো ওদের কাছে টাকা পাই। একাত্তরের আগে আমাদের দেশের রপ্তানি ও বাণিজ্যের টাকা ওরা নিয়ে গেছে। যেহেতু আমরা বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আমাদের ক্ষতিপূরণ দাবি করেছি, এটিকে কাউন্টার দেওয়ার জন্যই ওরা এ টাকা দাবি করেছে।’   তিনি বলেন, ‘ওই সময়ে পাকিস্তানের মোট আয়ের বেশির ভাগই আসত বাংলাদেশ থেকে। আদমজী জুট মিল ও অন্যান্য কলকারখানার আয় ছিল তাদের আয়ের মূল উৎস।’   উল্লেখ্য, পাকিস্তানের ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ৭১ পূর্ববর্তী সময়ে পূর্ব পাকিস্তানের কাছে পশ্চিম পাকিস্তানের যে অর্থ পাওনা ছিল তা বর্তমানে ৭০০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। অ্যাসেট ভ্যালুয়েশনের মধ্য দিয়ে প্রকৃত পাওনা নিরুপণ করা হয়েছে।   অ্যাসেট ভ্যালুয়েশন এমন একটি প্রক্রিয়া যা ব্যবহার করে কোনও সম্পত্তির প্রকৃত অর্থমূল্য নিরপণ করা হয়। একটা নির্দিষ্ট সময়ে কোনও সম্পত্তির প্রকৃত অর্থমূল্য কত, তা ওই সময়ের নগদ অর্থ প্রবাহ, তুলনাযোগ্য মূল্যমান কিংবা লেনদেনের মূল্যের ওপর ভিত্তি করে নিরুপণ করা হয়ে থাকে। পাকিস্তানও তাদের কথিত পাওনার ক্ষেত্রে ২০১৬ সালের জুন মাসে এসে অর্থ প্রবাহ, তুলনাযোগ্য মূল্যমান কিংবা লেনদেনের মূল্যের ওপর ভিত্তি করে তাদের পাওনার পরিমাণ নির্ধারণ করেছে।   খবরে পাকিস্তানের স্টেট ব্যাংককে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, সরকারি অফিস, ঋণ, আগাম সুবিধাসহ বিভিন্ন বিষয়ে পরিবর্তনের কারণে পূর্ব পাকিস্তানের কাছে যে টাকা পাওনা ছিল,  ২০১৬ সালের জুন নাগাদ ভ্যালুয়েশন করে তা ৬শ কোটি ৯২ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের কাছে এই টাকা দাবি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।

Comments

Comments!

 পাকিস্তানের পাওনার বিষয়টি হাস্যকরAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

পাকিস্তানের পাওনার বিষয়টি হাস্যকর

Thursday, November 17, 2016 12:41 am
bangladesh1479305807

বাংলাদেশের কাছে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা পাওনা আছে দাবি করে পাকিস্তান সে টাকা চাইতে পারে বলে দেশটির একটি সংবাদমাধ্যম খবর প্রকাশ করেছে। কিন্তু অ্যাসেট ভ্যালুয়েশন সম্পর্কিত পাকিস্তানের এই পাওনার বিষয়টি হাস্যকর বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের ইতিহাসবিদ এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

 

তারা বলছেন, পাকিস্তানের অর্থনৈতিক কাঠামো তৈরি হয়েছে বাংলাদেশ তথা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের পণ্য থেকে। অথচ এই অঞ্চল ছিল অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং রাজনৈতিক ক্ষেত্রে পুরোপুরি অবহেলিত। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ পাকিস্তানের কাছে পাওনা দাবি করতে পারে। পাকিস্তানের পাওনার বিষয়টি পুরোপুরি হাস্যকর একটি বিষয়।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘পাকিস্তানের সঙ্গে যে কোনো ধরনের আলোচনায় যাওয়ার আগে ৩০ লাখ মানুষকে হত্যার এবং অসংখ্য মা-বোনের সম্ভ্রমহানির জন্য তাদের ক্ষমা চাইতে হবে। যে অপরিমেয় ক্ষতি তারা করেছে তার মূল্য তারা কিভাবে দেবে, আগে তা জানাতে হবে, ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। তারপর পাকিস্তানের সঙ্গে অন্য আলোচনা হতে পারে।’

 

প্রসঙ্গত, এরই মধ্যে পাকিস্তানের সঙ্গে সকল সর্ম্পক ছিন্ন করেছে ঢাবি প্রশাসন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে পাকিস্তানের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক এক্সচেঞ্জ বা সমঝোতা স্মারক নতুন করে সই হবে না। যেগুলো আছে, সেগুলোও স্থগিত থাকবে। পাকিস্তান যদি তাদের কৃতকর্মের জন্য নিঃশর্তভাবে ক্ষমা প্রার্থণা করে, তবে সিন্ডিকেট বসে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।

 

ইতিহাসবিদ অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এটি পাগলের প্রলাপ।  বাংলাদেশের সোনালী আঁশ হিসেবে বিখ্যাত পাট বিক্রির আয় থেকেই পাকিস্তানের ইসলামাবাদ গড়ে উঠেছে। এবং বাংলাদেশের পাটই ছিল তৎকালীন পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সবচেয়ে বড় খাত। সে হিসেবে আমাদের কাছে তারা পাওনাদার কীভাবে হয়? পূর্ব পাকিস্তান ওই সময় ছিল সবদিক থেকেই অবহেলিত এবং বঞ্চিত। বরং তাদের কাছে আমাদের প্রচুর পাওনা রয়েছে। সে পাওনা তো তারা শোধ করছে না। আমাদের পাওনাকে পাল্লা দিয়ে একটি যুক্তি দাঁড় করাচ্ছে তারা। অবশ্য পাকিস্তান এমন একটি রাষ্ট্র, যারা সত্যের ধার ধারে না। এটি ব্যর্থ রাষ্ট্রের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে। এদের পক্ষে যা খুশি তাই করা সম্ভব।’

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মিজানুর রহমান শেলী বলেন, ‘প্রথমত এই পাওনার বিষয়টিই হাস্যকর। কারণ, পাকিস্তানের কাছ থেকে আমাদের স্বাধীন হওয়ার প্রথম কারণই ছিল অর্থনৈতিক অবিচার। অর্থনৈতিক বৈষম্য এতো বেশি প্রকট ছিল যে, মানুষ স্বতঃস্ফুর্ত হয়েই আন্দোলন করেছে। নিয়ম মোতাবেক কোনো দুটি দেশের মধ্যে যখন রপ্তানি সংক্রান্ত বা বাণিজ্য বিষয়ক দ্বিপাক্ষিক চুক্তি হয়, তখন তা ওসব দেশের প্রতিটি অঞ্চলের জন্যই প্রযোজ্য হয়। অবিভক্ত পাকিস্তান ১৯৭১ সালের আগে যেসব দ্বিপাক্ষিক চুক্তি করেছিল, তার প্রতিটি চুক্তিতেই আমরা পূর্ব পাকিস্তান হিসেবে বৈষম্যের শিকার হয়েছি। এখন যদি অ্যাসেট ভ্যালুয়েশনের প্রসঙ্গ আসে, তাহলে ওসব বিষয়ও আমলে নিতে হবে। সেক্ষেত্রে আমরা তাদের কাছে কি পরিমাণ পাওনা থাকবো, সেটা আগে পরিস্কার করতে হবে।

 

তাদের সঙ্গে আমাদের অসংখ্য ফেন্ডিং ইস্যু রয়েছে। সেসব বিষয় সমাধান না করে অ্যাসেট ভ্যালুয়েশনের প্রসঙ্গ তারা তুলতে পারে না। আমার তো মনে হয়, পেন্ডিং ইস্যু নিয়ে এখন আলোচনা করার মোক্ষম সময়।’

 

প্রসঙ্গত, ফেন্ডিং ইস্যু বলতে দুটো দেশের মধ্যে অমীমাংসিত বিষয়কে বুঝায়। যেগুলো দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হয়।

 

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী বলেন, ‘অ্যাসেট এবং লায়াবিলিটি কখনো ভাগ হয় না। তারপরও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অনেকবার পাকিস্তানের সঙ্গে অমীমাংসিত ইস্যু নিয়ে আলোচনার জন্য আহ্বান করা হয়েছিল। কিন্তু তারা কখনোই সাড়া দেয়নি। এখন তারা একটি হাস্যকর বিষয় উপস্থাপন করছে। বাংলাদেশের উচিত তাদের কাছে প্রকৃত ক্ষতিপূরণ দাবি করা। এক্ষেত্রে কত হতে পারে টাকার পরিমাণ, তা সরকার ঠিক করবে। আমার মনে হয়, এ সংক্রান্ত দাবি সরকার পাকিস্তানের কাছে করলে জনগণও আগ্রহী হয়ে অংশ নেবে এতে।’

 

এদিকে বুধবার সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, বাংলাদেশের কাছে পাকিস্তান পাওনা হিসেবে যে ৭০০ কোটি রুপি দাবি করেছে, তা ভিত্তিহীন।

 

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার আগের আমাদের পাওনা পাকিস্তানের কাছে দাবি করায় তারা বিষয়টি ধামাচাপা দিতে উল্টো মিথ্যা দাবির আশ্রয় নিয়েছে। ওরা আমাদের কাছে কী টাকা পাবে, আমরাই তো ওদের কাছে টাকা পাই। একাত্তরের আগে আমাদের দেশের রপ্তানি ও বাণিজ্যের টাকা ওরা নিয়ে গেছে। যেহেতু আমরা বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আমাদের ক্ষতিপূরণ দাবি করেছি, এটিকে কাউন্টার দেওয়ার জন্যই ওরা এ টাকা দাবি করেছে।’

 

তিনি বলেন, ‘ওই সময়ে পাকিস্তানের মোট আয়ের বেশির ভাগই আসত বাংলাদেশ থেকে। আদমজী জুট মিল ও অন্যান্য কলকারখানার আয় ছিল তাদের আয়ের মূল উৎস।’

 

উল্লেখ্য, পাকিস্তানের ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ৭১ পূর্ববর্তী সময়ে পূর্ব পাকিস্তানের কাছে পশ্চিম পাকিস্তানের যে অর্থ পাওনা ছিল তা বর্তমানে ৭০০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। অ্যাসেট ভ্যালুয়েশনের মধ্য দিয়ে প্রকৃত পাওনা নিরুপণ করা হয়েছে।

 

অ্যাসেট ভ্যালুয়েশন এমন একটি প্রক্রিয়া যা ব্যবহার করে কোনও সম্পত্তির প্রকৃত অর্থমূল্য নিরপণ করা হয়। একটা নির্দিষ্ট সময়ে কোনও সম্পত্তির প্রকৃত অর্থমূল্য কত, তা ওই সময়ের নগদ অর্থ প্রবাহ, তুলনাযোগ্য মূল্যমান কিংবা লেনদেনের মূল্যের ওপর ভিত্তি করে নিরুপণ করা হয়ে থাকে। পাকিস্তানও তাদের কথিত পাওনার ক্ষেত্রে ২০১৬ সালের জুন মাসে এসে অর্থ প্রবাহ, তুলনাযোগ্য মূল্যমান কিংবা লেনদেনের মূল্যের ওপর ভিত্তি করে তাদের পাওনার পরিমাণ নির্ধারণ করেছে।

 

খবরে পাকিস্তানের স্টেট ব্যাংককে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, সরকারি অফিস, ঋণ, আগাম সুবিধাসহ বিভিন্ন বিষয়ে পরিবর্তনের কারণে পূর্ব পাকিস্তানের কাছে যে টাকা পাওনা ছিল,  ২০১৬ সালের জুন নাগাদ ভ্যালুয়েশন করে তা ৬শ কোটি ৯২ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের কাছে এই টাকা দাবি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X