বুধবার, ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৯ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সকাল ১১:৩৫
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Thursday, September 29, 2016 2:46 pm
A- A A+ Print

পাক-ভারতের উত্তপ্ত পাতিলে ঘি ঢেলেছে সার্ক সম্মেলন

154606_1

ঢাকা: বাংলাদেশসহ সার্কের চার সদস্য দেশের বর্জনের সিদ্ধান্তে আসন্ন শীর্ষ সম্মেলন স্থগিত হয়ে গেছে। এতে চরম ক্ষুব্ধ হয়েছে পাকিস্তান। তাদের সব ক্ষোভ গিয়ে পড়েছে ভারতের ওপর। এ কারণে পাক-ভারত উত্তেজনা আরো বেড়েছে। ফলে সহজেই অনুমেয় সহজেই থাকছেনা পাক-ভারত উত্তেজনা, এটা আরো অনেক দূর এগুতে পারে। সার্ক সনদ অনুযায়ী সদস্যভুক্ত কোনো একটি দেশের রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধান অনুপস্থিত থাকলে শীর্ষ সম্মেলন হতে পারে না। বাংলাদেশ, ভারত, আফগানিস্তান ও ভুটান শীর্ষ সম্মেলনে অংশ না নেয়ার সিদ্ধান্ত গত মঙ্গলবার সার্কের চেয়ারকান্ট্রি নেপালকে জানিয়ে দিয়েছে। এর ফলে কার্যত সম্মেলন স্থগিত হয়ে গেছে। বুধবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা সারতাজ আজিজকে উদ্ধৃত করে এ খবর দিয়েছে পাকিস্তানের জিও নিউজ এবং শামা টেলিভিশন। এ দিকে নেপাল বুধবার পর্যন্ত ইসলামাবাদ শীর্ষ সম্মেলন আনুষ্ঠানিকভাবে স্থগিত ঘোষণা করেনি। আগামী শনিবার দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র সচিব জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে যোগদান শেষে নিউইয়র্ক থেকে কাঠমান্ডু ফিরে এলে এ ঘোষণা দেয়া হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সারতাজ আজিজ বলেন, সার্ক শীর্ষ সম্মেলন যখনই হবে, তা পাকিস্তানেই হবে। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের সব ক্ষোভ গিয়ে পড়েছে প্রতিবেশী ও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের ওপর। তারা ভিন্ন ইস্যুতে ভারতের প্রতি হুঙ্কার দিয়ে বলেছে, দুই দেশের অভিন্ন নদী থেকে পানি প্রত্যাহারের যেকোনো প্রচেষ্টা ‘যুদ্ধ ঘোষণা’র শামিল হিসেবে বিবেচনা করা হবে। কূটনৈতিকভাবে পাকিস্তানকে একঘরে করার পাশাপাশি ভারত থেকে পাকিস্তানে প্রবাহিত তিনটি নদী থেকে পানি প্রত্যাহারের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে ভারত। পাকিস্তান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বুধবার রেডিও পাকিস্তানকে জানিয়েছেন, সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে কোনো দেশের যোগ না দেয়ার ব্যাপারে আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে এ সংক্রান্ত ভারতের ঘোষণা দুঃখজনক। গত ১৮ সেপ্টেম্বর ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের উরিতে সেনা ব্রিগেড সদর দপ্তরে সন্ত্রাসী হামলায় ১৮ জন সৈন্য নিহত হওয়ার পর পাক-ভারত উত্তেজনা বাড়তে থাকে। ভারত এ জন্য সরাসরি পাকিস্তান সরকার সমর্থিত উগ্রবাদীগোষ্ঠীকে দায়ী করে এবং পাকিস্তানে সামরিক অভিযান চালানোর জন্য ভারতের অভ্যন্তর থেকে চাপ বাড়তে থাকে। তবে ভারত সরকার এটিকে কূটনৈতিকভাবে মোকাবেলা করার সিদ্ধান্ত নেয়। উরির ঘটনা নিয়ে দিল্লিতে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত আবদুল বাসিতকে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দ্বিতীয়বারের মতো তলব করার পরেই সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে নরেন্দ্র মোদির যোগ না দেয়ার ঘোষণা আসে। কাছাকাছি সময়ে বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও ভুটানও সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে অপারগতা প্রকাশ করে। এ ব্যাপারে বুধবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম সাংবাদিকদের বলেছেন, য্দ্ধুাপরাধীদের বিচারপ্রক্রিয়াসহ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অব্যাহতভাবে পাকিস্তানের হস্তেেপর কারণেই ইসলামাবাদে অনুষ্ঠেয় সার্ক শীর্ষ সম্মেলন বর্জন করছে বাংলাদেশ। আর এ সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের একেবারেই নিজস্ব। তিনি বলেন, মঙ্গলবার আমরা সার্কের সভাপতি নেপালকে পত্রের মাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছি নভেম্বরে পাকিস্তানে অনুষ্ঠেয় ১৯তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশ অংশগ্রহণ করছে না। বাংলাদেশ আরো জানিয়েছে, সার্কের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ আঞ্চলিক সহযোগিতা, মূল্যবোধ, সার্ক সনদ, কানেকটিভিটিসহ সার্বিক সহযোগিতায় বিশ্বাস করে। তাই সময় সুযোগ এলে বাংলাদেশ সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে একটি রাষ্ট্রের অব্যাহতভাবে হস্তপে এ ধরনের সম্মেলন অনুষ্ঠানের জন্য উপযোগী নয়। স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, বঙ্গবন্ধু, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের বিচার ও পরবর্তীতে ফাঁসির প্রশ্নে বাংলাদেশ কখনোই কারো সাথে আপস করেনি, করবেও না। কূটনৈতিকভাবে পাকিস্তানকে একঘরে করার যে ঘোষণা ভারত দিয়েছে, সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে অংশ না নেয়ার বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত তার অংশ কি না- জানতে চাইলে শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘অন্য কোনো রাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের সাথে আমাদের সিদ্ধান্তের কোনো সম্পর্ক নেই। এটি আমাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত’। ইসলামাবাদে হওয়ার কারণেই কি বাংলাদেশ সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিচ্ছে না- এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্থান নয়, পরিবেশটাই গুরুত্বপূর্ণ। নতুন করে আবার যদি কোনো প্রস্তাব আসে তখন বিবেচনা করা হবে। এর ফলে দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর আঞ্চলিক সংস্থার সার্কের অস্তিত্ব বিলীন হতে যাচ্ছে কি না- জানতে চাইলে শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘১৮তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলনের আগেও দীর্ঘদিন সার্ক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়নি। সার্কের জন্ম ৩০ বছর হলেও এখন মাত্র ১৯তম শীর্ষ সম্মেলন চলছে।’ পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করবে কি না জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেছেন, সময়ই সেটা বলে দেবে। অন্য দিকে ভুটান বলেছে, সার্ক প্রক্রিয়া ও আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করার ব্যাপারে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে সম্প্রতি এ অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদের উত্থান ইসলামাবাদে সফলভাবে সার্ক শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে গুরুতর নেতিবাচক পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। সন্ত্রাসবাদের কারণে আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার ব্যাপারে সার্কের কয়েকটি সদস্যরাষ্ট্রের উদ্বেগের অংশীদার ভুটান। এ অবস্থায় সার্ক সম্মেলনে যোগ দেয়া ভুটানের পক্ষে সম্ভব নয়। আর আফগানিস্তান বলেছে, চাপিয়ে দেয়া সন্ত্রাসবাদের কারণে আফগানিস্তানে সহিংসতা ও হানাহানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এ অবস্থায় কমান্ডার ইন চিফ হিসেবে প্রেসিডেন্ট ঘানি খুবই ব্যস্ত। তাই তিনি সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে পারবেন না। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বিকাশ স্বরূপ সার্ক সম্মেলনে তার দেশের যোগ না দেয়ার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে টুইটার অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, আঞ্চলিক সহযোগিতা ও সন্ত্রাস এক সাথে চলতে পারে না। ইসলামাবাদে অনুষ্ঠেয় সার্ক শীর্ষ সম্মেলন থেকে সরে দাঁড়াল ভারত। তিনি লিখেছেন, সার্কের সভাপতি দেশ নেপালকে ভারত জানিয়েছে এ অঞ্চলে আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসী হামলা বেড়ে যাওয়ায় এবং সদস্য দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে একটি দেশের হস্তক্ষেপের কারণে এমন এক পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে, যা নভেম্বরে ইসলামাবাদে সার্ক শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনের জন্য সহায়ক নয়। আঞ্চলিক সহযোগিতা, কানেকটিভিটি ও যোগাযোগের ব্যাপারে ভারত তার অঙ্গীকারের ব্যাপারে অবিচল আছে। তবে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ভারতের পক্ষে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠেয় শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেয়া সম্ভব নয়। ভারতের এ ঘোষণার পর চটেছে পাকিস্তান। ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সম্ভাবনায় দেশের সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল রাহিল শরিফের সঙ্গে বুধবার জরুরি বৈঠক করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। এদিকে সাবেক সেনাপ্রধান ও সাবেক প্রেসিডেন্ট মোশাররফ ভারতের বিরুদ্ধে হুঙ্কার দিয়েছেন। সবমিলেই পাক-ভারতের বৈরি সম্পর্কের উত্তপ্ত পাতিলে যেন নতুন করে ঘি ঢেলেছে এই সার্ক শীর্ষ সম্মেলন ইস্যু।
 

Comments

Comments!

 পাক-ভারতের উত্তপ্ত পাতিলে ঘি ঢেলেছে সার্ক সম্মেলনAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

পাক-ভারতের উত্তপ্ত পাতিলে ঘি ঢেলেছে সার্ক সম্মেলন

Thursday, September 29, 2016 2:46 pm
154606_1

ঢাকা: বাংলাদেশসহ সার্কের চার সদস্য দেশের বর্জনের সিদ্ধান্তে আসন্ন শীর্ষ সম্মেলন স্থগিত হয়ে গেছে। এতে চরম ক্ষুব্ধ হয়েছে পাকিস্তান। তাদের সব ক্ষোভ গিয়ে পড়েছে ভারতের ওপর। এ কারণে পাক-ভারত উত্তেজনা আরো বেড়েছে। ফলে সহজেই অনুমেয় সহজেই থাকছেনা পাক-ভারত উত্তেজনা, এটা আরো অনেক দূর এগুতে পারে।

সার্ক সনদ অনুযায়ী সদস্যভুক্ত কোনো একটি দেশের রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধান অনুপস্থিত থাকলে শীর্ষ সম্মেলন হতে পারে না। বাংলাদেশ, ভারত, আফগানিস্তান ও ভুটান শীর্ষ সম্মেলনে অংশ না নেয়ার সিদ্ধান্ত গত মঙ্গলবার সার্কের চেয়ারকান্ট্রি নেপালকে জানিয়ে দিয়েছে। এর ফলে কার্যত সম্মেলন স্থগিত হয়ে গেছে।

বুধবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা সারতাজ আজিজকে উদ্ধৃত করে এ খবর দিয়েছে পাকিস্তানের জিও নিউজ এবং শামা টেলিভিশন।

এ দিকে নেপাল বুধবার পর্যন্ত ইসলামাবাদ শীর্ষ সম্মেলন আনুষ্ঠানিকভাবে স্থগিত ঘোষণা করেনি। আগামী শনিবার দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র সচিব জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে যোগদান শেষে নিউইয়র্ক থেকে কাঠমান্ডু ফিরে এলে এ ঘোষণা দেয়া হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সারতাজ আজিজ বলেন, সার্ক শীর্ষ সম্মেলন যখনই হবে, তা পাকিস্তানেই হবে।

এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের সব ক্ষোভ গিয়ে পড়েছে প্রতিবেশী ও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের ওপর। তারা ভিন্ন ইস্যুতে ভারতের প্রতি হুঙ্কার দিয়ে বলেছে, দুই দেশের অভিন্ন নদী থেকে পানি প্রত্যাহারের যেকোনো প্রচেষ্টা ‘যুদ্ধ ঘোষণা’র শামিল হিসেবে বিবেচনা করা হবে। কূটনৈতিকভাবে পাকিস্তানকে একঘরে করার পাশাপাশি ভারত থেকে পাকিস্তানে প্রবাহিত তিনটি নদী থেকে পানি প্রত্যাহারের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে ভারত।

পাকিস্তান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বুধবার রেডিও পাকিস্তানকে জানিয়েছেন, সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে কোনো দেশের যোগ না দেয়ার ব্যাপারে আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে এ সংক্রান্ত ভারতের ঘোষণা দুঃখজনক।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের উরিতে সেনা ব্রিগেড সদর দপ্তরে সন্ত্রাসী হামলায় ১৮ জন সৈন্য নিহত হওয়ার পর পাক-ভারত উত্তেজনা বাড়তে থাকে। ভারত এ জন্য সরাসরি পাকিস্তান সরকার সমর্থিত উগ্রবাদীগোষ্ঠীকে দায়ী করে এবং পাকিস্তানে সামরিক অভিযান চালানোর জন্য ভারতের অভ্যন্তর থেকে চাপ বাড়তে থাকে। তবে ভারত সরকার এটিকে কূটনৈতিকভাবে মোকাবেলা করার সিদ্ধান্ত নেয়।

উরির ঘটনা নিয়ে দিল্লিতে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত আবদুল বাসিতকে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দ্বিতীয়বারের মতো তলব করার পরেই সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে নরেন্দ্র মোদির যোগ না দেয়ার ঘোষণা আসে। কাছাকাছি সময়ে বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও ভুটানও সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে অপারগতা প্রকাশ করে।

এ ব্যাপারে বুধবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম সাংবাদিকদের বলেছেন, য্দ্ধুাপরাধীদের বিচারপ্রক্রিয়াসহ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অব্যাহতভাবে পাকিস্তানের হস্তেেপর কারণেই ইসলামাবাদে অনুষ্ঠেয় সার্ক শীর্ষ সম্মেলন বর্জন করছে বাংলাদেশ। আর এ সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের একেবারেই নিজস্ব।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার আমরা সার্কের সভাপতি নেপালকে পত্রের মাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছি নভেম্বরে পাকিস্তানে অনুষ্ঠেয় ১৯তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশ অংশগ্রহণ করছে না। বাংলাদেশ আরো জানিয়েছে, সার্কের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ আঞ্চলিক সহযোগিতা, মূল্যবোধ, সার্ক সনদ, কানেকটিভিটিসহ সার্বিক সহযোগিতায় বিশ্বাস করে। তাই সময় সুযোগ এলে বাংলাদেশ সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে একটি রাষ্ট্রের অব্যাহতভাবে হস্তপে এ ধরনের সম্মেলন অনুষ্ঠানের জন্য উপযোগী নয়। স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, বঙ্গবন্ধু, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের বিচার ও পরবর্তীতে ফাঁসির প্রশ্নে বাংলাদেশ কখনোই কারো সাথে আপস করেনি, করবেও না।

কূটনৈতিকভাবে পাকিস্তানকে একঘরে করার যে ঘোষণা ভারত দিয়েছে, সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে অংশ না নেয়ার বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত তার অংশ কি না- জানতে চাইলে শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘অন্য কোনো রাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের সাথে আমাদের সিদ্ধান্তের কোনো সম্পর্ক নেই। এটি আমাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত’।

ইসলামাবাদে হওয়ার কারণেই কি বাংলাদেশ সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিচ্ছে না- এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্থান নয়, পরিবেশটাই গুরুত্বপূর্ণ। নতুন করে আবার যদি কোনো প্রস্তাব আসে তখন বিবেচনা করা হবে।

এর ফলে দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর আঞ্চলিক সংস্থার সার্কের অস্তিত্ব বিলীন হতে যাচ্ছে কি না- জানতে চাইলে শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘১৮তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলনের আগেও দীর্ঘদিন সার্ক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়নি। সার্কের জন্ম ৩০ বছর হলেও এখন মাত্র ১৯তম শীর্ষ সম্মেলন চলছে।’

পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করবে কি না জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেছেন, সময়ই সেটা বলে দেবে।

অন্য দিকে ভুটান বলেছে, সার্ক প্রক্রিয়া ও আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করার ব্যাপারে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে সম্প্রতি এ অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদের উত্থান ইসলামাবাদে সফলভাবে সার্ক শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে গুরুতর নেতিবাচক পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। সন্ত্রাসবাদের কারণে আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার ব্যাপারে সার্কের কয়েকটি সদস্যরাষ্ট্রের উদ্বেগের অংশীদার ভুটান। এ অবস্থায় সার্ক সম্মেলনে যোগ দেয়া ভুটানের পক্ষে সম্ভব নয়।

আর আফগানিস্তান বলেছে, চাপিয়ে দেয়া সন্ত্রাসবাদের কারণে আফগানিস্তানে সহিংসতা ও হানাহানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এ অবস্থায় কমান্ডার ইন চিফ হিসেবে প্রেসিডেন্ট ঘানি খুবই ব্যস্ত। তাই তিনি সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে পারবেন না।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বিকাশ স্বরূপ সার্ক সম্মেলনে তার দেশের যোগ না দেয়ার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে টুইটার অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, আঞ্চলিক সহযোগিতা ও সন্ত্রাস এক সাথে চলতে পারে না। ইসলামাবাদে অনুষ্ঠেয় সার্ক শীর্ষ সম্মেলন থেকে সরে দাঁড়াল ভারত। তিনি লিখেছেন, সার্কের সভাপতি দেশ নেপালকে ভারত জানিয়েছে এ অঞ্চলে আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসী হামলা বেড়ে যাওয়ায় এবং সদস্য দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে একটি দেশের হস্তক্ষেপের কারণে এমন এক পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে, যা নভেম্বরে ইসলামাবাদে সার্ক শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনের জন্য সহায়ক নয়।

আঞ্চলিক সহযোগিতা, কানেকটিভিটি ও যোগাযোগের ব্যাপারে ভারত তার অঙ্গীকারের ব্যাপারে অবিচল আছে। তবে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ভারতের পক্ষে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠেয় শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেয়া সম্ভব নয়।

ভারতের এ ঘোষণার পর চটেছে পাকিস্তান। ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সম্ভাবনায় দেশের সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল রাহিল শরিফের সঙ্গে বুধবার জরুরি বৈঠক করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। এদিকে সাবেক সেনাপ্রধান ও সাবেক প্রেসিডেন্ট মোশাররফ ভারতের বিরুদ্ধে হুঙ্কার দিয়েছেন। সবমিলেই পাক-ভারতের বৈরি সম্পর্কের উত্তপ্ত পাতিলে যেন নতুন করে ঘি ঢেলেছে এই সার্ক শীর্ষ সম্মেলন ইস্যু।

 

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X