শনিবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সন্ধ্যা ৬:০৪
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Monday, November 28, 2016 10:40 pm | আপডেটঃ November 28, 2016 10:41 PM
A- A A+ Print

‘পানি ব্যবস্থাপনায় একসঙ্গে কাজ করতে হবে’

11

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘পানি ব্যবস্থাপনায় আমাদের এখনই একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ তার ভূমিকা পালনে অঙ্গীকারাবদ্ধ।’ সোমবার হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে পানি সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা অংশ নেন। এ সম্মেলনে ৭ দফা এজেন্ডা উত্থাপন করে বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে তাদের দেশের নীতিতে পানি সম্পর্কিত বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আন্তঃসীমান্ত পানিবণ্টনে যথাযথ নীতিমালা প্রণয়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আন্তঃসীমান্ত নদীর পানির সুব্যবস্থাপনা খুবই প্রয়োজনীয় বিষয়। দুষ্প্রাপ্যতা সবসময় পানি সংকটের প্রধান কারণ নয়। এ সমস্যা ন্যায্যবণ্টনের সঙ্গেও সম্পর্কিত। আন্তঃসীমান্ত প্রবাহের বণ্টন একটি জটিল বিষয় হয়ে দেখা দিয়েছে।’ ৫৪টি আন্তঃসীমান্ত নদীসহ ২৩০টি নদীবিধৌত দেশের প্রধানমন্ত্রী ও জাতিসংঘের পানিবিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের প্যানেলের সদস্য শেখ হাসিনা ৭ দফা এজেন্ডা উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের সংস্কৃতি, ধ্যান-ধারণা ও জীবনযাত্রার প্রধান অংশ জুড়ে আছে পানি।’ প্রথম এজেন্ডা হিসেবে তিনি বলেন, ‘এজেন্ডা ২০৩০-এ পানি এবং বৃহত্তর টেকসই উন্নয়ন কাঠামোর মধ্যে আন্তঃসংযোগ ও বিনিময়ের গৃহীত নীতি অনুযায়ী জাতীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ে যেকোনো উন্নয়ন প্রচেষ্টায় পানি হবে অবিচ্ছেদ্য অংশ।’ দ্বিতীয় এজেন্ডা হলো- বিশ্বে পিছিয়ে থাকা লাখ লাখ মানুষ অথবা গ্রুপ যারা বিশুদ্ধ খাবার পানি এবং স্যানিটেশন সুবিধাপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে সংকট মোকাবিলা করছে তাদের চাহিদার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। তৃতীয় এজেন্ডা- জলবায়ু পরিবর্তনে ঝুঁকির মুখোমুখী দেশগুলোর বিপন্ন এলাকায় পানি সম্পর্কিত বিপর্যয় রোধে সহায়ক কাঠামো নির্মাণ জরুরি। চতুর্থ এজেন্ডা- অব্যাহত পানি সংকটের জন্য পানির ঘাটতি মূল কারণ নয়। এখানে সুষম বণ্টনের জন্য আন্তঃসীমান্ত নদীর পানির কার্যকর ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পঞ্চম এজেন্ডা- কৃষি উন্নয়ন ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য ব্যাপকভাবে পানি ব্যবহার হচ্ছে। এজন্য সীমিত পানি ব্যবহার করে শস্য উৎপাদন করা যায়- এমন জাতের উন্নয়নে অব্যাহত প্রচেষ্টা চালাতে হবে এবং পানিসাশ্রয়ী প্রযুক্তির উন্নয়ন ঘটাতে হবে। ষষ্ঠ এজেন্ডা- আমাদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার উন্নয়নে প্রতিটি দেশের মধ্যে একে অপরের ‘লাইট-হাউস-ইনিশিয়েটিভ’ বিনিময় প্রয়োজন। বিশেষ করে, উন্নয়ন এবং পানিসম্পদের কার্যকর ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা ও কৌশল বিনিময় করতে হবে। সপ্তম এজেন্ডা- পানি সংক্রান্ত লক্ষ্য অর্জনে গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরে একটি বৈশ্বিক তহবিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশনের ক্ষেত্রে এমডিজির লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশের সাফল্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ বৈরী পরিস্থিতি মোকাবিলায় ধারাবাহিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে আসছে, যা ইতিমধ্যেই বিশ্বের প্রশংসা অর্জন করেছে।বাংলাদেশ বর্ষা মৌসুমে ব্যাপক পানিতে তলিয়ে যাওয়া এবং শুষ্ক মৌসুমে পানি ঘাটতির অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। অতিমাত্রায় ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীলতার কারণে বাংলাদেশের ঝুঁকি বাড়ছে।’ পরে প্রধানমন্ত্রী হাঙ্গেরির প্রেসিডেন্ট এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে সাসটেইনেবল ওয়াটার সলিউশন এক্সপো পরিদর্শন করেন।  

Comments

Comments!

 ‘পানি ব্যবস্থাপনায় একসঙ্গে কাজ করতে হবে’AmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

‘পানি ব্যবস্থাপনায় একসঙ্গে কাজ করতে হবে’

Monday, November 28, 2016 10:40 pm | আপডেটঃ November 28, 2016 10:41 PM
11

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘পানি ব্যবস্থাপনায় আমাদের এখনই একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ তার ভূমিকা পালনে অঙ্গীকারাবদ্ধ।’

সোমবার হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে পানি সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা অংশ নেন।

এ সম্মেলনে ৭ দফা এজেন্ডা উত্থাপন করে বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে তাদের দেশের নীতিতে পানি সম্পর্কিত বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আন্তঃসীমান্ত পানিবণ্টনে যথাযথ নীতিমালা প্রণয়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আন্তঃসীমান্ত নদীর পানির সুব্যবস্থাপনা খুবই প্রয়োজনীয় বিষয়। দুষ্প্রাপ্যতা সবসময় পানি সংকটের প্রধান কারণ নয়। এ সমস্যা ন্যায্যবণ্টনের সঙ্গেও সম্পর্কিত। আন্তঃসীমান্ত প্রবাহের বণ্টন একটি জটিল বিষয় হয়ে দেখা দিয়েছে।’

৫৪টি আন্তঃসীমান্ত নদীসহ ২৩০টি নদীবিধৌত দেশের প্রধানমন্ত্রী ও জাতিসংঘের পানিবিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের প্যানেলের সদস্য শেখ হাসিনা ৭ দফা এজেন্ডা উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের সংস্কৃতি, ধ্যান-ধারণা ও জীবনযাত্রার প্রধান অংশ জুড়ে আছে পানি।’

প্রথম এজেন্ডা হিসেবে তিনি বলেন, ‘এজেন্ডা ২০৩০-এ পানি এবং বৃহত্তর টেকসই উন্নয়ন কাঠামোর মধ্যে আন্তঃসংযোগ ও বিনিময়ের গৃহীত নীতি অনুযায়ী জাতীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ে যেকোনো উন্নয়ন প্রচেষ্টায় পানি হবে অবিচ্ছেদ্য অংশ।’

দ্বিতীয় এজেন্ডা হলো- বিশ্বে পিছিয়ে থাকা লাখ লাখ মানুষ অথবা গ্রুপ যারা বিশুদ্ধ খাবার পানি এবং স্যানিটেশন সুবিধাপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে সংকট মোকাবিলা করছে তাদের চাহিদার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

তৃতীয় এজেন্ডা- জলবায়ু পরিবর্তনে ঝুঁকির মুখোমুখী দেশগুলোর বিপন্ন এলাকায় পানি সম্পর্কিত বিপর্যয় রোধে সহায়ক কাঠামো নির্মাণ জরুরি।

চতুর্থ এজেন্ডা- অব্যাহত পানি সংকটের জন্য পানির ঘাটতি মূল কারণ নয়। এখানে সুষম বণ্টনের জন্য আন্তঃসীমান্ত নদীর পানির কার্যকর ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পঞ্চম এজেন্ডা- কৃষি উন্নয়ন ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য ব্যাপকভাবে পানি ব্যবহার হচ্ছে। এজন্য সীমিত পানি ব্যবহার করে শস্য উৎপাদন করা যায়- এমন জাতের উন্নয়নে অব্যাহত প্রচেষ্টা চালাতে হবে এবং পানিসাশ্রয়ী প্রযুক্তির উন্নয়ন ঘটাতে হবে।

ষষ্ঠ এজেন্ডা- আমাদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার উন্নয়নে প্রতিটি দেশের মধ্যে একে অপরের ‘লাইট-হাউস-ইনিশিয়েটিভ’ বিনিময় প্রয়োজন। বিশেষ করে, উন্নয়ন এবং পানিসম্পদের কার্যকর ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা ও কৌশল বিনিময় করতে হবে।

সপ্তম এজেন্ডা- পানি সংক্রান্ত লক্ষ্য অর্জনে গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরে একটি বৈশ্বিক তহবিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশনের ক্ষেত্রে এমডিজির লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশের সাফল্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ বৈরী পরিস্থিতি মোকাবিলায় ধারাবাহিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে আসছে, যা ইতিমধ্যেই বিশ্বের প্রশংসা অর্জন করেছে।বাংলাদেশ বর্ষা মৌসুমে ব্যাপক পানিতে তলিয়ে যাওয়া এবং শুষ্ক মৌসুমে পানি ঘাটতির অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। অতিমাত্রায় ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীলতার কারণে বাংলাদেশের ঝুঁকি বাড়ছে।’

পরে প্রধানমন্ত্রী হাঙ্গেরির প্রেসিডেন্ট এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে সাসটেইনেবল ওয়াটার সলিউশন এক্সপো পরিদর্শন করেন।

 

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X