বুধবার, ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৯ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, বিকাল ৩:৩৮
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Sunday, December 4, 2016 4:59 pm
A- A A+ Print

পারিকরের সফর নিয়ে নানা প্রশ্ন

13_1

ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী:  তবে কি বাংলাদেশের পা খানিকটা ফসকে গিয়েছে? ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর গোপালকৃষ্ণ প্রভু পারিকর সে পা আবার ভারতের পদচিহ্নে তুলে দিতে এসেছিলেন? এ জিজ্ঞাসা বাংলাদেশের অনেক নাগরিকের। বাংলাদেশের দুই দিনের সফর শেষে গত ১ ডিসেম্বর দিল্লিতে ফিরে গেছেন তিনি। এ ব্যাপারে ইন্টারেস্টিং খবর বেরিয়েছে। তিনি প্রধানমন্ত্রীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। কেন ‘সৌজন্য’, তার কোনো ব্যাখ্যা নেই। গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হলে তার মূল কথোপকথন হওয়ার কথা প্রধানমন্ত্রীর সাথেই; কিন্তু তিনি প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎকারটি সৌজন্যে সীমাবদ্ধ রেখেছেন। তার এই সফর সম্পর্কে তিনটি বিবৃতি পাওয়া গেছে। একটি বক্তব্যে এসেছে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিমের কাছ থেকে, আরেকটি বিবৃতি দিয়েছে আইএসপিআর, আর চূড়ান্ত বিবৃতি এসেছে ভারতীয় হাইকমিশন থেকে। এর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব আছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ওই সৌজন্য সাক্ষাতের পর জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে তার সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, কোনো দেশের বিরুদ্ধেই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার জন্য বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেয়া হবে না। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, বাংলাদেশে সফররত ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী পারিকর বৃহস্পতিবার ঢাকা সেনানিবাসের শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে শাহাদত বরণকারী সশস্ত্রবাহিনীর বীর সদস্যদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি শিখা অনির্বাণে পৌঁছলে সহকারী বিমানবাহিনী প্রধান (প্রশাসন) এয়ারভাইস মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত তাকে অভ্যর্থনা জানান। পরে সেনাকুঞ্জে সশস্ত্রবাহিনীর একটি চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করেছে। পত্রিকার রিপোর্টে বলা হয়েছে, ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বাংলাদেশের সশস্ত্রবাহিনীর সামর্থ্য ও সক্ষমতা বাড়াতে নতুন পদক্ষেপ নেয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পারিকর দুই দিনের ঢাকা সফরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতাদের সাথে আলোচনায় এ প্রস্তাব দেন। দুই নিকটপ্রতিবেশীর সশস্ত্রবাহিনীর মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে এ প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। ভারতীয় হাইকমিশনের বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের সাথে মনোহর পারিকরের ব্যাপকভিত্তিক আলোচনায় দুই দেশের সশস্ত্রবাহিনীর নেতৃত্বে ভ্রাতৃপ্রতিম বন্ধন আরো জোরদার হয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনীর সামর্থ্য ও সক্ষমতা বাড়াতে নতুন কিছু উদ্যোগ নেয়ার প্রস্তাব করেছেন। তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রদর্শিত স্বয়ম্ভরতা অর্জনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রূপকল্প (ভিশন) বাস্তবায়নে ভারতের পূর্ণ সমর্থনের কথা জানান। এসব আলোচনায় প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাড়ানো, যৌথ মহড়া পরিচালনা, এইচএটিআর (মানবিক সহায়তা দুর্যোগ মোকাবেলা) কর্মসূচি বাড়ানোর অনুষ্ঠান এবং সামুদ্রিক অর্থনীতিতে সহযোগিতার প্রসঙ্গ উঠে আসে। ভারতের কোনো প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে মনোহর পারিকর প্রথম বাংলাদেশে এলেন। সম্প্রতি নিষ্পত্তি হওয়া স্থল ও সমুদ্রসীমা ইস্যুর পর অনুষ্ঠিত এ সফরে দুই দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর মধ্যে বিনিময় বেড়েছে। এটি কোনো প্রতিবেশী দেশে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর প্রথম সফর এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের বাংলাদেশের সাথে সম্পর্কের ওপর বিশেষ গুরুত্ব প্রদানের ইঙ্গিতবাহী। হঠাৎ করেই ভারতীয় কোনো প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরের প্রয়োজন পড়ল কেন, সেটি সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। এমনকি নেপাল-ভুটানেও ভারতীয় কোনো প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সফরের কোনো প্রয়োজন দেখা দেয়নি। তাহলে? এই ‘তাহলে’র ভেতরে অনেক কথাই লুকিয়ে থাকতে পারে। এ কথা এখন সারা বিশ্বে ধারণা করা হয় যে, বাংলাদেশ ভুটানের মতোই ভারতের একটি অনুগামী দেশ হতে চলেছে। ভুটান ভারতের অনুমোদন ছাড়া পররাষ্ট্রনীতিতে এক পা-ও অগ্রসর হতে পারে না। তেমনি ভারতের অনুমোদন ছাড়া দেশীয় কোনো সিদ্ধান্ত কি গ্রহণ করতে পারে না? বাংলাদেশের অবস্থান তার চেয়ে ব্যতিক্রম হওয়াই কাম্য। ভারত তার অন্তত তিন প্রতিবেশীকে টেক্কা দেয়ার জন্য চারদেশীয় সড়ক যোগাযোগ চুক্তির উদ্যোগ শুরু করেছিল। নেপালও সেটা মেনে নিয়েছে। বাংলাদেশ তো একেবারে ‘কাছা খুলে’ সমর্থন দিয়েছে। শুধু সমর্থন দিয়েছে বললে ভুল হবেÑ প্রায় বিনা শর্তে বিনা মূল্যে বাংলাদেশের সড়ক, নৌ ও রেলপথ ভারতকে ব্যবহারের অনুমতি এসেছে ওই চুক্তি বাস্তবায়নের অনেক আগেই। ভারত প্রস্তাব করেছে আর বাংলাদেশ তাতে সানন্দে সাড়া দিয়েছে এবং এত দিন পরে ভুটান ভারতের ইঙ্গিতে বলেছে, ওই চারদেশীয় মোটর ভেহিক্যাল চুক্তি তাদের পক্ষে করা সম্ভব হবে না। অর্থাৎ এটাই স্পষ্ট যে, ভারত নেপাল ও বাংলাদেশকে ব্যবহার করে যথেচ্ছ বাণিজ্য সুবিধা গ্রহণ করতে পারে। তাহলে নেপাল বা বাংলাদেশ কি বসে বসে আঙুল চুষবে? এবার মনোহর পারিকরের বাংলাদেশ সফর নানা কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। পারিকর বাংলাদেশ সফরে আসার আগে ভারতের গণমাধ্যমগুলো খবর দিয়েছিল, ডিসেম্বরে দিল্লিতে শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদির মধ্যে শীর্ষ বৈঠকে একটি নিরাপত্তা সহযোগিতার চুক্তি সইয়ের বিষয় চূড়ান্ত করাই তার সফরের মূল উদ্দেশ্য। এ ব্যাপারে বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে সেখানকার গণমাধ্যম খবর দিয়েছে, দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা জোরদার করার জন্য নতুন এক রূপরেখার প্রস্তাব দিয়েছে ভারত। এই রূপরেখায় প্রশিক্ষণ ও যৌথ মহড়াসহ বিভিন্ন উপাদান রয়েছে। মনোহর পারিকরের বাংলাদেশ সফরের আগে ‘আইবি টাইমস’-এর এক খবরে বলা হয়, ভারত তার বন্ধু প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে প্রতিরক্ষাজনিত কারণে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত, তা পারিকরের বাংলাদেশ সফর থেকে স্পষ্ট। ভারতীয় গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চের গবেষক অধ্যাপক ভরত কনরাড আইবি টাইমসকে বলেছেন, এ অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান অগ্রযাত্রা ভারত প্রতিহত করতে চায়। মনোহর পারিকরের এই গুরুত্ববহ সফর সে বার্তাই নিয়ে এসেছিল। বাংলাদেশের সাথে চীনের যে সাবমেরিন চুক্তি হয়েছে, তা থেকে বেইজিং হয়তো সুবিধা আদায় করতে চাইবে। সে অনুযায়ী ইতোমধ্যে চীনের ডালিয়ান বন্দরে বাংলাদেশের কাছে সাবমেরিন দু’টি হস্তান্তর করা হয়েছে; কিন্তু চীন যে সুবিধা আদায় করতে চায়, ভারতের মোদি সরকার তা হতে দেবে না। আইবি টাইমসের ওই খবরে আরো বলা হয়, ভারত সম্ভবত বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে টহল জাহাজ দেয়ার প্রস্তাব করবে। ভারত ইতোমধ্যেই এ অঞ্চলে ওই জাহাজ রফতানি করতে শুরু করেছে। পারিকর তার সফরের সময় হয়তো ঢাকার সাথে দুই দেশের যৌথ সামরিক মহড়ার বিষয়েও কথা বলবেন। এ ছাড়াও দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা খাতে নতুন মাত্রায় সহযোগিতার ব্যাপারেও কথা বলবেন পারিকর ও তার সফরসঙ্গীরা। এই পদক্ষেপের আওতায় বাংলাদেশকে সামরিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি সরবরাহসহ যৌথ মহড়া এবং বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে ভারত।’ ভারতের প্রতিরক্ষাবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা বুঝতেই পারছেন না যে, দিল্লির সবুজ সঙ্কেত ছাড়া বাংলাদেশ কেন চীনা সাবমেরিন নিজের বহরে সংযুক্ত করতে যাচ্ছে। সমুদ্রসীমা নিয়ে ভারত ও মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের বিরোধের মীমাংসা এর মধ্যে হয়ে গেছে। তা ছাড়া, সাবমেরিন সব সময় আক্রমণাত্মক সমরাস্ত্র হিসেবে বিবেচিত হয়; বিশেষ করে সমুদ্রসীমার বিরোধকালে। বাংলাদেশের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ঐতিহ্যগতভাবে চীননির্ভর। শেখ হাসিনা সরকারও তার খোল নলচে বদলে ফেলতে চায়নি। সেটা সম্ভবও নয়; কিন্তু মনোহর পারিকর এমন ‘অনুগামী’ বাংলাদেশ চাইছেন যে, তারা সমরাস্ত্রের ক্ষেত্রে ভারতনির্ভর হয়ে উঠুক। আবার চীনের কাছ থেকে বাংলাদেশের দু’টি সাবমেরিন বাংলাদেশের হাতে পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই নরেন্দ্র মোদি সরকার তার প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহরকে ঢাকায় পাঠিয়েছে। এতে স্পষ্টই বোঝা যায়, বাংলাদেশ চীনের কাছ থেকে সাবমেরিন কেনায় ভারত খুশি তো হয়নি, বরং বাংলাদেশকে সুকৌশলে সতর্ক করতে চাইছে যে, অব্যাহতভাবে সমরাস্ত্র কেনাকে তারা ভালো চোখে দেখছে না। আর ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সাথে ছিল ১১ সদস্যের প্রতিনিধিদল, যাতে তাদের সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর উপপ্রধানেরা ছিলেন। ভারতীয় প্রতিনিধিদল চট্টগ্রামের ভাটিয়ারিতে অবস্থিত বাংলাদেশের মিলিটারি একাডেমি পরিদর্শন করেছে। ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী যখন বাংলাদেশে এসেছেন, তখন দুই দেশের সেনাবাহিনীর যৌথ সামরিক মহড়া অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পাশাপাশি, ভারতীয় নৌবাহিনীর ফার্স্ট ট্রেনিং স্কোয়াড্রন দিন কয়েক আগেই চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়েছে, যাতে রয়েছে রণতরী আইএনএস তীর ও সুজাতা; আর উপকূল রক্ষীবাহিনী কোস্ট গার্ডের জাহাজ বরুণা। অর্থাৎ সামরিক সহযোগিতা তো চলছেই; কিন্তু ভারত সব ধরনের সমরাস্ত্র কিনতে পারবে, বানাতে পারবে এবং পরমাণু অস্ত্র রাখতে পারবে। অথচ বাংলাদেশ তার নিজস্ব প্রতিরক্ষাব্যবস্থা জোরদার করতে পারবে না, এটা তো হতে পারে না। এ কথা ঠিক যে, চীন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ভারতের চেয়ে শতগুণ বেশি এগিয়ে আছে। চীনের ঋণচুক্তিও ভারতের চেয়ে অনেক সহজ শর্তযুক্ত। ওয়াকিবহাল মহল বলছে, ভারত কেবল নিতেই চায়, কিন্তু চীন তার প্রতিবেশীদের ঋণ দেয় বটে; তবে চীনের ভেতরে লুটেরা নীতি নেই। ভারতীয় প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা স্বীকার করেছেন, চীন বাংলাদেশকে যে ধরনের বিপুল অর্থনৈতিক ও সামরিক সহযোগিতা দিচ্ছে, তাকে টেক্কা দেয়ার সাধ্য ভারতের নেই। সে কারণে খুব স্বাভাবিকভাবে চীনের সাথে এ দেশগুলোর অর্থনৈতিক সুসম্পর্ক জোরদার হচ্ছে, ভারত যেটা পছন্দ করছে না। আর তাই বিশ্বে ভারতের অনুগামী রাষ্ট্র (ভ্যাসাল স্টেট) করার টার্গেট, বাংলাদেশকে যে করেই হোক চীনবিমুখ করে তুলতে চাওয়া হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে এ পর্যন্ত যা দেখা গেছে, তাতে ধারণা হয়; বাংলাদেশ ভারতের অনুকূল সিদ্ধান্ত না নিয়ে আর কোনো পথে যেতে পারবে না। লেখক : সাংবাদিক ও সাহিত্যিক rezwansiddiqui@yahoo.com

Comments

Comments!

 পারিকরের সফর নিয়ে নানা প্রশ্নAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

পারিকরের সফর নিয়ে নানা প্রশ্ন

Sunday, December 4, 2016 4:59 pm
13_1

ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী:  তবে কি বাংলাদেশের পা খানিকটা ফসকে গিয়েছে? ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর গোপালকৃষ্ণ প্রভু পারিকর সে পা আবার ভারতের পদচিহ্নে তুলে দিতে এসেছিলেন? এ জিজ্ঞাসা বাংলাদেশের অনেক নাগরিকের। বাংলাদেশের দুই দিনের সফর শেষে গত ১ ডিসেম্বর দিল্লিতে ফিরে গেছেন তিনি। এ ব্যাপারে ইন্টারেস্টিং খবর বেরিয়েছে। তিনি প্রধানমন্ত্রীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। কেন ‘সৌজন্য’, তার কোনো ব্যাখ্যা নেই। গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হলে তার মূল কথোপকথন হওয়ার কথা প্রধানমন্ত্রীর সাথেই; কিন্তু তিনি প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎকারটি সৌজন্যে সীমাবদ্ধ রেখেছেন। তার এই সফর সম্পর্কে তিনটি বিবৃতি পাওয়া গেছে। একটি বক্তব্যে এসেছে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিমের কাছ থেকে, আরেকটি বিবৃতি দিয়েছে আইএসপিআর, আর চূড়ান্ত বিবৃতি এসেছে ভারতীয় হাইকমিশন থেকে। এর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব আছে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ওই সৌজন্য সাক্ষাতের পর জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে তার সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, কোনো দেশের বিরুদ্ধেই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার জন্য বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেয়া হবে না। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, বাংলাদেশে সফররত ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী পারিকর বৃহস্পতিবার ঢাকা সেনানিবাসের শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে শাহাদত বরণকারী সশস্ত্রবাহিনীর বীর সদস্যদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি শিখা অনির্বাণে পৌঁছলে সহকারী বিমানবাহিনী প্রধান (প্রশাসন) এয়ারভাইস মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত তাকে অভ্যর্থনা জানান। পরে সেনাকুঞ্জে সশস্ত্রবাহিনীর একটি চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করেছে।
পত্রিকার রিপোর্টে বলা হয়েছে, ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বাংলাদেশের সশস্ত্রবাহিনীর সামর্থ্য ও সক্ষমতা বাড়াতে নতুন পদক্ষেপ নেয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পারিকর দুই দিনের ঢাকা সফরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতাদের সাথে আলোচনায় এ প্রস্তাব দেন। দুই নিকটপ্রতিবেশীর সশস্ত্রবাহিনীর মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে এ প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। ভারতীয় হাইকমিশনের বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের সাথে মনোহর পারিকরের ব্যাপকভিত্তিক আলোচনায় দুই দেশের সশস্ত্রবাহিনীর নেতৃত্বে ভ্রাতৃপ্রতিম বন্ধন আরো জোরদার হয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনীর সামর্থ্য ও সক্ষমতা বাড়াতে নতুন কিছু উদ্যোগ নেয়ার প্রস্তাব করেছেন। তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রদর্শিত স্বয়ম্ভরতা অর্জনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রূপকল্প (ভিশন) বাস্তবায়নে ভারতের পূর্ণ সমর্থনের কথা জানান। এসব আলোচনায় প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাড়ানো, যৌথ মহড়া পরিচালনা, এইচএটিআর (মানবিক সহায়তা দুর্যোগ মোকাবেলা) কর্মসূচি বাড়ানোর অনুষ্ঠান এবং সামুদ্রিক অর্থনীতিতে সহযোগিতার প্রসঙ্গ উঠে আসে।
ভারতের কোনো প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে মনোহর পারিকর প্রথম বাংলাদেশে এলেন। সম্প্রতি নিষ্পত্তি হওয়া স্থল ও সমুদ্রসীমা ইস্যুর পর অনুষ্ঠিত এ সফরে দুই দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর মধ্যে বিনিময় বেড়েছে। এটি কোনো প্রতিবেশী দেশে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর প্রথম সফর এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের বাংলাদেশের সাথে সম্পর্কের ওপর বিশেষ গুরুত্ব প্রদানের ইঙ্গিতবাহী। হঠাৎ করেই ভারতীয় কোনো প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরের প্রয়োজন পড়ল কেন, সেটি সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। এমনকি নেপাল-ভুটানেও ভারতীয় কোনো প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সফরের কোনো প্রয়োজন দেখা দেয়নি। তাহলে? এই ‘তাহলে’র ভেতরে অনেক কথাই লুকিয়ে থাকতে পারে। এ কথা এখন সারা বিশ্বে ধারণা করা হয় যে, বাংলাদেশ ভুটানের মতোই ভারতের একটি অনুগামী দেশ হতে চলেছে। ভুটান ভারতের অনুমোদন ছাড়া পররাষ্ট্রনীতিতে এক পা-ও অগ্রসর হতে পারে না। তেমনি ভারতের অনুমোদন ছাড়া দেশীয় কোনো সিদ্ধান্ত কি গ্রহণ করতে পারে না? বাংলাদেশের অবস্থান তার চেয়ে ব্যতিক্রম হওয়াই কাম্য। ভারত তার অন্তত তিন প্রতিবেশীকে টেক্কা দেয়ার জন্য চারদেশীয় সড়ক যোগাযোগ চুক্তির উদ্যোগ শুরু করেছিল। নেপালও সেটা মেনে নিয়েছে। বাংলাদেশ তো একেবারে ‘কাছা খুলে’ সমর্থন দিয়েছে। শুধু সমর্থন দিয়েছে বললে ভুল হবেÑ প্রায় বিনা শর্তে বিনা মূল্যে বাংলাদেশের সড়ক, নৌ ও রেলপথ ভারতকে ব্যবহারের অনুমতি এসেছে ওই চুক্তি বাস্তবায়নের অনেক আগেই। ভারত প্রস্তাব করেছে আর বাংলাদেশ তাতে সানন্দে সাড়া দিয়েছে এবং এত দিন পরে ভুটান ভারতের ইঙ্গিতে বলেছে, ওই চারদেশীয় মোটর ভেহিক্যাল চুক্তি তাদের পক্ষে করা সম্ভব হবে না। অর্থাৎ এটাই স্পষ্ট যে, ভারত নেপাল ও বাংলাদেশকে ব্যবহার করে যথেচ্ছ বাণিজ্য সুবিধা গ্রহণ করতে পারে। তাহলে নেপাল বা বাংলাদেশ কি বসে বসে আঙুল চুষবে?
এবার মনোহর পারিকরের বাংলাদেশ সফর নানা কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। পারিকর বাংলাদেশ সফরে আসার আগে ভারতের গণমাধ্যমগুলো খবর দিয়েছিল, ডিসেম্বরে দিল্লিতে শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদির মধ্যে শীর্ষ বৈঠকে একটি নিরাপত্তা সহযোগিতার চুক্তি সইয়ের বিষয় চূড়ান্ত করাই তার সফরের মূল উদ্দেশ্য। এ ব্যাপারে বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে সেখানকার গণমাধ্যম খবর দিয়েছে, দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা জোরদার করার জন্য নতুন এক রূপরেখার প্রস্তাব দিয়েছে ভারত। এই রূপরেখায় প্রশিক্ষণ ও যৌথ মহড়াসহ বিভিন্ন উপাদান রয়েছে। মনোহর পারিকরের বাংলাদেশ সফরের আগে ‘আইবি টাইমস’-এর এক খবরে বলা হয়, ভারত তার বন্ধু প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে প্রতিরক্ষাজনিত কারণে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত, তা পারিকরের বাংলাদেশ সফর থেকে স্পষ্ট। ভারতীয় গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চের গবেষক অধ্যাপক ভরত কনরাড আইবি টাইমসকে বলেছেন, এ অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান অগ্রযাত্রা ভারত প্রতিহত করতে চায়।
মনোহর পারিকরের এই গুরুত্ববহ সফর সে বার্তাই নিয়ে এসেছিল। বাংলাদেশের সাথে চীনের যে সাবমেরিন চুক্তি হয়েছে, তা থেকে বেইজিং হয়তো সুবিধা আদায় করতে চাইবে। সে অনুযায়ী ইতোমধ্যে চীনের ডালিয়ান বন্দরে বাংলাদেশের কাছে সাবমেরিন দু’টি হস্তান্তর করা হয়েছে; কিন্তু চীন যে সুবিধা আদায় করতে চায়, ভারতের মোদি সরকার তা হতে দেবে না। আইবি টাইমসের ওই খবরে আরো বলা হয়, ভারত সম্ভবত বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে টহল জাহাজ দেয়ার প্রস্তাব করবে। ভারত ইতোমধ্যেই এ অঞ্চলে ওই জাহাজ রফতানি করতে শুরু করেছে। পারিকর তার সফরের সময় হয়তো ঢাকার সাথে দুই দেশের যৌথ সামরিক মহড়ার বিষয়েও কথা বলবেন। এ ছাড়াও দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা খাতে নতুন মাত্রায় সহযোগিতার ব্যাপারেও কথা বলবেন পারিকর ও তার সফরসঙ্গীরা। এই পদক্ষেপের আওতায় বাংলাদেশকে সামরিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি সরবরাহসহ যৌথ মহড়া এবং বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে ভারত।’
ভারতের প্রতিরক্ষাবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা বুঝতেই পারছেন না যে, দিল্লির সবুজ সঙ্কেত ছাড়া বাংলাদেশ কেন চীনা সাবমেরিন নিজের বহরে সংযুক্ত করতে যাচ্ছে। সমুদ্রসীমা নিয়ে ভারত ও মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের বিরোধের মীমাংসা এর মধ্যে হয়ে গেছে। তা ছাড়া, সাবমেরিন সব সময় আক্রমণাত্মক সমরাস্ত্র হিসেবে বিবেচিত হয়; বিশেষ করে সমুদ্রসীমার বিরোধকালে। বাংলাদেশের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ঐতিহ্যগতভাবে চীননির্ভর। শেখ হাসিনা সরকারও তার খোল নলচে বদলে ফেলতে চায়নি। সেটা সম্ভবও নয়; কিন্তু মনোহর পারিকর এমন ‘অনুগামী’ বাংলাদেশ চাইছেন যে, তারা সমরাস্ত্রের ক্ষেত্রে ভারতনির্ভর হয়ে উঠুক। আবার চীনের কাছ থেকে বাংলাদেশের দু’টি সাবমেরিন বাংলাদেশের হাতে পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই নরেন্দ্র মোদি সরকার তার প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহরকে ঢাকায় পাঠিয়েছে। এতে স্পষ্টই বোঝা যায়, বাংলাদেশ চীনের কাছ থেকে সাবমেরিন কেনায় ভারত খুশি তো হয়নি, বরং বাংলাদেশকে সুকৌশলে সতর্ক করতে চাইছে যে, অব্যাহতভাবে সমরাস্ত্র কেনাকে তারা ভালো চোখে দেখছে না। আর ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সাথে ছিল ১১ সদস্যের প্রতিনিধিদল, যাতে তাদের সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর উপপ্রধানেরা ছিলেন। ভারতীয় প্রতিনিধিদল চট্টগ্রামের ভাটিয়ারিতে অবস্থিত বাংলাদেশের মিলিটারি একাডেমি পরিদর্শন করেছে।
ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী যখন বাংলাদেশে এসেছেন, তখন দুই দেশের সেনাবাহিনীর যৌথ সামরিক মহড়া অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পাশাপাশি, ভারতীয় নৌবাহিনীর ফার্স্ট ট্রেনিং স্কোয়াড্রন দিন কয়েক আগেই চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়েছে, যাতে রয়েছে রণতরী আইএনএস তীর ও সুজাতা; আর উপকূল রক্ষীবাহিনী কোস্ট গার্ডের জাহাজ বরুণা। অর্থাৎ সামরিক সহযোগিতা তো চলছেই; কিন্তু ভারত সব ধরনের সমরাস্ত্র কিনতে পারবে, বানাতে পারবে এবং পরমাণু অস্ত্র রাখতে পারবে। অথচ বাংলাদেশ তার নিজস্ব প্রতিরক্ষাব্যবস্থা জোরদার করতে পারবে না, এটা তো হতে পারে না। এ কথা ঠিক যে, চীন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ভারতের চেয়ে শতগুণ বেশি এগিয়ে আছে। চীনের ঋণচুক্তিও ভারতের চেয়ে অনেক সহজ শর্তযুক্ত। ওয়াকিবহাল মহল বলছে, ভারত কেবল নিতেই চায়, কিন্তু চীন তার প্রতিবেশীদের ঋণ দেয় বটে; তবে চীনের ভেতরে লুটেরা নীতি নেই। ভারতীয় প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা স্বীকার করেছেন, চীন বাংলাদেশকে যে ধরনের বিপুল অর্থনৈতিক ও সামরিক সহযোগিতা দিচ্ছে, তাকে টেক্কা দেয়ার সাধ্য ভারতের নেই। সে কারণে খুব স্বাভাবিকভাবে চীনের সাথে এ দেশগুলোর অর্থনৈতিক সুসম্পর্ক জোরদার হচ্ছে, ভারত যেটা পছন্দ করছে না। আর তাই বিশ্বে ভারতের অনুগামী রাষ্ট্র (ভ্যাসাল স্টেট) করার টার্গেট, বাংলাদেশকে যে করেই হোক চীনবিমুখ করে তুলতে চাওয়া হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে এ পর্যন্ত যা দেখা গেছে, তাতে ধারণা হয়; বাংলাদেশ ভারতের অনুকূল সিদ্ধান্ত না নিয়ে আর কোনো পথে যেতে পারবে না।
লেখক : সাংবাদিক ও সাহিত্যিক
rezwansiddiqui@yahoo.com

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X