মঙ্গলবার, ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৮ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সকাল ৮:১০
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Sunday, May 14, 2017 3:05 pm
A- A A+ Print

পার্টি, ইয়াবা, নারী লাগামহীন জীবন ওদের

65356_lead

নারী ও মদে ডুবে থাকতো সাফাত আহমেদ, নাঈম আশরাফরা। দেশে-বিদেশে ছিল তাদের বেপরোয়া বিচরণ। সন্ধ্যার পরপরই জমতো তাদের পার্টি। পার্টিতে থাকতো বিদেশি মদ, ইয়াবা ও সুন্দরী মডেলরা। পার্টিতে অংশ নিতো নাঈম, দুই এমপি পুত্র ছাড়াও সাফাতের কয়েক ঘনিষ্ঠ বন্ধু। পার্টি চলতো গভীর রাত পর্যন্ত। কখনও কখনও পরদিন ভোরে শেষ হতো এসব পার্টি। প্রথম সারির সুন্দরী মডেল-আইটেম গার্লরা তাদের রাতের সঙ্গী হতো।  কোনো কোনো মডেলকে নিয়ে দেশের বাইরে চলে যেতো সাফাত। আপন জুয়েলার্সের বিজ্ঞাপনের মডেল বানানোর কথা বলে, এম্বাসেডর করার প্রস্তাব দিয়ে মডেলদের ডেকে আনা হতো। অনেকে নিজ থেকেই যোগাযোগ করতেন সাফাতের সঙ্গে। সমঝোতার মাধ্যমেই প্রতিরাতে সুন্দরী মডেল, আইটেমগার্ল ও উপস্থাপকদের সঙ্গ পেতো। সূত্রমতে, বিত্তশালী পিতার সন্তান হিসেবে অর্থের যেনতেন ব্যবহার করতো সাফাত। যাকে ভালো লাগতো তাকেই বিভিন্ন কৌশলে প্রস্তাব দেয়া হতো। নারী সংগ্রহের কাজটি করতো নাঈম আশরাফ ওরফে হাসান মো. হালিম। ২০১৬ সালের মার্চ থেকেই নাঈমের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি পায় সাফাতের। প্রতারক হিসেবে পরিচিত সিরাজগঞ্জের এক দিনমজুরের ছেলে নাঈম আশরাফ রাতারাতি হয়ে যায় সাফাতের বেস্ট ফ্রেন্ড। শুধু তাই না, সাফাতের মাধ্যমে সম্পর্ক হয় তার পিতা আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ সেলিমের সঙ্গে। সেলিমের কাছেও প্রিয় হয়ে উঠে নাঈম আশরাফ। বনানীর কয়েকটি রেস্টুরেন্টে ছিল তাদের আড্ডা। বনানী-১১ এর একটি রেস্টুরেন্টে সন্ধ্যার পরপর গাঁজা ও ইয়াবার আড্ডা দিতো তারা। সেখানে এক এমপি’র ছেলে নিয়মিত অংশ নিতো। রেস্টুরেন্টগুলোতে মদের বার নেই তবু মদের আড্ডা দিতো তারা। এমনকি একজন ক্রিকেটারের মালিকানাধীন হিসেবে পরিচিত রেস্টুরেন্টেও শেয়ার রয়েছে সাফাতের। শুধু রেস্টুরেন্ট না, বাসায়ও আড্ডা দিতো তারা। দরজা বন্ধ করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাসার কক্ষে সময় কাটাতো। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে অধ্যয়নকালেই প্রেম করে ২০১১ সালে বিয়ে করে সাফাত। কিন্তু তার বেপরোয়া জীবনযাপনের কারণে ওই বিয়ে টিকেনি। দ্বিতীয় বিয়ে করেন মডেল পিয়াসাকে। কিন্তু এই বিয়ে মেনে নিতে পারেননি সাফাতের পিতা দিলদার আহমেদ সেলিম। যদিও ঘনিষ্ঠরা জানান, পিয়াসার সঙ্গে বিয়ের পর কিছুটা পরিবর্তন আসে সাফাতের জীবনে। বিয়ের পরেই পিয়াসা জানতে পারেন সাফাত ইয়াবা সেবন করে। তার বন্ধু নাঈম আশরাফ মাদকাসক্ত। এরপর নাঈমের সঙ্গ ছাড়াতে চেষ্টা করেন পিয়াসা। কিন্তু ততদিনে দিলদার আহমেদ সেলিমের প্রিয়ভাজনে পরিণত হয় নাঈম। তিনি চাইতেন তার ছেলে সাফাতের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক থাকুক নাঈমের। পিয়াসা জানান, সাফাতের পিতাই তাকে বিপদগামী করেছে। নাঈমের মাধ্যমে ছেলেকে মদ ও নারীর ব্যবস্থা  করে দিতেন  তিনি। সাফাতকে এই বেপরোয়া জীবনযাপন থেকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন পিয়াসা। ৮ই মার্চ তাকে ডিভোর্স দেয় সাফাত। এরপরই প্রথম সারির এক মডেল নিয়ে সাফাত চলে যায় ইন্ডিয়া। সেখানে অন্তরঙ্গ সময় কাটায় তারা। একটি বারে পিয়া বিপাশা নামক মডেলের সঙ্গে মদ পান করতে দেখা গেছে সাফাতকে। ২৮শে মার্চ বনানীর হোটেল রেইনট্রিতে দুই তরুণীকে জন্মদিনের পার্টির দাওয়াত দিয়ে আনা হয়েছিলো। দুই তরুণীর একজনের অন্যত্র কাজ থাকায় আসতে চাননি। সাফাত তখন তাদের ফোনে বলেছিলেন, তোমরা না এলে কেক কাটবো না। পরে গানম্যান ও গাড়ি পাঠিয়ে তাদের পার্টিতে আনা হয়। এসময় ওই পার্টিতে দুই তরুণীর এক ডাক্তার বন্ধু ও আরেক তরুণীও অংশ নেন। রাত ৯টার দিকে ওই ডাক্তারসহ তরুণীরা চলে যেতে চাইলে ডাক্তারকে মারধর করে তার গাড়ির চাবি ও  মোবাইলফোন কেড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের একটি রুমে সারারাত আটকে রাখা হয়। পরে দুই তরুণীকে রাতভর ধর্ষণ করা হয়। এসময় সাফাতের নির্দেশে ভিডিও করে তার গাড়ি চালক বিল্লাল। সেই ভিডিও এখনো উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। ডিবি’র অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শাহজাহান জানান, মারধরের ভিডিও করেছে বলে তারা স্বীকার করেছে। কিন্তু ভিডিও এখনো পাওয়া যায়নি। জিজ্ঞাসাবাদে অনেক তথ্য গোপন করার চেষ্টা করছে সাফাত ও নাঈম। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

Comments

Comments!

 পার্টি, ইয়াবা, নারী লাগামহীন জীবন ওদেরAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

পার্টি, ইয়াবা, নারী লাগামহীন জীবন ওদের

Sunday, May 14, 2017 3:05 pm
65356_lead

নারী ও মদে ডুবে থাকতো সাফাত আহমেদ, নাঈম আশরাফরা। দেশে-বিদেশে ছিল তাদের বেপরোয়া বিচরণ। সন্ধ্যার পরপরই জমতো তাদের পার্টি। পার্টিতে থাকতো বিদেশি মদ, ইয়াবা ও সুন্দরী মডেলরা। পার্টিতে অংশ নিতো নাঈম, দুই এমপি পুত্র
ছাড়াও সাফাতের কয়েক ঘনিষ্ঠ বন্ধু। পার্টি চলতো গভীর রাত পর্যন্ত। কখনও কখনও পরদিন ভোরে শেষ হতো এসব পার্টি। প্রথম সারির সুন্দরী মডেল-আইটেম গার্লরা তাদের রাতের সঙ্গী হতো।  কোনো কোনো মডেলকে নিয়ে দেশের বাইরে চলে যেতো সাফাত। আপন জুয়েলার্সের বিজ্ঞাপনের মডেল বানানোর কথা বলে, এম্বাসেডর করার প্রস্তাব দিয়ে মডেলদের ডেকে আনা হতো। অনেকে নিজ থেকেই যোগাযোগ করতেন সাফাতের সঙ্গে। সমঝোতার মাধ্যমেই প্রতিরাতে সুন্দরী মডেল, আইটেমগার্ল ও উপস্থাপকদের সঙ্গ পেতো।
সূত্রমতে, বিত্তশালী পিতার সন্তান হিসেবে অর্থের যেনতেন ব্যবহার করতো সাফাত। যাকে ভালো লাগতো তাকেই বিভিন্ন কৌশলে প্রস্তাব দেয়া হতো। নারী সংগ্রহের কাজটি করতো নাঈম আশরাফ ওরফে হাসান মো. হালিম। ২০১৬ সালের মার্চ থেকেই নাঈমের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি পায় সাফাতের। প্রতারক হিসেবে পরিচিত সিরাজগঞ্জের এক দিনমজুরের ছেলে নাঈম আশরাফ রাতারাতি হয়ে যায় সাফাতের বেস্ট ফ্রেন্ড। শুধু তাই না, সাফাতের মাধ্যমে সম্পর্ক হয় তার পিতা আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ সেলিমের সঙ্গে। সেলিমের কাছেও প্রিয় হয়ে উঠে নাঈম আশরাফ। বনানীর কয়েকটি রেস্টুরেন্টে ছিল তাদের আড্ডা। বনানী-১১ এর একটি রেস্টুরেন্টে সন্ধ্যার পরপর গাঁজা ও ইয়াবার আড্ডা দিতো তারা। সেখানে এক এমপি’র ছেলে নিয়মিত অংশ নিতো। রেস্টুরেন্টগুলোতে মদের বার নেই তবু মদের আড্ডা দিতো তারা। এমনকি একজন ক্রিকেটারের মালিকানাধীন হিসেবে পরিচিত রেস্টুরেন্টেও শেয়ার রয়েছে সাফাতের। শুধু রেস্টুরেন্ট না, বাসায়ও আড্ডা দিতো তারা। দরজা বন্ধ করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাসার কক্ষে সময় কাটাতো।
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে অধ্যয়নকালেই প্রেম করে ২০১১ সালে বিয়ে করে সাফাত। কিন্তু তার বেপরোয়া জীবনযাপনের কারণে ওই বিয়ে টিকেনি। দ্বিতীয় বিয়ে করেন মডেল পিয়াসাকে। কিন্তু এই বিয়ে মেনে নিতে পারেননি সাফাতের পিতা দিলদার আহমেদ সেলিম। যদিও ঘনিষ্ঠরা জানান, পিয়াসার সঙ্গে বিয়ের পর কিছুটা পরিবর্তন আসে সাফাতের জীবনে। বিয়ের পরেই পিয়াসা জানতে পারেন সাফাত ইয়াবা সেবন করে। তার বন্ধু নাঈম আশরাফ মাদকাসক্ত। এরপর নাঈমের সঙ্গ ছাড়াতে চেষ্টা করেন পিয়াসা। কিন্তু ততদিনে দিলদার আহমেদ সেলিমের প্রিয়ভাজনে পরিণত হয় নাঈম। তিনি চাইতেন তার ছেলে সাফাতের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক থাকুক নাঈমের। পিয়াসা জানান, সাফাতের পিতাই তাকে বিপদগামী করেছে। নাঈমের মাধ্যমে ছেলেকে মদ ও নারীর ব্যবস্থা  করে দিতেন  তিনি। সাফাতকে এই বেপরোয়া জীবনযাপন থেকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন পিয়াসা। ৮ই মার্চ তাকে ডিভোর্স দেয় সাফাত। এরপরই প্রথম সারির এক মডেল নিয়ে সাফাত চলে যায় ইন্ডিয়া। সেখানে অন্তরঙ্গ সময় কাটায় তারা। একটি বারে পিয়া বিপাশা নামক মডেলের সঙ্গে মদ পান করতে দেখা গেছে সাফাতকে।
২৮শে মার্চ বনানীর হোটেল রেইনট্রিতে দুই তরুণীকে জন্মদিনের পার্টির দাওয়াত দিয়ে আনা হয়েছিলো। দুই তরুণীর একজনের অন্যত্র কাজ থাকায় আসতে চাননি। সাফাত তখন তাদের ফোনে বলেছিলেন, তোমরা না এলে কেক কাটবো না। পরে গানম্যান ও গাড়ি পাঠিয়ে তাদের পার্টিতে আনা হয়। এসময় ওই পার্টিতে দুই তরুণীর এক ডাক্তার বন্ধু ও আরেক তরুণীও অংশ নেন। রাত ৯টার দিকে ওই ডাক্তারসহ তরুণীরা চলে যেতে চাইলে ডাক্তারকে মারধর করে তার গাড়ির চাবি ও  মোবাইলফোন কেড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের একটি রুমে সারারাত আটকে রাখা হয়। পরে দুই তরুণীকে রাতভর ধর্ষণ করা হয়। এসময় সাফাতের নির্দেশে ভিডিও করে তার গাড়ি চালক বিল্লাল। সেই ভিডিও এখনো উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। ডিবি’র অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শাহজাহান জানান, মারধরের ভিডিও করেছে বলে তারা স্বীকার করেছে। কিন্তু ভিডিও এখনো পাওয়া যায়নি। জিজ্ঞাসাবাদে অনেক তথ্য গোপন করার চেষ্টা করছে সাফাত ও নাঈম। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X