শুক্রবার, ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১১ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ৮:৪৯
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Thursday, September 21, 2017 10:21 pm
A- A A+ Print

পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা নারী: ‘পা ধরে বলেছি কাউকে বলবো না, বাংলাদেশে চলে যাব’

36

ঢাকা: মায়ানমারে সহিংসতা শুরুর পর থেকে এখনো পালিয়ে বাংলাদেশে ঢুকছে রোহিঙ্গারা। বনে জঙ্গলে লুকিয়ে যারা বাঁচতে পেরেছেন তারাই এখন আসছেন বলেই জানাচ্ছে আশ্রয়প্রার্থী নারী-পুরুষেরা। শুরুর মতো ভীত সন্ত্রস্ত মানুষের ঢল এখন না থাকলেও রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ আর শিশুরা আসছে ছোট ছোট দলে। এদের বেশির ভাগই হারিয়েছেন পরিবারের কোনও না কোনও সদস্য। নিজেরাও কেউ কেউ বর্বর নির্যাতনের শিকার। টেকনাফে বাংলাদেশ ও মায়ানমার সীমান্ত এলাকা শাহপরীর দ্বীপে কথা হয় মংডু’র ২০ বছর বয়সী আসমার সঙ্গে। গত মঙ্গলবার পনের জনের একটি দলে বাংলাদেশে ঢুকেছেন আসমা। ব্যক্তিগত গোপনীয়তার স্বার্থে তার ছদ্মনাম ব্যবহার করছি। আসমা জানান, মায়ানমারে সেনা সদস্যরা তার স্বামী ও ভাইকে হত্যা করে আর তার ওপর চালায় পাশবিক নির্যাতন। তার বক্তব্য: ‘১০/১২ জন সৈন্য মিলে আমাকে ধর্ষণ করে, কি যে কষ্ট সহ্য করতে পারছিলাম না, ওদের অত্যাচারে অনেক মেয়ে মরে গেছে। আমাকেও যখন মেরে ফেলতে চাইল, তখন বাচ্চা দু’টোকে দেখিয়ে ওদের পা জড়িয়ে ধরে প্রাণ ভিক্ষা চাইলাম। বললাম, কাউকে বলবো না বার্মায় কী হয়েছে, বাংলাদেশে চলে যাব এখুনি।’ কাকুতি মিনতি আর ছোট্ট দু’টি বাচ্চা দেখিয়ে ছাড়া পেয়ে ১৫ দিন জঙ্গলে কাটান আসমা। সঙ্গে ১২ বছর বয়সী ছোট ভাই আর দুই সন্তান। কিন্তু বাংলাদেশে প্রবেশের চার দিন আগে অসুস্থ হয়ে পথেই মারা গেছে তার চার বছর বয়সী বড় ছেলেটি। এক সন্তান আর ভাইকে নিয়ে বহু কষ্টে বাংলাদেশে পৌঁছেছেন বলে জানান তিনি। ‘হাঁটতে হাঁটতে পা ফুলে গেছে। এদেশে এসে যে সাহায্য পেয়েছি, নিজের দেশে তা পাইনি। বার্মার অন্য সম্প্রদায়ের লোকেরা আমাদের বলে, সেদেশ শুধু তাদের, মুসলমানের নয়।’ মংডুর আরেক অধিবাসী রফেকা বলছিলেন, তার স্বামীর গলা কেটে ফেলেছে সেখানকার অমুসলিম সম্প্রদায়ের অস্ত্রধারীরা। আর তার ভাইয়ের স্ত্রীকে ধর্ষণের পর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কেটে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। তিনি দুই সন্তান নিয়ে পালিয়ে এসেছেন। রাখাইন থেকে তরুণী মেয়েরা অনেকেই আসতে পারেনি বলেও জানায় রফেকা। ‘প্রতিদিনই ধরপাকড় চলে, সুন্দরী মেয়েদের তুলে নিয়ে জুলুম করে মিলিটারিরা। তারপর হাত-পা, বুক কেটে ফেলে দেয়।’ অত্যাচারের কারণে বছর খানেক আগে অন্য গ্রামে আশ্রয় নিয়েছিল রফেকার পরিবার। রফেকা জানান, আসার আগে কয়েকদিন তারা দিনের বেলায় জঙ্গলে লুকিয়ে থাকতেন আর রাতে বাড়িতে যেতেন। রফেকার বিবরণে অত্যাচার ও সহিংসতার মাত্রা এতটাই ভয়াবহ পর্যায়ে গিয়েছিল যে গ্রামের সবাই যে যেদিকে পেরেছে পালিয়েছে। ‘মগরা আমাদের প্রতিনিয়ত জ্বালায়। বাড়িতে হানা দেয়। পুরুষদের ধরে নিয়ে যায়। মেয়েদের ধরে নিয়ে যায় অত্যাচার, জুলুম করে। আমার ভাবীকে গুলি করে মেরে ফেলেছে। মেরে ফেলার আগে তাকে জুলুম করে (ধর্ষণ) মগ মিলিটারিরা। হাত-পা কেটে ফেলে।’ স্বামী হারানোর পর দুই সন্তান নিয়ে আট দিন হেঁটে বাংলাদেশে ঢুকেছেন রফেকা। বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া নারীরা অত্যাচার ও নির্যাতনের যে বিবরণ দিচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে বেশিরভাগ রোহিঙ্গার বক্তব্যে নির্যাতনের চিত্র একই রকম। এদিকে সম্প্রতি মায়ানমারের নেত্রী অং সাং সুচি এবং বুধবার জাতিসংঘে দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট যে বক্তব্য দিয়েছেন সেখানে এসব নির্যাতনের প্রসঙ্গে কিছুই বলা হয়নি। তবে রোহিঙ্গা শব্দটি ব্যবহার না সরকারের পক্ষে বলা হচ্ছে, মুসলমানরা কেন বাংলাদেশে পালিয়ে যাচ্ছে সেটি নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। মায়ানমার সরকারের বক্তব্য রাখাইনের পরিস্থিতি এখন অনেকটাই শান্ত। কিন্তু সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের এরকম বক্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করছেন অনেকেই। এদিকে, জাতিসংঘের হিসেবে গত কয়েক সপ্তাহে চার লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এদের মধ্যে প্রায় ৮০ ভাগই নারী ও শিশু। এই বিপুল সংখ্যক শরণার্থীদের খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর জন্য বিরাট চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের মায়ানমার বিষয়ক তথ্যানুসন্ধান কমিটিও রাখাইনে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কী ঘটেছে এবং ঘটছে সেটি নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে।

Comments

Comments!

 পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা নারী: ‘পা ধরে বলেছি কাউকে বলবো না, বাংলাদেশে চলে যাব’AmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা নারী: ‘পা ধরে বলেছি কাউকে বলবো না, বাংলাদেশে চলে যাব’

Thursday, September 21, 2017 10:21 pm
36

ঢাকা: মায়ানমারে সহিংসতা শুরুর পর থেকে এখনো পালিয়ে বাংলাদেশে ঢুকছে রোহিঙ্গারা। বনে জঙ্গলে লুকিয়ে যারা বাঁচতে পেরেছেন তারাই এখন আসছেন বলেই জানাচ্ছে আশ্রয়প্রার্থী নারী-পুরুষেরা।

শুরুর মতো ভীত সন্ত্রস্ত মানুষের ঢল এখন না থাকলেও রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ আর শিশুরা আসছে ছোট ছোট দলে।

এদের বেশির ভাগই হারিয়েছেন পরিবারের কোনও না কোনও সদস্য। নিজেরাও কেউ কেউ বর্বর নির্যাতনের শিকার।

টেকনাফে বাংলাদেশ ও মায়ানমার সীমান্ত এলাকা শাহপরীর দ্বীপে কথা হয় মংডু’র ২০ বছর বয়সী আসমার সঙ্গে।

গত মঙ্গলবার পনের জনের একটি দলে বাংলাদেশে ঢুকেছেন আসমা। ব্যক্তিগত গোপনীয়তার স্বার্থে তার ছদ্মনাম ব্যবহার করছি।

আসমা জানান, মায়ানমারে সেনা সদস্যরা তার স্বামী ও ভাইকে হত্যা করে আর তার ওপর চালায় পাশবিক নির্যাতন।

তার বক্তব্য: ‘১০/১২ জন সৈন্য মিলে আমাকে ধর্ষণ করে, কি যে কষ্ট সহ্য করতে পারছিলাম না, ওদের অত্যাচারে অনেক মেয়ে মরে গেছে। আমাকেও যখন মেরে ফেলতে চাইল, তখন বাচ্চা দু’টোকে দেখিয়ে ওদের পা জড়িয়ে ধরে প্রাণ ভিক্ষা চাইলাম। বললাম, কাউকে বলবো না বার্মায় কী হয়েছে, বাংলাদেশে চলে যাব এখুনি।’

কাকুতি মিনতি আর ছোট্ট দু’টি বাচ্চা দেখিয়ে ছাড়া পেয়ে ১৫ দিন জঙ্গলে কাটান আসমা। সঙ্গে ১২ বছর বয়সী ছোট ভাই আর দুই সন্তান।

কিন্তু বাংলাদেশে প্রবেশের চার দিন আগে অসুস্থ হয়ে পথেই মারা গেছে তার চার বছর বয়সী বড় ছেলেটি। এক সন্তান আর ভাইকে নিয়ে বহু কষ্টে বাংলাদেশে পৌঁছেছেন বলে জানান তিনি।

‘হাঁটতে হাঁটতে পা ফুলে গেছে। এদেশে এসে যে সাহায্য পেয়েছি, নিজের দেশে তা পাইনি। বার্মার অন্য সম্প্রদায়ের লোকেরা আমাদের বলে, সেদেশ শুধু তাদের, মুসলমানের নয়।’

মংডুর আরেক অধিবাসী রফেকা বলছিলেন, তার স্বামীর গলা কেটে ফেলেছে সেখানকার অমুসলিম সম্প্রদায়ের অস্ত্রধারীরা। আর তার ভাইয়ের স্ত্রীকে ধর্ষণের পর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কেটে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

তিনি দুই সন্তান নিয়ে পালিয়ে এসেছেন। রাখাইন থেকে তরুণী মেয়েরা অনেকেই আসতে পারেনি বলেও জানায় রফেকা।

‘প্রতিদিনই ধরপাকড় চলে, সুন্দরী মেয়েদের তুলে নিয়ে জুলুম করে মিলিটারিরা। তারপর হাত-পা, বুক কেটে ফেলে দেয়।’

অত্যাচারের কারণে বছর খানেক আগে অন্য গ্রামে আশ্রয় নিয়েছিল রফেকার পরিবার।

রফেকা জানান, আসার আগে কয়েকদিন তারা দিনের বেলায় জঙ্গলে লুকিয়ে থাকতেন আর রাতে বাড়িতে যেতেন।

রফেকার বিবরণে অত্যাচার ও সহিংসতার মাত্রা এতটাই ভয়াবহ পর্যায়ে গিয়েছিল যে গ্রামের সবাই যে যেদিকে পেরেছে পালিয়েছে।

‘মগরা আমাদের প্রতিনিয়ত জ্বালায়। বাড়িতে হানা দেয়। পুরুষদের ধরে নিয়ে যায়। মেয়েদের ধরে নিয়ে যায় অত্যাচার, জুলুম করে। আমার ভাবীকে গুলি করে মেরে ফেলেছে। মেরে ফেলার আগে তাকে জুলুম করে (ধর্ষণ) মগ মিলিটারিরা। হাত-পা কেটে ফেলে।’

স্বামী হারানোর পর দুই সন্তান নিয়ে আট দিন হেঁটে বাংলাদেশে ঢুকেছেন রফেকা।

বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া নারীরা অত্যাচার ও নির্যাতনের যে বিবরণ দিচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে না।

তবে বেশিরভাগ রোহিঙ্গার বক্তব্যে নির্যাতনের চিত্র একই রকম।

এদিকে সম্প্রতি মায়ানমারের নেত্রী অং সাং সুচি এবং বুধবার জাতিসংঘে দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট যে বক্তব্য দিয়েছেন সেখানে এসব নির্যাতনের প্রসঙ্গে কিছুই বলা হয়নি।

তবে রোহিঙ্গা শব্দটি ব্যবহার না সরকারের পক্ষে বলা হচ্ছে, মুসলমানরা কেন বাংলাদেশে পালিয়ে যাচ্ছে সেটি নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন।

মায়ানমার সরকারের বক্তব্য রাখাইনের পরিস্থিতি এখন অনেকটাই শান্ত। কিন্তু সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের এরকম বক্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করছেন অনেকেই।

এদিকে, জাতিসংঘের হিসেবে গত কয়েক সপ্তাহে চার লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এদের মধ্যে প্রায় ৮০ ভাগই নারী ও শিশু।

এই বিপুল সংখ্যক শরণার্থীদের খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর জন্য বিরাট চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের মায়ানমার বিষয়ক তথ্যানুসন্ধান কমিটিও রাখাইনে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কী ঘটেছে এবং ঘটছে সেটি নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X