বৃহস্পতিবার, ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১০ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, দুপুর ২:৩৬
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Thursday, December 29, 2016 6:45 pm
A- A A+ Print

পুঁজিবাজার: বছর শেষে কিছুটা আস্থা

download-2

আজ ছিল চলতি বছরে দেশের পুঁজিবাজারের শেষ দিন। এক বছরে বরাবরের মতোই উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেছে পুঁজিবাজার। তবে এ বছরে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা আস্থা ফিরে এসেছে, তা বলা যেতেই পারে। এই এক বছরে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ৪০৭ পয়েন্টের বেশি। বেড়েছে দৈনন্দিন লেনদেনের গতিও। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, পুঁজিবাজারে একটা মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার ছিল। যখনই সূচক বেশি বেড়েছে, তখনই দরপতন শুরু হয়েছে। তবে চলতি বছরের শেষে পুঁজিবাজার কিছুটা হলেও এই মনস্তাত্ত্বিক বাধা কাটিয়ে উঠতে পেরেছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা। ইকোনমিক রিসার্চ গ্রুপের (ইআরজি) গবেষণা পরিচালক মোহাম্মদ হেলাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘বর্তমান পুঁজিবাজারের অবস্থা সব মিলিয়ে বেশ ভালো বলা যেতে পারে। মনস্তাত্ত্বিক বিষয়টি বছরের শেষের দিকে আমরা দেখিনি। এক হাজার কোটির ওপরে লেনদেন হলে বাজার পড়তে শুরু করবে, এই ধারণা থেকে সরে আসা গেছে। তাই বলা যেতে পারে, আগামী বছরও বেশ কিছু সময় ধরে ভালো অবস্থানে থাকবে পুঁজিবাজার।’ চলতি বছরে অল্প মৌলভিত্তির শেয়ারের দাম বেশি বেড়েছে, যার কারণে বাজার ঊর্ধ্বমুখী ছিল। মোহাম্মদ হেলাল বলেন, যেহেতু অল্প মৌলভিত্তির শেয়ারগুলোর দাম বাড়ছে, এটাকে বাজারের খুব বেশি সুস্থ অবস্থা বলা যায় না। তবে বছরের শেষের দিকে আস্থা ফিরে এসেছে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অবস্থান শক্ত হচ্ছে। চলতি বছরে লেনদেন শেষে ডিএসইএক্স সূচক অবস্থান করছে ৫০৩৬ পয়েন্টে। ২০১৫ সালে লেনদেন শেষে ডিএসইএক্স সূচক অবস্থান করে ৪৬২৯ পয়েন্টে। এ বছরে সবচেয়ে বেশি লেনদেনের পরিমাণ ১ হাজার ৪৭৮ কোটি টাকা। গত ২৩ নভেম্বর ডিএসইতে এই পরিমাণ লেনদেন হয়। বছরের শেষ পাঁচ ছয় মাস সূচকের অবস্থান ভালো ছিল। মূলত ব্যাংক সুদের হার এখন কম হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা পুঁজিবাজারে আবার আগ্রহী হচ্ছেন বলে মনে করেন ডিএসইর পরিচালক শাকিল রিজভী। তিনি বলেন, ২০১৬ সালের প্রথম ছয়-সাত মাস সূচকের অবস্থা তেমন ভালো ছিল না। তবে ২০১৫ সালের চেয়ে এবার বছরজুড়েই পুঁজিবাজার বেশ ভালো অবস্থানে ছিল। ব্যাংকে সুদের হার কম থাকায় মানুষ এফডিআর খুলতে উৎসাহী হচ্ছে না। এখন ব্যাংক সুদের চেয়ে ডিভিডেন্ডের হার ভালো। এ ছাড়া বলা যায়, এ বছরে বিনিয়োগকারীদের হতাশা কেটেছে। আগামী বছর বাজারের অবস্থা উন্নয়নে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান শাকিল রিজভী। তিনি বলেন, ডিএসই ভবন আগামী বছর সরানো হবে। এ ছাড়া ‘ক্লিয়ারিং করপোরেশন’, ‘অটিসি মার্কেট’ ও পুঁজিবাজারে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের সংযোগ নিয়ে নতুন রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে। ‘এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড’ তৈরির আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে অফিস স্থানান্তর করবে ডিএসই। রাজধানীর খিলক্ষেত-নিকুঞ্জ এলাকায় ডিএসইর নিজস্ব জমিতে ১৩তলা ভবন তৈরি হচ্ছে। বছর ও সপ্তাহের শেষ দিন আজ বৃহস্পতিবার ডিএসইএক্স সূচক ৮ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৩৬ পয়েন্টে। লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৭০ কোটি টাকার; যা আগের দিনের তুলনায় ১৩২ কোটি টাকা বেশি। আগের দিন এ বাজারে ৯৩৮ কোটি ২৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। ডিএসইতে মোট লেনদেনে অংশ নেয় ৩২৬টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৪৭টির, কমেছে ১৫৫টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৪টির শেয়ার দর।

Comments

Comments!

 পুঁজিবাজার: বছর শেষে কিছুটা আস্থাAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

পুঁজিবাজার: বছর শেষে কিছুটা আস্থা

Thursday, December 29, 2016 6:45 pm
download-2

আজ ছিল চলতি বছরে দেশের পুঁজিবাজারের শেষ দিন। এক বছরে বরাবরের মতোই উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেছে পুঁজিবাজার। তবে এ বছরে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা আস্থা ফিরে এসেছে, তা বলা যেতেই পারে। এই এক বছরে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ৪০৭ পয়েন্টের বেশি। বেড়েছে দৈনন্দিন লেনদেনের গতিও।

বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, পুঁজিবাজারে একটা মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার ছিল। যখনই সূচক বেশি বেড়েছে, তখনই দরপতন শুরু হয়েছে। তবে চলতি বছরের শেষে পুঁজিবাজার কিছুটা হলেও এই মনস্তাত্ত্বিক বাধা কাটিয়ে উঠতে পেরেছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা।

ইকোনমিক রিসার্চ গ্রুপের (ইআরজি) গবেষণা পরিচালক মোহাম্মদ হেলাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘বর্তমান পুঁজিবাজারের অবস্থা সব মিলিয়ে বেশ ভালো বলা যেতে পারে। মনস্তাত্ত্বিক বিষয়টি বছরের শেষের দিকে আমরা দেখিনি। এক হাজার কোটির ওপরে লেনদেন হলে বাজার পড়তে শুরু করবে, এই ধারণা থেকে সরে আসা গেছে। তাই বলা যেতে পারে, আগামী বছরও বেশ কিছু সময় ধরে ভালো অবস্থানে থাকবে পুঁজিবাজার।’

চলতি বছরে অল্প মৌলভিত্তির শেয়ারের দাম বেশি বেড়েছে, যার কারণে বাজার ঊর্ধ্বমুখী ছিল। মোহাম্মদ হেলাল বলেন, যেহেতু অল্প মৌলভিত্তির শেয়ারগুলোর দাম বাড়ছে, এটাকে বাজারের খুব বেশি সুস্থ অবস্থা বলা যায় না। তবে বছরের শেষের দিকে আস্থা ফিরে এসেছে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অবস্থান শক্ত হচ্ছে।

চলতি বছরে লেনদেন শেষে ডিএসইএক্স সূচক অবস্থান করছে ৫০৩৬ পয়েন্টে। ২০১৫ সালে লেনদেন শেষে ডিএসইএক্স সূচক অবস্থান করে ৪৬২৯ পয়েন্টে। এ বছরে সবচেয়ে বেশি লেনদেনের পরিমাণ ১ হাজার ৪৭৮ কোটি টাকা। গত ২৩ নভেম্বর ডিএসইতে এই পরিমাণ লেনদেন হয়।

বছরের শেষ পাঁচ ছয় মাস সূচকের অবস্থান ভালো ছিল। মূলত ব্যাংক সুদের হার এখন কম হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা পুঁজিবাজারে আবার আগ্রহী হচ্ছেন বলে মনে করেন ডিএসইর পরিচালক শাকিল রিজভী। তিনি বলেন, ২০১৬ সালের প্রথম ছয়-সাত মাস সূচকের অবস্থা তেমন ভালো ছিল না। তবে ২০১৫ সালের চেয়ে এবার বছরজুড়েই পুঁজিবাজার বেশ ভালো অবস্থানে ছিল। ব্যাংকে সুদের হার কম থাকায় মানুষ এফডিআর খুলতে উৎসাহী হচ্ছে না। এখন ব্যাংক সুদের চেয়ে ডিভিডেন্ডের হার ভালো। এ ছাড়া বলা যায়, এ বছরে বিনিয়োগকারীদের হতাশা কেটেছে।

আগামী বছর বাজারের অবস্থা উন্নয়নে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান শাকিল রিজভী। তিনি বলেন, ডিএসই ভবন আগামী বছর সরানো হবে। এ ছাড়া ‘ক্লিয়ারিং করপোরেশন’, ‘অটিসি মার্কেট’ ও পুঁজিবাজারে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের সংযোগ নিয়ে নতুন রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে। ‘এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড’ তৈরির আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে অফিস স্থানান্তর করবে ডিএসই। রাজধানীর খিলক্ষেত-নিকুঞ্জ এলাকায় ডিএসইর নিজস্ব জমিতে ১৩তলা ভবন তৈরি হচ্ছে।

বছর ও সপ্তাহের শেষ দিন আজ বৃহস্পতিবার ডিএসইএক্স সূচক ৮ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৩৬ পয়েন্টে। লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৭০ কোটি টাকার; যা আগের দিনের তুলনায় ১৩২ কোটি টাকা বেশি। আগের দিন এ বাজারে ৯৩৮ কোটি ২৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়।

ডিএসইতে মোট লেনদেনে অংশ নেয় ৩২৬টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৪৭টির, কমেছে ১৫৫টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৪টির শেয়ার দর।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X