শুক্রবার, ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১১ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ১২:৪৪
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Saturday, January 14, 2017 9:54 pm
A- A A+ Print

পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী সাকরাইন উৎসব পালিত

g-m-ghuri-urano-utshob--hom_36721_1484402368

প্রাচীনকাল থেকেই পৌষকে বিদায় জানাতে মাঘ মাসের প্রথমদিন পুরান ঢাকাইয়াদের ঘুড়ি উড়ানো একটি যেন ঐতিহ্য। পৌষ গেলে শীতটা জমাট বাঁধে। ঘরে ঘরে তখন রসাল পিঠা। এ দিনটিতে আগুন নিয়ে খেলা ও আতশবাজির এবং ফানুস উড়ানোর মধ্য দিয়ে প্রথম প্রহর শুরু হয়। শনিবার সকাল থেকে গান বাজনার তালে তালে শুরু হয় ঘুড়ি উড়ানোর উন্মাদনা। ছোট-বড় সবার অংশগ্রহণে মুখরিত হয় প্রতিটি বাড়ির ছাদ। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরো এলাকা উৎসবে মুখরিত হতে থাকে। বাড়তে থাকে আকাশে ঘুড়ির সংখ্যাও। ১৭৪০ সালের এই দিনে মোঘল আমলে নায়েব-ই-নাজিম নওয়াজেশ মোহাম্মদ খানের আমলে ঘুড়ি উড়ানো হয়। সেই থেকে এই দিনটি কেন্দ্র করে বর্তমানে এটি একটি অন্যতম উৎসব ও আমেজের  পরিণত হয়েছে। ধর্ম-বর্ণ ভেদাভেদ না রেখে সকলে এই উৎসব পালন করে থাকেন। দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই উৎসব পালন করে পুরান ঢাকাইয়ারা। সরেজমিনে দেখা গেছে, পুরান ঢাকার আকাশে সারাদিন বিভিন্ন রঙের হাজার হাজার ঘুড়ি উড়তে দেখা গেছে। ছোট-বড় সকলে এমনকি অভিভাবকরাও এই দিনে শখের বসে ঘুড়ি উড়িয়ে থাকেন। দিনব্যাপী এই ঘুড়ি উড়িয়ে নিজের মধ্যে এক ধরনের তৃপ্তির স্বাদ গ্রহণ করেন তারা। এই দিনকে কেন্দ্র করে পুরান ঢাকার আশপাশের অলিগলিতে বিভিন্ন ঘুড়ির দোকান ও মেলা বসে থাকে। এছাড়া প্রতিটি ঘুড়ি ৮ থেকে ১০ টাকা করে বিক্রি করা হয়। তবে সূতার দাম ছোট বান্ডিল হলে ৮০ টাকা আর বড় বান্ডিল হলে ৪০০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়। দিনশেষে সূর্য অস্তমিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরান ঢাকার আশপাশ এলাকার রাতের আকাশে হাজার হাজার ফানুস উড়তে ও আতশবাজির শব্দ শোনা গেছে। পুরো আকাশ এক ধরনের রংধনুর মতো বিভিন্ন রঙে রঙিন করা হয়। বিভিন্ন রঙের ডিজিটাল ছোট ছোট ও হেলোজেন লাইটে সজ্জিত করা হয় প্রতিটি বাসার ছাদ। এতে গানবাজনা করার জন্য পাওয়ারফুল সাউন্ড সিস্টেমও রাখা হয়। সারাদিন চলতে থাকে বিভিন্ন ধরনের গান। আয়োজন করা হয় পুরান ঢাকার নানা ধরনের ঐতিহ্যবাহী খাবারের। এ দিনটিতে পুরান ঢাকার আকাশে শোভা পায় নানা রঙ আর বাহারি আকৃতির ঘুড়ি। এ ছাড়াও আগুন নিয়ে খেলা, আতশবাজি ফোটানো এ উৎসবের অন্যতম অনুষঙ্গ। তবে সকালের তুলনায় বিকালে এ উৎসব বেশি মুখরিত ছিল। এছাড়া রাতে বিভিন্ন পিঠা-পুলি ও নানান ধরনের ঐতিহ্যবাহী খাবারের আয়োজন করতে ব্যস্ত সময় পার করেন মহিলারা। যেমন: কুলি পিঠা, পাকনপুলি,ফুল পিঠা, দুধ চিঠা, সেমাই পিঠা,ঝুড়ি পিঠা, ভাপা পিঠা, ফিরিজ পিঠা,পাটিসাপটা,নারকেল পিঠাসহ নানা ধরনের পিঠা আয়োজন করা হয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পৌষের শেষে জামাইরা শ্বশুরবাড়ি এলে তাদের হাতে ধরিয়ে দেয়া হতো ঘুড়ি ও নাটাই। সব বাড়ির জামাইরা ঘুড়ি উড়ালে ঘটা করে সেসব দেখতেন গ্রামবাসি। এমনটা এখন আর হয় না। শহরেও শীত তার তীব্রতা খুইয়েছে। কিন্তু উৎসবটা এখনও রয়ে গেছে। তাই ঘুড়ি উড়ানো পৌষবিদায়ী উৎসবের অংশ হয়ে আছে। তবে পুরান ঢাকায় বেশ কিছু বাড়িতে ভীষণ শব্দে বাদ্য বাজতে শোনা গেছে। সারাদিন এলাকা কাঁপিয়ে বাজতে থাকে গান, চলতে থাকে নাচ। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর শুরু হয় মুখে কেরোসিন-আগুনের খেলা, ফানুস উড়ানো। বাড়ির ছাদগুলো থেকে আকাশে ছোড়া হয় শাঁখারীবাজার, চকবাজার থেকে কিনে আনা রঙ-বেরঙের আতশবাজি। পুরান ঢাকা স্থানীয় বাসিন্দারা ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করলেও তারাও এই দিনকে কেন্দ্র করে পুরান ঢাকার সাকরাইন উৎসবে অংশ নেন। মেয়েরা তাদের শ্বশুর বাড়ি থেকে এই দিনকে উদযাপন করতে তাদের বাপের বাড়ি চলে আসেন। ফলে সবার মধ্যে একধরনের উৎসবের আমেজ কাজ করে। দেখা যায় এদিন পুরান ঢাকার শাঁখারী বাজার, রায়সাহেব বাজার, বংশাল, সূত্রাপুর, বাংলাবাজার, সদরঘাট এলাকার মানুষ সারাদিন ঘুড়ি উড়ান। স্থানীয় বাসিন্দা রাশেদ নামে এক ব্যক্তি জানান, এই দিনে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত না খেয়ে থাকেন। আর মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা দিনটিতে সকালে পিঠা, মোয়াসহ নানা ধরনের খাবার বিলি করেন প্রতিবেশীদের মাঝে। এছাড়া পুরান ঢাকার কাপড় ব্যবসায়ী লতিফ বলেন, সাকরাইন আমাদের পুরান ঢাকার প্রাচীন ঐতিহ্য। ছোটকাল থেকে দেখে আসছি, আমাদের পূর্বপুরুষেরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই আয়োজন করে আসছে। আগে পিঠা-টিঠা বানানো নিয়ে ব্যস্ত থাকলে বর্তমানে সব কিছু ডিজিটাল হয়ে গেছে। নাচ-গান ও মজা-মাস্তি নিয়ে ব্যস্ত  হয়ে পড়েন সবাই।

Comments

Comments!

 পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী সাকরাইন উৎসব পালিতAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী সাকরাইন উৎসব পালিত

Saturday, January 14, 2017 9:54 pm
g-m-ghuri-urano-utshob--hom_36721_1484402368
প্রাচীনকাল থেকেই পৌষকে বিদায় জানাতে মাঘ মাসের প্রথমদিন পুরান ঢাকাইয়াদের ঘুড়ি উড়ানো একটি যেন ঐতিহ্য।
পৌষ গেলে শীতটা জমাট বাঁধে। ঘরে ঘরে তখন রসাল পিঠা। এ দিনটিতে আগুন নিয়ে খেলা ও আতশবাজির এবং ফানুস উড়ানোর মধ্য দিয়ে প্রথম প্রহর শুরু হয়।

শনিবার সকাল থেকে গান বাজনার তালে তালে শুরু হয় ঘুড়ি উড়ানোর উন্মাদনা। ছোট-বড় সবার অংশগ্রহণে মুখরিত হয় প্রতিটি বাড়ির ছাদ।

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরো এলাকা উৎসবে মুখরিত হতে থাকে। বাড়তে থাকে আকাশে ঘুড়ির সংখ্যাও।

১৭৪০ সালের এই দিনে মোঘল আমলে নায়েব-ই-নাজিম নওয়াজেশ মোহাম্মদ খানের আমলে ঘুড়ি উড়ানো হয়। সেই থেকে এই দিনটি কেন্দ্র করে বর্তমানে এটি একটি অন্যতম উৎসব ও আমেজের  পরিণত হয়েছে।

ধর্ম-বর্ণ ভেদাভেদ না রেখে সকলে এই উৎসব পালন করে থাকেন। দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই উৎসব পালন করে পুরান ঢাকাইয়ারা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পুরান ঢাকার আকাশে সারাদিন বিভিন্ন রঙের হাজার হাজার ঘুড়ি উড়তে দেখা গেছে। ছোট-বড় সকলে এমনকি অভিভাবকরাও এই দিনে শখের বসে ঘুড়ি উড়িয়ে থাকেন। দিনব্যাপী এই ঘুড়ি উড়িয়ে নিজের মধ্যে এক ধরনের তৃপ্তির স্বাদ গ্রহণ করেন তারা।

এই দিনকে কেন্দ্র করে পুরান ঢাকার আশপাশের অলিগলিতে বিভিন্ন ঘুড়ির দোকান ও মেলা বসে থাকে। এছাড়া প্রতিটি ঘুড়ি ৮ থেকে ১০ টাকা করে বিক্রি করা হয়।

তবে সূতার দাম ছোট বান্ডিল হলে ৮০ টাকা আর বড় বান্ডিল হলে ৪০০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়। দিনশেষে সূর্য অস্তমিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরান ঢাকার আশপাশ এলাকার রাতের আকাশে হাজার হাজার ফানুস উড়তে ও আতশবাজির শব্দ শোনা গেছে।

পুরো আকাশ এক ধরনের রংধনুর মতো বিভিন্ন রঙে রঙিন করা হয়। বিভিন্ন রঙের ডিজিটাল ছোট ছোট ও হেলোজেন লাইটে সজ্জিত করা হয় প্রতিটি বাসার ছাদ।

এতে গানবাজনা করার জন্য পাওয়ারফুল সাউন্ড সিস্টেমও রাখা হয়। সারাদিন চলতে থাকে বিভিন্ন ধরনের গান। আয়োজন করা হয় পুরান ঢাকার নানা ধরনের ঐতিহ্যবাহী খাবারের। এ দিনটিতে পুরান ঢাকার আকাশে শোভা পায় নানা রঙ আর বাহারি আকৃতির ঘুড়ি। এ ছাড়াও আগুন নিয়ে খেলা, আতশবাজি ফোটানো এ উৎসবের অন্যতম অনুষঙ্গ। তবে সকালের তুলনায় বিকালে এ উৎসব বেশি মুখরিত ছিল।

এছাড়া রাতে বিভিন্ন পিঠা-পুলি ও নানান ধরনের ঐতিহ্যবাহী খাবারের আয়োজন করতে ব্যস্ত সময় পার করেন মহিলারা। যেমন: কুলি পিঠা, পাকনপুলি,ফুল পিঠা, দুধ চিঠা, সেমাই পিঠা,ঝুড়ি পিঠা, ভাপা পিঠা, ফিরিজ পিঠা,পাটিসাপটা,নারকেল পিঠাসহ নানা ধরনের পিঠা আয়োজন করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পৌষের শেষে জামাইরা শ্বশুরবাড়ি এলে তাদের হাতে ধরিয়ে দেয়া হতো ঘুড়ি ও নাটাই। সব বাড়ির জামাইরা ঘুড়ি উড়ালে ঘটা করে সেসব দেখতেন গ্রামবাসি। এমনটা এখন আর হয় না। শহরেও শীত তার তীব্রতা খুইয়েছে। কিন্তু উৎসবটা এখনও রয়ে গেছে। তাই ঘুড়ি উড়ানো পৌষবিদায়ী উৎসবের অংশ হয়ে আছে।

তবে পুরান ঢাকায় বেশ কিছু বাড়িতে ভীষণ শব্দে বাদ্য বাজতে শোনা গেছে। সারাদিন এলাকা কাঁপিয়ে বাজতে থাকে গান, চলতে থাকে নাচ।

বিশেষ করে সন্ধ্যার পর শুরু হয় মুখে কেরোসিন-আগুনের খেলা, ফানুস উড়ানো। বাড়ির ছাদগুলো থেকে আকাশে ছোড়া হয় শাঁখারীবাজার, চকবাজার থেকে কিনে আনা রঙ-বেরঙের আতশবাজি।

পুরান ঢাকা স্থানীয় বাসিন্দারা ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করলেও তারাও এই দিনকে কেন্দ্র করে পুরান ঢাকার সাকরাইন উৎসবে অংশ নেন। মেয়েরা তাদের শ্বশুর বাড়ি থেকে এই দিনকে উদযাপন করতে তাদের বাপের বাড়ি চলে আসেন। ফলে সবার মধ্যে একধরনের উৎসবের আমেজ কাজ করে।

দেখা যায় এদিন পুরান ঢাকার শাঁখারী বাজার, রায়সাহেব বাজার, বংশাল, সূত্রাপুর, বাংলাবাজার, সদরঘাট এলাকার মানুষ সারাদিন ঘুড়ি উড়ান।

স্থানীয় বাসিন্দা রাশেদ নামে এক ব্যক্তি জানান, এই দিনে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত না খেয়ে থাকেন। আর মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা দিনটিতে সকালে পিঠা, মোয়াসহ নানা ধরনের খাবার বিলি করেন প্রতিবেশীদের মাঝে।

এছাড়া পুরান ঢাকার কাপড় ব্যবসায়ী লতিফ বলেন, সাকরাইন আমাদের পুরান ঢাকার প্রাচীন ঐতিহ্য। ছোটকাল থেকে দেখে আসছি, আমাদের পূর্বপুরুষেরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই আয়োজন করে আসছে। আগে পিঠা-টিঠা বানানো নিয়ে ব্যস্ত থাকলে বর্তমানে সব কিছু ডিজিটাল হয়ে গেছে। নাচ-গান ও মজা-মাস্তি নিয়ে ব্যস্ত  হয়ে পড়েন সবাই।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X