শনিবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সকাল ৯:৪৫
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Saturday, November 5, 2016 10:23 am
A- A A+ Print

পুলিশ কন্ট্রোল রুমের নির্দেশে ৮ মুসলিম ছাত্রনেতাকে হত্যা

158538_1

নয়াদিল্লি: ভারতে স্টুডেন্টস ইসলামিক মুভমেন্ট অব ইন্ডিয়ার (সিমি) ৮ মেধাবী মুসলিম ছাত্রনেতাকে হত্যার জন্য পুলিশ কন্ট্রোল রুম থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। নয় মিনিটের একটি অডিও টেপ থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে দ্য হিন্দু। ফাঁস হওয়া অডিও টেপটি শুনে মনে হচ্ছে, নয় মিনিটের ওই অডিও টেপটি পুলিশের কন্ট্রোল রুম থেকেই ধারণ করা হয়েছে। অডিও টেপের শুরুতেই শোনা যায়, কন্ট্রোল রুম থেকে অভিযানের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বলা হয়, ‘এগিয়ে যান, পিছপা হবেন না। সবাইকে হত্যা করতে হবে!’ অপর দিক থেকে ওই কর্মকর্তা জানান, ‘একেবারেই পিছপা হবো না। পুরো শেষ করতেই হবে। হ্যাঁ, আরো ফায়ারিং করছি। এখনো গুলি চালানো হচ্ছে।’ অডিও টেপে গুলি চালানোর প্রচণ্ড শব্দ শোনা যায়। কন্ট্রোল রুম থেকে এরপর বলা হয়, ‘ঠিকঠাক জায়গা থেকে গুলি চালিয়ে যান। এখান থেকে আরো ফোর্স যাচ্ছে। গুলি চালিয়ে যান। দেখবেন যেন ক্রসফায়ার না হয়। তাই অবস্থান ঠিক রাখতে হবে।’ দায়িত্বপ্রপ্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘চৌহান সাহেব, পাঁচজন নিহত হয়েছে, পাঁচজনের গুলি লেগেছে।’ কন্ট্রোল রুম, ‘একদম ঠিক আছে। আমরা আসছি।’ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, ‘আমরা তাদের পাহাড়ের ওপরেই ঘিরে ফেলেছি।’ কন্ট্রোল রুম, ‘দারুণ করেছেন। পাঁচজন কী নিহত?’ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, ‘হ্যাঁ, পাঁচজন নিহত।’ কন্ট্রোল রুম, ‘শাবাস! বাকিদের আর ছেড়ে দিবেন না।’ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, ‘এখানে দুই-তিনটা অ্যাম্বুলেন্স পাঠাতে হবে।’ কন্ট্রোল রুম, ‘চিন্তা করতে হবে না। আপনার বলার আগেই অ্যাম্বুলেন্সকে খবর দেয়া হয়েছে।’ কন্ট্রোল রুম, ‘মন দিয়ে শোনেন। পাঁচজন নিহত হয়েছে। আর বাদ বাকিদেরও হত্যা করুন! এই কাজের জন্য দেশের লোক ১০ বছর ভুপাল পুলিশকে মনে রাখবে। এবার নিউজ দেখতে হবে। সংবাদমাধ্যমের এত দম নেই যে, ঠিক সময়ে পৌঁছাবে। আপনারা চিন্তা করবেন না। আমরা জলদি আসছি।’ ওই ‘বন্দুকযুদ্ধের’ পর পুলিশদের উল্লাস করতেও শোনা যায় ওই অডিও টেপে। ভারতীয় পুলিশ কর্তৃপক্ষের বলছে, রবিবার রাতে ভুপালের সর্বোচ্চ নিরাপত্তার কেন্দ্রীয় কারাগারে এক কারারক্ষীকে হত্যা করে ভারতে নিষিদ্ধ ঘোষিত মুসলিম ছাত্র সংগঠন স্টুডেন্টস ইসলামিক মুভমেন্ট অব ইন্ডিয়ার (সিমি) আট সদস্য পালিয়ে যান। এর ১০ ঘণ্টার মধ্যেই সোমবার সকালে ভুপালের অদূরে ইতখেড়ি গ্রামের কাছে মালিখেড়ায় পুলিশ ও এন্টি-টেরোরিজম স্কোয়াডের (এটিএস) সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ওই কারা বন্দীরা নিহত হন বলে পুলিশ দাবি করে। কথিত ওই বন্দুকযুদ্ধের পর বিরোধীদলীয় নেতারা ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছেন। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনও মধ্যপ্রদেশের সরকারের কাছে ঠাণ্ডা মাথায় আট সিমি সদস্যকে হত্যার ব্যাখ্যা চেয়েছে। দাবি আরো প্রতিষ্ঠিত হয় যখন সিমি সদস্যদের গুলি করার কয়েকটি ভিডিওতে তাদের নিরস্ত্র দেখা যায়। কথিত ওই বন্দুকযুদ্ধের পর ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও প্রকাশ করে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো। যেখানে নিহতদের লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। আর তাদের খুব কাছ থেকে গুলি করছেন এক পুলিশ সদস্য। কিন্তু তাদের কাছে কোনো অস্ত্র দেখা যায়নি। এক পুলিশ (এটিএস) সদস্যকে দেখা যায়, এক লাশের প্যান্টের পকেট থেকে ছুরির মতো কিছু একটা বের করতে। কিন্তু নিশ্চিতভাবেই সেখানে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যায়নি। এঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মূখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় আট মুসলিম ছাত্রনেতাকে হত্যা করা হয়েছে। তবে মধ্যপ্রদেশে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী ভুপেন্দ্র সিং সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘বন্দুকযুদ্ধ নিয়ে প্রশ্ন করার কিছু নেই।’ তিনি বলেছেন, বিতর্কিত ওই বন্দুকযুদ্ধের ঘটনাটি তদন্ত করবে না ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা এনআইএ। ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ছাত্র সংগঠন সিমি। এই সংগঠনটির বিরুদ্ধে নাশকতায় মদদ দেওয়ার অভিযোগ এনে ২০০১ সালে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে ভারতের তৎকালীন ক্ষমতাসীন সরকার। তবে এখনো পর্যন্ত ওই সংগঠনটির কোনো সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

Comments

Comments!

 পুলিশ কন্ট্রোল রুমের নির্দেশে ৮ মুসলিম ছাত্রনেতাকে হত্যাAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

পুলিশ কন্ট্রোল রুমের নির্দেশে ৮ মুসলিম ছাত্রনেতাকে হত্যা

Saturday, November 5, 2016 10:23 am
158538_1

নয়াদিল্লি: ভারতে স্টুডেন্টস ইসলামিক মুভমেন্ট অব ইন্ডিয়ার (সিমি) ৮ মেধাবী মুসলিম ছাত্রনেতাকে হত্যার জন্য পুলিশ কন্ট্রোল রুম থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।

নয় মিনিটের একটি অডিও টেপ থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে দ্য হিন্দু।

ফাঁস হওয়া অডিও টেপটি শুনে মনে হচ্ছে, নয় মিনিটের ওই অডিও টেপটি পুলিশের কন্ট্রোল রুম থেকেই ধারণ করা হয়েছে।

অডিও টেপের শুরুতেই শোনা যায়, কন্ট্রোল রুম থেকে অভিযানের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বলা হয়, ‘এগিয়ে যান, পিছপা হবেন না। সবাইকে হত্যা করতে হবে!’

অপর দিক থেকে ওই কর্মকর্তা জানান, ‘একেবারেই পিছপা হবো না। পুরো শেষ করতেই হবে। হ্যাঁ, আরো ফায়ারিং করছি। এখনো গুলি চালানো হচ্ছে।’

অডিও টেপে গুলি চালানোর প্রচণ্ড শব্দ শোনা যায়। কন্ট্রোল রুম থেকে এরপর বলা হয়, ‘ঠিকঠাক জায়গা থেকে গুলি চালিয়ে যান। এখান থেকে আরো ফোর্স যাচ্ছে। গুলি চালিয়ে যান। দেখবেন যেন ক্রসফায়ার না হয়। তাই অবস্থান ঠিক রাখতে হবে।’

দায়িত্বপ্রপ্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘চৌহান সাহেব, পাঁচজন নিহত হয়েছে, পাঁচজনের গুলি লেগেছে।’

কন্ট্রোল রুম, ‘একদম ঠিক আছে। আমরা আসছি।’

দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, ‘আমরা তাদের পাহাড়ের ওপরেই ঘিরে ফেলেছি।’

কন্ট্রোল রুম, ‘দারুণ করেছেন। পাঁচজন কী নিহত?’

দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, ‘হ্যাঁ, পাঁচজন নিহত।’

কন্ট্রোল রুম, ‘শাবাস! বাকিদের আর ছেড়ে দিবেন না।’

দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, ‘এখানে দুই-তিনটা অ্যাম্বুলেন্স পাঠাতে হবে।’

কন্ট্রোল রুম, ‘চিন্তা করতে হবে না। আপনার বলার আগেই অ্যাম্বুলেন্সকে খবর দেয়া হয়েছে।’

কন্ট্রোল রুম, ‘মন দিয়ে শোনেন। পাঁচজন নিহত হয়েছে। আর বাদ বাকিদেরও হত্যা করুন! এই কাজের জন্য দেশের লোক ১০ বছর ভুপাল পুলিশকে মনে রাখবে। এবার নিউজ দেখতে হবে। সংবাদমাধ্যমের এত দম নেই যে, ঠিক সময়ে পৌঁছাবে। আপনারা চিন্তা করবেন না। আমরা জলদি আসছি।’

ওই ‘বন্দুকযুদ্ধের’ পর পুলিশদের উল্লাস করতেও শোনা যায় ওই অডিও টেপে।

ভারতীয় পুলিশ কর্তৃপক্ষের বলছে, রবিবার রাতে ভুপালের সর্বোচ্চ নিরাপত্তার কেন্দ্রীয় কারাগারে এক কারারক্ষীকে হত্যা করে ভারতে নিষিদ্ধ ঘোষিত মুসলিম ছাত্র সংগঠন স্টুডেন্টস ইসলামিক মুভমেন্ট অব ইন্ডিয়ার (সিমি) আট সদস্য পালিয়ে যান। এর ১০ ঘণ্টার মধ্যেই সোমবার সকালে ভুপালের অদূরে ইতখেড়ি গ্রামের কাছে মালিখেড়ায় পুলিশ ও এন্টি-টেরোরিজম স্কোয়াডের (এটিএস) সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ওই কারা বন্দীরা নিহত হন বলে পুলিশ দাবি করে।

কথিত ওই বন্দুকযুদ্ধের পর বিরোধীদলীয় নেতারা ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছেন।

বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনও মধ্যপ্রদেশের সরকারের কাছে ঠাণ্ডা মাথায় আট সিমি সদস্যকে হত্যার ব্যাখ্যা চেয়েছে।

দাবি আরো প্রতিষ্ঠিত হয় যখন সিমি সদস্যদের গুলি করার কয়েকটি ভিডিওতে তাদের নিরস্ত্র দেখা যায়।

কথিত ওই বন্দুকযুদ্ধের পর ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও প্রকাশ করে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো। যেখানে নিহতদের লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। আর তাদের খুব কাছ থেকে গুলি করছেন এক পুলিশ সদস্য। কিন্তু তাদের কাছে কোনো অস্ত্র দেখা যায়নি।

এক পুলিশ (এটিএস) সদস্যকে দেখা যায়, এক লাশের প্যান্টের পকেট থেকে ছুরির মতো কিছু একটা বের করতে। কিন্তু নিশ্চিতভাবেই সেখানে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যায়নি।

এঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মূখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় আট মুসলিম ছাত্রনেতাকে হত্যা করা হয়েছে।

তবে মধ্যপ্রদেশে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী ভুপেন্দ্র সিং সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘বন্দুকযুদ্ধ নিয়ে প্রশ্ন করার কিছু নেই।’

তিনি বলেছেন, বিতর্কিত ওই বন্দুকযুদ্ধের ঘটনাটি তদন্ত করবে না ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা এনআইএ।

১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ছাত্র সংগঠন সিমি। এই সংগঠনটির বিরুদ্ধে নাশকতায় মদদ দেওয়ার অভিযোগ এনে ২০০১ সালে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে ভারতের তৎকালীন ক্ষমতাসীন সরকার। তবে এখনো পর্যন্ত ওই সংগঠনটির কোনো সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X