শনিবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ১১:৩১
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Wednesday, January 18, 2017 7:24 am
A- A A+ Print

পেনশনের পুরনো ব্যবস্থা বহাল রাখার দাবি

2

সরকারি চাকরিজীবীদের গ্রস পেনশন শতভাগ সমর্পনের সুবিধা বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। পুরনো ব্যবস্থা বহাল রাখার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সচিবালয় কর্তকর্তা ও কর্মচারী ঐক্য পরিষদ। গত ৯ জানুয়ারি এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সরকারি চাকরিজীবীদের পেনশনের পুরো টাকা তুলে নেওয়ার সুবিধা প্রত্যাহার  করা হয়। এর পরিবর্তে পেনশনের মোট অর্থের ৫০ শতাংশ এককালীন এবং বাকি ৫০ শতাংশ মাসে মাসে তুলে নেওয়ার বিধান জারি করা হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ বেসামরিক ও সামরিক সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন এ বিধান চালু করে। পেনশনধারীদের আর্থিক ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার স্বার্থে বিধানটি চালু করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়। প্রজ্ঞাপন জারির ছয় দিন পর বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা ও কর্মচারী ঐক্য পরিষদের ব্যানারে গত ১৫ জানুয়ারি এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সরকারের এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়ে অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিবের কাছে স্মারকলিপি দেয়া হয়। স্মারকলিপিতে সংগঠনের সভাপতি মো. আলী উদ্দিন হাওলাদার, সাধারন সম্পাদক মো. রুহুল আমিন, বাংলাদেশ সবিালয় হিসাব রক্ষণ সমিতির সভাপতি নিলুফার আক্তার, বাংলাদেশ সচিবালয় ৪র্থ শ্রেণি কর্মচারী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আলী, বাংলাদেশ সচিবালয় পার্সোনাল অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক তোফায়েল আহমেদ স্বাক্ষর করেছেন। বাংলাদেশ সচিবালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বেতন কমিশন, ২০১৫ কর্তৃক ২০ শতাংশ হারে সচিবালয় ভাতা চালুর সুপারিশ করা হলেও তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় সভায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। সরকারি কর্মচারীদের গৃহ নির্মাণ ঋণ ব্যাংকের মত ৫ শতাংশ সুদে সর্বনি¤œ ৪০ লাখ টাকা সহজ কিস্তিতে দেওয়া, মটর সাইকেল ক্রয় ঋণ সর্বনি¤œ দুই লাখ টাকা করার দাবি জানানো হয়। অর্থ বিভাগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী আগামী ১ জুলাই নতুন বিধান কার্যকর হবে। অর্থাৎ এ বছরের ৩০ জুন বা তারপর যাদের অবসর-উত্তর ছুটি শেষ হবে, তারাই নতুন নিয়মের আওতায় আসবেন। তবে পেনশনার বা পারিবারিক পেনশনাররা মাসিক পেনশনের ওপর ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট পাবেন। এটাও কার্যকর হবে আগামী ১ জুলাই থেকে। বর্তমানে কেউ চাইলে পুরো টাকা তুলে নিয়ে যেতে পারেন, আবার মাসে মাসেও নিতে পারেন। অর্থাৎ দুটি পথই খোলা আছে। নতুন বিধানের মাধ্যমে পেনশনের ৫০ শতাংশ মাসিক ভিত্তিতে নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বাধীন বেতন কমিশনের প্রতিবেদনে সরকারি কর্মচারীদের শতভাগ পেনশনের টাকা তুলে নেওয়ার পরিবর্তে ৫০ শতাংশ তুলে নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছিল। এ বিষয়ে অর্থ বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা দেখেছি পুরো টাকা একসঙ্গে তুলে নিয়ে অনেক পেনশনার বিপদে পড়েছেন। কেউ ব্যবসা করতে গিয়ে মার খেয়েছেন, কেউ সর্বস্বান্ত হয়েছেন শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে। তাঁদের অনেকে এখন সাহায্যের জন্য আবেদন করছেন মন্ত্রণালয়ে। পুরো টাকা তুলে না নিলে এ শোচনীয় পরিস্থিতি তৈরি হতো না। পেনশনধারীদের সামাজিক সুরক্ষা দিতেই নতুন বিধানটি চালু করা হয়েছে। চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত পেনশন নিয়ে তাঁর নতুন পরিকল্পনা এবং প্রবীণদের জন্য তার দরদের কথা বলেছিলেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এত বয়সে কোথায় হাত পাতবেন প্রবীণেরা?’ বাজেট বক্তব্যে প্রবীণদের আর্থিক ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ চাহিদা পূরণের সহায়ক তহবিল সৃষ্টির কথা জানিয়ে অর্থমন্ত্রী আরও বলেছিলেন, এতে দেশের আর্থিক খাতের গভীরতাও নিশ্চিত হবে। নতুন প্রজ্ঞাপনটি হঠাৎ জারি করা হয়নি জানিয়ে অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন, ‘অর্থ বিভাগ চলতি অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার আগে থেকেই নতুন পেনশন-পদ্ধতি নিয়ে কাজ শুরু করে। বিভাগটি এ বিষয়ে একটি ধারণাপত্রও তৈরি করে, যা অর্থমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হয় গত আগস্টে।’ তিনি বলেন, ‘পেনশন নিয়ে যে প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে তা পরিবর্তনের আর কোন সুযোগ নেই। সরকারি চাকরিজীবীদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যই এ বিধান জারি করা হয়েছে।’

Comments

Comments!

 পেনশনের পুরনো ব্যবস্থা বহাল রাখার দাবিAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

পেনশনের পুরনো ব্যবস্থা বহাল রাখার দাবি

Wednesday, January 18, 2017 7:24 am
2

সরকারি চাকরিজীবীদের গ্রস পেনশন শতভাগ সমর্পনের সুবিধা বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। পুরনো ব্যবস্থা বহাল রাখার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সচিবালয় কর্তকর্তা ও কর্মচারী ঐক্য পরিষদ।

গত ৯ জানুয়ারি এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সরকারি চাকরিজীবীদের পেনশনের পুরো টাকা তুলে নেওয়ার সুবিধা প্রত্যাহার  করা হয়। এর পরিবর্তে পেনশনের মোট অর্থের ৫০ শতাংশ এককালীন এবং বাকি ৫০ শতাংশ মাসে মাসে তুলে নেওয়ার বিধান জারি করা হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ বেসামরিক ও সামরিক সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন এ বিধান চালু করে। পেনশনধারীদের আর্থিক ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার স্বার্থে বিধানটি চালু করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

প্রজ্ঞাপন জারির ছয় দিন পর বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা ও কর্মচারী ঐক্য পরিষদের ব্যানারে গত ১৫ জানুয়ারি এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সরকারের এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়ে অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিবের কাছে স্মারকলিপি দেয়া হয়।

স্মারকলিপিতে সংগঠনের সভাপতি মো. আলী উদ্দিন হাওলাদার, সাধারন সম্পাদক মো. রুহুল আমিন, বাংলাদেশ সবিালয় হিসাব রক্ষণ সমিতির সভাপতি নিলুফার আক্তার, বাংলাদেশ সচিবালয় ৪র্থ শ্রেণি কর্মচারী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আলী, বাংলাদেশ সচিবালয় পার্সোনাল অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক তোফায়েল আহমেদ স্বাক্ষর করেছেন।

বাংলাদেশ সচিবালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বেতন কমিশন, ২০১৫ কর্তৃক ২০ শতাংশ হারে সচিবালয় ভাতা চালুর সুপারিশ করা হলেও তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় সভায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। সরকারি কর্মচারীদের গৃহ নির্মাণ ঋণ ব্যাংকের মত ৫ শতাংশ সুদে সর্বনি¤œ ৪০ লাখ টাকা সহজ কিস্তিতে দেওয়া, মটর সাইকেল ক্রয় ঋণ সর্বনি¤œ দুই লাখ টাকা করার দাবি জানানো হয়।

অর্থ বিভাগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী আগামী ১ জুলাই নতুন বিধান কার্যকর হবে। অর্থাৎ এ বছরের ৩০ জুন বা তারপর যাদের অবসর-উত্তর ছুটি শেষ হবে, তারাই নতুন নিয়মের আওতায় আসবেন। তবে পেনশনার বা পারিবারিক পেনশনাররা মাসিক পেনশনের ওপর ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট পাবেন। এটাও কার্যকর হবে আগামী ১ জুলাই থেকে।

বর্তমানে কেউ চাইলে পুরো টাকা তুলে নিয়ে যেতে পারেন, আবার মাসে মাসেও নিতে পারেন। অর্থাৎ দুটি পথই খোলা আছে। নতুন বিধানের মাধ্যমে পেনশনের ৫০ শতাংশ মাসিক ভিত্তিতে নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বাধীন বেতন কমিশনের প্রতিবেদনে সরকারি কর্মচারীদের শতভাগ পেনশনের টাকা তুলে নেওয়ার পরিবর্তে ৫০ শতাংশ তুলে নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছিল।

এ বিষয়ে অর্থ বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা দেখেছি পুরো টাকা একসঙ্গে তুলে নিয়ে অনেক পেনশনার বিপদে পড়েছেন। কেউ ব্যবসা করতে গিয়ে মার খেয়েছেন, কেউ সর্বস্বান্ত হয়েছেন শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে। তাঁদের অনেকে এখন সাহায্যের জন্য আবেদন করছেন মন্ত্রণালয়ে। পুরো টাকা তুলে না নিলে এ শোচনীয় পরিস্থিতি তৈরি হতো না। পেনশনধারীদের সামাজিক সুরক্ষা দিতেই নতুন বিধানটি চালু করা হয়েছে।

চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত পেনশন নিয়ে তাঁর নতুন পরিকল্পনা এবং প্রবীণদের জন্য তার দরদের কথা বলেছিলেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এত বয়সে কোথায় হাত পাতবেন প্রবীণেরা?’ বাজেট বক্তব্যে প্রবীণদের আর্থিক ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ চাহিদা পূরণের সহায়ক তহবিল সৃষ্টির কথা জানিয়ে অর্থমন্ত্রী আরও বলেছিলেন, এতে দেশের আর্থিক খাতের গভীরতাও নিশ্চিত হবে।

নতুন প্রজ্ঞাপনটি হঠাৎ জারি করা হয়নি জানিয়ে অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন, ‘অর্থ বিভাগ চলতি অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার আগে থেকেই নতুন পেনশন-পদ্ধতি নিয়ে কাজ শুরু করে। বিভাগটি এ বিষয়ে একটি ধারণাপত্রও তৈরি করে, যা অর্থমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হয় গত আগস্টে।’

তিনি বলেন, ‘পেনশন নিয়ে যে প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে তা পরিবর্তনের আর কোন সুযোগ নেই। সরকারি চাকরিজীবীদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যই এ বিধান জারি করা হয়েছে।’

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X