সোমবার, ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৭ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ৯:৫০
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Tuesday, November 1, 2016 12:19 pm
A- A A+ Print

পৌর মেয়র লোকমান হত্যার বিচার আজো থমকে আছে

narsingdi81477979276

নরসিংদীর জনপ্রিয় পৌর মেয়র লোকমান হোসেন হত্যার পঞ্চম বার্ষিকী আজ। ২০১১ সালের ১ নভেম্বর সন্ত্রাসীরা শহরের জেলা আওয়ামীলীগের অস্থায়ী কার্যালয়ে ঢুকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে তাকে।
  ব্যাপক জনপ্রিয়তার কারণে দ্বিতীয় বারের মতো পৌর মেয়র নির্বাচিত হওয়ার মাত্র ৮ মাসের মাথায় খুন হন লোকমান। নির্মমভাবে হত্যার এই ঘটনা আজো মেনে নিতে পারেনি নরসিংদীবাসী।   এদিকে লোকমান হোসেনের ছোট দুই শিশু সন্তান সালফি এবং নাজার এখন সময় কাটে তাদের বাবার ছবি দেখে। এখনও অপেক্ষায় থাকে তাদের বাবা ফিরে আসবে। লোকমানের স্ত্রী তামান্না নুসরাত বুবলীর চোখের পানিও এখন শুকিয়ে গেছে। স্বামীর চলে যাওয়া স্মৃতি নিয়ে বিচারের আশায় আছেন।   উল্লেখ্য যে, নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার পলাশতলী ইউনিয়নের মেঝেরকান্দি গ্রামের শাহ্ নেওয়াজ ভূঁইয়ার ছেলে লোকমান হোসেন কলেজ জীবন থেকেই জড়িয়ে পড়েন ছাত্র রাজনীতিতে। ২০০৪ সালে নরসিংদী জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক থাকাকালীন প্রথম পৌর নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে পৌর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন । জনপ্রিয়তার কারণে ২০১১ সালের ১৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হন লোকমান হোসেন। আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক পৌর চেয়ারম্যান আলহাজ আব্দুল মতিন সরকারকে ১৯ হাজার ৯০০ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন তিনি। মেয়র লোকমান নরসিংদী পৌরসভায় ১০০ কোটি টাকারও বেশি উন্নয়ন কাজ করে শহরকে সুন্দর ও আধুনিক রূপ দেন। আবার ট্যাক্স আদায়ে সরকারের পৌরসভা পারফরমেন্স রিভিউ কমিটির বিবেচনায় ২০০৬ সালে নরসিংদী পৌরসভা শ্রেষ্ঠ স্থান দখল করে। ফলে ২০০৮ সালে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক-এডিবি’র বিবেচনায় বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ মেয়রের পুরস্কার লাভ করেন। তিনি ঢাকা বিভাগীয় মেয়র সমিতির সভাপতিও ছিলেন। দ্বিতীয়বার মেয়র নির্বাচিত হওয়ার মাত্র ৮ মাসের মাথায় ২০১১ সালের পহেলা নভেম্বর সন্ধ্যায় সংঘটিত লোকমান হত্যাকান্ডকে কেন্দ্র করে অস্থির হয়ে উঠে গোটা নরসিংদী, আলোচনার ঝড় উঠে দেশজুড়ে। হত্যাকান্ডের দুই দিন পর লোকমান হোসেনের ছোট ভাই বর্তমান পৌর মেয়র কামরুজ্জামান কামরুল বাদী হয়ে তৎকালীন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজুর ভাই সালাউদ্দিন আহমেদ বাচ্চুকে প্রধান আসামী করে ১৪ জনের বিরুদ্ধে নরসিংদী সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের দুই মাসের মধ্যে একমাত্র বর্তমানে বিদেশে অবস্থানরত মামলার অন্যতম আসামী মোবারক হোসেন মোবা ছাড়া একে একে সকল আসামীরা আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনে বের হয়ে যায়। চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলাটি দীর্ঘ ৮ মাস তদন্ত শেষে এজাহারভুক্ত ১৪ জন আসামীর মধ্যে প্রধান আসামীসহ ১১ আসামীকে বাদ দিয়ে এজাহার বহির্ভূত ১২ জনকে অভিযুক্ত করে নরসিংদী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তৎকালীন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির ওসি মামুনুর রশিদ মন্ডল। কিন্তু এজাহারভুক্ত আসামীদের বাদ দেওয়ায় এ অভিযোগপত্রে সন্তুষ্ট হতে পারেননি লোকমানের পরিবার। বাদী পক্ষ থেকে অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে নারাজি আবেদন জানানো হলে বিজ্ঞ আদালত উক্ত নারাজি আবেদন খারিজ করে দেন। পরে বাদী জেলা জজ আদালতে রিভিউ পিটিশন দাখিল করলে তাও খারিজ হয়ে যায়। আবেদন খাজির হওয়ার পর উচ্চ আদালতের স্মরণাপন্ন হয় মামলার বাদী নিহত লোকমানের ভাই ও বর্তমান পৌর মেয়র কামরুজ্জামান কামরুল। বর্তমানে উচ্চ আদালতের স্থগিতাবস্থায় থাকায় নিম্ন আদালতে থমকে আছে চাঞ্চল্যকর লোকমান হত্যা মামলার বিচার কাজ।   তবে পুলিশী তদন্তে এ হত্যা মামলার এজাহার বহিভূত আসামী কিলার শরিফ বলে খ্যাত শরিফুল ইসলাম শরিফ ও তার অপর ৩ সহযোগীর অস্ত্র মামলায় আদালত ১০ বছরের কারাদন্ড প্রদান করে।   লোকমান হত্যা মামলার বাদী ও নিহত মেয়র লোকমান হোসেনের ছোট ভাই বর্তমান পৌর মেয়র কামরুজ্জামান বলেন, ‘বর্তমানে উচ্চ আদালতের স্থগিতাবস্থায় রয়েছে মামলাটি। যতক্ষণ পর্যন্ত লোকমান হত্যার যথাযথ বিচার না হবে ততক্ষণ আইনী লড়াই চালিয়ে যাবো। এজন্য নরসিংদীবাসী আমার পাশে রয়েছে।’   নিহত লোকমানের স্ত্রী তামান্না নুসরাত বুবলী বলেন, মেয়র লোকমান হত্যার বিচার না হলে মানুষ রাজনীতির প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলবে। আমার মত প্রতিটি নরসিংদীবাসীর চাওয়া লোকমান হত্যার সঠিক বিচার পাওয়া। স্বামী হারানোর পর তার স্বপ্ন বাস্তবায়ন ও জনগণের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে রাজনীতিতে সক্রিয় আছেন বলেও জানান তিনি। এ জন্য আওয়ামীলীগ নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণ তার পাশে রয়েছে বলে দাবী করেন তিনি।   লোকমান হত্যাকান্ডের ৫ম বার্ষিকী উপলক্ষে জনবন্ধু লোকমান ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে ৫ দিন ব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি। কর্মসূচী মধ্যে রয়েছে, ১ নভেম্বর সকাল ৭ থেকে ৯টা পর্যন্ত পৌর কববস্থানে লোকমানের সমাধিতে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন। সকাল সাড়ে ৯টায় মিলাদ, দোয়া ও গণভোজ। বেলা সাড়ে ১১টায় লোকমানে হোসেনের স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন।এ ছাড়া বিভিন্ন সংগঠন কর্তৃক পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে মিলাদ মাহফিল দোয়া ও গণভোজ এবং মসজিদ-মন্দিরে বিশেষ প্রার্থণা, ২ নভেম্বর জনবন্ধু লোকমান সংগ্রাম পরিষদের আয়োজেন সকাল ১০টায় নরসিংদী জেলাখানা মোড় হতে শিক্ষাচত্বর পর্যন্ত খুনিদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন। ৩ নভেম্বর নরসিংদী জেলা ও শহর পূজা উদযাপন পরিষদের আয়োজনে সকাল ৯টায় পৌর মিলনায়তনে বিনামুল্যে চক্ষু চিকিৎসা শিবির। ৪ নভেম্বর লোকমান সংগ্রাম পরিষদের আয়োজেন মাধবদী হাই স্কুল মাঠে মিলাদ মাহফিল ও বিকালে জনবন্ধু লোকমান হোসেন ফাউন্ডেশনের আয়োজেন পৌর মিলনায়তনে তরুন কবি শাহ আলম এর কাব্যগ্রন্থ থেকে নির্বাচিত কবিতা আবৃত্তি অনুষ্ঠান ‘তোমার মৃত্যু আমাদের অপরাধী করে দিয়েছে’ এবং ৫ নভেম্বর নরসিংদী জেলা ও শহর আওয়ামীলীগের আয়োজেন জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে স্মরণসভা।  

Comments

Comments!

 পৌর মেয়র লোকমান হত্যার বিচার আজো থমকে আছেAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

পৌর মেয়র লোকমান হত্যার বিচার আজো থমকে আছে

Tuesday, November 1, 2016 12:19 pm
narsingdi81477979276

নরসিংদীর জনপ্রিয় পৌর মেয়র লোকমান হোসেন হত্যার পঞ্চম বার্ষিকী আজ। ২০১১ সালের ১ নভেম্বর সন্ত্রাসীরা শহরের জেলা আওয়ামীলীগের অস্থায়ী কার্যালয়ে ঢুকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে তাকে।

 

ব্যাপক জনপ্রিয়তার কারণে দ্বিতীয় বারের মতো পৌর মেয়র নির্বাচিত হওয়ার মাত্র ৮ মাসের মাথায় খুন হন লোকমান। নির্মমভাবে হত্যার এই ঘটনা আজো মেনে নিতে পারেনি নরসিংদীবাসী।

 

এদিকে লোকমান হোসেনের ছোট দুই শিশু সন্তান সালফি এবং নাজার এখন সময় কাটে তাদের বাবার ছবি দেখে। এখনও অপেক্ষায় থাকে তাদের বাবা ফিরে আসবে। লোকমানের স্ত্রী তামান্না নুসরাত বুবলীর চোখের পানিও এখন শুকিয়ে গেছে। স্বামীর চলে যাওয়া স্মৃতি নিয়ে বিচারের আশায় আছেন।

 

উল্লেখ্য যে, নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার পলাশতলী ইউনিয়নের মেঝেরকান্দি গ্রামের শাহ্ নেওয়াজ ভূঁইয়ার ছেলে লোকমান হোসেন কলেজ জীবন থেকেই জড়িয়ে পড়েন ছাত্র রাজনীতিতে। ২০০৪ সালে নরসিংদী জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক থাকাকালীন প্রথম পৌর নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে পৌর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন । জনপ্রিয়তার কারণে ২০১১ সালের ১৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হন লোকমান হোসেন। আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক পৌর চেয়ারম্যান আলহাজ আব্দুল মতিন সরকারকে ১৯ হাজার ৯০০ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন তিনি।

মেয়র লোকমান নরসিংদী পৌরসভায় ১০০ কোটি টাকারও বেশি উন্নয়ন কাজ করে শহরকে সুন্দর ও আধুনিক রূপ দেন। আবার ট্যাক্স আদায়ে সরকারের পৌরসভা পারফরমেন্স রিভিউ কমিটির বিবেচনায় ২০০৬ সালে নরসিংদী পৌরসভা শ্রেষ্ঠ স্থান দখল করে। ফলে ২০০৮ সালে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক-এডিবি’র বিবেচনায় বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ মেয়রের পুরস্কার লাভ করেন। তিনি ঢাকা বিভাগীয় মেয়র সমিতির সভাপতিও ছিলেন।

দ্বিতীয়বার মেয়র নির্বাচিত হওয়ার মাত্র ৮ মাসের মাথায় ২০১১ সালের পহেলা নভেম্বর সন্ধ্যায় সংঘটিত লোকমান হত্যাকান্ডকে কেন্দ্র করে অস্থির হয়ে উঠে গোটা নরসিংদী, আলোচনার ঝড় উঠে দেশজুড়ে। হত্যাকান্ডের দুই দিন পর লোকমান হোসেনের ছোট ভাই বর্তমান পৌর মেয়র কামরুজ্জামান কামরুল বাদী হয়ে তৎকালীন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজুর ভাই সালাউদ্দিন আহমেদ বাচ্চুকে প্রধান আসামী করে ১৪ জনের বিরুদ্ধে নরসিংদী সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের দুই মাসের মধ্যে একমাত্র বর্তমানে বিদেশে অবস্থানরত মামলার অন্যতম আসামী মোবারক হোসেন মোবা ছাড়া একে একে সকল আসামীরা আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনে বের হয়ে যায়।

চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলাটি দীর্ঘ ৮ মাস তদন্ত শেষে এজাহারভুক্ত ১৪ জন আসামীর মধ্যে প্রধান আসামীসহ ১১ আসামীকে বাদ দিয়ে এজাহার বহির্ভূত ১২ জনকে অভিযুক্ত করে নরসিংদী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তৎকালীন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির ওসি মামুনুর রশিদ মন্ডল। কিন্তু এজাহারভুক্ত আসামীদের বাদ দেওয়ায় এ অভিযোগপত্রে সন্তুষ্ট হতে পারেননি লোকমানের পরিবার। বাদী পক্ষ থেকে অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে নারাজি আবেদন জানানো হলে বিজ্ঞ আদালত উক্ত নারাজি আবেদন খারিজ করে দেন। পরে বাদী জেলা জজ আদালতে রিভিউ পিটিশন দাখিল করলে তাও খারিজ হয়ে যায়।

আবেদন খাজির হওয়ার পর উচ্চ আদালতের স্মরণাপন্ন হয় মামলার বাদী নিহত লোকমানের ভাই ও বর্তমান পৌর মেয়র কামরুজ্জামান কামরুল। বর্তমানে উচ্চ আদালতের স্থগিতাবস্থায় থাকায় নিম্ন আদালতে থমকে আছে চাঞ্চল্যকর লোকমান হত্যা মামলার বিচার কাজ।

 

তবে পুলিশী তদন্তে এ হত্যা মামলার এজাহার বহিভূত আসামী কিলার শরিফ বলে খ্যাত শরিফুল ইসলাম শরিফ ও তার অপর ৩ সহযোগীর অস্ত্র মামলায় আদালত ১০ বছরের কারাদন্ড প্রদান করে।

 

লোকমান হত্যা মামলার বাদী ও নিহত মেয়র লোকমান হোসেনের ছোট ভাই বর্তমান পৌর মেয়র কামরুজ্জামান বলেন, ‘বর্তমানে উচ্চ আদালতের স্থগিতাবস্থায় রয়েছে মামলাটি। যতক্ষণ পর্যন্ত লোকমান হত্যার যথাযথ বিচার না হবে ততক্ষণ আইনী লড়াই চালিয়ে যাবো। এজন্য নরসিংদীবাসী আমার পাশে রয়েছে।’

 

নিহত লোকমানের স্ত্রী তামান্না নুসরাত বুবলী বলেন, মেয়র লোকমান হত্যার বিচার না হলে মানুষ রাজনীতির প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলবে। আমার মত প্রতিটি নরসিংদীবাসীর চাওয়া লোকমান হত্যার সঠিক বিচার পাওয়া। স্বামী হারানোর পর তার স্বপ্ন বাস্তবায়ন ও জনগণের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে রাজনীতিতে সক্রিয় আছেন বলেও জানান তিনি। এ জন্য আওয়ামীলীগ নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণ তার পাশে রয়েছে বলে দাবী করেন তিনি।

 

লোকমান হত্যাকান্ডের ৫ম বার্ষিকী উপলক্ষে জনবন্ধু লোকমান ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে ৫ দিন ব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি। কর্মসূচী মধ্যে রয়েছে, ১ নভেম্বর সকাল ৭ থেকে ৯টা পর্যন্ত পৌর কববস্থানে লোকমানের সমাধিতে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন। সকাল সাড়ে ৯টায় মিলাদ, দোয়া ও গণভোজ। বেলা সাড়ে ১১টায় লোকমানে হোসেনের স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন।এ ছাড়া বিভিন্ন সংগঠন কর্তৃক পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে মিলাদ মাহফিল দোয়া ও গণভোজ এবং মসজিদ-মন্দিরে বিশেষ প্রার্থণা, ২ নভেম্বর জনবন্ধু লোকমান সংগ্রাম পরিষদের আয়োজেন সকাল ১০টায় নরসিংদী জেলাখানা মোড় হতে শিক্ষাচত্বর পর্যন্ত খুনিদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন। ৩ নভেম্বর নরসিংদী জেলা ও শহর পূজা উদযাপন পরিষদের আয়োজনে সকাল ৯টায় পৌর মিলনায়তনে বিনামুল্যে চক্ষু চিকিৎসা শিবির। ৪ নভেম্বর লোকমান সংগ্রাম পরিষদের আয়োজেন মাধবদী হাই স্কুল মাঠে মিলাদ মাহফিল ও বিকালে জনবন্ধু লোকমান হোসেন ফাউন্ডেশনের আয়োজেন পৌর মিলনায়তনে তরুন কবি শাহ আলম এর কাব্যগ্রন্থ থেকে নির্বাচিত কবিতা আবৃত্তি অনুষ্ঠান ‘তোমার মৃত্যু আমাদের অপরাধী করে দিয়েছে’ এবং ৫ নভেম্বর নরসিংদী জেলা ও শহর আওয়ামীলীগের আয়োজেন জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে স্মরণসভা।

 

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X