রবিবার, ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৬ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সকাল ৯:১৫
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Monday, October 31, 2016 2:39 pm
A- A A+ Print

প্রবাসে বাংলাদেশিদের নামের ভোগান্তি

7d559122d9df9e0053a1492221304adc-pic-3

ডা. কনক আপা ফোনে জানালেন, সম্প্রতি আমাদের এখানে বাংলাদেশে থেকে একটি পরিবার এসেছেন। পরিবারের কর্তার নাম শাফায়েত আর মোবাইল নম্বর দিয়ে অনুরোধ করলেন, অন্যান্য বারের মতো এবারও যাতে স্থানীয় কাজের তথ্য ও উপাত্ত দিয়ে যেন এ পরিবারটিকে প্রাথমিকভাবে থিতু হতে সাহায্য করি। যেহেতু খুব আনন্দের সঙ্গে এ কাজটি গত কয়েক বছর ঘণ্টার পর ঘণ্টা করে এসেছি, তাই ফুরফুরে মেজাজে মোবাইল ফোন তুলে শাফায়েত সাহেবের নম্বরে কল করলাম। রিং শেষ হয়ে এক সময় ওনার ভয়েস মেইল বক্সে প্রবেশ করল। আবুল খায়ের মোহাম্মদ শাফায়েত আলী খান ইজ আন অ্যাভেলেবল নাউ, প্লিজ লিভ ইওর নেম অ্যান্ড নম্বর আই উইল কল ইউ ব্যাক। এত দীর্ঘ নাম শুনে খানিকটা চমকেই উঠলাম। সঙ্গে সঙ্গে আশঙ্কা হলো আমাদের এ বাংলাদেশি ভাই এত বড় নামের কারণে না আবার কোথাও ফরম পূরণ করতে গিয়ে ঝামেলায় পড়েন। পরবর্তীতে এ পরিবারটির সঙ্গে অসম্ভব আন্তরিকতাপূর্ণ সম্পর্ক হলো। ভদ্রলোক আমার বয়সীই। সংক্ষেপে শাফায়েত ভাই বলে সম্বোধন করি। একদিন সাহস করে জিজ্ঞাসা করলাম শাফায়েত ভাই এই দীর্ঘ নাম নিয়ে এখন পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়াতে কোনো সমস্যায় পড়েছেন কিনা। শাফায়েত ভাইয়ের চেহারায় একটা হতাশ ভাব ফুটে উঠল। তিনি গড়গড় করে বলতে লাগলেন যেখানেই কাগজে কলমে নাম লিখতে হয় সেখানেই ঝামেলা হয়। কারণটা আমি আগেই আঁচ করেছিলাম। সারা দুনিয়াতে এখন নাম লেখার প্যাটার্ন হলো গিভেন নেম বা নামের প্রথম অংশ এবং সার নেম বা বংশের নাম। পুরো নামটি লিখতে হয় দুটি শব্দে। যেমন মাইকেল ক্লার্ক। এখানে মাইকেল হলো গিভেন নেম এবং ক্লার্ক হলো সার নেম। কিন্তু আমাদের দেশে আকিকা করে যে দীর্ঘ নাম রাখার রেওয়াজ তাকে সারা দুনিয়ার বর্তমান প্যাটার্ন বা ফরম্যাটে ফেলাটা অসম্ভব। কিন্তু এখানকার ফরম্যাটের বাইরেতো লেখারও কোনো সুযোগ নেই। তাই ভোগান্তি অনিবার্য। চাকরির দরখাস্ত, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, বিমান টিকিট সব জায়গাতেই নাম দেখেই প্রথমে ভ্রু কুঁচকে ফেলেন গ্রাহক সেবাদাতা। শাফায়েত ভাই জানালেন, একবার ঢাকা থেকে রাশিয়াতে একটি প্রশিক্ষণের জন্য তাঁকে যেতে হবে। রাশিয়ার ভিসা স্টিকারে তাঁর নাম কোনোভাবেই এক লাইনে লেখা ছাপানো যাচ্ছে না। আসল ব্যাপার হলো ওদের কম্পিউটার সিস্টেমে ভিসা প্রার্থীর নাম এক লাইনেই লিখতে হবে। ঢাকার রাশিয়ান অ্যাম্বাসি পড়ল মহা ফাঁপরে। পরে তারা রাশিয়ার ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে ডায়গোনালি বা কোনাকুনিভাবে শাফায়েত ভাইয়ের নাম ছেপে বের করেন। কিন্তু এতে করে এতটা সময় লেগেছিল যে, শাফায়েত ভাইয়ের ট্রেনিংয়ে যাওয়াটাই ভেস্তে যেতে বসেছিল। অনেকবার বহু বিদেশি আমাকে জিজ্ঞাসা করেছেন তোমাদের দেশে কি বেশির ভাগ ছেলেদের গিভেন নেম মোহাম্মদ? প্রথমদিকে বিষয়টি নিয়ে একটু ভাবিনি। কিন্তু পরে দেখেছি ওরাই অফিস বা কাজের জায়গাতে ডাকছে এই মোহাম্মদ শোন, আবার অন্যজনকেও ডাকছে মোহাম্মদ। এর কারণ হলো ধরা যাক কারও নাম মোহাম্মদ ফারুক, কারও নাম মোহাম্মদ মাসুম, কারও নাম মোহাম্মদ আলী। সারা দুনিয়ায় প্রচলিত আধুনিক নামের প্যাটার্নে তাই মোহাম্মদ হলো ফার্স্ট নেম বা গিভেন নেম আর ফারুক, মাসুম বা আলী হলো তাহলে সার নেম বা বংশের নাম! এখন ভেবে দেখুন আসলেই কি ফারুক, মাসুম বা আলী কি কোনো বংশের নাম? ইদানীংকালে বাংলাদেশে ছোট আধুনিক ঘরানার নাম রাখা হচ্ছে। তবে সেখানে উপেক্ষিত হচ্ছে বংশের নাম। যেমন ফাইয়াজ আদনান, মাসুদ করিম, জাহিদ মাহমুদ। লক্ষ্য করুন এখানে কোনোভাবেই নামের দ্বিতীয় অংশটি কোনো সার নেম বা বংশের নাম নয়। সুতরাং আন্তর্জাতিক প্যাটার্ন অনুযায়ী কিন্তু আধুনিক নামগুলো রাখা হচ্ছে না। মজার ব্যাপার হলো যখন এ ধরনের নামের অধিকারীরা একই পরিবার থেকে বিদেশে আসার জন্য দরখাস্ত করে অথচ তাদের বংশের নাম আলাদা আলাদা এ বিষয়টি ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে দারুণভাবে ভাবায়। যেমন কারও বাবার সার নেমের সঙ্গে সন্তানের সার নেমের কোনো মিল নেই! আপন ভাইয়ে সার নেমের সঙ্গে অন্য ভাইয়ের মিল নেই! ধরা যাক আধুনিক নামের অধিকারী দুই ভাই অস্ট্রেলিয়াতে পড়তে আসবে। এদের একজনের নাম আদনান মাসুদ ও অপরজন ফাইয়াজ হাসান। এখন আপন দুই ভাইয়ের সার নেম কীভাবে আলাদা হয়। এটা এদের কাছে কিন্তু অবিশ্বাস্য। আপনাদের নিশ্চয় মনে আছে স্টিভ ওয়াহ আর মার্ক ওয়াহর কথা। দেখুন এরা আপন দুই ভাই ও এদের সার নেম ওয়াহ কিন্তু একই। আরও একধরনের নামজনিত সমস্যা আছে। বছর দুয়েক আগে একবার বাংলাদেশ থেকে বিমানের টিকিট কিনতে গিয়ে অভিনব এক সমস্যায় পড়েছিলেন এক বাংলাদেশি। তার পাসপোর্ট নাম আসাদুজ্জামান। কোন সারনেম নেই! অথচ প্লেনের টিকিটিং সিস্টেমে সারনেম ছাড়া কোনো অবস্থাতেই টিকিট ইস্যু হচ্ছিল না। অবশেষে বহু কাঠখড় পুড়িয়ে বিশেষ ব্যবস্থায় তাঁর টিকিট হয়েছিল। সবশেষ ধরনের নামের ব্যাপারে দৃষ্টি দেওয়া যাক। অবশ্য দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, এ ক্যাটাগরিতে আমি নিজেই পড়ি। দিন কয়েক আগে এক বাংলাদেশি ভাইয়ের নামের আবেদন ফরম পড়ছিলাম। তার গিভেন নেম হলো এবিএম আর সার নেম হলো রুহুল। তিনি যেখানে ফরমটি জমা দিয়েছেন ফরম জমা নেওয়ার সময় কাস্টমার সার্ভিসের লোকটি অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন এবিএম তো কোনো অর্থবোধক কিছু নয়। এটিই কি সঠিক গিভেন নেম? বেচারা রুহুল সাহেব একটু দমে গিয়ে বললেন, আসলে আবুল বাসার মোহাম্মদের সংক্ষিপ্ত রূপ হলো এবিএম। শুনে কাস্টমার সার্ভিসের লোকটি হেসে বললেন, তোমাদের নামগুলো এত বড় হয় কেন বল তো? কিছুটা বিরক্ত হলেও যথাসম্ভব হাসি হাসি মুখে রুহুল সাহেব উত্তরে পাল্টা প্রশ্ন করে বললেন, ছোটবেলায় নাম রাখার জন্য দুটো ছাগল জবাই করে আকিকা করে মানুষ কেন ছোট নাম রাখবে তুমিই বল? বাংলাদেশে দুটো ছাগলের দাম কত তোমার কোনো ধারণা আছে? দুটো ছাগলের দাম যেমন বেশি তাই নামও তত লম্বা! শুনে কাস্টমার সার্ভিসের লোকটি বললেন, ফেয়ার এনাফ! তাই নাম রাখার ক্ষেত্রে আমাদের আরেকটু সচেতনতা প্রয়োজন। সারা দুনিয়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আমরা আধুনিক হচ্ছি। আর তাই আন্তর্জাতিক প্যাটার্নে সংক্ষেপে নাম রাখাটাই বাঞ্ছনীয়। যেখানে নামের প্রথম অংশটিই হবে আসল নাম আর দ্বিতীয় অংশে থাকবে বংশের নাম। নতুবা বাংলাদেশ থেকে বের হওয়ার পর থেকেই নাম নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত ঝামেলার সম্ভাবনা কিন্তু রয়েই যাবে।

Comments

Comments!

 প্রবাসে বাংলাদেশিদের নামের ভোগান্তিAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

প্রবাসে বাংলাদেশিদের নামের ভোগান্তি

Monday, October 31, 2016 2:39 pm
7d559122d9df9e0053a1492221304adc-pic-3


ডা. কনক আপা ফোনে জানালেন, সম্প্রতি আমাদের এখানে বাংলাদেশে থেকে একটি পরিবার এসেছেন। পরিবারের কর্তার নাম শাফায়েত আর মোবাইল নম্বর দিয়ে অনুরোধ করলেন, অন্যান্য বারের মতো এবারও যাতে স্থানীয় কাজের তথ্য ও উপাত্ত দিয়ে যেন এ পরিবারটিকে প্রাথমিকভাবে থিতু হতে সাহায্য করি। যেহেতু খুব আনন্দের সঙ্গে এ কাজটি গত কয়েক বছর ঘণ্টার পর ঘণ্টা করে এসেছি, তাই ফুরফুরে মেজাজে মোবাইল ফোন তুলে শাফায়েত সাহেবের নম্বরে কল করলাম। রিং শেষ হয়ে এক সময় ওনার ভয়েস মেইল বক্সে প্রবেশ করল। আবুল খায়ের মোহাম্মদ শাফায়েত আলী খান ইজ আন অ্যাভেলেবল নাউ, প্লিজ লিভ ইওর নেম অ্যান্ড নম্বর আই উইল কল ইউ ব্যাক।
এত দীর্ঘ নাম শুনে খানিকটা চমকেই উঠলাম। সঙ্গে সঙ্গে আশঙ্কা হলো আমাদের এ বাংলাদেশি ভাই এত বড় নামের কারণে না আবার কোথাও ফরম পূরণ করতে গিয়ে ঝামেলায় পড়েন।
পরবর্তীতে এ পরিবারটির সঙ্গে অসম্ভব আন্তরিকতাপূর্ণ সম্পর্ক হলো। ভদ্রলোক আমার বয়সীই। সংক্ষেপে শাফায়েত ভাই বলে সম্বোধন করি। একদিন সাহস করে জিজ্ঞাসা করলাম শাফায়েত ভাই এই দীর্ঘ নাম নিয়ে এখন পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়াতে কোনো সমস্যায় পড়েছেন কিনা। শাফায়েত ভাইয়ের চেহারায় একটা হতাশ ভাব ফুটে উঠল। তিনি গড়গড় করে বলতে লাগলেন যেখানেই কাগজে কলমে নাম লিখতে হয় সেখানেই ঝামেলা হয়। কারণটা আমি আগেই আঁচ করেছিলাম।

সারা দুনিয়াতে এখন নাম লেখার প্যাটার্ন হলো গিভেন নেম বা নামের প্রথম অংশ এবং সার নেম বা বংশের নাম। পুরো নামটি লিখতে হয় দুটি শব্দে। যেমন মাইকেল ক্লার্ক। এখানে মাইকেল হলো গিভেন নেম এবং ক্লার্ক হলো সার নেম। কিন্তু আমাদের দেশে আকিকা করে যে দীর্ঘ নাম রাখার রেওয়াজ তাকে সারা দুনিয়ার বর্তমান প্যাটার্ন বা ফরম্যাটে ফেলাটা অসম্ভব। কিন্তু এখানকার ফরম্যাটের বাইরেতো লেখারও কোনো সুযোগ নেই। তাই ভোগান্তি অনিবার্য।
চাকরির দরখাস্ত, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, বিমান টিকিট সব জায়গাতেই নাম দেখেই প্রথমে ভ্রু কুঁচকে ফেলেন গ্রাহক সেবাদাতা। শাফায়েত ভাই জানালেন, একবার ঢাকা থেকে রাশিয়াতে একটি প্রশিক্ষণের জন্য তাঁকে যেতে হবে। রাশিয়ার ভিসা স্টিকারে তাঁর নাম কোনোভাবেই এক লাইনে লেখা ছাপানো যাচ্ছে না। আসল ব্যাপার হলো ওদের কম্পিউটার সিস্টেমে ভিসা প্রার্থীর নাম এক লাইনেই লিখতে হবে। ঢাকার রাশিয়ান অ্যাম্বাসি পড়ল মহা ফাঁপরে। পরে তারা রাশিয়ার ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে ডায়গোনালি বা কোনাকুনিভাবে শাফায়েত ভাইয়ের নাম ছেপে বের করেন। কিন্তু এতে করে এতটা সময় লেগেছিল যে, শাফায়েত ভাইয়ের ট্রেনিংয়ে যাওয়াটাই ভেস্তে যেতে বসেছিল।
অনেকবার বহু বিদেশি আমাকে জিজ্ঞাসা করেছেন তোমাদের দেশে কি বেশির ভাগ ছেলেদের গিভেন নেম মোহাম্মদ? প্রথমদিকে বিষয়টি নিয়ে একটু ভাবিনি। কিন্তু পরে দেখেছি ওরাই অফিস বা কাজের জায়গাতে ডাকছে এই মোহাম্মদ শোন, আবার অন্যজনকেও ডাকছে মোহাম্মদ। এর কারণ হলো ধরা যাক কারও নাম মোহাম্মদ ফারুক, কারও নাম মোহাম্মদ মাসুম, কারও নাম মোহাম্মদ আলী। সারা দুনিয়ায় প্রচলিত আধুনিক নামের প্যাটার্নে তাই মোহাম্মদ হলো ফার্স্ট নেম বা গিভেন নেম আর ফারুক, মাসুম বা আলী হলো তাহলে সার নেম বা বংশের নাম! এখন ভেবে দেখুন আসলেই কি ফারুক, মাসুম বা আলী কি কোনো বংশের নাম?
ইদানীংকালে বাংলাদেশে ছোট আধুনিক ঘরানার নাম রাখা হচ্ছে। তবে সেখানে উপেক্ষিত হচ্ছে বংশের নাম। যেমন ফাইয়াজ আদনান, মাসুদ করিম, জাহিদ মাহমুদ। লক্ষ্য করুন এখানে কোনোভাবেই নামের দ্বিতীয় অংশটি কোনো সার নেম বা বংশের নাম নয়। সুতরাং আন্তর্জাতিক প্যাটার্ন অনুযায়ী কিন্তু আধুনিক নামগুলো রাখা হচ্ছে না। মজার ব্যাপার হলো যখন এ ধরনের নামের অধিকারীরা একই পরিবার থেকে বিদেশে আসার জন্য দরখাস্ত করে অথচ তাদের বংশের নাম আলাদা আলাদা এ বিষয়টি ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে দারুণভাবে ভাবায়। যেমন কারও বাবার সার নেমের সঙ্গে সন্তানের সার নেমের কোনো মিল নেই! আপন ভাইয়ে সার নেমের সঙ্গে অন্য ভাইয়ের মিল নেই! ধরা যাক আধুনিক নামের অধিকারী দুই ভাই অস্ট্রেলিয়াতে পড়তে আসবে। এদের একজনের নাম আদনান মাসুদ ও অপরজন ফাইয়াজ হাসান। এখন আপন দুই ভাইয়ের সার নেম কীভাবে আলাদা হয়। এটা এদের কাছে কিন্তু অবিশ্বাস্য। আপনাদের নিশ্চয় মনে আছে স্টিভ ওয়াহ আর মার্ক ওয়াহর কথা। দেখুন এরা আপন দুই ভাই ও এদের সার নেম ওয়াহ কিন্তু একই।
আরও একধরনের নামজনিত সমস্যা আছে। বছর দুয়েক আগে একবার বাংলাদেশ থেকে বিমানের টিকিট কিনতে গিয়ে অভিনব এক সমস্যায় পড়েছিলেন এক বাংলাদেশি। তার পাসপোর্ট নাম আসাদুজ্জামান। কোন সারনেম নেই! অথচ প্লেনের টিকিটিং সিস্টেমে সারনেম ছাড়া কোনো অবস্থাতেই টিকিট ইস্যু হচ্ছিল না। অবশেষে বহু কাঠখড় পুড়িয়ে বিশেষ ব্যবস্থায় তাঁর টিকিট হয়েছিল।
সবশেষ ধরনের নামের ব্যাপারে দৃষ্টি দেওয়া যাক। অবশ্য দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, এ ক্যাটাগরিতে আমি নিজেই পড়ি। দিন কয়েক আগে এক বাংলাদেশি ভাইয়ের নামের আবেদন ফরম পড়ছিলাম। তার গিভেন নেম হলো এবিএম আর সার নেম হলো রুহুল। তিনি যেখানে ফরমটি জমা দিয়েছেন ফরম জমা নেওয়ার সময় কাস্টমার সার্ভিসের লোকটি অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন এবিএম তো কোনো অর্থবোধক কিছু নয়। এটিই কি সঠিক গিভেন নেম? বেচারা রুহুল সাহেব একটু দমে গিয়ে বললেন, আসলে আবুল বাসার মোহাম্মদের সংক্ষিপ্ত রূপ হলো এবিএম। শুনে কাস্টমার সার্ভিসের লোকটি হেসে বললেন, তোমাদের নামগুলো এত বড় হয় কেন বল তো? কিছুটা বিরক্ত হলেও যথাসম্ভব হাসি হাসি মুখে রুহুল সাহেব উত্তরে পাল্টা প্রশ্ন করে বললেন, ছোটবেলায় নাম রাখার জন্য দুটো ছাগল জবাই করে আকিকা করে মানুষ কেন ছোট নাম রাখবে তুমিই বল? বাংলাদেশে দুটো ছাগলের দাম কত তোমার কোনো ধারণা আছে? দুটো ছাগলের দাম যেমন বেশি তাই নামও তত লম্বা! শুনে কাস্টমার সার্ভিসের লোকটি বললেন, ফেয়ার এনাফ!
তাই নাম রাখার ক্ষেত্রে আমাদের আরেকটু সচেতনতা প্রয়োজন। সারা দুনিয়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আমরা আধুনিক হচ্ছি। আর তাই আন্তর্জাতিক প্যাটার্নে সংক্ষেপে নাম রাখাটাই বাঞ্ছনীয়। যেখানে নামের প্রথম অংশটিই হবে আসল নাম আর দ্বিতীয় অংশে থাকবে বংশের নাম। নতুবা বাংলাদেশ থেকে বের হওয়ার পর থেকেই নাম নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত ঝামেলার সম্ভাবনা কিন্তু রয়েই যাবে।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X