মঙ্গলবার, ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৮ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ৩:৪৯
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Saturday, November 26, 2016 8:38 am
A- A A+ Print

‘ফিরলে আমাদের মেরে ফেলবে’ : পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থী

13

ওরা নিরাপত্তার আশায় ছুটছে হাজারে হাজারে। উত্তর-পশ্চিম মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর ব্যাপক হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতন থেকে বাঁচতে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমরা পালাচ্ছে। অনেকেই আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছে বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে।

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কয়েকজন সিএনএনের কাছে বর্ণনা করেছেন তাঁদের ওপর ধর্ষণ ও নিপীড়নের কথা। চোখের সামনেই বাড়িঘর পুড়তে দেখেছেন তাঁরা। হত্যা করা হয়েছে পরিবারের সদস্যদের। রোহিঙ্গা নারী লালু বেগম বললেন, ‘তারা (সেনাসদস্যরা) ১০ বছরের বেশি বয়সী কোনো ছেলেকে পেলেই হত্যা করছে। পুরুষদের অনেককে ধরে নিয়ে যায়। সেনারা এলে আমরা বাড়ি ছেড়ে পালাই। জানি না আমার স্বামী বেঁচে আছেন, নাকি মৃত।’

লালু বেগম এখন বাংলাদেশের কুতুপালং আশ্রয়শিবিরে আছেন। তিনি বললেন, তাঁর গ্রামের অনেক নারী সেনাবাহিনীর সদস্যদের ধর্ষণের শিকার হয়েছেন।

রাখাইনে আনুমানিক ১০ লাখ রোহিঙ্গার বসবাস। মিয়ানমারের সরকার রোহিঙ্গাদের নাগরিক বলে স্বীকার করে না। অথচ বহু রোহিঙ্গা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বাস করছে দেশটিতে।

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার বাংলাদেশ শাখার কর্মকর্তা জন ম্যাককিসিক বলেছেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর আচরণ দেখে মনে হচ্ছে, তারা জাতিগত নির্মূলের লক্ষ্যে অভিযান শুরু করেছে।

মিয়ানমারের সরকার অবশ্য রাখাইনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, সেনাবাহিনী সেখানে সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীদের ধরতে অভিযান চালিয়েছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবর, সহিংস হামলাকারীরা গত ৯ অক্টোবর সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নয় সদস্যকে হত্যা করেছে। সেই থেকে এ পর্যন্ত সরকারি অভিযানে অন্তত ১০০ মানুষ নিহত ও প্রায় ৬০০ জন গ্রেপ্তার হয়েছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী মিয়ানমারের সরকারি বাহিনী রোহিঙ্গাদের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে। সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, গ্রামেরই কিছু লোক এসব হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ী।

লালু বেগম বলছেন, সরকার ঠিকমতো ব্যবস্থা নেয়নি বলেই তাঁরা পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছেন। তাঁদের গ্রামে আর কোনো রোহিঙ্গা মুসলিম অবশিষ্ট নেই। সবাই পালিয়েছে।

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার উপায় নেই, অন্তত সহিংসতার অবসান না হওয়া পর্যন্ত। জীবন বাঁচাতে সবকিছু ছেড়ে তাঁরা চলে এসেছেন। তাঁদের মনে আশঙ্কা, ফিরে গেলেই ‘ওরা’ মেরে ফেলবে।

Comments

Comments!

 ‘ফিরলে আমাদের মেরে ফেলবে’ : পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

‘ফিরলে আমাদের মেরে ফেলবে’ : পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থী

Saturday, November 26, 2016 8:38 am
13

ওরা নিরাপত্তার আশায় ছুটছে হাজারে হাজারে। উত্তর-পশ্চিম মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর ব্যাপক হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতন থেকে বাঁচতে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমরা পালাচ্ছে। অনেকেই আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছে বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে।

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কয়েকজন সিএনএনের কাছে বর্ণনা করেছেন তাঁদের ওপর ধর্ষণ ও নিপীড়নের কথা। চোখের সামনেই বাড়িঘর পুড়তে দেখেছেন তাঁরা। হত্যা করা হয়েছে পরিবারের সদস্যদের। রোহিঙ্গা নারী লালু বেগম বললেন, ‘তারা (সেনাসদস্যরা) ১০ বছরের বেশি বয়সী কোনো ছেলেকে পেলেই হত্যা করছে। পুরুষদের অনেককে ধরে নিয়ে যায়। সেনারা এলে আমরা বাড়ি ছেড়ে পালাই। জানি না আমার স্বামী বেঁচে আছেন, নাকি মৃত।’

লালু বেগম এখন বাংলাদেশের কুতুপালং আশ্রয়শিবিরে আছেন। তিনি বললেন, তাঁর গ্রামের অনেক নারী সেনাবাহিনীর সদস্যদের ধর্ষণের শিকার হয়েছেন।

রাখাইনে আনুমানিক ১০ লাখ রোহিঙ্গার বসবাস। মিয়ানমারের সরকার রোহিঙ্গাদের নাগরিক বলে স্বীকার করে না। অথচ বহু রোহিঙ্গা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বাস করছে দেশটিতে।

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার বাংলাদেশ শাখার কর্মকর্তা জন ম্যাককিসিক বলেছেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর আচরণ দেখে মনে হচ্ছে, তারা জাতিগত নির্মূলের লক্ষ্যে অভিযান শুরু করেছে।

মিয়ানমারের সরকার অবশ্য রাখাইনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, সেনাবাহিনী সেখানে সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীদের ধরতে অভিযান চালিয়েছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবর, সহিংস হামলাকারীরা গত ৯ অক্টোবর সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নয় সদস্যকে হত্যা করেছে। সেই থেকে এ পর্যন্ত সরকারি অভিযানে অন্তত ১০০ মানুষ নিহত ও প্রায় ৬০০ জন গ্রেপ্তার হয়েছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী মিয়ানমারের সরকারি বাহিনী রোহিঙ্গাদের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে। সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, গ্রামেরই কিছু লোক এসব হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ী।

লালু বেগম বলছেন, সরকার ঠিকমতো ব্যবস্থা নেয়নি বলেই তাঁরা পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছেন। তাঁদের গ্রামে আর কোনো রোহিঙ্গা মুসলিম অবশিষ্ট নেই। সবাই পালিয়েছে।

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার উপায় নেই, অন্তত সহিংসতার অবসান না হওয়া পর্যন্ত। জীবন বাঁচাতে সবকিছু ছেড়ে তাঁরা চলে এসেছেন। তাঁদের মনে আশঙ্কা, ফিরে গেলেই ‘ওরা’ মেরে ফেলবে।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X