রবিবার, ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১৩ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, দুপুর ১২:০৩
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Wednesday, November 9, 2016 6:11 pm
A- A A+ Print

ফিরে দেখা ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের জীবন

00

১৯৯৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের রিফর্ম পার্টি থেকে প্রেসিডেন্ট পদে প্রথম মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওই সময় ট্রাম্পের বান্ধবী মেলানিয়া নাসকে (বর্তমানে স্ত্রী) ‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমস’ এর পক্ষ থেকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তিনি কেমন ফার্স্ট লেডি হবেন? ১৯৯৯ সালে জয়ের সম্ভাবনা শূন্য হলেও আজ বাস্তেবই রিপাবলিকান দল থেকে প্রেসিডেন্ট হয়েছেন ট্রাম্প। ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় ১৮২৫ সালের পর মেলানিয়াই হবেন বিদেশি বংশোদ্ভূত প্রথম ফার্স্ট লেডি। ট্রাম্পের অভিবাসন-বিরোধী নীতির সঙ্গে মেলানিয়ার বর্তমান অবস্থা আপাত বিরোধী বলেই মত অনেকের। তবে সেই ট্রাম্পেরই বিদেশি বংশোদ্ভূত বউ হওয়ায় এ নির্মম পরিহাস উড়িয়ে দিয়ে মেলানিয়া বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে কাগজপত্রহীনভাবে বাস করা যে অভিবাসীদেরকে ট্রাম্প তাড়াতে চেয়েছেন তাদের সঙ্গে তার (মেলানিয়া) অবস্থাটা মোটেও এক নয়। এমএসএনবিসি’ কে মেলানিয়া বলেন, ‘আমি আইন মেনে চলি। আমি কাগজপত্র ছাড়া এখানে বাস করার কথা কল্পনাও করতে পারি না। আমার ভিসা আছে।’ আর ফার্স্ট লেডি হিসাবে কেমন হবেন? নতুন করে ফের সেই প্রশ্নে মেলানিয়ার জবাব, ‘আমার আচরণ হবে খুবই প্রথাগত। অনেকটা বেটি ফোর্ড অথবা জ্যাকি কেনেডির মত। আমি সবসময় তাকে (ট্রাম্পকে) সমর্থন করব।’ ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণা সমাবেশগুলোতেও মেলানিয়াকে দেখা গেছে। সর্বদা স্বামীর পাশে শান্ত ও চুপচাপ হয়েই দাঁড়িয়ে থাকছেন তিনি। বর্তমান ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামার সঙ্গে তুলনা করলে মেলানিয়া কথা বলেনই না বলা যায়। ২০০৮ সালে বারাক ওবামার নির্বাচনী প্রচারণার সময় তীর্যক মন্তব্য করে মিশেল ওবামা তার স্বামীরই মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছিলেন। একবার তিনি বলেছিলেন, ‘প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর এই প্রথম আমি সত্যি আমার দেশের জন্য গর্ব অনুভব করছি।’ মিশেলের এই মন্তব্যের পর রক্ষণশীলরা সমালোচনার ঝড় তোলে। এমনকি তার দেশপ্রেম নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। সেই তুলনায় মেলানিয়া স্বামীর নির্বাচনী প্রচারণায় সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে বলেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প সবচেয়ে সেরা প্রেসিডেন্ট হবেন।’স্লোভেনিয়া বংশোদ্ভূত ৪৫ বছর বয়সী মেলানিয়া মডেল ছিলেন। তাদের নয় বছর বয়সী পুত্রের নাম ব্যারন। ১৯৭০ সালে স্লোনিয়ার ছোট্ট শহর সেভনিকায় শৈশব কাটে তার। পরে মিলান ও প্যারিসে মডেল হিসেবে ক্যারিয়ার গড়েন তিনি। ১৯৯৬ সালে মেলানিয়া নিউইয়র্কে পাড়ি জমান। দুই বছর পর কিট ক্যাট ক্লাবের একটি পার্টিতে তার থেকে ২৪ বছরের বড় ট্রাম্পের সঙ্গে তার পরিচয় হয় বলে জানিয়েছে ‘দ্য গার্ডিয়ান’। ওই সময় ট্রাম্প তার দ্বিতীয় স্ত্রী মার্লা ম্যাপলেসের থেকে আলাদা বাস করতেন। ২০০৬ সালে মেলানিয়া ও ট্রাম্প বিয়ে করেন। তাদের বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন হিলারি ও বিল ক্লিনটন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্ত্রী হলেও মেলানিয়ার যৌক্তিক কথাই বলছেন? ট্রাম্প যেখানে প্রেসিডেন্ট হলে যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম অভিবাসন প্রত্যাশীদের ঢুকতে দেবেন না বলছেন, সেখানে মেলানিয়ার মত হচ্ছে, কেউ বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে চাইলে সে সুযোগ রাখা উচিত। যুক্তরাষ্ট্রে এসে মেলানিয়া নাস থেকে ট্রাম্পের তৃতীয় স্ত্রী হিসেবে মেলানিয়া ট্রাম্প হয়েছেন, ট্রাম্পের হাত ধরে তিনি হোয়াইট হাউসবাসীও হচ্ছেন। এদিকে অনুসন্ধানে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে ওয়াকিং ভিসা পাওয়ার আগে কমপক্ষে ১০টি অ্যাসাইনমেন্টে কাজ করেছিলেন মেলানিয়া ট্রাম্প। এবং এর বিনিময়ে তিনি ২০ হাজার ৫৬ ডলার পারিশ্রমিক নিয়েছিলেন। ১৯৯৬ সালের অক্টোবরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার অনুমতি পান। কিন্তু তার আগেই তিনি ১০টি মডেলিং কাজ করেন। এর বিনিময়ে তাকে ওই অর্থ দেয়া হয়। অর্থাৎ আইনগত অনুমোদন পাওয়ার আগেই তিনি অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে মডেলিং করেছিলেন টাকার বিনিময়ে। এ বিষয়ে বার্তা সংস্থা এপি’র হাতে বেশ কিছু তথ্য প্রমাণ এসেছে। মেলানিয়া ট্রাম্পের স্বামী ডোনাল্ড ট্রাম্প এবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে তার স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র সহ সারাবিশ্বের পত্রপত্রিকায়। তখনই এ বিষয়ে মেলানিয়া কোনো কথা না বললেও কিছুদিন পরে ট্রাম্প বলেছিলেন, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করবেন মেলানিয়া। কিন্তু যতদূর জানা যায় তাতে এ পর্যন্ত মেলানিয়া ওই সংবাদ সম্মেলন করেন নি। তিনি সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার স্বামীকে নারী বিষয়ক স্ক্যান্ডাল থেকে বাঁচাতে। এ অবস্থায় এপি তার রিপোর্টে বলেছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রচারণায় অভিবাসন বিরোধী কঠোর অবস্থানের কথা বলেছেন। যারা অভিবাসন বিষয়ক আইন লঙ্ঘন করেছেন তাদেরকে দেখে নেয়ার কথা বলেছেন । সেক্ষেত্রে যদি তার স্ত্রী মেলানিয়া এ আইন লঙ্ঘন করে থাকেন তাহলে তিনি কি করবেন সে বিষয়ে কিছুই বলেন নি। তিনি বলেছেন, অবৈধভাবে যেসব অভিবাসীকে অর্থ দেয়া হবে তাতে নিষেধাজ্ঞা আছে ফেডারেল আইনে। তাহলে তার স্ত্রীকে যে কাজ করার অনুমতি দেয়ার আগে কাজের জন্য অর্থ দেয়া হয়েছে সে বিষয়ে তিনি কি বলবেন! উল্লেখ্য, ২০০১ সালের মার্চে গ্রিন কার্ড পান মেলানিয়া ট্রাম্প। এরপর তিনি ২০০৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হন। মেলানিয়া সব সময়ই বলে আসছেন যে, তিনি আইনগতভাবেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছেন। কখনোই তিনি অভিবাসন বিষয়ক আইন ভঙ্গ করেন নি। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে স্বামীর পক্ষে কথা বলতে গিয়ে তিনি এমন কথা বলেছেন। মেলানিয়া ট্রাম্প মাঝেমধ্যেই মডেল হিসেবে কাজ করেছেন তার প্রথম নামটি ব্যবহার করে। তবে তিনি আইনজীবীর মাধ্যমে বলেছেন, যে, বি১/বি২ ভিজিটর ভিসার অধীনে ১৯৯৬ সালের ২৭ আগস্ট তিনি স্লোভেনিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যান প্রথম। এরপর ১৯৯৬ সালের ১৮ই অক্টোবর অর্জন করেন এইচ-১বি ওয়ার্ক ভিসা। কিন্তু এপির হাতে যেসব ডকুমেন্ট এসেছে তাতে দেখা যাচ্ছে, তাকে ১০ থেকে ১৫ অক্টোবরের মধ্যে মেলানিয়াকে ১০টি মডেলিং অ্যাসাইনমেন্টের জন্য অর্থ পরিশোধ করা হয়েছিল। ওই সময় তাকে যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করতে অনুমতি দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই কাজের বিনিময়ে কোনো অর্থ নিতে অনুমোদন দেয়া হয়েছিল না। এপি এ বিষয়ে তাদের হাতে থাকা তথ্যপ্রমাণ যাচাই করে দেখেছে যে, তার ভিসার বাইরে ছিল এই অর্থ লেনদেন।
 

Comments

Comments!

 ফিরে দেখা ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের জীবনAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

ফিরে দেখা ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের জীবন

Wednesday, November 9, 2016 6:11 pm
00

১৯৯৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের রিফর্ম পার্টি থেকে প্রেসিডেন্ট পদে প্রথম মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওই সময় ট্রাম্পের বান্ধবী মেলানিয়া নাসকে (বর্তমানে স্ত্রী) ‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমস’ এর পক্ষ থেকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তিনি কেমন ফার্স্ট লেডি হবেন?

১৯৯৯ সালে জয়ের সম্ভাবনা শূন্য হলেও আজ বাস্তেবই রিপাবলিকান দল থেকে প্রেসিডেন্ট হয়েছেন ট্রাম্প।

ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় ১৮২৫ সালের পর মেলানিয়াই হবেন বিদেশি বংশোদ্ভূত প্রথম ফার্স্ট লেডি। ট্রাম্পের অভিবাসন-বিরোধী নীতির সঙ্গে মেলানিয়ার বর্তমান অবস্থা আপাত বিরোধী বলেই মত অনেকের। তবে সেই ট্রাম্পেরই বিদেশি বংশোদ্ভূত বউ হওয়ায় এ নির্মম পরিহাস উড়িয়ে দিয়ে মেলানিয়া বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে কাগজপত্রহীনভাবে বাস করা যে অভিবাসীদেরকে ট্রাম্প তাড়াতে চেয়েছেন তাদের সঙ্গে তার (মেলানিয়া) অবস্থাটা মোটেও এক নয়।

এমএসএনবিসি’ কে মেলানিয়া বলেন, ‘আমি আইন মেনে চলি। আমি কাগজপত্র ছাড়া এখানে বাস করার কথা কল্পনাও করতে পারি না। আমার ভিসা আছে।’ আর ফার্স্ট লেডি হিসাবে কেমন হবেন? নতুন করে ফের সেই প্রশ্নে মেলানিয়ার জবাব, ‘আমার আচরণ হবে খুবই প্রথাগত। অনেকটা বেটি ফোর্ড অথবা জ্যাকি কেনেডির মত। আমি সবসময় তাকে (ট্রাম্পকে) সমর্থন করব।’

ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণা সমাবেশগুলোতেও মেলানিয়াকে দেখা গেছে।

সর্বদা স্বামীর পাশে শান্ত ও চুপচাপ হয়েই দাঁড়িয়ে থাকছেন তিনি। বর্তমান ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামার সঙ্গে তুলনা করলে মেলানিয়া কথা বলেনই না বলা যায়।

২০০৮ সালে বারাক ওবামার নির্বাচনী প্রচারণার সময় তীর্যক মন্তব্য করে মিশেল ওবামা তার স্বামীরই মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছিলেন। একবার তিনি বলেছিলেন, ‘প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর এই প্রথম আমি সত্যি আমার দেশের জন্য গর্ব অনুভব করছি।’

মিশেলের এই মন্তব্যের পর রক্ষণশীলরা সমালোচনার ঝড় তোলে। এমনকি তার দেশপ্রেম নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। সেই তুলনায় মেলানিয়া স্বামীর নির্বাচনী প্রচারণায় সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে বলেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প সবচেয়ে সেরা প্রেসিডেন্ট হবেন।’স্লোভেনিয়া বংশোদ্ভূত ৪৫ বছর বয়সী মেলানিয়া মডেল ছিলেন।

তাদের নয় বছর বয়সী পুত্রের নাম ব্যারন। ১৯৭০ সালে স্লোনিয়ার ছোট্ট শহর সেভনিকায় শৈশব কাটে তার। পরে মিলান ও প্যারিসে মডেল হিসেবে ক্যারিয়ার গড়েন তিনি। ১৯৯৬ সালে মেলানিয়া নিউইয়র্কে পাড়ি জমান। দুই বছর পর কিট ক্যাট ক্লাবের একটি পার্টিতে তার থেকে ২৪ বছরের বড় ট্রাম্পের সঙ্গে তার পরিচয় হয় বলে জানিয়েছে ‘দ্য গার্ডিয়ান’।

ওই সময় ট্রাম্প তার দ্বিতীয় স্ত্রী মার্লা ম্যাপলেসের থেকে আলাদা বাস করতেন। ২০০৬ সালে মেলানিয়া ও ট্রাম্প বিয়ে করেন। তাদের বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন হিলারি ও বিল ক্লিনটন।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্ত্রী হলেও মেলানিয়ার যৌক্তিক কথাই বলছেন? ট্রাম্প যেখানে প্রেসিডেন্ট হলে যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম অভিবাসন প্রত্যাশীদের ঢুকতে দেবেন না বলছেন, সেখানে মেলানিয়ার মত হচ্ছে, কেউ বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে চাইলে সে সুযোগ রাখা উচিত। যুক্তরাষ্ট্রে এসে মেলানিয়া নাস থেকে ট্রাম্পের তৃতীয় স্ত্রী হিসেবে মেলানিয়া ট্রাম্প হয়েছেন, ট্রাম্পের হাত ধরে তিনি হোয়াইট হাউসবাসীও হচ্ছেন।

এদিকে অনুসন্ধানে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে ওয়াকিং ভিসা পাওয়ার আগে কমপক্ষে ১০টি অ্যাসাইনমেন্টে কাজ করেছিলেন মেলানিয়া ট্রাম্প। এবং এর বিনিময়ে তিনি ২০ হাজার ৫৬ ডলার পারিশ্রমিক নিয়েছিলেন। ১৯৯৬ সালের অক্টোবরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার অনুমতি পান। কিন্তু তার আগেই তিনি ১০টি মডেলিং কাজ করেন। এর বিনিময়ে তাকে ওই অর্থ দেয়া হয়।

অর্থাৎ আইনগত অনুমোদন পাওয়ার আগেই তিনি অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে মডেলিং করেছিলেন টাকার বিনিময়ে। এ বিষয়ে বার্তা সংস্থা এপি’র হাতে বেশ কিছু তথ্য প্রমাণ এসেছে। মেলানিয়া ট্রাম্পের স্বামী ডোনাল্ড ট্রাম্প এবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে তার স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র সহ সারাবিশ্বের পত্রপত্রিকায়।

তখনই এ বিষয়ে মেলানিয়া কোনো কথা না বললেও কিছুদিন পরে ট্রাম্প বলেছিলেন, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করবেন মেলানিয়া। কিন্তু যতদূর জানা যায় তাতে এ পর্যন্ত মেলানিয়া ওই সংবাদ সম্মেলন করেন নি। তিনি সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার স্বামীকে নারী বিষয়ক স্ক্যান্ডাল থেকে বাঁচাতে। এ অবস্থায় এপি তার রিপোর্টে বলেছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রচারণায় অভিবাসন বিরোধী কঠোর অবস্থানের কথা বলেছেন।

যারা অভিবাসন বিষয়ক আইন লঙ্ঘন করেছেন তাদেরকে দেখে নেয়ার কথা বলেছেন । সেক্ষেত্রে যদি তার স্ত্রী মেলানিয়া এ আইন লঙ্ঘন করে থাকেন তাহলে তিনি কি করবেন সে বিষয়ে কিছুই বলেন নি। তিনি বলেছেন, অবৈধভাবে যেসব অভিবাসীকে অর্থ দেয়া হবে তাতে নিষেধাজ্ঞা আছে ফেডারেল আইনে। তাহলে তার স্ত্রীকে যে কাজ করার অনুমতি দেয়ার আগে কাজের জন্য অর্থ দেয়া হয়েছে সে বিষয়ে তিনি কি বলবেন!

উল্লেখ্য, ২০০১ সালের মার্চে গ্রিন কার্ড পান মেলানিয়া ট্রাম্প। এরপর তিনি ২০০৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হন। মেলানিয়া সব সময়ই বলে আসছেন যে, তিনি আইনগতভাবেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছেন। কখনোই তিনি অভিবাসন বিষয়ক আইন ভঙ্গ করেন নি। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে স্বামীর পক্ষে কথা বলতে গিয়ে তিনি এমন কথা বলেছেন।

মেলানিয়া ট্রাম্প মাঝেমধ্যেই মডেল হিসেবে কাজ করেছেন তার প্রথম নামটি ব্যবহার করে। তবে তিনি আইনজীবীর মাধ্যমে বলেছেন, যে, বি১/বি২ ভিজিটর ভিসার অধীনে ১৯৯৬ সালের ২৭ আগস্ট তিনি স্লোভেনিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যান প্রথম। এরপর ১৯৯৬ সালের ১৮ই অক্টোবর অর্জন করেন এইচ-১বি ওয়ার্ক ভিসা। কিন্তু এপির হাতে যেসব ডকুমেন্ট এসেছে তাতে দেখা যাচ্ছে, তাকে ১০ থেকে ১৫ অক্টোবরের মধ্যে মেলানিয়াকে ১০টি মডেলিং অ্যাসাইনমেন্টের জন্য অর্থ পরিশোধ করা হয়েছিল। ওই সময় তাকে যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করতে অনুমতি দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই কাজের বিনিময়ে কোনো অর্থ নিতে অনুমোদন দেয়া হয়েছিল না। এপি এ বিষয়ে তাদের হাতে থাকা তথ্যপ্রমাণ যাচাই করে দেখেছে যে, তার ভিসার বাইরে ছিল এই অর্থ লেনদেন।

 

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X