বৃহস্পতিবার, ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১০ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, দুপুর ১:১০
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Monday, December 5, 2016 8:24 am
A- A A+ Print

ফুলবাড়িয়া উপজেলা : এমপিপুত্রের বেপরোয়া বাণিজ্য জিম্মি স্থানীয় রাজনীতি

7

“কখনও তিনি ফুলবাড়িয়ার ‘শাহজাদা’ আবার কখনও ‘রাজপুত্র’ বলে নিজের পরিচয় দেন। বাবা এমপি হলেও ফুলবাড়িয়ার নিয়ন্ত্র্রক তিনিই। স্থানীয় রাজনীতিতে তিনিই ‘শেষকথা’। তিনি দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের কোনো মূল্যায়ন করেন না। তার কাছে মূল্যায়নের একমাত্র পথ হচ্ছে অর্থ। ছয় বছরে ফুলবাড়িয়া আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে শুরু করেছেন দুর্বৃত্তায়ন। রাজনীতিও তার কাছে ব্যবসা। বাবার শারীরিক অসুস্থতার সুযোগে তিনি পুরো ফুলবাড়িয়া নিয়ন্ত্রণ করছেন।’’ ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার সরকারদলীয় এমপি অ্যাডভোকেট মোসলেম উদ্দিনের পুত্র ইমদাদুল হক সেলিম সম্পর্কে কথাগুলো বলছিলেন একই উপজেলার এক প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা। তিনি ভয়ে  তার পরিচয় প্রকাশ করতে রাজি হননি। শুধু এই নেতাই নন, স্থানীয় অনেক আওয়ামী লীগ নেতাই তার ভয়ে তটস্থ। এমপি মোসলেম উদ্দিন রোববার যুগান্তরকে বলেন, ইউপি নির্বাচনের আগে তৃণমূলের ভোটে যারা মনোনয়ন পেয়েছে তাদের তালিকাই কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। এখানে কোনো বিএনপি নেতা মনোনয়ন পাননি। আমার এবং সেলিমের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ অসত্য। এমপিপুত্র ইমদাদুল হক সেলিম যুগান্তরকে বলেন, আমাকে রাজনৈতিকভাবে ঘায়েল করার জন্য প্রতিপক্ষ বলছে, সবকিছু আমার নিয়ন্ত্রণে। একজন কর্মী হিসেবে এমপিকে যে সহযোগিতা করা দরকার আমি পেছন থেকে তাই করি। কোনো কিছুই আমি নিয়ন্ত্রণ করি না। রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক কোনো কিছুতেই আমার কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এমএ জব্বার  বলেন, এমপিপুত্র দলীয় কোনো সিদ্ধান্ত মানেন না। এমনকি গত মে মাসে অনুষ্ঠিত ফুলবাড়িয়ার ১৩টি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে তৃণমূল নেতাকর্মীদের ভোটে যারা দলের মনোনয়নের জন্য বিবেচিত হয়েছিলেন তাদের অনেকের নাম কেন্দ্রে পাঠানো হয়নি। কয়েকজন প্রবীণ নেতাকে উপেক্ষা করে অর্থের বিনিময়ে তিনি নব্য আওয়ামী লীগ সদস্য এবং বিএনপি নেতার নাম কেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। তিনি ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মনোনয়ন দেয়ার জন্য বাবার মাধ্যমে কেন্দ্রে সুপারিশ করেন। অর্থের বিনিময়ে দুর্বল প্রার্থীর নাম কেন্দ্রে পাঠানোয় অন্তত তিনটি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের ভরাডুবি হয়। স্থানীয় সূত্র বলছে, মোসলেম উদ্দিন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে পাঁচবার ফুলবাড়িয়ার এমপি নির্বাচিত হন। বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার কারণে ২০১০ সাল থেকে স্থানীয় রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ নেন তার ব্যবসায়ীপুত্র ইমদাদুল হক সেলিম। এর আগে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না। তিনি রাজনীতিতে যোগ দিয়েই শুরু করেন দুর্বৃত্তায়ন। এমপির শ্যালক তাজুল ইসলাম বাবলুর মাধ্যমে পুরো ফুলবাড়িয়ার নিয়ন্ত্রণ নেন সেলিম। তারা এলাকায় সন্ত্রাসী বাহিনীও গড়ে তুলেছেন। আওয়ামী লীগের স্থানীয় কয়েকজন নেতা জানান, উপজেলা সহসভাপতি এমএ জব্বার গত ইউপি নির্বাচনে ৩নং কুশমাইল ইউনিয়নে তৃণমূলের সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছিলেন। এরপরও মনোনয়নের জন্য কেন্দ্রে তার নাম সুপারিশ করা হয়নি। ফলে তিনি সরকারি দলের মনোনয়ন পাননি। ৩০ লাখ টাকার বিনিময়ে মো. শামছুল হক নামে এক ব্যক্তির নাম কেন্দ্রে পাঠানো হয়। এই শামছুল হক জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। নির্বাচনের আগে তিনি জাতীয় পার্টি থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েই মনোনয়ন পান। আওয়ামী লীগের মনোনয়নবঞ্চিত এমএ জব্বার পরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। বাকতা ইউপিতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম তৃণমূলের ভোটে পাস করেও নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেননি। সেখানে বিপুল অর্থের বিনিময়ে আবদুস ছালামকে মনোনয়নের জন্য তৃণমূল থেকে সুপারিশ করেন এমপি। তবে অজনপ্রিয় প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়ার কারণে বাকতা থেকে ফজুলল হক মাখন নামে একজন বিএনপি প্রার্থী নির্বাচনে বিজয়ী হন। বাকতা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম যুগান্তরকে বলেন, আমি তৃণমূলের ভোটে পাস করার পর মনোনয়ন পেতে এমপিপুত্র সেলিমকে ৫ লাখ টাকা দিই। তারপরও আমি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাইনি। হয়তো আরও বড় অঙ্কের অর্থ পেয়ে তিনি আমার নামে সুপারিশ পাঠানোর ব্যবস্থা করেননি। পরে অবশ্য এই টাকা তিনি ফেরত দেন। একাধিক আওয়ামী লীগ নেতা জানান, ভবানীপুর ইউনিয়নেও তৃণমূলের ভোটে মনোনয়ন পান আওয়ামী লীগ নেতা জবান আলী। এমপিপুত্র ৪০ লাখ টাকার বিনিময়ে আবদুস সালাম নামে এক ব্যক্তিকে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন দেয়ার জন্য বাবার মাধ্যমে কেন্দ্রে সুপারিশ করেন। সালাম কখনোই আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেননি। পরে তিনি নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীর কাছে হেরে যান। এনায়েতপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মাওলানা মুন্নাফ তৃণমূলের ভোটে মনোনয়নের জন্য বিবেচিত হন। তবে এমপিপুত্র ৪০ লাখ টাকার বিনিময়ে বুলবুল হোসেনকে মনোনয়ন দেয়ার জন্য সুপারিশ পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। রাধাকানাইয়ে তৃণমূলে ভোটে উপজেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহতাব উদ্দিনও তৃণমূল নেতাকর্মীদের ভোটে মনোনয়নের জন্য বিবেচিত হন। কিন্তু এমপি মোসলেম উদ্দিনের জামাতা গোলাম কিবরিয়া শিমুল তরফদারকে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন দেয়ার জন্য কেন্দ্রে সুপারিশ করা হয়। উপজেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহতাব উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, আমি তৃণমূলের ভোটে রাধাকানাই ইউনিয়নে মনোনয়ন পেলেও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাইনি। এমপির জামাতা এই ইউনিয়ন থেকে মনোনয়ন পান। উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবদুল জব্বার  বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য প্রতি ইউনিয়ন থেকে একজন করে প্রার্থীর নাম কেন্দ্রে পাঠান। নাম পাঠানোর ক্ষেত্রে তিনি তৃণমূলের কোনো সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান দেখাননি।

Comments

Comments!

 ফুলবাড়িয়া উপজেলা : এমপিপুত্রের বেপরোয়া বাণিজ্য জিম্মি স্থানীয় রাজনীতিAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

ফুলবাড়িয়া উপজেলা : এমপিপুত্রের বেপরোয়া বাণিজ্য জিম্মি স্থানীয় রাজনীতি

Monday, December 5, 2016 8:24 am
7

“কখনও তিনি ফুলবাড়িয়ার ‘শাহজাদা’ আবার কখনও ‘রাজপুত্র’ বলে নিজের পরিচয় দেন। বাবা এমপি হলেও ফুলবাড়িয়ার নিয়ন্ত্র্রক তিনিই। স্থানীয় রাজনীতিতে তিনিই ‘শেষকথা’। তিনি দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের কোনো মূল্যায়ন করেন না। তার কাছে মূল্যায়নের একমাত্র পথ হচ্ছে অর্থ। ছয় বছরে ফুলবাড়িয়া আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে শুরু করেছেন দুর্বৃত্তায়ন। রাজনীতিও তার কাছে ব্যবসা। বাবার শারীরিক অসুস্থতার সুযোগে তিনি পুরো ফুলবাড়িয়া নিয়ন্ত্রণ করছেন।’’

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার সরকারদলীয় এমপি অ্যাডভোকেট মোসলেম উদ্দিনের পুত্র ইমদাদুল হক সেলিম সম্পর্কে কথাগুলো বলছিলেন একই উপজেলার এক প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা। তিনি ভয়ে  তার পরিচয় প্রকাশ করতে রাজি হননি। শুধু এই নেতাই নন, স্থানীয় অনেক আওয়ামী লীগ নেতাই তার ভয়ে তটস্থ।
এমপি মোসলেম উদ্দিন রোববার যুগান্তরকে বলেন, ইউপি নির্বাচনের আগে তৃণমূলের ভোটে যারা মনোনয়ন পেয়েছে তাদের তালিকাই কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। এখানে কোনো বিএনপি নেতা মনোনয়ন পাননি। আমার এবং সেলিমের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ অসত্য।

এমপিপুত্র ইমদাদুল হক সেলিম যুগান্তরকে বলেন, আমাকে রাজনৈতিকভাবে ঘায়েল করার জন্য প্রতিপক্ষ বলছে, সবকিছু আমার নিয়ন্ত্রণে। একজন কর্মী হিসেবে এমপিকে যে সহযোগিতা করা দরকার আমি পেছন থেকে তাই করি। কোনো কিছুই আমি নিয়ন্ত্রণ করি না। রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক কোনো কিছুতেই আমার কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এমএ জব্বার  বলেন, এমপিপুত্র দলীয় কোনো সিদ্ধান্ত মানেন না। এমনকি গত মে মাসে অনুষ্ঠিত ফুলবাড়িয়ার ১৩টি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে তৃণমূল নেতাকর্মীদের ভোটে যারা দলের মনোনয়নের জন্য বিবেচিত হয়েছিলেন তাদের অনেকের নাম কেন্দ্রে পাঠানো হয়নি। কয়েকজন প্রবীণ নেতাকে উপেক্ষা করে অর্থের বিনিময়ে তিনি নব্য আওয়ামী লীগ সদস্য এবং বিএনপি নেতার নাম কেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। তিনি ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মনোনয়ন দেয়ার জন্য বাবার মাধ্যমে কেন্দ্রে সুপারিশ করেন। অর্থের বিনিময়ে দুর্বল প্রার্থীর নাম কেন্দ্রে পাঠানোয় অন্তত তিনটি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের ভরাডুবি হয়।

স্থানীয় সূত্র বলছে, মোসলেম উদ্দিন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে পাঁচবার ফুলবাড়িয়ার এমপি নির্বাচিত হন। বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার কারণে ২০১০ সাল থেকে স্থানীয় রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ নেন তার ব্যবসায়ীপুত্র ইমদাদুল হক সেলিম। এর আগে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না। তিনি রাজনীতিতে যোগ দিয়েই শুরু করেন দুর্বৃত্তায়ন। এমপির শ্যালক তাজুল ইসলাম বাবলুর মাধ্যমে পুরো ফুলবাড়িয়ার নিয়ন্ত্রণ নেন সেলিম। তারা এলাকায় সন্ত্রাসী বাহিনীও গড়ে তুলেছেন।

আওয়ামী লীগের স্থানীয় কয়েকজন নেতা জানান, উপজেলা সহসভাপতি এমএ জব্বার গত ইউপি নির্বাচনে ৩নং কুশমাইল ইউনিয়নে তৃণমূলের সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছিলেন। এরপরও মনোনয়নের জন্য কেন্দ্রে তার নাম সুপারিশ করা হয়নি। ফলে তিনি সরকারি দলের মনোনয়ন পাননি। ৩০ লাখ টাকার বিনিময়ে মো. শামছুল হক নামে এক ব্যক্তির নাম কেন্দ্রে পাঠানো হয়।

এই শামছুল হক জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। নির্বাচনের আগে তিনি জাতীয় পার্টি থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েই মনোনয়ন পান। আওয়ামী লীগের মনোনয়নবঞ্চিত এমএ জব্বার পরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। বাকতা ইউপিতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম তৃণমূলের ভোটে পাস করেও নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেননি। সেখানে বিপুল অর্থের বিনিময়ে আবদুস ছালামকে মনোনয়নের জন্য তৃণমূল থেকে সুপারিশ করেন এমপি।

তবে অজনপ্রিয় প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়ার কারণে বাকতা থেকে ফজুলল হক মাখন নামে একজন বিএনপি প্রার্থী নির্বাচনে বিজয়ী হন। বাকতা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম যুগান্তরকে বলেন, আমি তৃণমূলের ভোটে পাস করার পর মনোনয়ন পেতে এমপিপুত্র সেলিমকে ৫ লাখ টাকা দিই। তারপরও আমি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাইনি। হয়তো আরও বড় অঙ্কের অর্থ পেয়ে তিনি আমার নামে সুপারিশ পাঠানোর ব্যবস্থা করেননি। পরে অবশ্য এই টাকা তিনি ফেরত দেন।

একাধিক আওয়ামী লীগ নেতা জানান, ভবানীপুর ইউনিয়নেও তৃণমূলের ভোটে মনোনয়ন পান আওয়ামী লীগ নেতা জবান আলী। এমপিপুত্র ৪০ লাখ টাকার বিনিময়ে আবদুস সালাম নামে এক ব্যক্তিকে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন দেয়ার জন্য বাবার মাধ্যমে কেন্দ্রে সুপারিশ করেন। সালাম কখনোই আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেননি। পরে তিনি নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীর কাছে হেরে যান।

এনায়েতপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মাওলানা মুন্নাফ তৃণমূলের ভোটে মনোনয়নের জন্য বিবেচিত হন। তবে এমপিপুত্র ৪০ লাখ টাকার বিনিময়ে বুলবুল হোসেনকে মনোনয়ন দেয়ার জন্য সুপারিশ পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। রাধাকানাইয়ে তৃণমূলে ভোটে উপজেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহতাব উদ্দিনও তৃণমূল নেতাকর্মীদের ভোটে মনোনয়নের জন্য বিবেচিত হন।

কিন্তু এমপি মোসলেম উদ্দিনের জামাতা গোলাম কিবরিয়া শিমুল তরফদারকে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন দেয়ার জন্য কেন্দ্রে সুপারিশ করা হয়। উপজেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহতাব উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, আমি তৃণমূলের ভোটে রাধাকানাই ইউনিয়নে মনোনয়ন পেলেও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাইনি। এমপির জামাতা এই ইউনিয়ন থেকে মনোনয়ন পান।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবদুল জব্বার  বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য প্রতি ইউনিয়ন থেকে একজন করে প্রার্থীর নাম কেন্দ্রে পাঠান। নাম পাঠানোর ক্ষেত্রে তিনি তৃণমূলের কোনো সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান দেখাননি।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X