রবিবার, ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১৩ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সকাল ১১:৪৫
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Saturday, July 30, 2016 1:55 am
A- A A+ Print

ফ্লাইট বন্ধ, বিমানের ম্যানচেস্টার অফিস চালু রাখার যৌক্তিকতা কি?

বাংলাদেশ বিমানের ম্যানচেস্টারের অফিস চালু হয়েছিল ১৯৭৭ সালে। শহরের ব্যয়বহুল পোর্টল্যান্ড স্ট্রিটে অবস্থিত এ অফিসটিতে একজন রিজিওনাল ম্যানেজারসহ কাজ করেন পাঁচজন কর্মকর্তা। কিন্তু তাদের কাজ কি এ প্রশ্ন এখানকার কমিউনিটির মধ্যে। এর কারণ দুই বছর ধরে ফ্লাইট বন্ধ বিমানের। চালু হওয়ার পর একটানা ফ্লাইট খুব বেশি দিন যে চলেছে তা কিন্তু নয়। চালু হলে নানা অজুহাতে বন্ধ হয়ে যায় কিছু দিন পরই। সর্বশেষ ২০১১ সালের ফ্লাইট চালুর বছরের দেড়েকের মাথায় তা ফের বন্ধ হয়ে যায়। ম্যানচেস্টার এলাকায় বসবাস করেন এমন প্রবাসীদের দাবি, নিয়মিত ফ্লাইট চালু রাখলে লাভবান হবে বিমান। ম্যানচেস্টার অফিসের হিসাবও তাই বলছে। সর্বশেষ চালু অবস্থায় এ অফিস নির্ধারিত সময়ের আগেই তাদের সেলস টার্গেট পূরণ করেছিল। তারপরও ফ্লাইট বন্ধ করে দেয়ার কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না এখানকার কমিউনিটিরা। ফ্লাইট বন্ধ রেখে অফিস চালু রাখার পেছনে যুক্তি হিসেবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন টিকেট বিক্রি। কিন্তু প্রশ্ন দেখা দিয়েছে কোথায় তারা টিকেট বিক্রি করেন? বিমান শুধু ফ্লাইট চালু রেখেছে হিথ্রো থেকে সিলেট-ঢাকা। নর্থ-ওয়েস্ট ইংল্যান্ডের হাতেগোনা কয়েকটি আসন হয়তো নর্থ-ওয়েস্টের যাত্রীরা নিয়ে থাকে প্রতি ফ্লাইটে। ম্যানচেস্টার অফিসের জন্য টিকেটের নির্ধারিত কোনো কোটা নেই। লন্ডন কিংবা আশপাশের যাত্রীদের জন্যতো আর এ অফিসের প্রয়োজন নেই। বিমান কর্তৃপক্ষ দেখতে পারে টিকিট বিক্রির কত পার্সেন্ট বিমানের ম্যানচেস্টার ও ওল্ডহ্যাম পিএসএ সরাসরি যাত্রীদের কাছে বিক্রি করে। ম্যানচেস্টার বিমানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী এবং অফিসের সূত্রমতে এই টিকেটগুলো বিক্রি হয় বিমানের অফিস থেকে এবং দু’টো ট্রাভেলস এজেন্টের (পিএসএ) মাধ্যমে। এখানকার বিমান অফিসের সরাসরি বিক্রয় মাসিক প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার পাউন্ডের মতো। অন্যদিকে এই অফিসের খরচই আছে মাসে ১২ হাজার পাউন্ডের বেশি। ম্যানচেস্টার ওল্ডহ্যাম, রচডেল হাইড, লিভারপুল, লীডসসহ নর্থওয়েস্ট ইংল্যান্ডের কোনো বাঙালিই চান না এই অফিসটি এখান থেকে উঠিয়ে নেয়া হোক। কারণ এখান থেকে ফ্লাইট পরিচালনা হলে সুবিধা পান এখানকার প্রবাসীরা। বৃটেনে প্রায় ৫ লাখ বাংলাদেশীর বসবাস। তাদের অধিকাংশই থাকেন লন্ডনে। ২০১১ সালের বৃটেনের আদমশুমারী অনুযায়ী নর্থ ওয়েস্ট ইংল্যান্ডে ৪৫,৯৮৭, নর্থ ইস্ট-এ ১০,৯৭২, ইয়র্কশায়ার এবং হামবার এ ২২,৪২৪, স্কটল্যান্ডে ৩,৭৮৮ জন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত মানুষের বাস। এছাড়া নর্থওয়েস্ট ইংল্যান্ডের পার্শ্ববর্তী ইস্ট মিডল্যান্ডে বাস করেন ৫২,৪৭৭ জন। স্বাভাবিভাবেই এ সংখ্যা বেড়েছে গত ৫ বছরে। এক লাখেরও বেশি বাঙালি বাস করা এই এলাকায় বাঙালিরা প্রতিদিন বিভিন্ন ফ্লাইট ব্যবহার করে ম্যানচেস্টার এয়ারপোর্ট থেকে। বৃটেনের অন্যতম ব্যস্ততম এ এয়ারপোর্ট থেকে অধিকাংশ বাঙালিরাই দেশে যাতায়াত করেন আমিরাত এবং ইত্তেহাদ এয়ারলাইন্সে। চাহিদার দিকটি বিবেচনায় নিয়েই ২০০৬ সালে বিমান ম্যানচেস্টার-ঢাকা ফ্লাইট চালু করে। ম্যানচেস্টারের একটা অভিজাত হোটেলে আয়োজন করা হয় জমকালো অনুষ্ঠানের। কিছুদিন চলার পর তা আবার বন্ধ হয়ে যায়। পাঁচ বছর বিরতি দিয়ে ২০১১ সালে আবার ফ্লাইট চালু করে বিমান। চালুর পর ভালোই চলেছে বিমানের ফ্লাইট। নানা ভোগান্তি থাকলেও বাংলাদেশিরা দেশে যাতায়াতে বিমানকেই বেছে নিতেন। এ কারণে ২০১১ সালে বিমানের ম্যানচেস্টার অফিসকে বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা দেয়া হয়েছিল ৫২ কোটি টাকা। কিন্তু মাত্র নয় মাস পরেই ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগে টার্গেটের চেয়েও ২ কোটি ৫০ লাখ টাকার বেশী টিকিট বিক্রি করা হয়। বিমানের ম্যানচেস্টার অফিসের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন তারা ফ্লাইট চালুর লাভালাভের বিষয়ে নিয়মিত রিপোর্ট পাঠাচ্ছেন। আশা করছেন অচিরেই ফ্লাইট চালু হবে। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে রিজিওনাল ম্যানেজার টেলিফোনে বলেন, এটা কমিউনিটির প্রতিষ্ঠান নয়, ব্যসায়িক বিবেচনায়ই বিমান তার কার্যক্রম চালায়। কোনো অফিস কি লাভ-ক্ষতি করে তা কমিউনিটির ভাবার বিষয় নয়। এটা বিমানের সামগ্রিক ব্যবসার ব্যাপার। ম্যানচেস্টারে বিমানের ফ্লাইট আসা যাওয়ার বিষয়ে কমিউনিটির দাবির বিষয়ে তারা অবগত বলে জানিয়েছেন এ কর্মকর্তা।

Comments

Comments!

 ফ্লাইট বন্ধ, বিমানের ম্যানচেস্টার অফিস চালু রাখার যৌক্তিকতা কি?AmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

ফ্লাইট বন্ধ, বিমানের ম্যানচেস্টার অফিস চালু রাখার যৌক্তিকতা কি?

Saturday, July 30, 2016 1:55 am

বাংলাদেশ বিমানের ম্যানচেস্টারের অফিস চালু হয়েছিল ১৯৭৭ সালে। শহরের ব্যয়বহুল পোর্টল্যান্ড স্ট্রিটে অবস্থিত এ অফিসটিতে একজন রিজিওনাল ম্যানেজারসহ কাজ করেন পাঁচজন কর্মকর্তা। কিন্তু তাদের কাজ কি এ প্রশ্ন এখানকার কমিউনিটির মধ্যে। এর কারণ দুই বছর ধরে ফ্লাইট বন্ধ বিমানের। চালু হওয়ার পর একটানা ফ্লাইট খুব বেশি দিন যে চলেছে তা কিন্তু নয়। চালু হলে নানা অজুহাতে বন্ধ হয়ে যায় কিছু দিন পরই। সর্বশেষ ২০১১ সালের ফ্লাইট চালুর বছরের দেড়েকের মাথায় তা ফের বন্ধ হয়ে যায়। ম্যানচেস্টার এলাকায় বসবাস করেন এমন প্রবাসীদের দাবি, নিয়মিত ফ্লাইট চালু রাখলে লাভবান হবে বিমান। ম্যানচেস্টার অফিসের হিসাবও তাই বলছে। সর্বশেষ চালু অবস্থায় এ অফিস নির্ধারিত সময়ের আগেই তাদের সেলস টার্গেট পূরণ করেছিল। তারপরও ফ্লাইট বন্ধ করে দেয়ার কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না এখানকার কমিউনিটিরা।
ফ্লাইট বন্ধ রেখে অফিস চালু রাখার পেছনে যুক্তি হিসেবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন টিকেট বিক্রি। কিন্তু প্রশ্ন দেখা দিয়েছে কোথায় তারা টিকেট বিক্রি করেন? বিমান শুধু ফ্লাইট চালু রেখেছে হিথ্রো থেকে সিলেট-ঢাকা। নর্থ-ওয়েস্ট ইংল্যান্ডের হাতেগোনা কয়েকটি আসন হয়তো নর্থ-ওয়েস্টের যাত্রীরা নিয়ে থাকে প্রতি ফ্লাইটে। ম্যানচেস্টার অফিসের জন্য টিকেটের নির্ধারিত কোনো কোটা নেই। লন্ডন কিংবা আশপাশের যাত্রীদের জন্যতো আর এ অফিসের প্রয়োজন নেই। বিমান কর্তৃপক্ষ দেখতে পারে টিকিট বিক্রির কত পার্সেন্ট বিমানের ম্যানচেস্টার ও ওল্ডহ্যাম পিএসএ সরাসরি যাত্রীদের কাছে বিক্রি করে। ম্যানচেস্টার বিমানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী এবং অফিসের সূত্রমতে এই টিকেটগুলো বিক্রি হয় বিমানের অফিস থেকে এবং দু’টো ট্রাভেলস এজেন্টের (পিএসএ) মাধ্যমে। এখানকার বিমান অফিসের সরাসরি বিক্রয় মাসিক প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার পাউন্ডের মতো। অন্যদিকে এই অফিসের খরচই আছে মাসে ১২ হাজার পাউন্ডের বেশি।
ম্যানচেস্টার ওল্ডহ্যাম, রচডেল হাইড, লিভারপুল, লীডসসহ নর্থওয়েস্ট ইংল্যান্ডের কোনো বাঙালিই চান না এই অফিসটি এখান থেকে উঠিয়ে নেয়া হোক। কারণ এখান থেকে ফ্লাইট পরিচালনা হলে সুবিধা পান এখানকার প্রবাসীরা। বৃটেনে প্রায় ৫ লাখ বাংলাদেশীর বসবাস। তাদের অধিকাংশই থাকেন লন্ডনে। ২০১১ সালের বৃটেনের আদমশুমারী অনুযায়ী নর্থ ওয়েস্ট ইংল্যান্ডে ৪৫,৯৮৭, নর্থ ইস্ট-এ ১০,৯৭২, ইয়র্কশায়ার এবং হামবার এ ২২,৪২৪, স্কটল্যান্ডে ৩,৭৮৮ জন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত মানুষের বাস। এছাড়া নর্থওয়েস্ট ইংল্যান্ডের পার্শ্ববর্তী ইস্ট মিডল্যান্ডে বাস করেন ৫২,৪৭৭ জন। স্বাভাবিভাবেই এ সংখ্যা বেড়েছে গত ৫ বছরে। এক লাখেরও বেশি বাঙালি বাস করা এই এলাকায় বাঙালিরা প্রতিদিন বিভিন্ন ফ্লাইট ব্যবহার করে ম্যানচেস্টার এয়ারপোর্ট থেকে। বৃটেনের অন্যতম ব্যস্ততম এ এয়ারপোর্ট থেকে অধিকাংশ বাঙালিরাই দেশে যাতায়াত করেন আমিরাত এবং ইত্তেহাদ এয়ারলাইন্সে। চাহিদার দিকটি বিবেচনায় নিয়েই ২০০৬ সালে বিমান ম্যানচেস্টার-ঢাকা ফ্লাইট চালু করে। ম্যানচেস্টারের একটা অভিজাত হোটেলে আয়োজন করা হয় জমকালো অনুষ্ঠানের। কিছুদিন চলার পর তা আবার বন্ধ হয়ে যায়। পাঁচ বছর বিরতি দিয়ে ২০১১ সালে আবার ফ্লাইট চালু করে বিমান। চালুর পর ভালোই চলেছে বিমানের ফ্লাইট। নানা ভোগান্তি থাকলেও বাংলাদেশিরা দেশে যাতায়াতে বিমানকেই বেছে নিতেন। এ কারণে ২০১১ সালে বিমানের ম্যানচেস্টার অফিসকে বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা দেয়া হয়েছিল ৫২ কোটি টাকা। কিন্তু মাত্র নয় মাস পরেই ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগে টার্গেটের চেয়েও ২ কোটি ৫০ লাখ টাকার বেশী টিকিট বিক্রি করা হয়। বিমানের ম্যানচেস্টার অফিসের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন তারা ফ্লাইট চালুর লাভালাভের বিষয়ে নিয়মিত রিপোর্ট পাঠাচ্ছেন। আশা করছেন অচিরেই ফ্লাইট চালু হবে।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে রিজিওনাল ম্যানেজার টেলিফোনে বলেন, এটা কমিউনিটির প্রতিষ্ঠান নয়, ব্যসায়িক বিবেচনায়ই বিমান তার কার্যক্রম চালায়। কোনো অফিস কি লাভ-ক্ষতি করে তা কমিউনিটির ভাবার বিষয় নয়। এটা বিমানের সামগ্রিক ব্যবসার ব্যাপার। ম্যানচেস্টারে বিমানের ফ্লাইট আসা যাওয়ার বিষয়ে কমিউনিটির দাবির বিষয়ে তারা অবগত বলে জানিয়েছেন এ কর্মকর্তা।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X