শনিবার, ২১শে অক্টোবর, ২০১৭ ইং, ৬ই কার্তিক, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, বিকাল ৪:০৬
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Wednesday, August 2, 2017 12:21 am
A- A A+ Print

বগুড়ায় ধর্ষণের শিকার সেই ছাত্রীর জবানবন্দি

photo-1501601027

বগুড়ায় ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার সেই ছাত্রী দুটি আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। আজ মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে প্রথমে অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম শ্যামসুন্দর রায়ের কাছে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২২ ধারায় জবানবন্দি দেয়। পরে ওই ছাত্রীকে বিকেল সাড়ে ৫টায় অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত-১ (শিশু আদালত)-এ হাজির করা হয়। সেখানে অতিরিক্ত দায়রা জজ এমদাদুল হকের এজলাসে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭ ও ৯-এর ১ ধারায় ওই ছাত্রী জবানবন্দি দেয়। দুই আদালতে জবানবন্দি শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বগুড়া সদর মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) আবুল কালাম আজাদ মেয়েটিকে সেফ হোমে রাখার আবেদন করেন। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) আমানুল্লাহ জানান, নিরাপত্তার জন্য মেয়েটিকে সেফ হোমে রাখার আবেদন করা হয়। আদালত মা ও মেয়েকে পুলিশ হেফাজতে রেখে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার আদেশ দেন। মেয়েকে ধর্ষণের পর মা-মেয়ের মাথা ন্যাড়া করে শারীরিক নির্যাতনের ঘটনায় দুটি মামলা করা হয়। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আসামি বগুড়া শহর শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক তুফান সরকার ও তাঁর সহযোগীরা এসএসসি পাস ওই ছাত্রীকে ভালো কলেজে ভর্তি করার কথা বলে গত ১৭ জুলাই শহরের নামাজগড় এলাকায় তাঁদের বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে এ ঘটনা কাউকে না জানাতে ভয়ভীতি দেখিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেন। ধর্ষণের ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে গত শুক্রবার বিকেলে তুফান সরকারের স্ত্রী আশা ও তাঁর বড় বোন বগুড়া পৌরসভার সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিলর মার্জিয়া আক্তার রুমকিসহ কয়েকজন মিলে ওই ছাত্রী ও তাঁর মাকে বেধড়ক পিটিয়ে মাথা ন্যাড়া করে দেন। সেই সঙ্গে বগুড়া ছাড়ার হুমকি দেন। মা ও মেয়েকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে মেয়ের মা বলেছেন, ‘আমরা সমাধানের জন্য কমিশনারের (কাউন্সিলর) কাছে গেছি। কমিশনার উল্টা মা আর মেয়ের চুল কেটে, এসএস পাইপ দিয়ে আমাদের মা-মেয়েকে মারছে। অনেক নির্যাতন করছে। পাঁচ মিনিট পরপর টর্চারিং, পাঁচ মিনিট পরপর আমাদের মাইর। কমিশনার (কাউন্সিলর), কমিশনারের মা ও তাঁর বোন আশা। এই তিনজনার চরম বিচার চাই, চরম শাস্তি হোক।’ শুক্রবার রাতেই পুলিশ মূল আসামি তুফান, তাঁর সহযোগী রূপম, আলী আজম ও আতিকুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে। ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে শনিবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন আতিকুর। রোববার বাকি তিনজনকে আদালতে হাজির করে তিনদিন করে রিমান্ডে নেয় পুলিশ। রোববার দুপুরে পুলিশ তুফান সরকারের শ্বশুর জাহিদুল ও নাপিত জীবনকে বগুড়া শহর থেকে গ্রেপ্তার করে। সন্ধ্যার পর বগুড়া গোয়েন্দা পুলিশের বিশেষ দল পাবনা শহরের হেমায়েতপুরে অভিযান চালিয়ে কাউন্সিলর মার্জিয়া আকতার রুমকি ও তাঁর মা রুমিকে গ্রেপ্তার করে। অপরদিকে রোববার দিবাগত রাত ১টার দিকে ঢাকায় ডিবি পুলিশের একটি দল সাভার থেকে তুফানের স্ত্রী আশা, গাড়িচালক জিতু ও সহযোগী মুন্নাকে গ্রেপ্তার করে। সোমবার কাউন্সিলর রুমকিকে চারদিনের ও বাকি ছয় আসামিকে দুদিন করে রিমান্ডে নেয় পুলিশ।

Comments

Comments!

 বগুড়ায় ধর্ষণের শিকার সেই ছাত্রীর জবানবন্দিAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

বগুড়ায় ধর্ষণের শিকার সেই ছাত্রীর জবানবন্দি

Wednesday, August 2, 2017 12:21 am
photo-1501601027

বগুড়ায় ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার সেই ছাত্রী দুটি আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। আজ মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে প্রথমে অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম শ্যামসুন্দর রায়ের কাছে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২২ ধারায় জবানবন্দি দেয়।

পরে ওই ছাত্রীকে বিকেল সাড়ে ৫টায় অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত-১ (শিশু আদালত)-এ হাজির করা হয়। সেখানে অতিরিক্ত দায়রা জজ এমদাদুল হকের এজলাসে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭ ও ৯-এর ১ ধারায় ওই ছাত্রী জবানবন্দি দেয়।

দুই আদালতে জবানবন্দি শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বগুড়া সদর মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) আবুল কালাম আজাদ মেয়েটিকে সেফ হোমে রাখার আবেদন করেন।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) আমানুল্লাহ জানান, নিরাপত্তার জন্য মেয়েটিকে সেফ হোমে রাখার আবেদন করা হয়। আদালত মা ও মেয়েকে পুলিশ হেফাজতে রেখে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার আদেশ দেন।

মেয়েকে ধর্ষণের পর মা-মেয়ের মাথা ন্যাড়া করে শারীরিক নির্যাতনের ঘটনায় দুটি মামলা করা হয়। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আসামি বগুড়া শহর শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক তুফান সরকার ও তাঁর সহযোগীরা এসএসসি পাস ওই ছাত্রীকে ভালো কলেজে ভর্তি করার কথা বলে গত ১৭ জুলাই শহরের নামাজগড় এলাকায় তাঁদের বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে এ ঘটনা কাউকে না জানাতে ভয়ভীতি দেখিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেন। ধর্ষণের ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে গত শুক্রবার বিকেলে তুফান সরকারের স্ত্রী আশা ও তাঁর বড় বোন বগুড়া পৌরসভার সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিলর মার্জিয়া আক্তার রুমকিসহ কয়েকজন মিলে ওই ছাত্রী ও তাঁর মাকে বেধড়ক পিটিয়ে মাথা ন্যাড়া করে দেন। সেই সঙ্গে বগুড়া ছাড়ার হুমকি দেন। মা ও মেয়েকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালে মেয়ের মা বলেছেন, ‘আমরা সমাধানের জন্য কমিশনারের (কাউন্সিলর) কাছে গেছি। কমিশনার উল্টা মা আর মেয়ের চুল কেটে, এসএস পাইপ দিয়ে আমাদের মা-মেয়েকে মারছে। অনেক নির্যাতন করছে। পাঁচ মিনিট পরপর টর্চারিং, পাঁচ মিনিট পরপর আমাদের মাইর। কমিশনার (কাউন্সিলর), কমিশনারের মা ও তাঁর বোন আশা। এই তিনজনার চরম বিচার চাই, চরম শাস্তি হোক।’

শুক্রবার রাতেই পুলিশ মূল আসামি তুফান, তাঁর সহযোগী রূপম, আলী আজম ও আতিকুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে। ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে শনিবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন আতিকুর। রোববার বাকি তিনজনকে আদালতে হাজির করে তিনদিন করে রিমান্ডে নেয় পুলিশ।

রোববার দুপুরে পুলিশ তুফান সরকারের শ্বশুর জাহিদুল ও নাপিত জীবনকে বগুড়া শহর থেকে গ্রেপ্তার করে। সন্ধ্যার পর বগুড়া গোয়েন্দা পুলিশের বিশেষ দল পাবনা শহরের হেমায়েতপুরে অভিযান চালিয়ে কাউন্সিলর মার্জিয়া আকতার রুমকি ও তাঁর মা রুমিকে গ্রেপ্তার করে। অপরদিকে রোববার দিবাগত রাত ১টার দিকে ঢাকায় ডিবি পুলিশের একটি দল সাভার থেকে তুফানের স্ত্রী আশা, গাড়িচালক জিতু ও সহযোগী মুন্নাকে গ্রেপ্তার করে। সোমবার কাউন্সিলর রুমকিকে চারদিনের ও বাকি ছয় আসামিকে দুদিন করে রিমান্ডে নেয় পুলিশ।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X