সোমবার, ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১৪ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ১:৩০
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Saturday, July 30, 2016 9:37 am
A- A A+ Print

বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি, লক্ষাধিক পরিবার পানিবন্দী

A Bangladeshi flood affected villager uses a raft made of banana trees for transport to safety in the Sirajgonj District, some 105 kms north-west of Dhaka, 30 July 2007.  Hundreds of thousands of villagers fled their homes, 30 July as flash floods caused by monsoon rains and glacial snowmelt inundated large swathes of northern Bangladesh, officials said.   AFP PHOTO/ S K AZAM (Photo credit should read STRDEL/AFP/Getty Images)

   
ঢাকা: সারা দেশে বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। যার ফলে মানবেতর জীবন-যাপন করছে লক্ষাধিক পরিবার। নদীর পানির অব্যাহত চাপে হুমকির মুখে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধগুলো। পরিস্থিতির চরম অবনতি হওয়ায় অনেক স্থানে বন্যার্তরা বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিচ্ছেন।   যমুনা, ব্রহ্মপুত্র তিস্তাসহ বিভিন্ন নদ-নদীর অব্যাহত পানিবৃদ্ধির কারণে বিভিন্ন জেলার চরাঞ্চলের লক্ষাধিক পরিবার চরম দুর্গতিতে পড়েছে বলে সরেজমিনে দেখা গেছে।
এদিকে বন্যার ভয়াবহতার বিবেচনায় কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলাকে দুর্যোগপূর্ণ উপজেলা ঘোষণা করা হয়েছে। সারা দেশে বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে শত শত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বন্ধ হয়ে গেছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান। বন্যার্তদের জন্য সরকারিভাবে ত্রাণসামগ্রী দেয়া হলেও তা প্রয়োজনের চেয়ে নগণ্য বলে দুর্গতরা অভিযোগ করেছেন। এ দিকে জামালপুরের ইসলামপুর ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় বন্যার পানিতে পড়ে গিয়ে তিন শিশু ও মাদারগঞ্জ উপজেলায় সাপের কামড়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।   বগুড়া থেকে আমাদের প্রতিনিধিরা জানান, যমুনার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জেলার বন্যাকবলিত সারিয়াকান্দি, ধুনট ও সোনাতলা এলাকার কয়েকটি পয়েন্টে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। এসব এলাকায় অন্তত ২০টি পয়েন্টে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ দিয়ে পানি চুইয়ে ভেতরে প্রবেশ করায় লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। শুক্রবার সারিয়াকান্দি পয়েন্টে যমুনার পানি বিপদসীমার ৯৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। পানিবৃদ্ধির ফলে বিভিন্ন স্থানে বেড়েছে নদীভাঙন। এ ছাড়া নতুন করে কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। বগুড়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রুহুল আমিন জানান, বাঁধের অবস্থা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং পানি চুইয়ে পড়াস্থান মেরামত করা হচ্ছে। তিনি জানান, পাঁচটি পয়েন্টে বাঁধ দিয়ে পানি চুইয়ে পড়ার পরিস্থিতি গুরুতর। অনেক পরিবার খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছে। কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা জানান, জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। রৌমারী উপজেলাকে দুর্যোগপূর্ণ উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ্ মামুন তালুকদার। এ দিকে জেলার ৯ উপজেলায় কমেনি ৬ লক্ষাধিক বানভাসি মানুষের দুর্ভোগ। বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য ও ল্যাট্রিনের অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছে উঁচু বাঁধ, পাকা সড়কে আশ্রয় নেয়া হাজার হাজার পরিবার। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যাদুর্গতের মধ্যে ৫৭৫ মেট্রিক টন চাল ও সাড়ে ১৫ লাখ টাকা বিতরণ করা হলেও তা অপ্রতুল। জেলার ৯ উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে ৫৫০ কিলোমিটার কাঁচা-পাকা সড়ক ও ৪০ কিলোমিটার নদ-নদীর তীররক্ষা বাঁধ। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে দুই শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।   জামালপুর সংবাদদাতা জানান, জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি বেড়েছে পাঁচ সেন্টিমিটার। শুক্রবার দুপুরে বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে যমুনার পানি বিপদসীমার ১২১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। বসতঘরে বন্যার পানি ঢুকে যাওয়ায় বিভিন্ন বাঁধ এবং উঁচুস্থানে আশ্রয় নিয়েছেন দুর্গতরা। বন্যার কারণে জেলায় তিন শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষাকার্যক্রম। পানিবন্দী হয়ে দুর্ভোগ পোহানো দুই লক্ষাধিক মানুষ ত্রাণের জন্য হাহাকার করছেন। বন্যাদুর্গত এলাকার মানুষের জন্য নতুন করে ৩০০ মেট্রিক টন চাল ও ২০ লাখ ২০ হাজার টাকার শুকনো খাবার বরাদ্দ হয়েছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়। এ দিকে জেলার ইসলামপুর উপজেলার চরপুঁটিমারী গ্রামে শাকিল ও রাকিব নামে দুই শিশু এবং দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় আশিক নামে এক শিশু বন্যার পানিতে ডুবে মারা গেছে। এ ছাড়া মাদারগঞ্জ উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়নের পোড়াবাড়ি গ্রামে মজনু (৩০) নামে একজন সাপের কামড়ে মারা গেছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানায়। নীলফামারী সংবাদদাতা জানান, এবারের বন্যায় তিস্তার গতিপথ পরিবর্তন হওয়ায় জেলার ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের ছয়টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মাধ্যমিক ও একটি কিন্ডারগার্টেন বন্যা ও ভাঙনের কবলে পড়ে বিলীন হয়েছে। দু’টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিলীন না হলেও দীর্ঘ দিন ধরে পানিতে তলিয়ে রয়েছে। শিক্ষাকার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে ওই ইউনিয়নটিতে। নদীভাঙনে কয়েকটি বিদ্যালয় বিলীন হয়েছে এবং পানি ওঠার কারণে কিছু বিদ্যালয় বন্ধ রয়েছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, বন্যা ও ভাঙনে টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের ছয়টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানি উঠেছে। কিছু বিদ্যালয় তিস্তায় বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে।   উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিকল্প উপায়ে কিভাবে শিক্ষাকার্যক্রম চালানো যায় সে বিষয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করা হচ্ছে।   সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, জেলার বেশির ভাগ এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। তবে জেলার কয়েকটি উপজেলার কাঁচা-পাকা সড়ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যার পানি নামার সাথে সাথে মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। বিভিন্ন স্থানে পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নে বন্যায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় এসব ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাইজার মোহাম্মদ ফারাবী ত্রাণ বিতরণে অংশ নেন। গাইবান্ধা সংবাদদাতা জানান, সাঘাটা উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র, যমুনা ও আলাই নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার পানি ২০.৭২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৯০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে সাঘাটা উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। অনেকে আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছেন। বন্যার্তরা বিশুদ্ধ পানি, জ্বালানি, গোখাদ্য ও ওষুধপত্রের সঙ্কটে পড়েছে। সরকারিভাবে ত্রাণসহায়তা প্রদান করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। হুমকির মুখে পড়েছে ভরতখালী থেকে সাঘাটা পর্যন্ত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ। ইসলামপুর (জামালপুর) সংবাদদাতা জানান, রেল লাইনের উপর বন্যার পানি ওঠায় জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জ ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। শুক্রবার রাত থেকে এপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায় বলে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়। জামালপুর রেল থানার ওসি আশিকুল ইসলাম মজুমদার জানান, জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জ রেলপথের দুরমুঠ, ইসলামপুরসহ কয়েকটি স্থানে রেল লাইন বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় রাতে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পানিবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে যেকোনো মুহূর্তে জেলা সদর ও ঢাকার সাথে ইসলামপুর উপজেলার রেল এবং সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হতে পারে। ইসলামপুর উপজেলা পরিষদেও বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। এছাড়া জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি মারাত্মক অবনতি হয়েছে। উপজেলার আটটি ইউনিয়নের সাতটির প্রায় ৪০টি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। বন্যাদুর্গত এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্যের অভাব। ছড়িয়ে পড়ছে ডায়রিয়াসহ পানিবাহিত রোগ। দুর্গত এলাকায় অর্ধ শতাধিক স্কুল, মাদরাসা বন্ধ হয়ে গেছে। পানিবন্দী মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সরকারি বা বেসরকারি কোনো সংস্থা এখন পর্যন্ত তাদের কোনো খোঁজখবর নেয়নি। এলাকায় কোনো ত্রাণসামগ্রীও পৌঁছায়নি। জামালপুরের দেওয়ানগঞ্ সংবাদদাতা জানান, দেওয়ানগঞ্জ পৌরসভা ও কয়েকটি ইউনিয়নে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। উপজেলার প্রায় ৩০০ কিলোমিটার সড়ক বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। দেওয়ানগঞ্জ-জামালপুর রেললাইন ডুবে গেছে। বন্যাদুর্গত এলাকায় খাদ্য ও গোখাদ্য, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট দেখা দিয়েছে। বেশির ভাগ সড়কযোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।   বেড়া (পাবনা) সংবাদদাতা জানান, উপজেলার ইউনিয়নের বিভিন্ন ইউনিয়নের শত শত পরিবার এখন পানিবন্দী জীবনযাপন করছেন। নলকূপগুলো পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানির সঙ্কট। অনেকেই আক্রান্ত হচ্ছেন পেটের পীড়ায়। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে মানুষ ঘর ছাড়ছেন। চৌহালী (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, যমুনায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় চৌহালী উপজেলার প্রায় ১১০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের পঁচাত্তরটি গ্রামে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। নদীতে বিলীন হয়েছে চারটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। উপজেলার অন্তত সাড়ে ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। বন্যার্তদের মাঝে এখনো পৌঁছেনি পর্যাপ্ত ত্রাণসহায়তা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী জানান, ত্রাণসহায়তার জন্য ৬০ মেট্রিক টন চাল ও ১ লাখ ২০ হাজার টাকার শুকনো খাবার বৃহস্পতিবার থেকে বিতরণ শুরু হয়েছে।   ফুলছড়ি (গাইবান্ধা) সংবাদদাতা জানান, উপজেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। বন্যা ও নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হাজার হাজার মানুষ তাদের পরিবার-পরিজন, গবাদিপশু ও সংসারের মালামাল নিয়ে উঁচু স্থানে ও বাঁধের ওপর আশ্রয় নিয়েছেন। অনেকে নদী ভাঙনে সবকিছু হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন। বন্যা দুর্গত এলাকায় খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও টয়লেটের তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে। দুর্গত এলাকায় সরকারি ত্রাণসাহায্য পৌঁছতে শুরু করলেও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। এ দিকে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ফজলুপুর ইউনিয়নের পূর্ব খাটিয়ামারী গ্রামের ওয়াজেদ আলীর সাত মাসের শিশু উজ্জল মিয়ার খাট থেকে পানিতে পড়ে মৃত্যু হয়েছে। ফজলুপুর ইউনিয়নে গত এক সপ্তাহের নদী ভাঙনে ৩২০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে আকস্মিক নদী ভাঙনে ও তীব্র স্রোতে চন্দনস্বর গুচ্ছ গ্রামের ১৪৫টি পরিবারের ঘরবাড়ি, আসবাবপত্রসহ মালামাল নদীতে ভেসে যায়।   নাগরপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা জানান, যমুনা ও ধলেশ্বরী নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নাগরপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রায় ২৫ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। ডুবে গেছে অনেক রাস্তা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এ পর্যন্ত কোনো ত্রাণসহায়তা পায়নি বলে এসব ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিদের সূত্রে জানা গেছে।   এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) পুলক কান্তি চক্রবর্তী বলেন, যতদ্রুত সম্ভব বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে দেয়া হবে।   শিবচর (মাদারীপুর) সংবাদদাতা জানান, উপজেলায় পদ্মা নদীর পানি বিপদসীমার ৬০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। দুইটি ইউনিয়নের আড়াই শতাধিক ঘরবাড়ি ও ৩০০ হেক্টর জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকিতে রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাজারসহ বহু ঘরবাড়ি। বন্ধ হয়ে গেছে চরের সব স্কুল। চরের চার দিকে পানি থাকায় ভাঙনকবলিতরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। আড়িয়ালখা নদের ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করায় সন্ন্যাসীরচর ইউনিয়নের দুইটি ওয়ার্ডে অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে। গত কয়েক দিনে পদ্মা অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়ে চরজানাজাত, বন্দরখোলা, কাঁঠালবাড়িয়া ও মাদবরচরের কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের তীব্র সঙ্কট। এরই মাঝে বেড়েছে সাপের উপদ্রব। শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান আহমেদ বলেন, জরুরি ত্রাণ ও টাকা চাওয়া হয়েছে।   চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) সংবাদদাতা জানান, উপজেলায় বন্যাপরিস্থিতি আরো অবনতি হয়েছে। উপজেলায় প্রায় আড়াই হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। পদ্মা নদী পয়েন্টে বন্যার পানি বিপদসীমার ৮৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয় বলে ফরিদপুর পাউবো সূত্র জানায়। বানভাসীরা আশ্রয়ণ কেন্দ্র ও বেড়িবাঁধ সড়কে আশ্রয় নিয়েছে। এ ছাড়া উপজেলার জনচলাচলের ২৪টি রাস্তা, ১০টি কালভার্ট, ১১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বন্যার পানি ঢুকেছে।   উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা সিদ্দিকা জানান, দুর্গত পরিবারগুলোর ত্রাণসামগ্রী প্যাকেজ করা হচ্ছে আজকালের মধ্যেই তা বিরতন হবে বলে আশা করছি। এ ছাড়া উপজেলা সদর ইউনিয়নের পদ্মা পাড় এলাকার বালিয়াডাঙ্গী গ্রাম, ফাজেলখার ডাঙ্গী, হাজীডাঙ্গী, সেকেরডাঙ্গী, খালাসীডাঙ্গী, মাথাভাঙ্গা, টিলারচর, এমপিডাঙ্গী গ্রামের প্রায় ৫০০ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। বন্যার পানি বেড়িবাঁধের কোনো অংশে ভাঙতে পারলেই উপজেলা সদর এলাকা তলিয়ে যাবে বলে স্থানীয়রা শঙ্কায় রয়েছেন।
 

Comments

Comments!

 বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি, লক্ষাধিক পরিবার পানিবন্দীAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি, লক্ষাধিক পরিবার পানিবন্দী

Saturday, July 30, 2016 9:37 am
A Bangladeshi flood affected villager uses a raft made of banana trees for transport to safety in the Sirajgonj District, some 105 kms north-west of Dhaka, 30 July 2007.  Hundreds of thousands of villagers fled their homes, 30 July as flash floods caused by monsoon rains and glacial snowmelt inundated large swathes of northern Bangladesh, officials said.   AFP PHOTO/ S K AZAM (Photo credit should read STRDEL/AFP/Getty Images)

 

 

ঢাকা: সারা দেশে বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। যার ফলে মানবেতর জীবন-যাপন করছে লক্ষাধিক পরিবার। নদীর পানির অব্যাহত চাপে হুমকির মুখে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধগুলো।

পরিস্থিতির চরম অবনতি হওয়ায় অনেক স্থানে বন্যার্তরা বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিচ্ছেন।

 

যমুনা, ব্রহ্মপুত্র তিস্তাসহ বিভিন্ন নদ-নদীর অব্যাহত পানিবৃদ্ধির কারণে বিভিন্ন জেলার চরাঞ্চলের লক্ষাধিক পরিবার চরম দুর্গতিতে পড়েছে বলে সরেজমিনে দেখা গেছে।

এদিকে বন্যার ভয়াবহতার বিবেচনায় কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলাকে দুর্যোগপূর্ণ উপজেলা ঘোষণা করা হয়েছে।

সারা দেশে বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে শত শত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বন্ধ হয়ে গেছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান।

বন্যার্তদের জন্য সরকারিভাবে ত্রাণসামগ্রী দেয়া হলেও তা প্রয়োজনের চেয়ে নগণ্য বলে দুর্গতরা অভিযোগ করেছেন।

এ দিকে জামালপুরের ইসলামপুর ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় বন্যার পানিতে পড়ে গিয়ে তিন শিশু ও মাদারগঞ্জ উপজেলায় সাপের কামড়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।

 

বগুড়া থেকে আমাদের প্রতিনিধিরা জানান, যমুনার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জেলার বন্যাকবলিত সারিয়াকান্দি, ধুনট ও সোনাতলা এলাকার কয়েকটি পয়েন্টে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। এসব এলাকায় অন্তত ২০টি পয়েন্টে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ দিয়ে পানি চুইয়ে ভেতরে প্রবেশ করায় লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

শুক্রবার সারিয়াকান্দি পয়েন্টে যমুনার পানি বিপদসীমার ৯৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। পানিবৃদ্ধির ফলে বিভিন্ন স্থানে বেড়েছে নদীভাঙন।

এ ছাড়া নতুন করে কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে।

বগুড়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রুহুল আমিন জানান, বাঁধের অবস্থা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং পানি চুইয়ে পড়াস্থান মেরামত করা হচ্ছে।

তিনি জানান, পাঁচটি পয়েন্টে বাঁধ দিয়ে পানি চুইয়ে পড়ার পরিস্থিতি গুরুতর। অনেক পরিবার খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছে।

কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা জানান, জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। রৌমারী উপজেলাকে দুর্যোগপূর্ণ উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

শুক্রবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ্ মামুন তালুকদার।

এ দিকে জেলার ৯ উপজেলায় কমেনি ৬ লক্ষাধিক বানভাসি মানুষের দুর্ভোগ। বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য ও ল্যাট্রিনের অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছে উঁচু বাঁধ, পাকা সড়কে আশ্রয় নেয়া হাজার হাজার পরিবার।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যাদুর্গতের মধ্যে ৫৭৫ মেট্রিক টন চাল ও সাড়ে ১৫ লাখ টাকা বিতরণ করা হলেও তা অপ্রতুল।

জেলার ৯ উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে ৫৫০ কিলোমিটার কাঁচা-পাকা সড়ক ও ৪০ কিলোমিটার নদ-নদীর তীররক্ষা বাঁধ। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে দুই শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

 

জামালপুর সংবাদদাতা জানান, জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি বেড়েছে পাঁচ সেন্টিমিটার। শুক্রবার দুপুরে বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে যমুনার পানি বিপদসীমার ১২১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

বসতঘরে বন্যার পানি ঢুকে যাওয়ায় বিভিন্ন বাঁধ এবং উঁচুস্থানে আশ্রয় নিয়েছেন দুর্গতরা। বন্যার কারণে জেলায় তিন শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষাকার্যক্রম।

পানিবন্দী হয়ে দুর্ভোগ পোহানো দুই লক্ষাধিক মানুষ ত্রাণের জন্য হাহাকার করছেন। বন্যাদুর্গত এলাকার মানুষের জন্য নতুন করে ৩০০ মেট্রিক টন চাল ও ২০ লাখ ২০ হাজার টাকার শুকনো খাবার বরাদ্দ হয়েছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়।

এ দিকে জেলার ইসলামপুর উপজেলার চরপুঁটিমারী গ্রামে শাকিল ও রাকিব নামে দুই শিশু এবং দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় আশিক নামে এক শিশু বন্যার পানিতে ডুবে মারা গেছে।

এ ছাড়া মাদারগঞ্জ উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়নের পোড়াবাড়ি গ্রামে মজনু (৩০) নামে একজন সাপের কামড়ে মারা গেছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানায়।

নীলফামারী সংবাদদাতা জানান, এবারের বন্যায় তিস্তার গতিপথ পরিবর্তন হওয়ায় জেলার ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের ছয়টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মাধ্যমিক ও একটি কিন্ডারগার্টেন বন্যা ও ভাঙনের কবলে পড়ে বিলীন হয়েছে।

দু’টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিলীন না হলেও দীর্ঘ দিন ধরে পানিতে তলিয়ে রয়েছে। শিক্ষাকার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে ওই ইউনিয়নটিতে। নদীভাঙনে কয়েকটি বিদ্যালয় বিলীন হয়েছে এবং পানি ওঠার কারণে কিছু বিদ্যালয় বন্ধ রয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, বন্যা ও ভাঙনে টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের ছয়টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানি উঠেছে। কিছু বিদ্যালয় তিস্তায় বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিকল্প উপায়ে কিভাবে শিক্ষাকার্যক্রম চালানো যায় সে বিষয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করা হচ্ছে।

 

সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, জেলার বেশির ভাগ এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। তবে জেলার কয়েকটি উপজেলার কাঁচা-পাকা সড়ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যার পানি নামার সাথে সাথে মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। বিভিন্ন স্থানে পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে।

সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নে বন্যায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় এসব ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাইজার মোহাম্মদ ফারাবী ত্রাণ বিতরণে অংশ নেন।

গাইবান্ধা সংবাদদাতা জানান, সাঘাটা উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র, যমুনা ও আলাই নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার পানি ২০.৭২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৯০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এতে সাঘাটা উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। অনেকে আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছেন। বন্যার্তরা বিশুদ্ধ পানি, জ্বালানি, গোখাদ্য ও ওষুধপত্রের সঙ্কটে পড়েছে। সরকারিভাবে ত্রাণসহায়তা প্রদান করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। হুমকির মুখে পড়েছে ভরতখালী থেকে সাঘাটা পর্যন্ত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ।

ইসলামপুর (জামালপুর) সংবাদদাতা জানান, রেল লাইনের উপর বন্যার পানি ওঠায় জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জ ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। শুক্রবার রাত থেকে এপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায় বলে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়।

জামালপুর রেল থানার ওসি আশিকুল ইসলাম মজুমদার জানান, জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জ রেলপথের দুরমুঠ, ইসলামপুরসহ কয়েকটি স্থানে রেল লাইন বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় রাতে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

পানিবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে যেকোনো মুহূর্তে জেলা সদর ও ঢাকার সাথে ইসলামপুর উপজেলার রেল এবং সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হতে পারে। ইসলামপুর উপজেলা পরিষদেও বন্যার পানি প্রবেশ করেছে।

এছাড়া জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি মারাত্মক অবনতি হয়েছে। উপজেলার আটটি ইউনিয়নের সাতটির প্রায় ৪০টি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

বন্যাদুর্গত এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্যের অভাব। ছড়িয়ে পড়ছে ডায়রিয়াসহ পানিবাহিত রোগ।

দুর্গত এলাকায় অর্ধ শতাধিক স্কুল, মাদরাসা বন্ধ হয়ে গেছে।

পানিবন্দী মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সরকারি বা বেসরকারি কোনো সংস্থা এখন পর্যন্ত তাদের কোনো খোঁজখবর নেয়নি। এলাকায় কোনো ত্রাণসামগ্রীও পৌঁছায়নি।

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্ সংবাদদাতা জানান, দেওয়ানগঞ্জ পৌরসভা ও কয়েকটি ইউনিয়নে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে।

উপজেলার প্রায় ৩০০ কিলোমিটার সড়ক বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। দেওয়ানগঞ্জ-জামালপুর রেললাইন ডুবে গেছে। বন্যাদুর্গত এলাকায় খাদ্য ও গোখাদ্য, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট দেখা দিয়েছে। বেশির ভাগ সড়কযোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।

 

বেড়া (পাবনা) সংবাদদাতা জানান, উপজেলার ইউনিয়নের বিভিন্ন ইউনিয়নের শত শত পরিবার এখন পানিবন্দী জীবনযাপন করছেন। নলকূপগুলো পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানির সঙ্কট। অনেকেই আক্রান্ত হচ্ছেন পেটের পীড়ায়। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে মানুষ ঘর ছাড়ছেন।

চৌহালী (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, যমুনায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় চৌহালী উপজেলার প্রায় ১১০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের পঁচাত্তরটি গ্রামে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। নদীতে বিলীন হয়েছে চারটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। উপজেলার অন্তত সাড়ে ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। বন্যার্তদের মাঝে এখনো পৌঁছেনি পর্যাপ্ত ত্রাণসহায়তা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী জানান, ত্রাণসহায়তার জন্য ৬০ মেট্রিক টন চাল ও ১ লাখ ২০ হাজার টাকার শুকনো খাবার বৃহস্পতিবার থেকে বিতরণ শুরু হয়েছে।

 

ফুলছড়ি (গাইবান্ধা) সংবাদদাতা জানান, উপজেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। বন্যা ও নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হাজার হাজার মানুষ তাদের পরিবার-পরিজন, গবাদিপশু ও সংসারের মালামাল নিয়ে উঁচু স্থানে ও বাঁধের ওপর আশ্রয় নিয়েছেন। অনেকে নদী ভাঙনে সবকিছু হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন। বন্যা দুর্গত এলাকায় খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও টয়লেটের তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে। দুর্গত এলাকায় সরকারি ত্রাণসাহায্য পৌঁছতে শুরু করলেও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল।

এ দিকে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ফজলুপুর ইউনিয়নের পূর্ব খাটিয়ামারী গ্রামের ওয়াজেদ আলীর সাত মাসের শিশু উজ্জল মিয়ার খাট থেকে পানিতে পড়ে মৃত্যু হয়েছে।

ফজলুপুর ইউনিয়নে গত এক সপ্তাহের নদী ভাঙনে ৩২০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে আকস্মিক নদী ভাঙনে ও তীব্র স্রোতে চন্দনস্বর গুচ্ছ গ্রামের ১৪৫টি পরিবারের ঘরবাড়ি, আসবাবপত্রসহ মালামাল নদীতে ভেসে যায়।

 

নাগরপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা জানান, যমুনা ও ধলেশ্বরী নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নাগরপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রায় ২৫ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। ডুবে গেছে অনেক রাস্তা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এ পর্যন্ত কোনো ত্রাণসহায়তা পায়নি বলে এসব ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিদের সূত্রে জানা গেছে।

 

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) পুলক কান্তি চক্রবর্তী বলেন, যতদ্রুত সম্ভব বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে দেয়া হবে।

 

শিবচর (মাদারীপুর) সংবাদদাতা জানান, উপজেলায় পদ্মা নদীর পানি বিপদসীমার ৬০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। দুইটি ইউনিয়নের আড়াই শতাধিক ঘরবাড়ি ও ৩০০ হেক্টর জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকিতে রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাজারসহ বহু ঘরবাড়ি। বন্ধ হয়ে গেছে চরের সব স্কুল।

চরের চার দিকে পানি থাকায় ভাঙনকবলিতরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। আড়িয়ালখা নদের ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করায় সন্ন্যাসীরচর ইউনিয়নের দুইটি ওয়ার্ডে অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে। গত কয়েক দিনে পদ্মা অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়ে চরজানাজাত, বন্দরখোলা, কাঁঠালবাড়িয়া ও মাদবরচরের কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের তীব্র সঙ্কট। এরই মাঝে বেড়েছে সাপের উপদ্রব।

শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান আহমেদ বলেন, জরুরি ত্রাণ ও টাকা চাওয়া হয়েছে।

 

চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) সংবাদদাতা জানান, উপজেলায় বন্যাপরিস্থিতি আরো অবনতি হয়েছে। উপজেলায় প্রায় আড়াই হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। পদ্মা নদী পয়েন্টে বন্যার পানি বিপদসীমার ৮৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয় বলে ফরিদপুর পাউবো সূত্র জানায়।

বানভাসীরা আশ্রয়ণ কেন্দ্র ও বেড়িবাঁধ সড়কে আশ্রয় নিয়েছে। এ ছাড়া উপজেলার জনচলাচলের ২৪টি রাস্তা, ১০টি কালভার্ট, ১১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বন্যার পানি ঢুকেছে।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা সিদ্দিকা জানান, দুর্গত পরিবারগুলোর ত্রাণসামগ্রী প্যাকেজ করা হচ্ছে আজকালের মধ্যেই তা বিরতন হবে বলে আশা করছি।

এ ছাড়া উপজেলা সদর ইউনিয়নের পদ্মা পাড় এলাকার বালিয়াডাঙ্গী গ্রাম, ফাজেলখার ডাঙ্গী, হাজীডাঙ্গী, সেকেরডাঙ্গী, খালাসীডাঙ্গী, মাথাভাঙ্গা, টিলারচর, এমপিডাঙ্গী গ্রামের প্রায় ৫০০ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। বন্যার পানি বেড়িবাঁধের কোনো অংশে ভাঙতে পারলেই উপজেলা সদর এলাকা তলিয়ে যাবে বলে স্থানীয়রা শঙ্কায় রয়েছেন।

 

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X