শনিবার, ২৭শে মে, ২০১৭ ইং, ১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ৯:৪৯
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Monday, February 20, 2017 8:49 am
A- A A+ Print

বাংলাদেশের প্রবেশদ্বারকে সুন্দর করুন

3

দেলোয়ার হোসেন |  একটি বাড়ির কিংবা ঘরের প্রবেশদ্বার বা মূল দরজা দেখে যেমন সে বাড়িটি কিংবা ঘরটিতে বসবাসরত মানুষদের রুচিবোধ সম্পর্কে একটি ধারণা পাওয়া যায়, ঠিক তেমনি একটি দেশের প্রধান বিমানবন্দরও সে দেশের মানুষের রুচিবোধ সম্পর্কে মানুষকে ধারণা দেয়। শুধু তা-ই নয়, একটি বাড়ি কিংবা দরজায় যদি কেউ আন্তরিক অভ্যর্থনা পায়, তবে শুরুতেই সে ঘর কিংবা বাড়িটি সম্পর্কে কিংবা সেখানে যে কাজের জন্য মানুষ আসে, সে ব্যাপারে একটি ইতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি হয়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বিদেশ থেকে আসা অতিথিদের আমাদের দেশের প্রধান বিমানবন্দর হিসেবে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্পর্কে একটি ইতিবাচক ধারণাও দেয় কি না। যাঁরা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করেছেন, তাঁরা নিশ্চয় বলবেন যে আমাদের দেশের বিমানবন্দরে নেমেই বিদেশি অতিথিরা বাংলাদেশ সম্পর্কে একটি নেতিবাচক ধারণা পান। শুধু তা-ই নয়, মধ্যপ্রাচ্যসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আমাদের দেশের যেসব মানুষ কাজ করে দেশে ফিরে আসেন, তাঁদের বাড়ির মূল ফটকেই নানা হেনস্তা ও লাঞ্ছনা-গঞ্জনার শিকার হতে হয়। অথচ এসব শ্রমিকের কঠোর পরিশ্রমের ফলেই বাংলাদেশ প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ তরতর করে বাড়ছে, যেটি এখন দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম রিজার্ভ ফান্ড। সর্বোপরি এসব শ্রমিক দেশের উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখছেন।

আমাদের দেশের প্রধান এই বিমানবন্দরটি অপরিচ্ছন্ন, অগোছালো এবং যাত্রীসেবার মান খারাপ। বহু বছর ধরে এ বিমানবন্দরটি আমার ব্যবহার করার সুযোগ হয়েছে। ১৯৮০–এর দশকে যখন এই বিমানবন্দরের যাত্রা শুরু হয়, তখন থেকে সেখানে আমার যাতায়াত শুরু হয়। আমার বড় ভাই এবং ভাবির চাকরির সুবাদে এই বিমানবন্দরের অলিগলি আমার দেখার সুযোগ হয়েছিল। এটা সত্যি যে গত প্রায় চার দশকে এ বিমানবন্দরের কলেবর বেড়েছে। যাত্রীসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে, কলেবর-যাত্রী বাড়ার পাশাপাশি বিমানবন্দরের সেবার মান বেড়েছে কতটুকু?

যুক্তরাষ্ট্র থেকে গত ৩ ডিসেম্বর ঢাকায় এসে দেখেছি যাত্রীদের নিয়ে টানাহেঁচড়া আগের তুলনায় কমেছে। কিন্তু বিমানবন্দরের সেবার মান দেখলাম অত্যন্ত অপেশাদার। লাগেজ ক্যারিয়ারের সংখ্যা কম, তার মধ্যে আবার কয়েকটি কাজও করে না। কোথাও কোথাও সিলিং ভেঙে পড়ছে। লাগেজের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। সব মিলিয়ে যাত্রীদের ভোগান্তি দেখলাম সীমাহীন।

আমার সঙ্গে ব্রিটিশ এক ফ্যাশন ডিজাইনার লাগেজের জন্য দাঁড়িয়ে ছিলেন। পরিচয়ের একপর্যায়ে প্রথমেই তিনি তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানালেন তিনি বাংলাদেশে আসতে একদম ইচ্ছুক ছিলেন না। তাঁর মতে, এখানে পদে পদে হয়রানি। এয়ারপোর্টে অন অ্যারাইভাল ভিসার জন্য তাঁকে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। আর এখন কয়েক ঘণ্টা ধরে লাগেজের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তিনি আরও বললেন যে এ দেশের মানুষজন ভালো এবং আন্তরিক। তবে বিভিন্ন বিষয়ের ব্যবস্থাপনা ভালো নয়। গত বছরে গুলশানসহ অন্যান্য স্থানে জঙ্গি হামলা নিয়ে তিনি শঙ্কিত ছিলেন এবং তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অনুরোধ করেছিলেন যেন বাংলাদেশে তাঁকে না পাঠানো হয়।

ব্রিটিশ এই ফ্যাশন ডিজাইনার জঙ্গি হামলার আতঙ্ক নিয়ে বাংলাদেশে এসে পেয়েছেন এক শীতল অভ্যর্থনা। ব্রিটিশ এই নাগরিকের মতো অন্যান্য দেশ থেকে আশা বিদেশিদের হয়তো ঢাকা বিমানবন্দরে একই রকম অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়। কিন্তু বাংলাদেশের নীতিনির্ধারক কিংবা রাজনৈতিক হোমরাচোমরা যাঁরা ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার করেন, তাঁদের হয়তো এ ধরনের পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হয় না। বিমানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টরা যখন বিমানবন্দর পরিদর্শনে যান, তখন বিমানবন্দর ঝকঝকে, তকতকে করে রাখা হয়। তাই তাঁরা সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ উপলব্ধি করতে পারেন না। কিংবা উপলব্ধি করলেও ব্যবস্থা নেন না।

কিন্তু আমাদের দেশের প্রধান বিমানবন্দরকে যদি বাংলাদেশের অভ্যর্থনাকক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে হয়, তবে নীতিনির্ধারকদের এই মানসিকতার পরিবর্তন দরকার। আমি মনে করি, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে যাত্রী ও বিদেশি অতিথিবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে হলে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো নেওয়া জরুরি:

১। বিমানবন্দরের অবকাঠামো ঢেলে সাজাতে হবে। যাত্রীসংখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সেবার মান নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ও যৌক্তিক অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে।

২। বিমানবন্দরের সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য একে রুচিসম্মতভাবে সাজাতে হবে। এ জন্য দরকার বিমানবন্দরের ভেতরে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখা এবং সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা।

৩। বিদেশি অতিথি এবং আমাদের অভিবাসী শ্রমিকদের অভ্যর্থনা জানানোর জন্য অভ্যর্থনা কাউন্টার খুলতে হবে।

৪। যাত্রীসেবার মান বাড়াতে হবে।

৫। বিমানবন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যাত্রীবান্ধব সেবার মানসিকতা গড়ার জন্য আধুনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।

৬। সর্বোপরি আমাদের নীতিনির্ধারকদের বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং সেবার মানের জন্য জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে।

সবশেষে বলতে হয়, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বিভিন্ন সময়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আমাদের এখন সেদিকে মনোযোগ দিতে হবে। কারণ, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে সে জন্য আমাদের সবাইকে ভুগতে হবে।

দেলোয়ার হোসেন: যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ অ্যালাবামার ডিজিটাল সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক।

Comments

Comments!

 বাংলাদেশের প্রবেশদ্বারকে সুন্দর করুনAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

বাংলাদেশের প্রবেশদ্বারকে সুন্দর করুন

Monday, February 20, 2017 8:49 am
3

দেলোয়ার হোসেন |  একটি বাড়ির কিংবা ঘরের প্রবেশদ্বার বা মূল দরজা দেখে যেমন সে বাড়িটি কিংবা ঘরটিতে বসবাসরত মানুষদের রুচিবোধ সম্পর্কে একটি ধারণা পাওয়া যায়, ঠিক তেমনি একটি দেশের প্রধান বিমানবন্দরও সে দেশের মানুষের রুচিবোধ সম্পর্কে মানুষকে ধারণা দেয়। শুধু তা-ই নয়, একটি বাড়ি কিংবা দরজায় যদি কেউ আন্তরিক অভ্যর্থনা পায়, তবে শুরুতেই সে ঘর কিংবা বাড়িটি সম্পর্কে কিংবা সেখানে যে কাজের জন্য মানুষ আসে, সে ব্যাপারে একটি ইতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি হয়।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বিদেশ থেকে আসা অতিথিদের আমাদের দেশের প্রধান বিমানবন্দর হিসেবে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্পর্কে একটি ইতিবাচক ধারণাও দেয় কি না। যাঁরা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করেছেন, তাঁরা নিশ্চয় বলবেন যে আমাদের দেশের বিমানবন্দরে নেমেই বিদেশি অতিথিরা বাংলাদেশ সম্পর্কে একটি নেতিবাচক ধারণা পান। শুধু তা-ই নয়, মধ্যপ্রাচ্যসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আমাদের দেশের যেসব মানুষ কাজ করে দেশে ফিরে আসেন, তাঁদের বাড়ির মূল ফটকেই নানা হেনস্তা ও লাঞ্ছনা-গঞ্জনার শিকার হতে হয়। অথচ এসব শ্রমিকের কঠোর পরিশ্রমের ফলেই বাংলাদেশ প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ তরতর করে বাড়ছে, যেটি এখন দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম রিজার্ভ ফান্ড। সর্বোপরি এসব শ্রমিক দেশের উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখছেন।

আমাদের দেশের প্রধান এই বিমানবন্দরটি অপরিচ্ছন্ন, অগোছালো এবং যাত্রীসেবার মান খারাপ। বহু বছর ধরে এ বিমানবন্দরটি আমার ব্যবহার করার সুযোগ হয়েছে। ১৯৮০–এর দশকে যখন এই বিমানবন্দরের যাত্রা শুরু হয়, তখন থেকে সেখানে আমার যাতায়াত শুরু হয়। আমার বড় ভাই এবং ভাবির চাকরির সুবাদে এই বিমানবন্দরের অলিগলি আমার দেখার সুযোগ হয়েছিল। এটা সত্যি যে গত প্রায় চার দশকে এ বিমানবন্দরের কলেবর বেড়েছে। যাত্রীসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে, কলেবর-যাত্রী বাড়ার পাশাপাশি বিমানবন্দরের সেবার মান বেড়েছে কতটুকু?

যুক্তরাষ্ট্র থেকে গত ৩ ডিসেম্বর ঢাকায় এসে দেখেছি যাত্রীদের নিয়ে টানাহেঁচড়া আগের তুলনায় কমেছে। কিন্তু বিমানবন্দরের সেবার মান দেখলাম অত্যন্ত অপেশাদার। লাগেজ ক্যারিয়ারের সংখ্যা কম, তার মধ্যে আবার কয়েকটি কাজও করে না। কোথাও কোথাও সিলিং ভেঙে পড়ছে। লাগেজের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। সব মিলিয়ে যাত্রীদের ভোগান্তি দেখলাম সীমাহীন।

আমার সঙ্গে ব্রিটিশ এক ফ্যাশন ডিজাইনার লাগেজের জন্য দাঁড়িয়ে ছিলেন। পরিচয়ের একপর্যায়ে প্রথমেই তিনি তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানালেন তিনি বাংলাদেশে আসতে একদম ইচ্ছুক ছিলেন না। তাঁর মতে, এখানে পদে পদে হয়রানি। এয়ারপোর্টে অন অ্যারাইভাল ভিসার জন্য তাঁকে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। আর এখন কয়েক ঘণ্টা ধরে লাগেজের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তিনি আরও বললেন যে এ দেশের মানুষজন ভালো এবং আন্তরিক। তবে বিভিন্ন বিষয়ের ব্যবস্থাপনা ভালো নয়। গত বছরে গুলশানসহ অন্যান্য স্থানে জঙ্গি হামলা নিয়ে তিনি শঙ্কিত ছিলেন এবং তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অনুরোধ করেছিলেন যেন বাংলাদেশে তাঁকে না পাঠানো হয়।

ব্রিটিশ এই ফ্যাশন ডিজাইনার জঙ্গি হামলার আতঙ্ক নিয়ে বাংলাদেশে এসে পেয়েছেন এক শীতল অভ্যর্থনা। ব্রিটিশ এই নাগরিকের মতো অন্যান্য দেশ থেকে আশা বিদেশিদের হয়তো ঢাকা বিমানবন্দরে একই রকম অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়। কিন্তু বাংলাদেশের নীতিনির্ধারক কিংবা রাজনৈতিক হোমরাচোমরা যাঁরা ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার করেন, তাঁদের হয়তো এ ধরনের পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হয় না। বিমানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টরা যখন বিমানবন্দর পরিদর্শনে যান, তখন বিমানবন্দর ঝকঝকে, তকতকে করে রাখা হয়। তাই তাঁরা সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ উপলব্ধি করতে পারেন না। কিংবা উপলব্ধি করলেও ব্যবস্থা নেন না।

কিন্তু আমাদের দেশের প্রধান বিমানবন্দরকে যদি বাংলাদেশের অভ্যর্থনাকক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে হয়, তবে নীতিনির্ধারকদের এই মানসিকতার পরিবর্তন দরকার। আমি মনে করি, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে যাত্রী ও বিদেশি অতিথিবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে হলে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো নেওয়া জরুরি:

১। বিমানবন্দরের অবকাঠামো ঢেলে সাজাতে হবে। যাত্রীসংখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সেবার মান নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ও যৌক্তিক অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে।

২। বিমানবন্দরের সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য একে রুচিসম্মতভাবে সাজাতে হবে। এ জন্য দরকার বিমানবন্দরের ভেতরে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখা এবং সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা।

৩। বিদেশি অতিথি এবং আমাদের অভিবাসী শ্রমিকদের অভ্যর্থনা জানানোর জন্য অভ্যর্থনা কাউন্টার খুলতে হবে।

৪। যাত্রীসেবার মান বাড়াতে হবে।

৫। বিমানবন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যাত্রীবান্ধব সেবার মানসিকতা গড়ার জন্য আধুনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।

৬। সর্বোপরি আমাদের নীতিনির্ধারকদের বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং সেবার মানের জন্য জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে।

সবশেষে বলতে হয়, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বিভিন্ন সময়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আমাদের এখন সেদিকে মনোযোগ দিতে হবে। কারণ, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে সে জন্য আমাদের সবাইকে ভুগতে হবে।

দেলোয়ার হোসেন: যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ অ্যালাবামার ডিজিটাল সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X