শুক্রবার, ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১১ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ৮:৪৮
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Friday, December 30, 2016 9:59 am
A- A A+ Print

বাংলাদেশে প্রবেশ অব্যাহত : রোহিঙ্গা নির্যাতনের ধরন পাল্টেছে

4

মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনী দেশটির রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর গত অক্টোবর থেকে যে নিধন শুরু করেছে, ডিসেম্বরে তার ধরন পাল্টেছে। আন্তর্জাতিক মহলে ধীরে ধীরে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় রাখাইনের উগ্র তরুণদের নিয়ে নাডালা নামের বেসরকারি বাহিনী গঠন করা হয়েছে। ওই বাহিনীকে দিয়ে রোহিঙ্গাদের হত্যা, ধর্ষণ অব্যাহত থাকায় বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের আসাও অব্যাহত আছে। গতকাল বৃহস্পতিবার কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ ঘুরে অন্তত ৫০ জন রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশুর সঙ্গে কথা হয়েছে। মিয়ানমার থেকে পালিয়ে গতকাল ও গত বুধবার বাংলাদেশে ঢোকা এই রোহিঙ্গারা বলেছে নাডালার নির্যাতন ও অত্যাচারের কথা। রোহিঙ্গাদের অব্যাহত অনুপ্রবেশ যে বাংলাদেশকে যথেষ্ট বিচলিত করে তুলেছে, তা গতকাল দুপুরে ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে জানানো হয়েছে। গত ৯ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকেছে। এ ছাড়া আগে থেকে বাংলাদেশে অবস্থান করেছে আরও তিন লাখ রোহিঙ্গা। বাংলাদেশ অবিলম্বে এদের সবাইকে ফিরিয়ে নিতে বলেছে মিয়ানমারকে।

গতকাল দুপুরে কক্সবাজার-টেকনাফ আঞ্চলিক মহাসড়ক পেরোনোর সময় বাঁকে বাঁকে নানা বয়সী রোহিঙ্গা নারী-পুরুষের জটলা চোখে পড়ে। শুরুতে বেলা সোয়া একটার দিকে উখিয়া ডিগ্রি কলেজের কাছে সড়কের দুই পাশে ৪০ জনের তিনটি দলের দেখা মেলে। এদের মধ্যে রাখাইনের শিলখালীর সেতারা বেগম, আমেনা খাতুনসহ অন্তত সাতজন নারীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, তাঁরা বাংলাদেশে ঢুকেছেন রবি ও সোমবার। সবার সঙ্গেই একাধিক সন্তান। স্বামী, সন্তান, শ্বশুর কিংবা শাশুড়ি—পরিবারের কোনো না কোনো সদস্যকে হারিয়ে তাঁরা পালিয়ে এসেছেন। কেউবা জানালেন, সন্তানকে সশস্ত্র বাহিনী উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার পর তার অপেক্ষায় না থেকে অন্য সন্তানদের নিয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

পথের ধারে জটলা করার কারণ জানতে চাইলে ছলিমা বেগম বললেন, সোমবার থেকে পথের ধারে দিনভর বসে থেকে প্রথম দিন ১০০ ও দ্বিতীয় দিন ২০০ টাকা পেয়েছেন। টাকার আশায় দিনভর পথের ধারে বসে থাকেন। রাতে ফেরেন কুতুপালংয়ে অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা শিবিরে।

কুতুপালংয়ে একটি ঝুপড়িতে শিশুসন্তান নিয়ে বসে ছিলেন নাদিরা। জানেন না কী হবে।

একটু এগিয়ে উখিয়া কলেজের দুই শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, এক সপ্তাহ ধরে নতুন আসা রোহিঙ্গারা এই সড়কের ধারে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দল বেঁধে বসে থাকে। উদ্দেশ্য, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও পর্যটকদের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা পাওয়া।

এ নিয়ে জাতিসংঘের একটি সংস্থায় কর্মরত দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তার সঙ্গে অস্থায়ী শিবিরের বাইরে কথা হয়। নতুন করে ওই শিবিরে প্রায় ১০ হাজার রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। সাময়িক এই আশ্রয় নিশ্চিত হওয়ায় তারা জীবিকার খোঁজে ভোর থেকে এখানে-সেখানে বেরিয়ে পড়ে। ফেরে রাতে। নিজের অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে ওই কর্মকর্তা বললেন, নতুন আসা ২৫টি পরিবারের খোঁজে গিয়ে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দেখা পেলেন শুধু একটি পরিবারের সদস্যদের। ওই সড়ক ধরে নাফ নদী পর্যন্ত এগোতে থাকলে লোকজনের বেশি জটলা দেখা যাবে।

কুতুপালং থেকে পরবর্তী গন্তব্য টেকনাফের লেদার অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা শিবির। পথ চলতে গিয়ে ওই কর্মকর্তার বক্তব্যের সত্যতা মেলে। সড়কে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশু সাহায্যের আশায় বসে আছে। তাদের ছাড়িয়ে কিছুটা এগিয়ে যেতেই চোখে পড়ে, পথের দুই ধারে তৈরি হচ্ছে নতুন ঝুপড়ি। এমন একটি ঝুপড়ির সামনে বসা আবদুল করিম (৭০) মুখ, বুকসহ শরীরের নানা থেঁতলানো অংশ দেখিয়ে জানালেন, ২০ ডিসেম্বর তাঁকে ধরে নিয়ে যান মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা, সঙ্গে ছিল নাডালার লোকজন। টানা কয়েক দিন অকথ্য নির্যাতনের পর মৃত ভেবে তাঁকে ফেলে রেখে যান তাঁরা। পরে মঙ্গলবার প্রাণ নিয়ে বাংলাদেশে আসেন।

লেদার অনিবন্ধিত শিবিরে গিয়ে দেখা হয় রাখাইনের ছোট গজরবিলের মৌলভি ইউসুফের সঙ্গে। মঙ্গলবার বাংলাদেশে আসার আগে তিনিও আটক ছিলেন মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনীর হাতে। গত সপ্তাহে তাঁর গ্রামে নাডালা বাহিনী হামলা শুরু করে, তাঁকেসহ পাঁচজনকে সশস্ত্র বাহিনী ধরে নিয়ে যায়। পাঁচজনকেই বেদম মারধরের পর হত্যা করতে নেওয়া হয়। জ্যেষ্ঠ একজন সেনা কর্মকর্তা বয়স বিবেচনায় তাঁকে ছেড়ে দেন আর অন্যদের গলা কেটে হত্যার আদেশ দেন।

৯ অক্টোবর সীমান্তচৌকিতে হামলার পর রাখাইনে রোহিঙ্গাদের নির্বিচারে হত্যা শুরু করে মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনী। এ নিয়ে অক্টোবর ও নভেম্বরে আন্তর্জাতিক মহল তেমন সরব হয়নি। ব্যতিক্রম ছিল হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো। পরে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মতো আসিয়ানের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদেশগুলো রোহিঙ্গা নির্যাতনের ব্যাপারে সরব হয়। চলতি মাসে রাখাইনের উপদ্রুত এলাকা সফরে যান জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব ও রাখাইন কমিশনের চেয়ারম্যান কফি আনান। এরপর থেকে রোহিঙ্গা নিধন ও নিপীড়নের ধরন পাল্টায় দেশটির সশস্ত্র বাহিনী। এ মাসের শুরুতে গঠন করা হয় নাডালা। কোনো এলাকায় হামলার শুরুতে তা ঘিরে ফেলে সশস্ত্র বাহিনী। এরপর লোকজনকে হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতনসহ বর্বর হামলা চালায় নাডালা। ৯ অক্টোবরের পর থেকে মংডু ও বুচিডংয়ের অন্তত ২২টি গ্রামে হামলা হয়েছে। বাংলাদেশে নতুন করে রোহিঙ্গারা ঢুকেছে মুসলিম অধ্যুষিত ওই এলাকাগুলো থেকেই। এর মধ্যে আছে বড় গজরবিল, ছোট গজরবিল, রাঙ্গাবাইল্ল্যা, ছালিপাড়া, জামবনিয়া, খেয়ারি প্রাং, ওয়াবেগ, নাসাপ্রু, পোয়াখালী, শীলখালী, ঝিমংখালী, খোলার বিল, নাকফুরা, বুড়া সিকদারপাড়া, রাগদ্যাং, মাংগালা ও বউলিয়া বাজার।

গতকাল উখিয়া ও টেকনাফের অনিবন্ধিত শিবির এবং কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের দুই পাশে অপেক্ষমাণ লোকজন বলেন, ওই এলাকাগুলো থেকে রোহিঙ্গা মুসলিমদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। বেশ কিছু পালিয়ে আছে বনে-জঙ্গলে। কেউ কেউ চেষ্টা করছে রাখাইনের পাশের রাজ্যে পালানোর।

সীমান্তে বিজিবির কড়া সতর্কতা ও নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। লেদার অনিবন্ধিত শিবিরের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি দুদু মিয়া বিকেলে  বলেন, গতকাল ভোর পর্যন্ত নতুন অন্তত ২০০ রোহিঙ্গা টেকনাফে এসেছে।

Comments

Comments!

 বাংলাদেশে প্রবেশ অব্যাহত : রোহিঙ্গা নির্যাতনের ধরন পাল্টেছেAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

বাংলাদেশে প্রবেশ অব্যাহত : রোহিঙ্গা নির্যাতনের ধরন পাল্টেছে

Friday, December 30, 2016 9:59 am
4

মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনী দেশটির রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর গত অক্টোবর থেকে যে নিধন শুরু করেছে, ডিসেম্বরে তার ধরন পাল্টেছে। আন্তর্জাতিক মহলে ধীরে ধীরে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় রাখাইনের উগ্র তরুণদের নিয়ে নাডালা নামের বেসরকারি বাহিনী গঠন করা হয়েছে। ওই বাহিনীকে দিয়ে রোহিঙ্গাদের হত্যা, ধর্ষণ অব্যাহত থাকায় বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের আসাও অব্যাহত আছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ ঘুরে অন্তত ৫০ জন রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশুর সঙ্গে কথা হয়েছে। মিয়ানমার থেকে পালিয়ে গতকাল ও গত বুধবার বাংলাদেশে ঢোকা এই রোহিঙ্গারা বলেছে নাডালার নির্যাতন ও অত্যাচারের কথা।
রোহিঙ্গাদের অব্যাহত অনুপ্রবেশ যে বাংলাদেশকে যথেষ্ট বিচলিত করে তুলেছে, তা গতকাল দুপুরে ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে জানানো হয়েছে। গত ৯ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকেছে। এ ছাড়া আগে থেকে বাংলাদেশে অবস্থান করেছে আরও তিন লাখ রোহিঙ্গা। বাংলাদেশ অবিলম্বে এদের সবাইকে ফিরিয়ে নিতে বলেছে মিয়ানমারকে।

গতকাল দুপুরে কক্সবাজার-টেকনাফ আঞ্চলিক মহাসড়ক পেরোনোর সময় বাঁকে বাঁকে নানা বয়সী রোহিঙ্গা নারী-পুরুষের জটলা চোখে পড়ে। শুরুতে বেলা সোয়া একটার দিকে উখিয়া ডিগ্রি কলেজের কাছে সড়কের দুই পাশে ৪০ জনের তিনটি দলের দেখা মেলে। এদের মধ্যে রাখাইনের শিলখালীর সেতারা বেগম, আমেনা খাতুনসহ অন্তত সাতজন নারীর সঙ্গে কথা বলে জানা
গেল, তাঁরা বাংলাদেশে ঢুকেছেন রবি ও সোমবার। সবার সঙ্গেই একাধিক সন্তান। স্বামী, সন্তান, শ্বশুর কিংবা শাশুড়ি—পরিবারের কোনো না কোনো সদস্যকে হারিয়ে তাঁরা পালিয়ে এসেছেন। কেউবা জানালেন, সন্তানকে সশস্ত্র বাহিনী উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার পর তার অপেক্ষায় না থেকে অন্য সন্তানদের নিয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

পথের ধারে জটলা করার কারণ জানতে চাইলে ছলিমা বেগম বললেন, সোমবার থেকে পথের ধারে দিনভর বসে থেকে প্রথম দিন ১০০ ও দ্বিতীয় দিন ২০০ টাকা পেয়েছেন। টাকার আশায় দিনভর পথের ধারে বসে থাকেন। রাতে ফেরেন কুতুপালংয়ে অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা শিবিরে।

কুতুপালংয়ে একটি ঝুপড়িতে শিশুসন্তান নিয়ে বসে ছিলেন নাদিরা। জানেন না কী হবে।

একটু এগিয়ে উখিয়া কলেজের দুই শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, এক সপ্তাহ ধরে নতুন আসা রোহিঙ্গারা এই সড়কের ধারে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দল বেঁধে বসে থাকে। উদ্দেশ্য, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও পর্যটকদের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা পাওয়া।

এ নিয়ে জাতিসংঘের একটি সংস্থায় কর্মরত দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তার সঙ্গে অস্থায়ী শিবিরের বাইরে কথা হয়। নতুন করে ওই শিবিরে প্রায় ১০ হাজার রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। সাময়িক এই আশ্রয় নিশ্চিত হওয়ায় তারা জীবিকার খোঁজে ভোর থেকে এখানে-সেখানে বেরিয়ে পড়ে। ফেরে রাতে। নিজের অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে ওই কর্মকর্তা বললেন, নতুন আসা ২৫টি পরিবারের খোঁজে গিয়ে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দেখা পেলেন শুধু একটি পরিবারের সদস্যদের। ওই সড়ক ধরে নাফ নদী পর্যন্ত এগোতে থাকলে লোকজনের বেশি জটলা দেখা যাবে।

কুতুপালং থেকে পরবর্তী গন্তব্য টেকনাফের লেদার অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা শিবির। পথ চলতে গিয়ে ওই কর্মকর্তার বক্তব্যের সত্যতা মেলে। সড়কে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশু সাহায্যের আশায় বসে আছে। তাদের ছাড়িয়ে কিছুটা এগিয়ে যেতেই চোখে পড়ে, পথের দুই ধারে তৈরি হচ্ছে নতুন ঝুপড়ি। এমন একটি ঝুপড়ির সামনে বসা আবদুল করিম (৭০) মুখ, বুকসহ শরীরের নানা থেঁতলানো অংশ দেখিয়ে জানালেন, ২০ ডিসেম্বর তাঁকে ধরে নিয়ে যান মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা, সঙ্গে ছিল নাডালার লোকজন। টানা কয়েক দিন অকথ্য নির্যাতনের পর মৃত ভেবে তাঁকে ফেলে রেখে যান তাঁরা। পরে মঙ্গলবার প্রাণ নিয়ে বাংলাদেশে আসেন।

লেদার অনিবন্ধিত শিবিরে গিয়ে দেখা হয় রাখাইনের ছোট গজরবিলের মৌলভি ইউসুফের সঙ্গে। মঙ্গলবার বাংলাদেশে আসার আগে তিনিও আটক ছিলেন মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনীর হাতে। গত সপ্তাহে তাঁর গ্রামে নাডালা বাহিনী হামলা শুরু করে, তাঁকেসহ পাঁচজনকে সশস্ত্র বাহিনী ধরে নিয়ে যায়। পাঁচজনকেই বেদম মারধরের পর হত্যা করতে নেওয়া হয়। জ্যেষ্ঠ একজন সেনা কর্মকর্তা বয়স বিবেচনায় তাঁকে ছেড়ে দেন আর অন্যদের গলা কেটে হত্যার আদেশ দেন।

৯ অক্টোবর সীমান্তচৌকিতে হামলার পর রাখাইনে রোহিঙ্গাদের নির্বিচারে হত্যা শুরু করে মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনী। এ নিয়ে অক্টোবর ও নভেম্বরে আন্তর্জাতিক মহল তেমন সরব হয়নি। ব্যতিক্রম ছিল হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো। পরে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মতো আসিয়ানের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদেশগুলো রোহিঙ্গা নির্যাতনের ব্যাপারে সরব হয়। চলতি মাসে রাখাইনের উপদ্রুত এলাকা সফরে যান জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব ও রাখাইন কমিশনের চেয়ারম্যান কফি আনান। এরপর থেকে রোহিঙ্গা নিধন ও নিপীড়নের ধরন পাল্টায় দেশটির সশস্ত্র বাহিনী। এ মাসের শুরুতে গঠন করা হয় নাডালা। কোনো এলাকায় হামলার শুরুতে তা ঘিরে ফেলে সশস্ত্র বাহিনী। এরপর লোকজনকে হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতনসহ বর্বর হামলা চালায় নাডালা। ৯ অক্টোবরের পর থেকে মংডু ও বুচিডংয়ের অন্তত ২২টি গ্রামে হামলা হয়েছে। বাংলাদেশে নতুন করে রোহিঙ্গারা ঢুকেছে মুসলিম অধ্যুষিত ওই এলাকাগুলো থেকেই। এর মধ্যে আছে বড় গজরবিল, ছোট গজরবিল, রাঙ্গাবাইল্ল্যা, ছালিপাড়া, জামবনিয়া, খেয়ারি প্রাং, ওয়াবেগ, নাসাপ্রু, পোয়াখালী, শীলখালী, ঝিমংখালী, খোলার বিল, নাকফুরা, বুড়া সিকদারপাড়া, রাগদ্যাং, মাংগালা ও বউলিয়া বাজার।

গতকাল উখিয়া ও টেকনাফের অনিবন্ধিত শিবির এবং কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের দুই পাশে অপেক্ষমাণ লোকজন বলেন, ওই এলাকাগুলো থেকে রোহিঙ্গা মুসলিমদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। বেশ কিছু পালিয়ে আছে বনে-জঙ্গলে। কেউ কেউ চেষ্টা করছে রাখাইনের পাশের রাজ্যে পালানোর।

সীমান্তে বিজিবির কড়া সতর্কতা ও নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। লেদার অনিবন্ধিত শিবিরের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি দুদু মিয়া বিকেলে  বলেন, গতকাল ভোর পর্যন্ত নতুন অন্তত ২০০ রোহিঙ্গা টেকনাফে এসেছে।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X