মঙ্গলবার, ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৮ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ৪:০১
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Friday, November 18, 2016 10:55 am
A- A A+ Print

বাংলাদেশ সীমান্তে ভিড় করছে রোহিঙ্গারা

%e0%a7%aa%e0%a7%aa%e0%a7%aa

মিয়ানমারের রোহিঙ্গারা হত্যা-নির্যাতনের মুখে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য বাংলাদেশ সীমান্তে অবস্থান নিচ্ছে। বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা করে তাদের কেউ কেউ আটক হয়ে পুশব্যাকের শিকার হচ্ছেন। তবে মানবাধিকার কর্মী নূর খান মনে করেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশ নির্যাতিতদের আশ্রয় দিতে মানবিকভাবে বাধ্য।’ গত পাঁচদিনে মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর হামলায় অন্তত ৬৯ জন মুসলিম রোহিঙ্গা নিহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশ থেকে পালিয়ে আসা অন্তত ২০০ রোহিঙ্গা বাংলাদেশ  সীমান্তে আটকা পড়েছে। মঙ্গলবার টেকনাফের নাফ নদী দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টাকালে মিয়ানমারের ৮৬ জন রোহিঙ্গা নাগরিককে আটক করে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি। আটকের পর তাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়৷ তারা যে দু’টি নৌকায় করে এসেছিলেন তাও জব্দ করা হয়। টেকনাফ ২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক মেজর আবু রাসেল ছিদ্দিকী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘মিয়ানমারের নাগরিকরা মঙ্গলবার নাফ নদীর সীমান্ত অতিক্রম করে টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের নয়াপাড়া ও ওয়াব্রাং এলাকা দিয়ে নৌকা যোগে অবৈধভাবে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেন। যে ৮৬ জন মিয়ানমারের নাগরিককে আটক করে ফেরৎ পাঠানো হয় তাদের মধ্যে ২৫জন শিশু, ৪০জন নারী ও ২১ জন পুরুষ রয়েছেন। তারা সবাই মিয়ানমারের আকিয়াবের খৈয়ারচর গ্রামের বাসিন্দা।’ তিনি আরো জানান, ‘সীমান্তে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি সতর্ক রয়েছে। তবে যারা অনুপ্রবেশ করেছিল তাদের প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা দিয়ে ফেরত পঠানো হয়।’ এদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী তাদের রোহিঙ্গা নাগরিকদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র অভিযান অব্যাহত রেখেছে। গত পাঁচ দিনে ৬৯ জন রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হয়েছে। ২০০ জন রোহিঙ্গা রাখাইন প্রদেশ থেকে পালিয়ে এসে বাংলাদেশ সীমান্তে আটকা  পড়েছে। তাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। তারা বলছেন, তারা নিরাপদে বাঁচার একখণ্ড জায়গা চান। মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অভিযান এবং হেলিকপ্টার গানশিপ থেকে রোহিঙ্গা মুসলমানদের গ্রামে গুলিবর্ষণ করার ঘটনা স্বীকার করেছে। সেখানকার মানুষজন নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে পালাচ্ছে। মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গা মুসলমানদের তাদের দেশের নাগরিক বলেই স্বীকার করে না। বাংলাদেশের মানবাধিকার কর্মী এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক নূর খান বলেন, ‘মিয়ানমারে সরকারি বাহিনী গণহত্যা চালাচ্ছে। আর বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশ নির্যাতিত নাগরিকদের আশ্রয় দিতে মানবিকভাবে বাধ্য। মিয়ানমারের ঘটনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব আছে। কিন্তু আমরাও নির্যাতিত মানুষকে ফিরিয়ে দিতে পারি না।’ তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের উচিত হবে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা দেয়া এবং একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে মিয়ানমার এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কথা বলা।’ আর বাংলাদেশের রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্ট রিচার্স ইউনিট (রামরু)-র গবেষক রেজাউর রহমান লেনিন বলেন, ‘১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের বড় একটি অংশ ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছিলাম। তাই বাংলাদেশ যদি মানবিক রাষ্ট্রের পরিচয়কে তুলে ধরতে চায় তাহলে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে দেয়া ঠিক হবে না।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমারের ব্যবসা বাণিজ্য এবং যোগাযোগ বাড়ছে, তারপরও বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশকে মিয়ানমারের সঙ্গে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কথা বলতে হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের এই সমস্যা আন্তর্জাতিকভাবে দেখতে হবে। বিশ্বে নানা কারণে স্টেটলেস মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। এটা নিয়ে জাতিসংঘের আরো সক্রিয় হওয়া প্রয়োজন।’ প্রসঙ্গত, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিকদের ওপর সেদেশের সরকার ও সরকারি বাহিনীর এই নিপীড়ন, নির্যাতন দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। আর বাংলাদেশও এসব নির্যাতিত রোহিঙ্গাকে আগে আশ্রয় দিয়েছে। কক্সবাজারের তিনটি রিফিউজি ক্যাম্পে নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা ৩৩ হাজার। তবে অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা তিন লাখেরও বেশি হতে পারে। সূত্র: ডয়চে ভেলে

Comments

Comments!

 বাংলাদেশ সীমান্তে ভিড় করছে রোহিঙ্গারাAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

বাংলাদেশ সীমান্তে ভিড় করছে রোহিঙ্গারা

Friday, November 18, 2016 10:55 am
%e0%a7%aa%e0%a7%aa%e0%a7%aa

মিয়ানমারের রোহিঙ্গারা হত্যা-নির্যাতনের মুখে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য বাংলাদেশ সীমান্তে অবস্থান নিচ্ছে। বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা করে তাদের কেউ কেউ আটক হয়ে পুশব্যাকের শিকার হচ্ছেন।

তবে মানবাধিকার কর্মী নূর খান মনে করেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশ নির্যাতিতদের আশ্রয় দিতে মানবিকভাবে বাধ্য।’

গত পাঁচদিনে মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর হামলায় অন্তত ৬৯ জন মুসলিম রোহিঙ্গা নিহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশ থেকে পালিয়ে আসা অন্তত ২০০ রোহিঙ্গা বাংলাদেশ  সীমান্তে আটকা পড়েছে।

মঙ্গলবার টেকনাফের নাফ নদী দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টাকালে মিয়ানমারের ৮৬ জন রোহিঙ্গা নাগরিককে আটক করে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি। আটকের পর তাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়৷ তারা যে দু’টি নৌকায় করে এসেছিলেন তাও জব্দ করা হয়।

টেকনাফ ২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক মেজর আবু রাসেল ছিদ্দিকী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘মিয়ানমারের নাগরিকরা মঙ্গলবার নাফ নদীর সীমান্ত অতিক্রম করে টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের নয়াপাড়া ও ওয়াব্রাং এলাকা দিয়ে নৌকা যোগে অবৈধভাবে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেন। যে ৮৬ জন মিয়ানমারের নাগরিককে আটক করে ফেরৎ পাঠানো হয় তাদের মধ্যে ২৫জন শিশু, ৪০জন নারী ও ২১ জন পুরুষ রয়েছেন। তারা সবাই মিয়ানমারের আকিয়াবের খৈয়ারচর গ্রামের বাসিন্দা।’

তিনি আরো জানান, ‘সীমান্তে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি সতর্ক রয়েছে। তবে যারা অনুপ্রবেশ করেছিল তাদের প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা দিয়ে ফেরত পঠানো হয়।’

এদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী তাদের রোহিঙ্গা নাগরিকদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র অভিযান অব্যাহত রেখেছে। গত পাঁচ দিনে ৬৯ জন রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হয়েছে। ২০০ জন রোহিঙ্গা রাখাইন প্রদেশ থেকে পালিয়ে এসে বাংলাদেশ সীমান্তে আটকা  পড়েছে। তাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। তারা বলছেন, তারা নিরাপদে বাঁচার একখণ্ড জায়গা চান।

মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অভিযান এবং হেলিকপ্টার গানশিপ থেকে রোহিঙ্গা মুসলমানদের গ্রামে গুলিবর্ষণ করার ঘটনা স্বীকার করেছে। সেখানকার মানুষজন নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে পালাচ্ছে। মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গা মুসলমানদের তাদের দেশের নাগরিক বলেই স্বীকার করে না।

বাংলাদেশের মানবাধিকার কর্মী এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক নূর খান বলেন, ‘মিয়ানমারে সরকারি বাহিনী গণহত্যা চালাচ্ছে। আর বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশ নির্যাতিত নাগরিকদের আশ্রয় দিতে মানবিকভাবে বাধ্য। মিয়ানমারের ঘটনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব আছে। কিন্তু আমরাও নির্যাতিত মানুষকে ফিরিয়ে দিতে পারি না।’

তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের উচিত হবে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা দেয়া এবং একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে মিয়ানমার এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কথা বলা।’

আর বাংলাদেশের রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্ট রিচার্স ইউনিট (রামরু)-র গবেষক রেজাউর রহমান লেনিন বলেন, ‘১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের বড় একটি অংশ ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছিলাম। তাই বাংলাদেশ যদি মানবিক রাষ্ট্রের পরিচয়কে তুলে ধরতে চায় তাহলে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে দেয়া ঠিক হবে না।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমারের ব্যবসা বাণিজ্য এবং যোগাযোগ বাড়ছে, তারপরও বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশকে মিয়ানমারের সঙ্গে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কথা বলতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের এই সমস্যা আন্তর্জাতিকভাবে দেখতে হবে। বিশ্বে নানা কারণে স্টেটলেস মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। এটা নিয়ে জাতিসংঘের আরো সক্রিয় হওয়া প্রয়োজন।’

প্রসঙ্গত, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিকদের ওপর সেদেশের সরকার ও সরকারি বাহিনীর এই নিপীড়ন, নির্যাতন দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। আর বাংলাদেশও এসব নির্যাতিত রোহিঙ্গাকে আগে আশ্রয় দিয়েছে। কক্সবাজারের তিনটি রিফিউজি ক্যাম্পে নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা ৩৩ হাজার। তবে অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা তিন লাখেরও বেশি হতে পারে।

সূত্র: ডয়চে ভেলে

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X