বৃহস্পতিবার, ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১০ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ৮:৪০
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Tuesday, September 6, 2016 9:26 am
A- A A+ Print

বাকশক্তি হারিয়েছেন শাজাহান সিরাজ

241082_1

স্বাধীন বাংলা ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের নেতা ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক শাজাহান সিরাজকে এক নামেই চেনেন এদেশের মানুষ। একাত্তরের ৩ মার্চ পল্টন ময়দানের বিশাল ছাত্রসমাবেশে পাঠ করেছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের ঘোষণাপত্র। মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ী এ বীর আজ হেরে যাচ্ছেন জীবনযুদ্ধে। তার শরীরে বাসা বেঁধেছে একাধিক জটিল দুরারোগ্য ব্যাধি। চার বছর ধরে বিছানায় কাটছে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রধান এই চরিত্রের। সম্প্রতি হারিয়ে ফেলেছেন বাকশক্তিও- বলে জানিয়েছেন তাঁর স্ত্রী রাবেয়া সিরাজ। কিছুদিন আগেও শাজাহান সিরাজ অনেকটা ইশারা-ইঙ্গিতে কিছুটা শব্দ করে কথা বলতেন। এখন শুধু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকেন। মুখ দিয়ে স্বাভাবিক খাবারও খেতে পারছেন না। দুবছর ধরে পেটে লাগানো টিউব দিয়ে তরল খাবার খাচ্ছেন। 1রাবেয়া সিরাজ জানান, ২০১২ সালে চোখের চিকিৎসার জন্য ভারতে যান। ওই সময় তার ক্যান্সার ধরা পড়ে। এরপর সেখান থেকেই তাকে নেয়া হয় সিঙ্গাপুরে। সেখানে একটি হাসপাতালে অপারেশনের মাধ্যমে ফুসফুসের টিউমার অপসারণ করা হয়। ফলে কিছুটা সুস্থ হলে তিনি দেশে ফেরেন। কিন্তু ২০১৪ সালের শেষ দিকে হঠাৎ নীরব হয়ে যান তিনি। ওই সময় থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার মাথায় টিউমার ধরা পড়ে। কিন্তু আগে থেকেই তার ডায়াবেটিস, কিডনিসহ নানা জটিল রোগ থাকায় মাথায় অস্ত্রোপচার করা যায়নি। পরে চিকিৎসকরা ওষুধের মাধ্যমে টিউমারটি অপসারণের পরামর্শ দেন। এর কিছুদিন পর তার শারীরিক অবস্থা আরো খারাপ হলে এ্যাপোলো হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা জানান, তিনি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। এছাড়া খাবার তার খাদ্যনালীর পরিবর্তে কণ্ঠনালী দিয়ে ফুসফুসে যাচ্ছে। তাই মুখের পরিবর্তে তার পেটে টিউব লাগিয়ে তরল খাবার খাওয়ানো হয়। এরপর থেকে তিনি মুখ দিয়ে কোনো খাবার খাননি। চার বছর ধরে অসুস্থ স্বামীর সেবা-শুশ্রূষা করছেন স্ত্রী রাবেয়া সিরাজ। তিনি জানান, ফুসফুসের টিউমারটি অপসারণের পর অনেকটা সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু মাথায় টিউমার ধরা পড়ার পর তিনি একেবারে দুর্বল হয়ে পড়েন। ভেঙে পড়ে তার স্বাস্থ্য। শুকিয়ে গায়ের চামড়া হাড়ের সঙ্গে লেগে গেছে। তিনি আরো জানান, দুবছর আগে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে স্বাভাবিকভাবে খাবার খেতে পারছেন না তার স্বামী। চিকিৎসকরা পেটে টিউব লাগিয়ে দিয়েছেন। দুই ঘণ্টা পরপর ওই টিউব দিয়ে তাকে তরল খাবার খাওয়ানো হয়। এমনকি চাও টিউব দিয়ে খাওয়ানো হয়। সারাক্ষণ বিছানায় শুয়েই সময় কাটান। রাতে ও দিনের বেশির ভাগ সময় ঘুমান। জেগে থাকলে টিভি দেখেন। দুজনের কাঁধে ভর করে বাথরুমে নিতে হয়। দুজন গৃহকর্মীসহ অন্তত চারজন লোক সার্বক্ষণিক তার দেখভালে নিয়োজিত। hqdefaultমুক্তিযুদ্ধের অন্যতম এ সংগঠকের করুণ অবস্থায় সরকারের পক্ষ থেকে খোঁজখবর নেয়ার বিষয়ে আক্ষেপ করে রাবেয়া সিরাজ বলেন, এটা বলতে কষ্ট হচ্ছে- মুক্তিযুদ্ধের সময় যার মাথার জন্য এক লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছি পাকিস্তান সরকার, যারা স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা দিল তাদের খোঁজ কেউ রাখেনি। ২০১৪ সালে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় এ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করার পর বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক দেখতে এসেছিলেন। এরপর আর সরকারের পক্ষ থেকে কেউই কোনো খোঁজ নেয়নি। ক্ষোভ প্রকাশ করে সিদ্ধেশ্বরী মহিলা কলেজের সাবেক এই ভিপি বলেন, তিনবার মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব পালন করেছেন শাজাহান সিরাজ অথচ নিজের নামে কোথাও কোনো কিছু করেননি। জোট সরকারের আমলে টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি অসুস্থ হওয়ার পর কলেজের শিক্ষকরা আবদার করেছিলেন- শাজাহান সিরাজের নামে কলেজের নামকরণ করার জন্য। এরপর সরকারের কাছে আবেদনও করা হয়। এমনকি শিক্ষামন্ত্রীর কাছে আমি নিজে কয়েকবার গিয়েছি। তিনিও দিচ্ছি-দেব বলে ঘুরাচ্ছেন। তাই বর্তমান সরকারের কাছে আর চাওয়ার কিছু নেই। উল্লেখ্য, শাজাহান সিরাজ ১৯৪৩ সালে টাঙ্গাইলে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৯৪ সালে বিএনপিতে যোগ দেয়ার পর প্রথমে নৌ পরিবহনমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ২০০১ সালে ফের চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় এলে তাকে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়। পরে পাটমন্ত্রীর দায়িত্ব পান তিনি। ওয়ান-ইলেভেনে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে দেশের বাইরে ছিলেন তিনি। দেশে ফিরে রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন। ঘোষণা ছাড়াই অবসর নেন রাজনীতি থেকে।

Comments

Comments!

 বাকশক্তি হারিয়েছেন শাজাহান সিরাজAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

বাকশক্তি হারিয়েছেন শাজাহান সিরাজ

Tuesday, September 6, 2016 9:26 am
241082_1

স্বাধীন বাংলা ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের নেতা ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক শাজাহান সিরাজকে এক নামেই চেনেন এদেশের মানুষ। একাত্তরের ৩ মার্চ পল্টন ময়দানের বিশাল ছাত্রসমাবেশে পাঠ করেছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের ঘোষণাপত্র। মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ী এ বীর আজ হেরে যাচ্ছেন জীবনযুদ্ধে। তার শরীরে বাসা বেঁধেছে একাধিক জটিল দুরারোগ্য ব্যাধি। চার বছর ধরে বিছানায় কাটছে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রধান এই চরিত্রের। সম্প্রতি হারিয়ে ফেলেছেন বাকশক্তিও- বলে জানিয়েছেন তাঁর স্ত্রী রাবেয়া সিরাজ।

কিছুদিন আগেও শাজাহান সিরাজ অনেকটা ইশারা-ইঙ্গিতে কিছুটা শব্দ করে কথা বলতেন। এখন শুধু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকেন। মুখ দিয়ে স্বাভাবিক খাবারও খেতে পারছেন না। দুবছর ধরে পেটে লাগানো টিউব দিয়ে তরল খাবার খাচ্ছেন।

1রাবেয়া সিরাজ জানান, ২০১২ সালে চোখের চিকিৎসার জন্য ভারতে যান। ওই সময় তার ক্যান্সার ধরা পড়ে। এরপর সেখান থেকেই তাকে নেয়া হয় সিঙ্গাপুরে। সেখানে একটি হাসপাতালে অপারেশনের মাধ্যমে ফুসফুসের টিউমার অপসারণ করা হয়। ফলে কিছুটা সুস্থ হলে তিনি দেশে ফেরেন। কিন্তু ২০১৪ সালের শেষ দিকে হঠাৎ নীরব হয়ে যান তিনি। ওই সময় থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার মাথায় টিউমার ধরা পড়ে। কিন্তু আগে থেকেই তার ডায়াবেটিস, কিডনিসহ নানা জটিল রোগ থাকায় মাথায় অস্ত্রোপচার করা যায়নি। পরে চিকিৎসকরা ওষুধের মাধ্যমে টিউমারটি অপসারণের পরামর্শ দেন।

এর কিছুদিন পর তার শারীরিক অবস্থা আরো খারাপ হলে এ্যাপোলো হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা জানান, তিনি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। এছাড়া খাবার তার খাদ্যনালীর পরিবর্তে কণ্ঠনালী দিয়ে ফুসফুসে যাচ্ছে। তাই মুখের পরিবর্তে তার পেটে টিউব লাগিয়ে তরল খাবার খাওয়ানো হয়। এরপর থেকে তিনি মুখ দিয়ে কোনো খাবার খাননি।

চার বছর ধরে অসুস্থ স্বামীর সেবা-শুশ্রূষা করছেন স্ত্রী রাবেয়া সিরাজ। তিনি জানান, ফুসফুসের টিউমারটি অপসারণের পর অনেকটা সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু মাথায় টিউমার ধরা পড়ার পর তিনি একেবারে দুর্বল হয়ে পড়েন। ভেঙে পড়ে তার স্বাস্থ্য। শুকিয়ে গায়ের চামড়া হাড়ের সঙ্গে লেগে গেছে। তিনি আরো জানান, দুবছর আগে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে স্বাভাবিকভাবে খাবার খেতে পারছেন না তার স্বামী। চিকিৎসকরা পেটে টিউব লাগিয়ে দিয়েছেন। দুই ঘণ্টা পরপর ওই টিউব দিয়ে তাকে তরল খাবার খাওয়ানো হয়। এমনকি চাও টিউব দিয়ে খাওয়ানো হয়। সারাক্ষণ বিছানায় শুয়েই সময় কাটান। রাতে ও দিনের বেশির ভাগ সময় ঘুমান। জেগে থাকলে টিভি দেখেন। দুজনের কাঁধে ভর করে বাথরুমে নিতে হয়। দুজন গৃহকর্মীসহ অন্তত চারজন লোক সার্বক্ষণিক তার দেখভালে নিয়োজিত।

hqdefaultমুক্তিযুদ্ধের অন্যতম এ সংগঠকের করুণ অবস্থায় সরকারের পক্ষ থেকে খোঁজখবর নেয়ার বিষয়ে আক্ষেপ করে রাবেয়া সিরাজ বলেন, এটা বলতে কষ্ট হচ্ছে- মুক্তিযুদ্ধের সময় যার মাথার জন্য এক লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছি পাকিস্তান সরকার, যারা স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা দিল তাদের খোঁজ কেউ রাখেনি। ২০১৪ সালে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় এ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করার পর বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক দেখতে এসেছিলেন। এরপর আর সরকারের পক্ষ থেকে কেউই কোনো খোঁজ নেয়নি।

ক্ষোভ প্রকাশ করে সিদ্ধেশ্বরী মহিলা কলেজের সাবেক এই ভিপি বলেন, তিনবার মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব পালন করেছেন শাজাহান সিরাজ অথচ নিজের নামে কোথাও কোনো কিছু করেননি। জোট সরকারের আমলে টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি অসুস্থ হওয়ার পর কলেজের শিক্ষকরা আবদার করেছিলেন- শাজাহান সিরাজের নামে কলেজের নামকরণ করার জন্য। এরপর সরকারের কাছে আবেদনও করা হয়। এমনকি শিক্ষামন্ত্রীর কাছে আমি নিজে কয়েকবার গিয়েছি। তিনিও দিচ্ছি-দেব বলে ঘুরাচ্ছেন। তাই বর্তমান সরকারের কাছে আর চাওয়ার কিছু নেই।

উল্লেখ্য, শাজাহান সিরাজ ১৯৪৩ সালে টাঙ্গাইলে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৯৪ সালে বিএনপিতে যোগ দেয়ার পর প্রথমে নৌ পরিবহনমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ২০০১ সালে ফের চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় এলে তাকে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়। পরে পাটমন্ত্রীর দায়িত্ব পান তিনি। ওয়ান-ইলেভেনে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে দেশের বাইরে ছিলেন তিনি। দেশে ফিরে রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন। ঘোষণা ছাড়াই অবসর নেন রাজনীতি থেকে।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X