রবিবার, ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১৩ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ৯:৩২
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Wednesday, November 23, 2016 6:47 am
A- A A+ Print

‘বাপ-দাদার জমি জোর করে নিয়েছে চিনিকল কর্তৃপক্ষ’

gaibandha1479833853

গোবিন্দগঞ্জের সাহেবগঞ্জ ইক্ষুখামার থেকে উচ্ছেদ হওয়া সাঁওতালরা অভিযোগ করেছেন যে, তাদের বাপ-দাদার আমলের ১৮৪২ একর জমি রংপুর চিনিকল কর্তৃপক্ষ জোর করে নিয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির উদ্যোগে সাঁওতাল পল্লী মাদারপুর চার্চ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে সাঁওতাল নেতারা এ দাবি করেন। ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক ও বিচারপতি শামছুল হুদার পরিচালনায় শুনানিতে সাঁওতালদের পক্ষে বারনা মুরমু, রাফায়েল হাসদা, রিনা মাইতি, কৃষ্ণ মুরমু, ববিতা মুরমু ও ভেরজুলিও হেমব্রম পুর্ব-পুরুষের ঘরবাড়ি ভেঙে ১৮৪২ একর জমি দখল করার পুরো প্রক্রিয়া তুলে ধরেন। সেই সময় উপস্থিত ছিলেন শত শত সাঁওতাল। তারা জানান, চিনিকল কর্তৃপক্ষ তাদের বাপ-দাদাদের জমি নেওয়ার সময় তার দাম হিসেবে শুধু জমিতে থাকা ফসলের মূল্য বাবদ টাকা দেয়। জমির কোনো মূল্য দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে ১৯৬২ সালে জমি অধিগ্রহণের সময় বলা হয়, জমিতে শুধু চিনিকলের জন্য আখ চাষ ছাড়া অন্য কোনো ফসল আবাদ করা যাবে না, অন্যথায় জমি মূল মালিককে ফেরৎ দেওয়া হবে। সে সময় চুক্তিপত্রে এমনটি উল্লেখ করা হয়। ২০০৪ সালে চিনিকল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর স্থানীয় প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধিদের জমিগুলো লিজ দেওয়া হয়। ওই জমিতে ধান, ভুট্টা, আলূ, গম চাষাবাদ করা হতো বলে তারা জানান। তারা জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ এবং সাপমারা ইউপি চেয়ারম্যান শাকিল আহম্মেদ বুলবুল এই জমির মালিকানা পেতে তাদের আন্দোলনে নামার ইন্ধন দেন। বুলবুল জমি উদ্ধার কমিটির সভাপতি হন এবং প্রতি সপ্তাহের শনিবার সভা করে আন্দোলনের খরচ ও কাগজপত্র সংগ্রহের কথা বলে দেড় থেকে দুই শ’ টাকা করে চাঁদা তোলেন। এক সময় বুলবুল আন্দোলন থেকে সরে পড়েন। তারা আরো বলেন, গত ৬ নভেম্বর দুপুরে কাটামোড় এলাকায় আখ কাটা নিয়ে সাঁওতালদের সঙ্গে মিল কর্মচারীদের বিরোধ বাধে। এর জের ধরে বিকেলে সাঁওতালদের উপর হামলা চালায় প্রশাসন। এতে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি তাদের উপর গুলি চালায় ও বাড়িঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়। সাঁওতালদের জমি ছাড়ার জন্য পূর্বে কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি বলে তারা অভিযোগ করেন। তারা জানান, উচ্ছেদের পর থেকে শত শত পরিবার খোলা আকাশের নিচে রয়েছে। সাঁওতালদের দাবি, ১৯৪০ সালের রেকর্ড অনুযায়ী, তাদের বাপ-দাদার জমি ফেরৎ দিতে হবে। সাঁওতালরা গণশুনানিতে আরও জানান যে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও বেআইনিভাবে উচ্ছেদের ফলে তাদের যে ক্ষতি হয়েছে, তার উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের জমি ছাড়া, অন্য কোনো সরকারি খাস জমিতে তাদের পুনর্বাসন করার উদ্যোগ কখনই মেনে নেবেন না। sautal শুনানি শেষে বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, অধিগ্রহণ করা জমি অন্য কাউকে লিজ দেওয়ার অধিকার চিনিকল কর্তৃপক্ষের নেই। তিনিও ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্ত দাবি করেন। তিনি সাঁওতালদের প্রয়োজনীয় আইনগত সহয়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল বলেন, সাঁওতালদের পুনর্বাসনসহ ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা এবং নির্যাতন, হত্যা, লুট ও গুলির বিচারবিভাগীয় তদন্ত করতে হবে। জমির অধিকার ফিরে পাওয়ার আন্দোলনে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি তাদের সঙ্গে থাকবে। পরে সহায়তা হিসেবে নগদ টাকা ও কম্বল বিতরণ করা হয়।

Comments

Comments!

 ‘বাপ-দাদার জমি জোর করে নিয়েছে চিনিকল কর্তৃপক্ষ’AmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

‘বাপ-দাদার জমি জোর করে নিয়েছে চিনিকল কর্তৃপক্ষ’

Wednesday, November 23, 2016 6:47 am
gaibandha1479833853

গোবিন্দগঞ্জের সাহেবগঞ্জ ইক্ষুখামার থেকে উচ্ছেদ হওয়া সাঁওতালরা অভিযোগ করেছেন যে, তাদের বাপ-দাদার আমলের ১৮৪২ একর জমি রংপুর চিনিকল কর্তৃপক্ষ জোর করে নিয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির উদ্যোগে সাঁওতাল পল্লী মাদারপুর চার্চ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে সাঁওতাল নেতারা এ দাবি করেন।

ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক ও বিচারপতি শামছুল হুদার পরিচালনায় শুনানিতে সাঁওতালদের পক্ষে বারনা মুরমু, রাফায়েল হাসদা, রিনা মাইতি, কৃষ্ণ মুরমু, ববিতা মুরমু ও ভেরজুলিও হেমব্রম পুর্ব-পুরুষের ঘরবাড়ি ভেঙে ১৮৪২ একর জমি দখল করার পুরো প্রক্রিয়া তুলে ধরেন। সেই সময় উপস্থিত ছিলেন শত শত সাঁওতাল।

তারা জানান, চিনিকল কর্তৃপক্ষ তাদের বাপ-দাদাদের জমি নেওয়ার সময় তার দাম হিসেবে শুধু জমিতে থাকা ফসলের মূল্য বাবদ টাকা দেয়। জমির কোনো মূল্য দেওয়া হয়নি।

পরবর্তীতে ১৯৬২ সালে জমি অধিগ্রহণের সময় বলা হয়, জমিতে শুধু চিনিকলের জন্য আখ চাষ ছাড়া অন্য কোনো ফসল আবাদ করা যাবে না, অন্যথায় জমি মূল মালিককে ফেরৎ দেওয়া হবে। সে সময় চুক্তিপত্রে এমনটি উল্লেখ করা হয়। ২০০৪ সালে চিনিকল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর স্থানীয় প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধিদের জমিগুলো লিজ দেওয়া হয়। ওই জমিতে ধান, ভুট্টা, আলূ, গম চাষাবাদ করা হতো বলে তারা জানান।

তারা জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ এবং সাপমারা ইউপি চেয়ারম্যান শাকিল আহম্মেদ বুলবুল এই জমির মালিকানা পেতে তাদের আন্দোলনে নামার ইন্ধন দেন। বুলবুল জমি উদ্ধার কমিটির সভাপতি হন এবং প্রতি সপ্তাহের শনিবার সভা করে আন্দোলনের খরচ ও কাগজপত্র সংগ্রহের কথা বলে দেড় থেকে দুই শ’ টাকা করে চাঁদা তোলেন। এক সময় বুলবুল আন্দোলন থেকে সরে পড়েন।

তারা আরো বলেন, গত ৬ নভেম্বর দুপুরে কাটামোড় এলাকায় আখ কাটা নিয়ে সাঁওতালদের সঙ্গে মিল কর্মচারীদের বিরোধ বাধে। এর জের ধরে বিকেলে সাঁওতালদের উপর হামলা চালায় প্রশাসন। এতে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি তাদের উপর গুলি চালায় ও বাড়িঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়।

সাঁওতালদের জমি ছাড়ার জন্য পূর্বে কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি বলে তারা অভিযোগ করেন। তারা জানান, উচ্ছেদের পর থেকে শত শত পরিবার খোলা আকাশের নিচে রয়েছে। সাঁওতালদের দাবি, ১৯৪০ সালের রেকর্ড অনুযায়ী, তাদের বাপ-দাদার জমি ফেরৎ দিতে হবে।

সাঁওতালরা গণশুনানিতে আরও জানান যে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও বেআইনিভাবে উচ্ছেদের ফলে তাদের যে ক্ষতি হয়েছে, তার উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের জমি ছাড়া, অন্য কোনো সরকারি খাস জমিতে তাদের পুনর্বাসন করার উদ্যোগ কখনই মেনে নেবেন না।

sautal

শুনানি শেষে বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, অধিগ্রহণ করা জমি অন্য কাউকে লিজ দেওয়ার অধিকার চিনিকল কর্তৃপক্ষের নেই। তিনিও ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্ত দাবি করেন। তিনি সাঁওতালদের প্রয়োজনীয় আইনগত সহয়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল বলেন, সাঁওতালদের পুনর্বাসনসহ ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা এবং নির্যাতন, হত্যা, লুট ও গুলির বিচারবিভাগীয় তদন্ত করতে হবে। জমির অধিকার ফিরে পাওয়ার আন্দোলনে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি তাদের সঙ্গে থাকবে।

পরে সহায়তা হিসেবে নগদ টাকা ও কম্বল বিতরণ করা হয়।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X