বুধবার, ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৯ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ৩:১৪
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Sunday, May 14, 2017 6:29 pm
A- A A+ Print

বাবার প্রশ্রয়েই ছেলে বেপরোয়া: শাফাতের মা

4

দেশের নামকরা স্বর্ণালংকার বিক্রয় প্রতিষ্ঠান আপন জুয়েলার্সের কর্ণধার দিলদার আহমেদের বড় ছেলে শাফাত আহমেদ। জন্মদিনের দাওয়াত দিয়ে গত ২৮ মার্চ দুই তরুণীকে বনানীর ‘কে’ ব্লকের ২৭ নম্বর সড়কের রেইনট্রি নামের একটি হোটেলে নিয়ে এসে ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করে শাফাত আহমেদ ও তার বন্ধু নাঈম আশরাফ। এ ধর্ষণের ঘটনা শাফাতের গাড়িচালক বিল্লালকে দিয়ে ভিডিও করানো হয়। পরবর্তীর্তে ওই দুই তরুণীকে এই ভিডিও সোস্যাল মাধ্যমে ছেড়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে বিষয়টি চেপে রাখার জন্যও বলা হয়। গত ৬ মে ধর্ষণের শিকার তরুণীরা বনানী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় আসামিরা করা হয়, শাফাত আহমেদ, তার বন্ধু নাঈম আশরাফ, দুই ছাত্রীর বন্ধু সাদমান সাকিব, সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল হোসেন ও দেহরক্ষী সাকিফ। এরপরই এ ঘটনা নিয়ে সারা দেশে তোলপাড় শুরু হয়। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে কর্মসূচি দেয়া হয় সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনও চাপের মুখে পড়ে। এরপরই শুরু হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান। গত বৃহস্পতিবার সিলেটের জালালাবাদের মদিনা মার্কেটের রশিদ ভিলা থেকে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। ছেলে শাফাতের এমন কর্মকাণ্ডে বাবা দিলদার আহমেদ সেলিম মোটেও অনুতপ্ত নন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জোয়ান ছেলেরা একটু-আধটু এমন কাজ করবেই। শাফাতের মা নিলুফার জেসমিনের দাবী বাবার প্রশ্রয়ের কারনেই ছেলে এত বেপরোয়া। তিনি বলেন, শাফাতের বাবা ছেলেকে অনেক অসৎ কাজ করতে উৎসাহ দিয়েছেন। তার প্রশ্রয় পেয়েই ছেলের আজকে এই দশা হয়েছে। তিনি নির্যাতিত দুই মেয়েদের সাথে যা হয়েছে তা সত্য হলে এটি অন্যায় বলেও অভিমত দেন। তিনি বার বার ডুকরে কেঁদে উঠছিলেন এবং বলছিলেন এত টাকা আর প্রাচুর্য্য চারিদিকে কিন্তু তার মনে কোনো শান্তি নেই। রাস্তার কুকুর থেকে শুরু করে সমাজের সবাই এখন তাদের ঘৃণা করে। সারা দেশে তাদের বিরুদ্ধে এত প্রতিবাদে তিনি অত্যন্ত বিব্রত ও ভীত বোধ করছেন। গত কয়েকদিন ধরে নিজের বাসাতেও থাকতে পারছেন না বলেও জানান তিনি। নিলুফার জেসমিন মনে করছেন, তার ছেলে আর কোনোদিনও ঘরে ফিরতে পারবে না। শাফাতের এই অধঃপতন কবে থেকে শুরু হয় এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, শাফাত তার স্কুল জীবন থেকেই নানা মেয়ে নিয়ে পার্টিতে যেতো, বাসায় নিয়ে আসতো। আমি অনেকবার নিষেদ করলেও তার বাবা সব সময় আমাকে বলতো এই বয়সে এমন করেই। এমনকি শাফাত যখন আমার বৌমা পিয়ায়াসাকে বিয়ে করে ঘরে এনেছিলো তখন সেটি ভাঙ্গার জন্য শাফাতের বাবাই সব রকমের চেষ্টা করেছিলো। পিয়াসা থাকার সময় আমার ছেলেটা অনেক ভালো ছিলো। পিয়াসাকে ডিভোর্স দেবার পেছনে সকল কলকাঠি নেড়েছে আমার স্বামী। তিনি জানান, এই ডিভোর্সের সিদ্ধান্ত তার ছিলো না এবং এটা তিনি পছন্দ করেন নি। নাঈম আশরাফ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই ছেলেটা সারাক্ষন আমার বাসায় পড়ে থাকতো। শাফাতের কাছ থেকে টাকা নিয়ে এমনকি সে সিগারেটটা পর্যন্ত আমার ছেলে থেকে নিতো। এই নাঈমকে শাফাতের বাবাই ঘরে নিয়ে আসে ছেলের সাথে থাকার জন্য। আমি কতবার বলেছি একে বাসায় না রাখার জন্য কিন্তু আমাকে ধমকে চুপ করিয়ে দেয়া হোতো। এখন ছোট ছেলে ইফাতের জন্যও তার অনেক ভয় হয়। এই ভেবে যে, এও বড় ছেলের মত নষ্ট হয়ে যায় কিনা। ছেলের এমন অপরাধের শাস্তি চান কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে শাফাতের মা বলেন, অন্যায় করে থাকলে শাস্তি হোক, এটাই আমি চাই। তবে কিছু দিন জেলে থাকলে টাকার গরম অনেকটা কমবে বলে আমার মনে হয়।
 

Comments

Comments!

 বাবার প্রশ্রয়েই ছেলে বেপরোয়া: শাফাতের মাAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

বাবার প্রশ্রয়েই ছেলে বেপরোয়া: শাফাতের মা

Sunday, May 14, 2017 6:29 pm
4

দেশের নামকরা স্বর্ণালংকার বিক্রয় প্রতিষ্ঠান আপন জুয়েলার্সের কর্ণধার দিলদার আহমেদের বড় ছেলে শাফাত আহমেদ। জন্মদিনের দাওয়াত দিয়ে গত ২৮ মার্চ দুই তরুণীকে বনানীর ‘কে’ ব্লকের ২৭ নম্বর সড়কের রেইনট্রি নামের একটি হোটেলে নিয়ে এসে ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করে শাফাত আহমেদ ও তার বন্ধু নাঈম আশরাফ। এ ধর্ষণের ঘটনা শাফাতের গাড়িচালক বিল্লালকে দিয়ে ভিডিও করানো হয়। পরবর্তীর্তে ওই দুই তরুণীকে এই ভিডিও সোস্যাল মাধ্যমে ছেড়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে বিষয়টি চেপে রাখার জন্যও বলা হয়।

গত ৬ মে ধর্ষণের শিকার তরুণীরা বনানী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় আসামিরা করা হয়, শাফাত আহমেদ, তার বন্ধু নাঈম আশরাফ, দুই ছাত্রীর বন্ধু সাদমান সাকিব, সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল হোসেন ও দেহরক্ষী সাকিফ। এরপরই এ ঘটনা নিয়ে সারা দেশে তোলপাড় শুরু হয়। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে কর্মসূচি দেয়া হয় সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনও চাপের মুখে পড়ে। এরপরই শুরু হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান। গত বৃহস্পতিবার সিলেটের জালালাবাদের মদিনা মার্কেটের রশিদ ভিলা থেকে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়।

ছেলে শাফাতের এমন কর্মকাণ্ডে বাবা দিলদার আহমেদ সেলিম মোটেও অনুতপ্ত নন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জোয়ান ছেলেরা একটু-আধটু এমন কাজ করবেই। শাফাতের মা নিলুফার জেসমিনের দাবী বাবার প্রশ্রয়ের কারনেই ছেলে এত বেপরোয়া।

তিনি বলেন, শাফাতের বাবা ছেলেকে অনেক অসৎ কাজ করতে উৎসাহ দিয়েছেন। তার প্রশ্রয় পেয়েই ছেলের আজকে এই দশা হয়েছে। তিনি নির্যাতিত দুই মেয়েদের সাথে যা হয়েছে তা সত্য হলে এটি অন্যায় বলেও অভিমত দেন।

তিনি বার বার ডুকরে কেঁদে উঠছিলেন এবং বলছিলেন এত টাকা আর প্রাচুর্য্য চারিদিকে কিন্তু তার মনে কোনো শান্তি নেই। রাস্তার কুকুর থেকে শুরু করে সমাজের সবাই এখন তাদের ঘৃণা করে। সারা দেশে তাদের বিরুদ্ধে এত প্রতিবাদে তিনি অত্যন্ত বিব্রত ও ভীত বোধ করছেন। গত কয়েকদিন ধরে নিজের বাসাতেও থাকতে পারছেন না বলেও জানান তিনি। নিলুফার জেসমিন মনে করছেন, তার ছেলে আর কোনোদিনও ঘরে ফিরতে পারবে না।

শাফাতের এই অধঃপতন কবে থেকে শুরু হয় এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, শাফাত তার স্কুল জীবন থেকেই নানা মেয়ে নিয়ে পার্টিতে যেতো, বাসায় নিয়ে আসতো। আমি অনেকবার নিষেদ করলেও তার বাবা সব সময় আমাকে বলতো এই বয়সে এমন করেই। এমনকি শাফাত যখন আমার বৌমা পিয়ায়াসাকে বিয়ে করে ঘরে এনেছিলো তখন সেটি ভাঙ্গার জন্য শাফাতের বাবাই সব রকমের চেষ্টা করেছিলো। পিয়াসা থাকার সময় আমার ছেলেটা অনেক ভালো ছিলো। পিয়াসাকে ডিভোর্স দেবার পেছনে সকল কলকাঠি নেড়েছে আমার স্বামী। তিনি জানান, এই ডিভোর্সের সিদ্ধান্ত তার ছিলো না এবং এটা তিনি পছন্দ করেন নি।

নাঈম আশরাফ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই ছেলেটা সারাক্ষন আমার বাসায় পড়ে থাকতো। শাফাতের কাছ থেকে টাকা নিয়ে এমনকি সে সিগারেটটা পর্যন্ত আমার ছেলে থেকে নিতো। এই নাঈমকে শাফাতের বাবাই ঘরে নিয়ে আসে ছেলের সাথে থাকার জন্য। আমি কতবার বলেছি একে বাসায় না রাখার জন্য কিন্তু আমাকে ধমকে চুপ করিয়ে দেয়া হোতো। এখন ছোট ছেলে ইফাতের জন্যও তার অনেক ভয় হয়। এই ভেবে যে, এও বড় ছেলের মত নষ্ট হয়ে যায় কিনা।

ছেলের এমন অপরাধের শাস্তি চান কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে শাফাতের মা বলেন, অন্যায় করে থাকলে শাস্তি হোক, এটাই আমি চাই। তবে কিছু দিন জেলে থাকলে টাকার গরম অনেকটা কমবে বলে আমার মনে হয়।

 

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X