মঙ্গলবার, ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৮ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, বিকাল ৫:১৯
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Monday, October 31, 2016 8:43 pm
A- A A+ Print

বায়ুদূষণের কারণে বিশ্বে বছরে ছয় লাখ শিশুর মৃত্যু

1477887470

বিশ্বে প্রতিবছর বায়ুদূষণের কারণে পাঁচ বছর বয়সী ছয় লাখ শিশুর মৃত্যু ঘটে। ম্যালেরিয়া এবং এইচআইভি-এইডসে আক্রান্ত হয়ে যত শিশুর মৃত্যু হয়, এ সংখ্যা তার চেয়ে বেশি। জাতিসংঘের শিশু তহবিল-ইউনিসেফ আজ প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরেছে। ইউনিসেফের ওয়েবসাইট থেকে পাওয়া ‘ক্লিয়ার দ্য এয়ার ফর চিলড্রেন’ শীর্ষক ওই গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বের ৩০ কোটি শিশু এমন এলাকায় বাস করছে, যেখানকার বায়ু অত্যধিক দূষিত। এসব এলাকার বায়ু বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্দেশিত নিরাপদ সীমার ছয় গুণ বেশি দূষিত। ইউনিসেফ কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে বায়ু দূষিত এলাকার তথ্য এবং এসব এলাকায় বাস করা শিশুর সংখ্যাকে সমন্বয় করে গবেষণাটি করেছে। ডব্লিউএইচও নির্ধারিত সীমার ছয় গুণ বেশি মাত্রায় দূষিত এলাকায় যে ৩০ কোটি শিশু বাস করছে, তার মধ্যে ২২ কোটির বাস দক্ষিণ এশিয়ায়। বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের সংখ্যা ভারতেই বেশি। আর সাত কোটি শিশু বাস করে পূর্ব এশিয়ায়, বিশেষত চীনে। এ গবেষণায় বলা হয়েছে, বিশ্বের ৯০ শতাংশ (২০০ কোটি) শিশু বাস করে এমন জায়গায়, যেখানে বাইরের বায়ুদূষণের মাত্রা বেশি। যানবাহনের দূষণ, জীবাশ্ম জ্বালানির অতিরিক্ত ব্যবহার, ধুলা এবং বর্জ্য পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট ধোঁয়া বাইরের দূষণের মূল কারণ। দক্ষিণ এশিয়ার ৬২ কোটি শিশু এমন পরিবেশে বাস করে। বিশ্বের অন্য অঞ্চলগুলোর তুলনায় দক্ষিণ এশিয়ায় বাইরের বায়ুদূষণের হার অনেক বেশি। ইউনিসেফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বায়ুদূষণের কারণে শিশুরা বিশেষভাবে ঝুঁকিতে রয়েছে। কারণ, তারা প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিদের তুলনায় দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়। এ ছাড়া শিশুদের ফুসফুসের কোষের স্তর দূষিত কণায় অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি ক্ষুদ্র দূষিত কণা মস্তিষ্কের রক্ত প্রবাহের ঝিল্লি ভেদ করে। এতে শিশুর বুদ্ধির বিকাশে স্থায়ী ক্ষতি সাধিত হয়। এমনকি দূষিত বায়ুতে শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া অন্তঃসত্ত্বা নারীদের ভ্রূণও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্থনি লেইক বলেন, ‘বায়ুদূষণের প্রভাব অত্যন্ত ব্যাপক। কোনো সমাজই এটা উপেক্ষা করতে পারে না। আমরা যখন বায়ুর মান রক্ষা করতে পারব, তখনই আমরা আমাদের শিশুদের রক্ষা করতে পারব।’ গবেষণায় ঘরের ভেতরের বায়ুদূষণের চিত্রও তুলে ধরা হয়। কয়লা, জ্বালানি কাঠ দিয়ে রান্নার কারণে সৃষ্ট ধোঁয়া ও তাপে ঘরে বায়ুদূষণ তৈরি হয়। গ্রামাঞ্চলের স্বল্প আয়ের পরিবারের শিশুরাই এর বড় শিকার বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। বাইরের ও বাড়ির ভেতরের মিলিত দূষণ নিউমোনিয়া বা অন্যান্য শ্বাস-প্রশ্বাসের প্রদাহজনিত রোগের বড় কারণ। আর এতে বিশ্বের পাঁচ বছর বয়সী প্রতি ১০ শিশুর প্রায় একজনের মৃত্যু ঘটে। বায়ুদূষণকে বিশ্বের একক বড় পরিবেশগত স্বাস্থ্যঝুঁকি বলে বর্ণনা করে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, বায়ুদূষণের মাত্রা ক্রমেই বাড়ছে। গত পাঁচ বছরে বিষাক্ত বায়ুর মাত্রা বেড়েছে ৮ শতাংশ। বাইরের বায়ুদূষণের কারণে প্রতিবছর ৩০ লাখের বেশি লোকের মৃত্যু হয়। অর্থাৎ গড়ে প্রতি এক মিনিটে মারা যায় ছয়জন। ২০৫০ সালে মৃত্যুর এই হার দ্বিগুণ হবে। আর ঘরের ভেতরের বায়ুদূষণ, বিশেষত রান্নার কাজে বাড়িতে ব্যবহৃত কাঠ বা গোবর পোড়ানো চুলার কারণে সৃষ্ট বায়ুদূষণে মৃত্যু হয় আরও ৩০ লাখ লোকের। জার্মানির ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউটের প্রফেসর জস লেলিয়েভেল্ড বলেন, ‘বায়ুদূষণ সাধারণত উন্নয়নশীল দেশের জন্য বেশি সমস্যা। কেননা অপুষ্টি ও অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবার কারণে সেখানকার শিশুদের শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে।’ নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলোতে বায়ুদূষণের মাত্রা সবচেয়ে বেশি। এসব দেশের ৯৮ শতাংশ শহরই বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা পূরণ করেনি। তবে ধনী দেশেরও অর্ধেক শহরই ওই নির্দেশনা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। ইউরোপের ১২ কোটি শিশু এমন স্থানে বাস করে, যেখানে বাইরে বায়ুদূষণের মাত্রা বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিত সীমার চেয়ে বেশি।

Comments

Comments!

 বায়ুদূষণের কারণে বিশ্বে বছরে ছয় লাখ শিশুর মৃত্যুAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

বায়ুদূষণের কারণে বিশ্বে বছরে ছয় লাখ শিশুর মৃত্যু

Monday, October 31, 2016 8:43 pm
1477887470

বিশ্বে প্রতিবছর বায়ুদূষণের কারণে পাঁচ বছর বয়সী ছয় লাখ শিশুর মৃত্যু ঘটে। ম্যালেরিয়া এবং এইচআইভি-এইডসে আক্রান্ত হয়ে যত শিশুর মৃত্যু হয়, এ সংখ্যা তার চেয়ে বেশি। জাতিসংঘের শিশু তহবিল-ইউনিসেফ আজ প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরেছে।

ইউনিসেফের ওয়েবসাইট থেকে পাওয়া ‘ক্লিয়ার দ্য এয়ার ফর চিলড্রেন’ শীর্ষক ওই গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বের ৩০ কোটি শিশু এমন এলাকায় বাস করছে, যেখানকার বায়ু অত্যধিক দূষিত। এসব এলাকার বায়ু বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্দেশিত নিরাপদ সীমার ছয় গুণ বেশি দূষিত।

ইউনিসেফ কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে বায়ু দূষিত এলাকার তথ্য এবং এসব এলাকায় বাস করা শিশুর সংখ্যাকে সমন্বয় করে গবেষণাটি করেছে। ডব্লিউএইচও নির্ধারিত সীমার ছয় গুণ বেশি মাত্রায় দূষিত এলাকায় যে ৩০ কোটি শিশু বাস করছে, তার মধ্যে ২২ কোটির বাস দক্ষিণ এশিয়ায়। বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের সংখ্যা ভারতেই বেশি। আর সাত কোটি শিশু বাস করে পূর্ব এশিয়ায়, বিশেষত চীনে।

এ গবেষণায় বলা হয়েছে, বিশ্বের ৯০ শতাংশ (২০০ কোটি) শিশু বাস করে এমন জায়গায়, যেখানে বাইরের বায়ুদূষণের মাত্রা বেশি। যানবাহনের দূষণ, জীবাশ্ম জ্বালানির অতিরিক্ত ব্যবহার, ধুলা এবং বর্জ্য পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট ধোঁয়া বাইরের দূষণের মূল কারণ। দক্ষিণ এশিয়ার ৬২ কোটি শিশু এমন পরিবেশে বাস করে। বিশ্বের অন্য অঞ্চলগুলোর তুলনায় দক্ষিণ এশিয়ায় বাইরের বায়ুদূষণের হার অনেক বেশি।

ইউনিসেফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বায়ুদূষণের কারণে শিশুরা বিশেষভাবে ঝুঁকিতে রয়েছে। কারণ, তারা প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিদের তুলনায় দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়। এ ছাড়া শিশুদের ফুসফুসের কোষের স্তর দূষিত কণায় অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি ক্ষুদ্র দূষিত কণা মস্তিষ্কের রক্ত প্রবাহের ঝিল্লি ভেদ করে। এতে শিশুর বুদ্ধির বিকাশে স্থায়ী ক্ষতি সাধিত হয়। এমনকি দূষিত বায়ুতে শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া অন্তঃসত্ত্বা নারীদের ভ্রূণও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্থনি লেইক বলেন, ‘বায়ুদূষণের প্রভাব অত্যন্ত ব্যাপক। কোনো সমাজই এটা উপেক্ষা করতে পারে না। আমরা যখন বায়ুর মান রক্ষা করতে পারব, তখনই আমরা আমাদের শিশুদের রক্ষা করতে পারব।’

গবেষণায় ঘরের ভেতরের বায়ুদূষণের চিত্রও তুলে ধরা হয়। কয়লা, জ্বালানি কাঠ দিয়ে রান্নার কারণে সৃষ্ট ধোঁয়া ও তাপে ঘরে বায়ুদূষণ তৈরি হয়। গ্রামাঞ্চলের স্বল্প আয়ের পরিবারের শিশুরাই এর বড় শিকার বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

বাইরের ও বাড়ির ভেতরের মিলিত দূষণ নিউমোনিয়া বা অন্যান্য শ্বাস-প্রশ্বাসের প্রদাহজনিত রোগের বড় কারণ। আর এতে বিশ্বের পাঁচ বছর বয়সী প্রতি ১০ শিশুর প্রায় একজনের মৃত্যু ঘটে।

বায়ুদূষণকে বিশ্বের একক বড় পরিবেশগত স্বাস্থ্যঝুঁকি বলে বর্ণনা করে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, বায়ুদূষণের মাত্রা ক্রমেই বাড়ছে। গত পাঁচ বছরে বিষাক্ত বায়ুর মাত্রা বেড়েছে ৮ শতাংশ। বাইরের বায়ুদূষণের কারণে প্রতিবছর ৩০ লাখের বেশি লোকের মৃত্যু হয়। অর্থাৎ গড়ে প্রতি এক মিনিটে মারা যায় ছয়জন। ২০৫০ সালে মৃত্যুর এই হার দ্বিগুণ হবে। আর ঘরের ভেতরের বায়ুদূষণ, বিশেষত রান্নার কাজে বাড়িতে ব্যবহৃত কাঠ বা গোবর পোড়ানো চুলার কারণে সৃষ্ট বায়ুদূষণে মৃত্যু হয় আরও ৩০ লাখ লোকের।

জার্মানির ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউটের প্রফেসর জস লেলিয়েভেল্ড বলেন, ‘বায়ুদূষণ সাধারণত উন্নয়নশীল দেশের জন্য বেশি সমস্যা। কেননা অপুষ্টি ও অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবার কারণে সেখানকার শিশুদের শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে।’

নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলোতে বায়ুদূষণের মাত্রা সবচেয়ে বেশি। এসব দেশের ৯৮ শতাংশ শহরই বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা পূরণ করেনি। তবে ধনী দেশেরও অর্ধেক শহরই ওই নির্দেশনা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। ইউরোপের ১২ কোটি শিশু এমন স্থানে বাস করে, যেখানে বাইরে বায়ুদূষণের মাত্রা বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিত সীমার চেয়ে বেশি।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X