মঙ্গলবার, ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৮ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সন্ধ্যা ৭:৩৬
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Wednesday, September 20, 2017 10:27 pm
A- A A+ Print

বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে ঘিরে এতো বিতর্কের কারণ কী?

16

বিবিসি : দেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নানা সময়ে আলোচনায় উঠে এসেছেন বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক। ১৯৭৮ সালে কাজ শুরু করে দীর্ঘ ৩৮ বছর আইন পেশায় প্রথমে আইনজীবী ও পরে বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। কিন্তু তাকে ঘিরে এতো বিতর্কের কারণ কি? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন দুটো মামলার রায়ের কারণে অনেকে তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়েছেন। খবর বিবিসির। ‌‘বিতর্ক শুরু হয় দুটি মামলা দিয়ে। একটি হলো তাহের হত্যা মামলা। এখানে প্রমাণিত হয়েছে তাহেরের বিচার ছিলো একটি প্রতারণা। আমি বলেছিলাম এটা ছিলো ঠাণ্ডা মাথার হত্যাকাণ্ড। এটা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়লো যে আমি বলেছি জিয়া ঠাণ্ডা মাথার খুনি। এ কথা বলাতে জিয়ার সমর্থক বিএনপি খুব ক্ষেপে গেলো। আরেকটি মামলায় দু জনের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছিলাম। তাতে তারা আরও ক্ষিপ্ত হলো ও সেদিন বিএনপির সমর্থক আইনজীবীরা আদালত আক্রমণ করেছিলো’। বিচারক থাকাকালে সংসদ ও স্পিকারকে কটাক্ষ করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি এমন কথা বলিনি। এটা মিস রিপোর্টিং হয়েছিলো। ওভাবে বলিনি। আমি এটা ব্যাখ্যা করেছি মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে’। সংসদেই অনেক সিনিয়র পার্লামেন্টারিয়ান আপনার সমালোচনা করেছেন এবং একজন আপনাকে স্যাডিস্টও বলেছেন, অর্থাৎ অন্যকে হেয় করে আপনি মজা পান, আসলেই কি তাই?—এমন প্রশ্নের জবাবে শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, ‘আমার সাথে যাদের পরিচয় আছে তারা এটা মানবেন না। এটা ছিলো একটি মিস কমিউনিকেশনের রেজাল্ট’। শেষ দিকে প্রধান বিচারপতির সাথেও আপনার বিরোধ ছিলো প্রকাশ্য, তার অভিশংসন চেয়ে রাষ্ট্রপতিকে চিঠি দিয়েছিলেন আপনি...পাশাপাশি অবসরের পর রায় লেখা নিয়ে আবার অবসরের পর সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে সংবাদ সম্মেলনও করেছেন- এ বিষয়ে বিচারপতি চৌধুরী বলেন, ‘আমার সাথে প্রধান বিচারপতির সুসম্পর্কই ছিলো। কিন্তু কামারুজ্জামানের মামলায় তিনি দুবার বললেন যে তিনি শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন এবং পাকিস্তান বাহিনীকে সহায়তা করেছেন। যখনি জানলাম তিনি শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন তখন শান্তি কমিটির সদস্যের সাথে তো আমার সখ্যতা থাকতে পারেনা’। প্রধান বিচারপতির সাথে তার কথোপকথন রেকর্ড করার জন্য অনেকে তার দিকেও ইঙ্গিত করেন- এ বিষয়ে বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘রেকর্ড আমি করিনি। কিন্তু রেকর্ড করে কেউ অন্যায় করেনি। কারণ একজন বিচারপতি আসামীর লোকের সাথে দেখা করছেন এর চেয়ে অন্যায় আর কিছু হতে পারেনা’। তিনি বলেন, ‘উনি (প্রধান বিচারপতি) আমাকে বসতে দিলেন না সাতদিন যাতে কেউ ফেয়ারওয়েল দিতে না পারে। এটা করেছেন শপথ ভঙ্গ করে। কারণ উনি বিরাগের বশবর্তী হয়ে এটা করেছেন’। আপনি একজন নেতার আদর্শের অনুসারী, আর সেই আদর্শের প্রতিপক্ষ যারা তারা কি আদালতে আপনার কাছে ন্যায় বিচার পেয়েছেন, ‘অবশ্যই পেয়েছেন। আমি বঙ্গবন্ধুর নীতির অনুসারী। আমি আইন দেখে বিচার করেছি’। বিচারপতি থাকার সময় বিমানের বিজনেস ক্লাসে সিট না পাওয়া নিয়ে প্রতিক্রিয়া, আবার চাকুরী শেষে বাড়ি না ছাড়া-এসব বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিমানে আমরা নিজ থেকে বসিনা। আমাকে বিমানের লোকই যথাযথভাবে বিজনেস ক্লাসে বসিয়েছিলো। পরে ম্যানেজার এসে পাইলটের ভুল স্বীকার করেছিলো। পরে মামলা হয়েছিলো কারণ অপদস্থ করেছিলো ও পত্রিকায় দিয়েছিলো। সেই পত্রিকাও পরে ভুল স্বীকার করেছিলো’। আপনি বাংলাদেশের পাশাপাশি ব্রিটেনেরও নাগরিক, বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতের একজন বিচারপতি একই সঙ্গে আরেকটি দেশেরও নাগরিক, আইনগত দিক থেকে কোন ভুল না হলেও, নৈতিক দিক থেকে এটা কতটা যথার্থ ছিলো? - এ প্রশ্নের জবাবে বিচারপতি চৌধুরী বলেন এতে অনৈতিকতার কি আছে? সাংবিধানিক, আইনগত বা নৈতিক কোন বাধা নেই এতে’।

Comments

Comments!

 বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে ঘিরে এতো বিতর্কের কারণ কী?AmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে ঘিরে এতো বিতর্কের কারণ কী?

Wednesday, September 20, 2017 10:27 pm
16

বিবিসি : দেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নানা সময়ে আলোচনায় উঠে এসেছেন বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক। ১৯৭৮ সালে কাজ শুরু করে দীর্ঘ ৩৮ বছর আইন পেশায় প্রথমে আইনজীবী ও পরে বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

কিন্তু তাকে ঘিরে এতো বিতর্কের কারণ কি?

এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন দুটো মামলার রায়ের কারণে অনেকে তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়েছেন। খবর বিবিসির।

‌‘বিতর্ক শুরু হয় দুটি মামলা দিয়ে। একটি হলো তাহের হত্যা মামলা। এখানে প্রমাণিত হয়েছে তাহেরের বিচার ছিলো একটি প্রতারণা। আমি বলেছিলাম এটা ছিলো ঠাণ্ডা মাথার হত্যাকাণ্ড। এটা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়লো যে আমি বলেছি জিয়া ঠাণ্ডা মাথার খুনি। এ কথা বলাতে জিয়ার সমর্থক বিএনপি খুব ক্ষেপে গেলো। আরেকটি মামলায় দু জনের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছিলাম। তাতে তারা আরও ক্ষিপ্ত হলো ও সেদিন বিএনপির সমর্থক আইনজীবীরা আদালত আক্রমণ করেছিলো’।

বিচারক থাকাকালে সংসদ ও স্পিকারকে কটাক্ষ করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি এমন কথা বলিনি। এটা মিস রিপোর্টিং হয়েছিলো। ওভাবে বলিনি। আমি এটা ব্যাখ্যা করেছি মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে’।

সংসদেই অনেক সিনিয়র পার্লামেন্টারিয়ান আপনার সমালোচনা করেছেন এবং একজন আপনাকে স্যাডিস্টও বলেছেন, অর্থাৎ অন্যকে হেয় করে আপনি মজা পান, আসলেই কি তাই?—এমন প্রশ্নের জবাবে শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, ‘আমার সাথে যাদের পরিচয় আছে তারা এটা মানবেন না। এটা ছিলো একটি মিস কমিউনিকেশনের রেজাল্ট’।

শেষ দিকে প্রধান বিচারপতির সাথেও আপনার বিরোধ ছিলো প্রকাশ্য, তার অভিশংসন চেয়ে রাষ্ট্রপতিকে চিঠি দিয়েছিলেন আপনি…পাশাপাশি অবসরের পর রায় লেখা নিয়ে আবার অবসরের পর সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে সংবাদ সম্মেলনও করেছেন- এ বিষয়ে বিচারপতি চৌধুরী বলেন, ‘আমার সাথে প্রধান বিচারপতির সুসম্পর্কই ছিলো। কিন্তু কামারুজ্জামানের মামলায় তিনি দুবার বললেন যে তিনি শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন এবং পাকিস্তান বাহিনীকে সহায়তা করেছেন। যখনি জানলাম তিনি শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন তখন শান্তি কমিটির সদস্যের সাথে তো আমার সখ্যতা থাকতে পারেনা’।

প্রধান বিচারপতির সাথে তার কথোপকথন রেকর্ড করার জন্য অনেকে তার দিকেও ইঙ্গিত করেন- এ বিষয়ে বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘রেকর্ড আমি করিনি। কিন্তু রেকর্ড করে কেউ অন্যায় করেনি। কারণ একজন বিচারপতি আসামীর লোকের সাথে দেখা করছেন এর চেয়ে অন্যায় আর কিছু হতে পারেনা’।

তিনি বলেন, ‘উনি (প্রধান বিচারপতি) আমাকে বসতে দিলেন না সাতদিন যাতে কেউ ফেয়ারওয়েল দিতে না পারে। এটা করেছেন শপথ ভঙ্গ করে। কারণ উনি বিরাগের বশবর্তী হয়ে এটা করেছেন’।

আপনি একজন নেতার আদর্শের অনুসারী, আর সেই আদর্শের প্রতিপক্ষ যারা তারা কি আদালতে আপনার কাছে ন্যায় বিচার পেয়েছেন, ‘অবশ্যই পেয়েছেন। আমি বঙ্গবন্ধুর নীতির অনুসারী। আমি আইন দেখে বিচার করেছি’।

বিচারপতি থাকার সময় বিমানের বিজনেস ক্লাসে সিট না পাওয়া নিয়ে প্রতিক্রিয়া, আবার চাকুরী শেষে বাড়ি না ছাড়া-এসব বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিমানে আমরা নিজ থেকে বসিনা। আমাকে বিমানের লোকই যথাযথভাবে বিজনেস ক্লাসে বসিয়েছিলো। পরে ম্যানেজার এসে পাইলটের ভুল স্বীকার করেছিলো। পরে মামলা হয়েছিলো কারণ অপদস্থ করেছিলো ও পত্রিকায় দিয়েছিলো। সেই পত্রিকাও পরে ভুল স্বীকার করেছিলো’।

আপনি বাংলাদেশের পাশাপাশি ব্রিটেনেরও নাগরিক, বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতের একজন বিচারপতি একই সঙ্গে আরেকটি দেশেরও নাগরিক, আইনগত দিক থেকে কোন ভুল না হলেও, নৈতিক দিক থেকে এটা কতটা যথার্থ ছিলো? – এ প্রশ্নের জবাবে বিচারপতি চৌধুরী বলেন এতে অনৈতিকতার কি আছে? সাংবিধানিক, আইনগত বা নৈতিক কোন বাধা নেই এতে’।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X