মঙ্গলবার, ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৮ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ৯:৩৭
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Saturday, January 7, 2017 9:33 am
A- A A+ Print

বিতর্কের জালে নতুন পাঠ্যবই

13

পাঠ্যবইয়ে বিভিন্ন ধরনের ভুলভ্রান্তি থাকায় এবং বর্ণ শেখাতে অসংলগ্ন উদাহরণ দেওয়ায় বিতর্কের মুখে পড়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। কয়েকটি পাঠ্যপুস্তক থেকে কিছু গল্প-কবিতা বাদ দেওয়ায় নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, এর মাধ্যমে পাঠ্যবইয়ের কোনো কোনো লেখায় সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন ঘটেছে।

তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং এনসিটিবি জানিয়েছে, যেসব বইয়ে ভুল হয়েছে, সে বিষয়ে একটি সাধারণ সংশোধনী দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হবে।

এনসিটিবির চেয়ারম্যান নারায়ণ চন্দ্র সাহা গত বৃহস্পতিবার  বলেন, ভুলভ্রান্তিসহ সার্বিক বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখার জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এনসিটিবির সদস্য (অর্থ) কাজী আবুল কালাম কমিটির প্রধান। ওই কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জানতে চাইলে শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী  বলেন, উৎসব করে শিক্ষার্থীদের হাতে বিনা মূল্যে নতুন বই দেওয়ায় তাদের মধ্যে উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়। কিন্তু ভুলভ্রান্তিতে ভরা বই দিলে শিক্ষার্থীরা সেই ভুল সারা জীবন বহন করবে। এই দায়িত্বহীনতা মানা যায় না। তা ছাড়া এখানে আত্মসমর্পণের ভাব আছে।

গত রোববার বছরের প্রথম দিনে সারা দেশে উৎসব করে প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে নতুন পাঠ্যবই দেয় সরকার। বই শিক্ষার্থীদের হাতে যাওয়ার পর থেকে বিভিন্ন ধরনের ভুলভ্রান্তি ধরা পড়তে শুরু করে। প্রথম বিতর্ক শুরু হয়, প্রথম শ্রেণির ‘আমার বাংলা বই’-এর বর্ণ শিখি অধ্যায়ে ‘ও’ বর্ণ শেখাতে গিয়ে একটি কন্যাশিশুর গায়ে ওড়না জড়িয়ে থাকার ছবি নিয়ে। ছবির নিচে লেখা হয় ‘ওড়না চাই’। কয়েকজন শিক্ষক ও অভিভাবক প্রথম আলোকে বলেন, প্রথম শ্রেণির একটি শিশুকে এ ধরনের পোশাক দিয়ে বর্ণ শেখানোর চেষ্টা হাস্যকর। একই বইয়ের ১১ নম্বর পৃষ্ঠায় একটি ছবিতে দেখা যায়, একটি ছাগল গাছ থেকে আম খাচ্ছে, যা নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে।

তৃতীয় শ্রেণির ‘আমার বাংলা বই’-এর ৬৮ পৃষ্ঠায় কুসুমকুমারী দাশের ‘আদর্শ ছেলে’ কবিতায় শব্দ যেমন উল্টোপাল্টাভাবে ছাপা হয়েছে, তেমনি ভুল শব্দও ছাপা হয়েছে। এক জায়গায় ‘চায়’ কে ‘চাই’ হিসেবে ছাপা হয়েছে।

নতুন ইংরেজি বইগুলোর পেছনে ‘...বাই দ্য গভর্নমেন্ট অব বাংলাদেশ’ লেখা। এটা গভর্নমেন্ট অব দ্য পিপলস রিপাবলিক অব বাংলাদেশ হওয়ার কথা। তৃতীয় শ্রেণির হিন্দু ধর্ম শিক্ষা বইয়ের শেষ পৃষ্ঠায় লেখা হয়েছে DO NOT HEART ANYBODY। আঘাত বোঝাতে গিয়ে এখানে হৃদয় করে ফেলা হয়েছে।

জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান গত বৃহস্পতিবার  বলেন, ভুলের সংশোধনী দিয়ে খুব দ্রুত সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হবে। যেসব শিক্ষক ওই সব বিষয় পড়াবেন, তাঁরা যেন সংশোধনীটি পড়ান।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সচিব সোহরাব হোসাইনও বলেন, যেসব ভুল ধরা পড়ছে, তা সংশোধন করে একটি নির্দেশনার মতো করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে জানিয়ে দেওয়া হবে। তবে ভুলের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Comments

Comments!

 বিতর্কের জালে নতুন পাঠ্যবইAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

বিতর্কের জালে নতুন পাঠ্যবই

Saturday, January 7, 2017 9:33 am
13

পাঠ্যবইয়ে বিভিন্ন ধরনের ভুলভ্রান্তি থাকায় এবং বর্ণ শেখাতে অসংলগ্ন উদাহরণ দেওয়ায় বিতর্কের মুখে পড়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। কয়েকটি পাঠ্যপুস্তক থেকে কিছু গল্প-কবিতা বাদ দেওয়ায় নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, এর মাধ্যমে পাঠ্যবইয়ের কোনো কোনো লেখায় সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন ঘটেছে।

তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং এনসিটিবি জানিয়েছে, যেসব বইয়ে ভুল হয়েছে, সে বিষয়ে একটি সাধারণ সংশোধনী দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হবে।

এনসিটিবির চেয়ারম্যান নারায়ণ চন্দ্র সাহা গত বৃহস্পতিবার  বলেন, ভুলভ্রান্তিসহ সার্বিক বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখার জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এনসিটিবির সদস্য (অর্থ) কাজী আবুল কালাম কমিটির প্রধান। ওই কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জানতে চাইলে শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী  বলেন, উৎসব করে শিক্ষার্থীদের হাতে বিনা মূল্যে নতুন বই দেওয়ায় তাদের মধ্যে উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়। কিন্তু ভুলভ্রান্তিতে ভরা বই দিলে শিক্ষার্থীরা সেই ভুল সারা জীবন বহন করবে। এই দায়িত্বহীনতা মানা যায় না। তা ছাড়া এখানে আত্মসমর্পণের ভাব আছে।

গত রোববার বছরের প্রথম দিনে সারা দেশে উৎসব করে প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে নতুন পাঠ্যবই দেয় সরকার। বই শিক্ষার্থীদের হাতে যাওয়ার পর থেকে বিভিন্ন ধরনের ভুলভ্রান্তি ধরা পড়তে শুরু করে। প্রথম বিতর্ক শুরু হয়, প্রথম শ্রেণির ‘আমার বাংলা বই’-এর বর্ণ শিখি অধ্যায়ে ‘ও’ বর্ণ শেখাতে গিয়ে একটি কন্যাশিশুর গায়ে ওড়না জড়িয়ে থাকার ছবি নিয়ে। ছবির নিচে লেখা হয় ‘ওড়না চাই’। কয়েকজন শিক্ষক ও অভিভাবক প্রথম আলোকে বলেন, প্রথম শ্রেণির একটি শিশুকে এ ধরনের পোশাক দিয়ে বর্ণ শেখানোর চেষ্টা হাস্যকর। একই বইয়ের ১১ নম্বর পৃষ্ঠায় একটি ছবিতে দেখা যায়, একটি ছাগল গাছ থেকে আম খাচ্ছে, যা নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে।

তৃতীয় শ্রেণির ‘আমার বাংলা বই’-এর ৬৮ পৃষ্ঠায় কুসুমকুমারী দাশের ‘আদর্শ ছেলে’ কবিতায় শব্দ যেমন উল্টোপাল্টাভাবে ছাপা হয়েছে, তেমনি ভুল শব্দও ছাপা হয়েছে। এক জায়গায় ‘চায়’ কে ‘চাই’ হিসেবে ছাপা হয়েছে।

নতুন ইংরেজি বইগুলোর পেছনে ‘…বাই দ্য গভর্নমেন্ট অব বাংলাদেশ’ লেখা। এটা গভর্নমেন্ট অব দ্য পিপলস রিপাবলিক অব বাংলাদেশ হওয়ার কথা। তৃতীয় শ্রেণির হিন্দু ধর্ম শিক্ষা বইয়ের শেষ পৃষ্ঠায় লেখা হয়েছে DO NOT HEART ANYBODY। আঘাত বোঝাতে গিয়ে এখানে হৃদয় করে ফেলা হয়েছে।

জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান গত বৃহস্পতিবার  বলেন, ভুলের সংশোধনী দিয়ে খুব দ্রুত সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হবে। যেসব শিক্ষক ওই সব বিষয় পড়াবেন, তাঁরা যেন সংশোধনীটি পড়ান।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সচিব সোহরাব হোসাইনও বলেন, যেসব ভুল ধরা পড়ছে, তা সংশোধন করে একটি নির্দেশনার মতো করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে জানিয়ে দেওয়া হবে। তবে ভুলের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X