সোমবার, ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১৪ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ভোর ৫:৫২
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Saturday, December 31, 2016 8:11 pm
A- A A+ Print

বিদায়ী বছরে ধর্ষণের পরিসংখ্যান শিউরে উঠার মতো

165294_1

২০১৬ সালে নারী ধর্ষণ নির্যাতন বৃদ্ধির পাশাপাশি এর মাত্রা ও ধরনে ছিল ভয়াবহতা। চলতি বছর নারী উত্ত্যক্ত, যৌন হয়রানি, নির্যাতন, হত্যা ও সালিসের মাধ্যমে শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা আগের বছরের চেয়ে বেড়েছে। শিশু নির্যাতনের মাত্রা ও ধরন ছিল ভয়াবহ। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি ২০১৬ ও আসকের পর্যালোচনামূলক প্রতিবেদনে এ তথ্য দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নারী নির্যাতন বা নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নানা উদ্যোগ থাকার পরও কমছে না নারী নির্যাতন। নির্যাতনের অনেক ঘটনায় মামলা হলেও বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেকে আপস-মীমাংসা করতে বাধ্য হচ্ছেন। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ২০১৬ সালে ৭২৪ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়। এর মধ্যে ধর্ষণের পরে ৩৭ জনকে হত্যা করা হয় ও ধর্ষণের কারণে আত্মহত্যা করেন ৮ জন। সালিস ও ফতোয়ার মাধ্যমে মোট ১২ জন নারী নির্যাতনের শিকার হন। এর মধ্যে গ্রামছাড়া, সমাজচ্যুত বা একঘরে করা, মাথার চুল কেটে দেওয়াসহ শারীরিক নির্যাতনের ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে মাত্র তিনটি। যৌতুকের জন্য নির্যাতনের শিকার হয়েছেন মোট ২৩৯ জন নারী, মামলা হয়েছে ৯৫টি। পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন মোট ৩৯৪ জন, যার মধ্যে থানায় মামলা হয়েছে ১৮৭টি। নারী গৃহকর্মী নির্যাতনের ঘটনায় মোট ৬৪ জন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে ৩২টি ঘটনায় মামলা হয়েছে। তবে বছরটিতে অ্যাসিড সন্ত্রাসের ঘটনা কম ছিল, অ্যাসিড নিক্ষেপের শিকার হন ৩৪ নারী, এ ঘটনায় একজন মারা যান। এর মধ্যে মাত্র ১২টি ঘটনার ক্ষেত্রে মামলা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ২০১৬ সালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন কর্মস্থলে যৌন নির্যাতন ও বখাটের উত্ত্যক্তকরণের শিকার হন ২৪৪ জন। এর মধ্যে ৬ জন নারী আত্মহত্যা করেন। যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করায় খুন হন ৭ জন নারী ও ৭ জন পুরুষ। বখাটেদের প্রতিবাদ করায় লাঞ্ছিত হয়েছেন ১৩৮ জন। স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়েছে পাঁচ ছাত্রীর। প্রতিবেদনে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনের খসড়া সম্পর্কে বলা হয়েছে, দেশের নারী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর নিন্দা ও প্রতিবাদের মুখেও ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৬’ -এর খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এতে মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর থাকলেও বিশেষ ক্ষেত্রে ‘সর্বোত্তম স্বার্থে’ আদালতের নির্দেশে এবং মা-বাবার সম্মতিতে ১৮ বছরের নিচে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের বিয়ের বিধান রাখা হয়েছে। প্রতিবেদনে আসকের তথ্য সংরক্ষণ ইউনিটের হিসাব উল্লেখ করে বলা হয়েছে, বছরটিতে হত্যার শিকার হয় মোট ৪১৫ শিশু। আত্মহত্যা করে ২২ শিশু ও রহস্যজনক মৃত্যু হয় ২৮ শিশুর। এসব ঘটনায় মোট ১৭৬টি মামলা হয়েছে। এ ছাড়া শিশুর প্রতি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, ধর্ষণ, যৌন হয়রানি, উত্ত্যক্ত করণসহ মোট এক হাজার ৩৪টি ঘটনা ঘটে ও মামলা হয় ২৬০ টি।
 

Comments

Comments!

 বিদায়ী বছরে ধর্ষণের পরিসংখ্যান শিউরে উঠার মতোAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

বিদায়ী বছরে ধর্ষণের পরিসংখ্যান শিউরে উঠার মতো

Saturday, December 31, 2016 8:11 pm
165294_1

২০১৬ সালে নারী ধর্ষণ নির্যাতন বৃদ্ধির পাশাপাশি এর মাত্রা ও ধরনে ছিল ভয়াবহতা। চলতি বছর নারী উত্ত্যক্ত, যৌন হয়রানি, নির্যাতন, হত্যা ও সালিসের মাধ্যমে শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা আগের বছরের চেয়ে বেড়েছে। শিশু নির্যাতনের মাত্রা ও ধরন ছিল ভয়াবহ।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি ২০১৬ ও আসকের পর্যালোচনামূলক প্রতিবেদনে এ তথ্য দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নারী নির্যাতন বা নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নানা উদ্যোগ থাকার পরও কমছে না নারী নির্যাতন। নির্যাতনের অনেক ঘটনায় মামলা হলেও বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেকে আপস-মীমাংসা করতে বাধ্য হচ্ছেন।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ২০১৬ সালে ৭২৪ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়। এর মধ্যে ধর্ষণের পরে ৩৭ জনকে হত্যা করা হয় ও ধর্ষণের কারণে আত্মহত্যা করেন ৮ জন। সালিস ও ফতোয়ার মাধ্যমে মোট ১২ জন নারী নির্যাতনের শিকার হন। এর মধ্যে গ্রামছাড়া, সমাজচ্যুত বা একঘরে করা, মাথার চুল কেটে দেওয়াসহ শারীরিক নির্যাতনের ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে মাত্র তিনটি। যৌতুকের জন্য নির্যাতনের শিকার হয়েছেন মোট ২৩৯ জন নারী, মামলা হয়েছে ৯৫টি। পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন মোট ৩৯৪ জন, যার মধ্যে থানায় মামলা হয়েছে ১৮৭টি। নারী গৃহকর্মী নির্যাতনের ঘটনায় মোট ৬৪ জন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে ৩২টি ঘটনায় মামলা হয়েছে। তবে বছরটিতে অ্যাসিড সন্ত্রাসের ঘটনা কম ছিল, অ্যাসিড নিক্ষেপের শিকার হন ৩৪ নারী, এ ঘটনায় একজন মারা যান। এর মধ্যে মাত্র ১২টি ঘটনার ক্ষেত্রে মামলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ২০১৬ সালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন কর্মস্থলে যৌন নির্যাতন ও বখাটের উত্ত্যক্তকরণের শিকার হন ২৪৪ জন। এর মধ্যে ৬ জন নারী আত্মহত্যা করেন। যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করায় খুন হন ৭ জন নারী ও ৭ জন পুরুষ। বখাটেদের প্রতিবাদ করায় লাঞ্ছিত হয়েছেন ১৩৮ জন। স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়েছে পাঁচ ছাত্রীর।

প্রতিবেদনে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনের খসড়া সম্পর্কে বলা হয়েছে, দেশের নারী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর নিন্দা ও প্রতিবাদের মুখেও ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৬’ -এর খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এতে মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর থাকলেও বিশেষ ক্ষেত্রে ‘সর্বোত্তম স্বার্থে’ আদালতের নির্দেশে এবং মা-বাবার সম্মতিতে ১৮ বছরের নিচে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের বিয়ের বিধান রাখা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আসকের তথ্য সংরক্ষণ ইউনিটের হিসাব উল্লেখ করে বলা হয়েছে, বছরটিতে হত্যার শিকার হয় মোট ৪১৫ শিশু। আত্মহত্যা করে ২২ শিশু ও রহস্যজনক মৃত্যু হয় ২৮ শিশুর। এসব ঘটনায় মোট ১৭৬টি মামলা হয়েছে। এ ছাড়া শিশুর প্রতি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, ধর্ষণ, যৌন হয়রানি, উত্ত্যক্ত করণসহ মোট এক হাজার ৩৪টি ঘটনা ঘটে ও মামলা হয় ২৬০ টি।

 

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X