বুধবার, ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৯ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সন্ধ্যা ৭:০৫
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Thursday, December 1, 2016 7:41 am
A- A A+ Print

বিদেশি সিরিয়ালের ধাক্কায় বিপন্ন টিভি নাটক

11

বিদেশি টিভি সিরিয়াল বাংলাদেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে দেখানো বন্ধের দাবি তুলেছেন নাট্যশিল্পীরা। বুধবার ঢাকায় বিদেশি টিভি সিরিয়ালের বিরুদ্ধে এক প্রতিবাদ সমাবেশে তারা বলেছেন, বিদেশি টিভি সিরিয়ালের আগ্রাসনে বাংলাদেশের টেলিভিশন নাটকের ভবিষ্যৎ বিপন্ন হতে চলেছে। টিভি নাটককে বিভিন্ন দাবি নিয়ে অভিনয় শিল্পীরা বুধবার ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জড়ো হয়েছিলেন।
শহীদ মিনারের সমাবেশে অভিনেতা তৌকির আহমেদ বলেন, ‘আমরা যদি এখনই পদক্ষেপ না নিতে পারি, তাহলে এফডিসি’র যে অবস্থা হয়েছে, আমাদেরও একই অবস্থা হবে।’ টিভি নাটকের সাথে সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন বর্তমানে দেশের কয়েকটি টিভি চ্যানেলে বিদেশি সিরিয়াল বাংলা ডাবিং করে যেভাবে প্রচার করা হচ্ছে সেটি বন্ধ করতে হবে। শিল্পীদের ভাষায় বাংলায় ডাবিং করা এসব বিদেশি সিরিয়াল বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে প্রতিনিধিত্ব করেনা। বাংলায় ডাবিং করা সিরিয়ালের মধ্যে দর্শকদের মাঝে সবচেয়ে বেশি সাড়া তৈরি করেছে সুলতান সুলেমান। তুরস্কের অটোম্যান শাসনকালের সময় নিয়ে এ সিরিয়ালটি একটি বেসরকারী টিভি চ্যানেলে প্রচার করা হচ্ছে। এছাড়া আরো কয়েকটি বেসরকারী টিভি চ্যানেলে এ ধরনের সিরিয়াল প্রচারিত হচ্ছে যেগুলো দর্শকদের মনোযোগ টানছে। নাটক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা গাজী রাকায়েত বলেন, ‘প্রত্যেকটা চ্যানেলে যদি সপ্তাহে চার-পাঁচদিন করে ডাবিং করা বিদেশি সিরিয়াল চলে তাহলে ছয়-সাত কোটি টাকার শিল্পী সম্মানী নষ্ট হচ্ছে। প্রায় ৫০ পার্সেন্ট শুটিং হাউজে কাজ নাই।’ নাটকের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা মোশারফ করিম বলছিলেন বিদেশি টিভি সিরিয়ালগুলোর সাথে বাংলাদেশি নাটকের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা বেশ মুশকিল। কারণ সেসব সিরিয়াল নির্মাণের জন্য যে অর্থ খরচ করা হয়, বাংলাদেশের নাটকের বাজেট তার তুলনায় নগণ্য। তিনি মনে করেন বাংলাদেশের নাটকের মান বাড়লে দর্শক বাড়বে। আর নাটকের মান বাড়াতে হলে পর্যাপ্ত পরিমাণ টাকা বিনিয়োগ করতে হবে বলে মোশারফ করিম মনে করেন। মোশারফ করিম বলেন, ‘বাংলাদেশের নাটক থেকে আর্ট ডিরেকশন উঠে গেছে। ভালো মেকাপম্যান উঠে গেছে, ড্রেস ডিজাইনার উঠে গেছে। কারণ এগুলোর খরচ লাগে।’ ইদানিংকালে বাংলাদেশের বেশ কিছু কোম্পানি ভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। কারণ তারা মনে করেন ভারতীয় চ্যানেল যেভাবে বাংলাদেশে জনপ্রিয় হয়েছে সেজন্য সেসব চ্যানেলে বিজ্ঞাপন দিলে তাদের দর্শকদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হবে। কিন্তু অভিনয় শিল্পী এবং টেলিভিশনের সাথে সংশ্লিষ্টদের অনেকেই বলছেন এতে বাংলাদেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর বিজ্ঞাপন থেকে আয় কমে যাচ্ছে। বাংলাদেশের কোনো কোম্পানি যাতে বিদেশি টেলিভিশন চ্যানেলে বিজ্ঞাপন দিতে না পারে সেজন্য তারা সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করছেন। এছাড়া বাংলাদেশের কেবল অপারেটররা যাতে বিদেশি টিভি চ্যানেল অবাধে ডাউনলিংক করে বাংলাদেশে প্রচার করতে না পারে সে দাবিও তুলছেন অভিনয় শিল্পী এবং টেলিভিশনের সাথে সংশ্লিষ্টরা। এখানে বিদেশি চ্যানেল বলতে তারা মূলত ভারতীয় টিভি চ্যানেলগুলোর দিকেই ইঙ্গিত করছেন। কারণ বাংলাদেশে হিন্দি চ্যানেলগুলোর দর্শকপ্রিয়তার কারণে বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে টেলিভিশন সংশ্লিষ্ট অনেকেই মনে করেন। কিন্তু তারা যেসব দাবি করছেন সেগুলো বর্তমানে বিশ্বায়নের যুগে কতটা যৌক্তিক? সরকার এসব দাবিকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে? নাটক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা গাজী রাকায়েত বলছিলেন, ‘আমরা আসলে কোনো কিছু বন্ধ করার পক্ষে না। কিন্তু আমরা যদি না খেয়ে মারা যাই, তাহলে কী করবো?’ তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলছেন, এসব দাবি খতিয়ে দেখার জন্য সরকার এরই মধ্যে একটি কমিটি গঠন করেছে। এ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে তথ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘বিশ্বায়নের এ যুগে দাবিগুলো যদি দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক আইনের সাথে সাংঘর্ষিক না হয় তাহলে সেগুলো আমরা কার্যকর করার ব্যবস্থা নেব। মোট কথা আমরা পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।’ সূত্র: বিবিসি
 

Comments

Comments!

 বিদেশি সিরিয়ালের ধাক্কায় বিপন্ন টিভি নাটকAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

বিদেশি সিরিয়ালের ধাক্কায় বিপন্ন টিভি নাটক

Thursday, December 1, 2016 7:41 am
11

বিদেশি টিভি সিরিয়াল বাংলাদেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে দেখানো বন্ধের দাবি তুলেছেন নাট্যশিল্পীরা।

বুধবার ঢাকায় বিদেশি টিভি সিরিয়ালের বিরুদ্ধে এক প্রতিবাদ সমাবেশে তারা বলেছেন, বিদেশি টিভি সিরিয়ালের আগ্রাসনে বাংলাদেশের টেলিভিশন নাটকের ভবিষ্যৎ বিপন্ন হতে চলেছে।

টিভি নাটককে বিভিন্ন দাবি নিয়ে অভিনয় শিল্পীরা বুধবার ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জড়ো হয়েছিলেন।

শহীদ মিনারের সমাবেশে অভিনেতা তৌকির আহমেদ বলেন, ‘আমরা যদি এখনই পদক্ষেপ না নিতে পারি, তাহলে এফডিসি’র যে অবস্থা হয়েছে, আমাদেরও একই অবস্থা হবে।’

টিভি নাটকের সাথে সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন বর্তমানে দেশের কয়েকটি টিভি চ্যানেলে বিদেশি সিরিয়াল বাংলা ডাবিং করে যেভাবে প্রচার করা হচ্ছে সেটি বন্ধ করতে হবে।

শিল্পীদের ভাষায় বাংলায় ডাবিং করা এসব বিদেশি সিরিয়াল বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে প্রতিনিধিত্ব করেনা।

বাংলায় ডাবিং করা সিরিয়ালের মধ্যে দর্শকদের মাঝে সবচেয়ে বেশি সাড়া তৈরি করেছে সুলতান সুলেমান। তুরস্কের অটোম্যান শাসনকালের সময় নিয়ে এ সিরিয়ালটি একটি বেসরকারী টিভি চ্যানেলে প্রচার করা হচ্ছে।

এছাড়া আরো কয়েকটি বেসরকারী টিভি চ্যানেলে এ ধরনের সিরিয়াল প্রচারিত হচ্ছে যেগুলো দর্শকদের মনোযোগ টানছে।

নাটক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা গাজী রাকায়েত বলেন, ‘প্রত্যেকটা চ্যানেলে যদি সপ্তাহে চার-পাঁচদিন করে ডাবিং করা বিদেশি সিরিয়াল চলে তাহলে ছয়-সাত কোটি টাকার শিল্পী সম্মানী নষ্ট হচ্ছে। প্রায় ৫০ পার্সেন্ট শুটিং হাউজে কাজ নাই।’

নাটকের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা মোশারফ করিম বলছিলেন বিদেশি টিভি সিরিয়ালগুলোর সাথে বাংলাদেশি নাটকের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা বেশ মুশকিল। কারণ সেসব সিরিয়াল নির্মাণের জন্য যে অর্থ খরচ করা হয়, বাংলাদেশের নাটকের বাজেট তার তুলনায় নগণ্য।

তিনি মনে করেন বাংলাদেশের নাটকের মান বাড়লে দর্শক বাড়বে। আর নাটকের মান বাড়াতে হলে পর্যাপ্ত পরিমাণ টাকা বিনিয়োগ করতে হবে বলে মোশারফ করিম মনে করেন।

মোশারফ করিম বলেন, ‘বাংলাদেশের নাটক থেকে আর্ট ডিরেকশন উঠে গেছে। ভালো মেকাপম্যান উঠে গেছে, ড্রেস ডিজাইনার উঠে গেছে। কারণ এগুলোর খরচ লাগে।’

ইদানিংকালে বাংলাদেশের বেশ কিছু কোম্পানি ভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। কারণ তারা মনে করেন ভারতীয় চ্যানেল যেভাবে বাংলাদেশে জনপ্রিয় হয়েছে সেজন্য সেসব চ্যানেলে বিজ্ঞাপন দিলে তাদের দর্শকদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

কিন্তু অভিনয় শিল্পী এবং টেলিভিশনের সাথে সংশ্লিষ্টদের অনেকেই বলছেন এতে বাংলাদেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর বিজ্ঞাপন থেকে আয় কমে যাচ্ছে। বাংলাদেশের কোনো কোম্পানি যাতে বিদেশি টেলিভিশন চ্যানেলে বিজ্ঞাপন দিতে না পারে সেজন্য তারা সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করছেন।

এছাড়া বাংলাদেশের কেবল অপারেটররা যাতে বিদেশি টিভি চ্যানেল অবাধে ডাউনলিংক করে বাংলাদেশে প্রচার করতে না পারে সে দাবিও তুলছেন অভিনয় শিল্পী এবং টেলিভিশনের সাথে সংশ্লিষ্টরা। এখানে বিদেশি চ্যানেল বলতে তারা মূলত ভারতীয় টিভি চ্যানেলগুলোর দিকেই ইঙ্গিত করছেন।

কারণ বাংলাদেশে হিন্দি চ্যানেলগুলোর দর্শকপ্রিয়তার কারণে বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে টেলিভিশন সংশ্লিষ্ট অনেকেই মনে করেন।

কিন্তু তারা যেসব দাবি করছেন সেগুলো বর্তমানে বিশ্বায়নের যুগে কতটা যৌক্তিক? সরকার এসব দাবিকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে?

নাটক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা গাজী রাকায়েত বলছিলেন, ‘আমরা আসলে কোনো কিছু বন্ধ করার পক্ষে না। কিন্তু আমরা যদি না খেয়ে মারা যাই, তাহলে কী করবো?’

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলছেন, এসব দাবি খতিয়ে দেখার জন্য সরকার এরই মধ্যে একটি কমিটি গঠন করেছে। এ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে তথ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘বিশ্বায়নের এ যুগে দাবিগুলো যদি দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক আইনের সাথে সাংঘর্ষিক না হয় তাহলে সেগুলো আমরা কার্যকর করার ব্যবস্থা নেব। মোট কথা আমরা পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।’

সূত্র: বিবিসি

 

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X